الحجرات
Al-Hujurat
ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ১৯ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।
নাযেল হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গ
এই সূরাটি হিজরী নবম বৎসরে মক্কা বিজয়ের পরে অবতীর্ণ হইয়াছিল। মক্কা বিজয়ের পরে পরেই দলে দলে লোক ইসলামে প্রবেশ করিল এবং ইসলাম একটি বিরাট রাজনৈতিক শক্তি রূপেও আত্মপ্রকাশ করিল। তাই, সময়ের প্রয়োজন ইহাই ছিল যে, নব-দীক্ষিত মুসলমানদিগকে ইসলামের নীতি-মালা, আচার-আচরণ ও কৃষ্টি-সভ্যতায় শিক্ষিত করিয়া তোলা। এই সূরাতে এইগুলিই শিক্ষা দেওয়া হইয়াছে। সেই সঙ্গে, সামাজিক অনাচার, যাহা ধনী ও সম্পদশালী সমাজে অজান্তে নিজের স্থান করিয়া লয়, সেইগুলি সম্বন্ধে সূরাটিতে আলোচনা করা হইয়াছে। কেননা, সারা আরব দেশ ইসলামের করতলগত হইয়া গেলে, ইসলামী সমাজ রাজনৈতিকভাবেও একটি শক্তিশালী ও সম্পদশালী সমাজে পরিণত হইয়াছিল। অতএব, অতি স্বাভাবিক কারণেই এবং যুক্তি-যুক্তভাবেই জাতীয় আইন-কানুন, আন্তর্জাতিক বিবাদ-বিসংবাদ মীমাংসার বিধি-বিধান প্রভৃতির প্রয়োজনও আসন্ন হইয়া উঠিল। তাই এই সূরাতে ঐ বিষয়গুলির রূপরেখাও দেওয়া হইয়াছে। হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর অত্যুচ্চ আধ্যাত্মিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া মুসলমানগণ যেন তাঁহাকে পরম শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালবাসা ও আনুগত্য প্রদর্শন করে, এই সূরার শুরুতেই সেই উপদেশ দেওয়া হইয়াছে। তাহাদিগকে জোরালো নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে যে, মহানবী (সাঃ) কোন বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত দিবেন তাহারা যেন পূর্বাহ্নেই আঁচ করিয়া না লয় বরং সব সময় নিদ্ধিধায় স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া তাঁহার হুকুম পালনে রত থাকে। মহানবী (সাঃ)-এর স্বর হইতে তাহাদের স্বর যেন কখনও উচ্চ না হয়, এমনটা শুধু বেয়াদবীই নয়, ইহাতে অশ্রদ্ধা ও ঔদ্ধত্য প্রকাশ পায় এবং ইসলামী সমাজের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ হইয়া যায়। অতঃপর মুসলমানকে সাবধান করা হইয়াছে তাহারা যেন গুজবে কর্ণপাত না করে, কেননা মিথ্যা গুজবে অনেক অনর্থেরও সৃষ্টি করে ও কদর্য অবস্থায় নিপতিত করে। কয়েকটি চুম্বক কথার মাধ্যমে এই সূরাতে জাতি-সংঘ বা জাতিপুঞ্জের নীতি-মালা রচনার মূল-ভিত্তিও দেওয়া হইয়াছে। অতঃপর, কতগুলি সামাজিক কদাচারের উল্লেখ করিয়া বলা হইয়াছে যে, এইগুলিকে সময়মত কার্যকরভাবে নির্মুল করা না হইলে, জাতির জীবনী-শক্তি নষ্ট হইয়া যায় এবং সমগ্র সমাজ ধ্বংস হইয়া যায়। এই কদাচারের কয়েকটি হইল সন্দেহ, মিথ্যা অপবাদ ও অভিযোগ, ছিদ্রান্বেষণ, গুপ্তচরবৃত্তি ও পরনিন্দা। সর্বোপরি, যে দোষ মানুষের জন্য অবধারিত দীর্ঘস্থায়ী অকল্যাণ বহিয়া আনে, তাহা হইল জাতিগত ও বংশগত শ্রেষ্ঠত্বের গর্ব ও আত্মম্ভরিতা। ইসলাম পুণ্যকর্ম ও ধর্মপরায়ণতা ভিত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়া অন্য কোন কিছুকেই শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তি বলিয়া স্বীকার করে না।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُقَدِّمُوۡا بَیۡنَ یَدَیِ اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۲﴾
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَرۡفَعُوۡۤا اَصۡوَاتَکُمۡ فَوۡقَ صَوۡتِ النَّبِیِّ وَلَا تَجۡہَرُوۡا لَہٗ بِالۡقَوۡلِ کَجَہۡرِ بَعۡضِکُمۡ لِبَعۡضٍ اَنۡ تَحۡبَطَ اَعۡمَالُکُمۡ وَاَنۡتُمۡ لَا تَشۡعُرُوۡنَ ﴿۳﴾
اِنَّ الَّذِیۡنَ یَغُضُّوۡنَ اَصۡوَاتَہُمۡ عِنۡدَ رَسُوۡلِ اللّٰہِ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ امۡتَحَنَ اللّٰہُ قُلُوۡبَہُمۡ لِلتَّقۡوٰی ؕ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ عَظِیۡمٌ ﴿۴﴾
اِنَّ الَّذِیۡنَ یُنَادُوۡنَکَ مِنۡ وَّرَآءِ الۡحُجُرٰتِ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡقِلُوۡنَ ﴿۵﴾
وَلَوۡ اَنَّہُمۡ صَبَرُوۡا حَتّٰی تَخۡرُجَ اِلَیۡہِمۡ لَکَانَ خَیۡرًا لَّہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۶﴾
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ جَآءَکُمۡ فَاسِقٌۢ بِنَبَاٍ فَتَبَیَّنُوۡۤا اَنۡ تُصِیۡبُوۡا قَوۡمًۢا بِجَہَالَۃٍ فَتُصۡبِحُوۡا عَلٰی مَا فَعَلۡتُمۡ نٰدِمِیۡنَ ﴿۷﴾
وَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّ فِیۡکُمۡ رَسُوۡلَ اللّٰہِ ؕ لَوۡ یُطِیۡعُکُمۡ فِیۡ کَثِیۡرٍ مِّنَ الۡاَمۡرِ لَعَنِتُّمۡ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ حَبَّبَ اِلَیۡکُمُ الۡاِیۡمَانَ وَزَیَّنَہٗ فِیۡ قُلُوۡبِکُمۡ وَکَرَّہَ اِلَیۡکُمُ الۡکُفۡرَ وَالۡفُسُوۡقَ وَالۡعِصۡیَانَ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الرّٰشِدُوۡنَ ۙ﴿۸﴾
فَضۡلًا مِّنَ اللّٰہِ وَنِعۡمَۃً ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ﴿۹﴾
وَاِنۡ طَآئِفَتٰنِ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اقۡتَتَلُوۡا فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَہُمَا ۚ فَاِنۡۢ بَغَتۡ اِحۡدٰٮہُمَا عَلَی الۡاُخۡرٰی فَقَاتِلُوا الَّتِیۡ تَبۡغِیۡ حَتّٰی تَفِیۡٓءَ اِلٰۤی اَمۡرِ اللّٰہِ ۚ فَاِنۡ فَآءَتۡ فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَہُمَا بِالۡعَدۡلِ وَاَقۡسِطُوۡا ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُقۡسِطِیۡنَ ﴿۱۰﴾