৪৯

الحجرات

সূরা আল্ হুজুরাত

Al-Hujurat

মাদানী ১৯ আয়াত ২ রুকু পারা ২৬

ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১৯ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।

اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ اِخۡوَۃٌ فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَ اَخَوَیۡکُمۡ وَاتَّقُوا اللّٰہَ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ﴿٪۱۱﴾

১১
নিশ্চয় মো’মেনগণ পরস্পর ভাই ভাই, অতএব তোমরা তোমাদের ভ্রাতৃগণের মধ্যে সংশোধনপূর্বক শান্তি স্থাপন কর,২৭৯৪ এবং আল্লাহ্‌র তাক্‌ওয়া অবলম্বন কর, যাহাতে তোমাদের উপর রহম করা হয়।
সূরা আল্ হুজুরাত - রুকু ১
২৭৯৪। এই আয়াতে ইসলামী ভ্রাতৃত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হইয়াছে। যদি ঘটনাচক্রে দুইজন মুসলমানের মধ্যে বা মুসলমান দুইটি দলের মধ্যে ঝগড়া বাধিয়া যায়, তবে অন্যান্য মুসলমানের প্রতি এখানে নির্দেশ প্রদত্ত হইল যে, তাহারা যেন কাল-বিলম্ব না করিয়া তাহাদের মধ্যে আপোষ-মিমাংসা করিয়া দেয়। ইসলামের আসল শক্তি এই ভ্রাতৃত্বের অনাবিল আদর্শের মধ্যেই নিহিত। এই ভ্রাতৃত্বের মহাআদর্শ স্থান-কাল-পাত্র কিংবা জাতি-বর্ণ কিংবা দেশ-দেশান্তরের ভৌগলিক সীমারেখা মানে না, ইহা বিশ্বজনীন ইসলামী ভ্রাতৃত্ব।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَسۡخَرۡ قَوۡمٌ مِّنۡ قَوۡمٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنُوۡا خَیۡرًا مِّنۡہُمۡ وَلَا نِسَآءٌ مِّنۡ نِّسَآءٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُنَّ خَیۡرًا مِّنۡہُنَّ ۚ وَلَا تَلۡمِزُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَلَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ؕ بِئۡسَ الِاسۡمُ الۡفُسُوۡقُ بَعۡدَ الۡاِیۡمَانِ ۚ وَمَنۡ لَّمۡ یَتُبۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ﴿۱۲﴾

১২
হে যাহারা ঈমান আনিয়াছ! কোন জাতি যেন অন্য জাতিকে হাসি-বিদ্রপ না করে, তাহারা উহাদের অপেক্ষা উত্তম হইতে পারে; এবং নারীগণও যেন অন্য নারীগণকে হাসি-বিদ্রূপ না করে, তাহারা উহাদের অপেক্ষা উত্তম হইতে পারে। এবং তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করিও না; এবং একে অপরকে অবজ্ঞাসূচক উপাধি দিয়া ডাকিও না। ঈমান আনার পর দূষণীয় নাম (দিয়া ডাকা) বড়ই মন্দ কথা; এবং যাহারা ইহার পর তওবা করিবে না তাহারাই যালেম।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اجۡتَنِبُوۡا کَثِیۡرًا مِّنَ الظَّنِّ ۫ اِنَّ بَعۡضَ الظَّنِّ اِثۡمٌ وَّلَا تَجَسَّسُوۡا وَلَا یَغۡتَبۡ بَّعۡضُکُمۡ بَعۡضًا ؕ اَیُحِبُّ اَحَدُکُمۡ اَنۡ یَّاۡکُلَ لَحۡمَ اَخِیۡہِ مَیۡتًا فَکَرِہۡتُمُوۡہُ ؕ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ تَوَّابٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۳﴾

১৩
হে যাহারা ঈমান আনিয়াছ! তোমরা অতিরিক্ত সন্দেহকে২৭৯৫ পরিহার কর, কারণ কতক (ক্ষেত্রে) সন্দেহ পাপ বিশেষ। এবং তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করিও না, এবং একে অপরের পিছনে গীবত (কুৎসা) করিয়া বেড়াইও না। তোমাদের মধ্যে কেহ কি তাহার মৃত ভাইয়ের গোশ্‌ত খাইতে চাহিবে? অবশ্যই তোমরা ইহাকে ঘৃণা করিবে; এবং আল্লাহ্‌র তাক্‌ওয়া অবলম্বন করিও, নিশ্চয় আল্লাহ্ পুনঃপুনঃ সদয় দৃষ্টিপাতকারী, পরম দয়াময়।
২৭৯৫। এই সূরার প্রধান বিষয়বস্তু হইল একতা, বন্ধুত্ব, মৈত্রী ও ভালবাসাকে ব্যক্তি-মুসলমানের মাঝে বা দলগত-মুসলমানদের দলগুলির মাঝে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। তাই এই আয়াতে এবং পূর্ববর্তী আয়াতে এমন কয়েকটি সামাজিক কদাচারের উল্লেখ করা হইয়াছে, যাহা অমিল, বিরোধ, মতানৈক্য ও ঝগড়ার সূত্রপাত ঘটায়। এইগুলি মনে কালিমা সৃষ্টি করে ও মরিচা ধরাইয়া সমাজকে কলুষিত ও পাপাঙ্কিত করিয়া তোলে। ফলে সমাজের জীবনী-শক্তি বিনষ্ট হয়। অতএব, এই সব কদাচারের বিরুদ্ধে হুশিয়ার থাকিতে বলা হইয়াছে। এই কদাচারের মধ্যে রহিয়াছে অন্যের প্রতি হাসি-ঠাট্টা ও বিদ্রুপ, ছিদ্রান্বেষণ, বিকৃত নামে ডাকা, সন্দেহ-প্রবণতা, পরনিন্দা ও পরচর্চায় রত হওয়া প্রভৃতি। এই বিষয়ে, স্ত্রীলোকদিগকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে, কেননা তাহারাই স্বভাবগতভাবে ঐ পথে আগে পা বাড়ায়। এই কুকর্মের অন্তরালে যে মূল কারণ কাজ করিয়া থাকে, তাহা হইল আত্মম্ভরিতা ও আত্মশ্লাঘা, যাহা পরবর্তী আয়াতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে। অনৈক্য ও মতভেদের এই মূল কারণগুলি দূরীভূত করিয়া এই সূরা ইসলামী ভ্রাতৃত্বকে সুস্থ ও দৃঢ় ভিত্তির উপর স্থাপিত করিয়াছে।

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّا خَلَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ ذَکَرٍ وَّاُنۡثٰی وَجَعَلۡنٰکُمۡ شُعُوۡبًا وَّقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوۡا ؕ اِنَّ اَکۡرَمَکُمۡ عِنۡدَ اللّٰہِ اَتۡقٰکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌ خَبِیۡرٌ ﴿۱۴﴾

১৪
হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয় আমরা তোমাদিগকে পুরুষ ও নারী হইতে সৃষ্টি করিয়াছি এবং তোমাদিগকে বিভিন্ন জাতি এবং বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করিয়া দিয়াছি যেন তোমরা একে অপরকে চিনিতে পার;২৭৯৬ নিশ্চয় আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত২৭৯৭ ঐ ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মুত্তাকী; নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বজ্ঞানী, সর্ববিদিত।
২৭৯৬। ‘শুয়ূব’ হইল ‘শায়াব’ এর বহু বচন। ‘শায়াব’ এর অর্থ হইল একটি বড় উপজাতি।উপজাতির উদ্ভব-স্থল বা পিতৃপুরুষকে বলা হয় ‘কবিলা’, যাহাতে উপজাতিটিও অন্তর্ভুক্ত। ‘শুয়ুব’ একটি জাতিকেও বুঝায় (লেইন)।
২৭৯৭। পূর্ববর্তী দুইটি আয়াতে ইসলামী ভ্রাতৃত্বের বিষয় বর্ণনা করার পর, এই আয়াতে বিশ্বমানবের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বিক ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি স্থাপন করা হইয়াছে। বস্তুতঃ এই আয়াতটি বিশ্ব-মানবের ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের ‘ম্যাগনা কার্টা’ বা মহাসনদ। জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব অথবা বংশগত গৌরবের মিথ্যা ধারণা হইতে উদ্ভূত আভিজাত্যের প্রতি ইহা কুঠারঘাত করিয়াছে। এক জোড়া পুরুষ-মহিলা হইতে সৃষ্ট মানবমণ্ডলীর সদস্য হিসাবে সকলেই আল্লাহ্‌তা’লার সমক্ষে সম-মর্যাদার অধিকারী। চামড়ার রং, ধন-সম্পদের পরিমাণ, সামাজিক পদ, বংশ ইত্যাদির দ্বারা মানুষের মর্যাদার মূল্যায়ন হইতে পারে না। মর্যাদা ও সম্মানের সঠিক মাপ-কাঠি হইল, ব্যক্তির উচ্চমানের নৈতিক গুণাবলী এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রতি তাহার কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনের আন্তরিকতা। বিশ্ব-মানব একটি পরিবার মাত্র। জাতি, উপজাতি, বর্ণ, বংশ ইত্যাদি বিভক্তি কেবল পরস্পরকে জানার জন্য, যাহাতে পরস্পরের চারিত্রিক ও মানসিক গুণাবলী দ্বারা একে অপরের উপকার সাধিত হইতে পারে। বিদায়-হজ্জের সময়, মহানবী (সাঃ)-এর মৃত্যুর অল্প দিন আগে, বিরাট ইসলামী সমাগমকে সম্বোধন করিয়া তিনি উদাত্ত কণ্ঠে বলিয়াছিলেন, ‘হে মানব মণ্ডলী, তোমাদের আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয় এবং তোমাদের আদি পিতাও এক। একজন আরব একজন অনারব হইতে কোন মতেই শ্রেষ্ঠ নহে। তেমনি একজন আরবের উপরে একজন অনারবেরও কোন শ্রেষ্ঠত্ব নাই। একজন সাদা-চামড়ার মানুষ একজন কাল-চামড়ার মানুষের চাইতে শ্রেষ্ঠ নয়, কালও সাদার চাইতে শ্রেষ্ঠ নহে। শ্রেষ্ঠত্বের মূল্যায়ন করিতে বিচার্য বিষয় হইবে, কে আল্লাহ্‌ ও বান্দার হক্ কতদূর আদায় করিল। আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী সেই ব্যক্তিই, যিনি সর্বাপেক্ষা বেশী ধর্মপরায়ণ’ (বায়হাকী)। এই মহান শব্দগুলি ইসলামের উচ্চতম আদর্শ ও শ্রেষ্ঠতম নীতি-মালার একটি দিক উজ্জ্বলভাবে চিত্রায়িত করিয়াছে। শতধা-বিভক্ত একটি সমাজকে, অত্যাধুনিক গণতন্ত্রের সমতা-ভিত্তিক সমাজে ঐক্যবদ্ধ করার কী আকুল আহ্বান!

قَالَتِ الۡاَعۡرَابُ اٰمَنَّا ؕ قُلۡ لَّمۡ تُؤۡمِنُوۡا وَلٰکِنۡ قُوۡلُوۡۤا اَسۡلَمۡنَا وَلَمَّا یَدۡخُلِ الۡاِیۡمَانُ فِیۡ قُلُوۡبِکُمۡ ؕ وَاِنۡ تُطِیۡعُوا اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ لَا یَلِتۡکُمۡ مِّنۡ اَعۡمَالِکُمۡ شَیۡئًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۵﴾

১৫
মরুবাসীগণ বলে, ‘আমরা ঈমান আনিয়াছি।’ তুমি বল, ‘তোমরা (এখনও প্রকৃত) ঈমান আন নাই, বরং তোমরা বল, ‘আমরা ইসলাম গ্রহণ করিয়াছি, কারণ এখনও ঈমান তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করে নাই;’২৭৯৮ কিন্তু যদি তোমরা আল্লাহ্ এবং তাঁহার রসূলের আনুগত্য কর, তাহা হইলে তিনি তোমাদের কৃত-কর্মসমূহ হইতে কিছুই কম করিবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।
২৭৯৮। ইসলামের সার্বজনীন ভ্রাতৃত্বে সকল মুসলমানই সমান অংশীদার, সকলেই ইহার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। নিরক্ষর ও সংস্কৃতিবর্জিত মরু-আরবকে ইসলাম সেই সকল অধিকারই দান করিয়াছে, যাহা সভ্য ও সংস্কৃতিমনা শহরবাসীকে দেওয়া হইয়াছে। নিরক্ষরদিগকে এই উপদেশ দেওয়া হইয়াছে যে, তাহারা যেন শিক্ষা-দীক্ষা লাভ করিয়া ইসলামের নীতি-মালা জ্ঞাত হয় এবং জীবনে তাহা বাস্তবায়ন করিয়া দেখায়।

اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ثُمَّ لَمۡ یَرۡتَابُوۡا وَجٰہَدُوۡا بِاَمۡوَالِہِمۡ وَاَنۡفُسِہِمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الصّٰدِقُوۡنَ ﴿۱۶﴾

১৬
বস্তুতঃ মো’মেন কেবল তাহারাই যাহারা আল্লাহ্‌ ও রসূলের উপর ঈমান আনে, অতঃপর তাহারা সন্দেহ পোষণ করে না এবং নিজেদের ধন-সম্পদ ও প্রাণ দিয়া আল্লাহ্‌র পথে জিহাদ করে, তাহারাই সত্যবাদী।

قُلۡ اَتُعَلِّمُوۡنَ اللّٰہَ بِدِیۡنِکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَاللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ﴿۱۷﴾

১৭
তুমি বল, ‘তোমরা কি আল্লাহ্‌কে তোমাদের ধর্ম সম্পর্কে অবহিত করিবে, অথচ আল্লাহ্‌ জানেন যাহা কিছু আকাশসমূহে আছে এবং যাহা কিছু পৃথিবীতে আছে; বস্তুতঃ আল্লাহ্‌ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞানী।’

یَمُنُّوۡنَ عَلَیۡکَ اَنۡ اَسۡلَمُوۡا ؕ قُلۡ لَّا تَمُنُّوۡا عَلَیَّ اِسۡلَامَکُمۡ ۚ بَلِ اللّٰہُ یَمُنُّ عَلَیۡکُمۡ اَنۡ ہَدٰٮکُمۡ لِلۡاِیۡمَانِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۱۸﴾

১৮
তাহারা ইসলাম গ্রহণ করিয়া তাহারা তোমার উপর অনুগ্রহ করিয়াছে বলিয়া মনে করে। তুমি বল, ‘তোমরা তোমাদের ইসলাম গ্রহণ করাকে আমার উপর তোমাদের অনুগ্রহ বলিয়া মনে করিও না। বরং আল্লাহ্ তোমাদের উপর অনুগ্রহ করিয়াছেন যে, তিনি তোমাদিগকে ঈমানের দিকে পরিচালিত করিয়াছেন; যদি তোমরা সত্যবাদী হইয়া থাক।’

اِنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ غَیۡبَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَاللّٰہُ بَصِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ﴿٪۱۹﴾

১৯
নিশ্চয় আল্লাহ্ আকাশসমূহ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়াবলী জানেন; এবং তোমরা যে কর্ম কর তাহা আল্লাহ্‌ ভালভাবে দেখিতেছেন।
সূরা আল্ হুজুরাত - রুকু ২