ق
Qaf
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৪৬ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।
নাযেল হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গ
উচ্চপর্যায়ের আলেমবৃন্দ এই সূরার অবতরণকালকে মক্কী-জীবনের প্রারম্ভিক অবস্থায় নির্ধারণ করিয়াছেন। ইহার ধরণ-ধারণ ও বিষয়বস্তু এই অভিমতের পরিপোষক। পূর্ববর্তী দুইটি সূরাতে ইসলামের বিরাট ও সুমহান ভবিষ্যতের কথা আলোচিত হইয়াছে এবং সেই প্রসঙ্গে ইহাও বলা হইয়াছে যে, যখন কোন জাতি ধনবান ও ক্ষমতাশালী হইয়া উঠে, তখন সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাবলীও সেই জাতির মধ্যে মাথা চাড়া দিয়া উঠে। ‘কাফ্’ অক্ষর (কাদের-কাউইম) দ্বারা আরব্ধ এই সূরা এই কথার দিকেই ইঙ্গিত বহন করে যে, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্তা’লার এই শক্তি নিশ্চয়ই রহিয়াছে যে, তিনি দুর্বল ও বিশৃঙ্খল আরব জাতিকে একটি শক্তিশালী জাতিতে রূপান্তরিত করেন। এই রূপান্তরণের কাজ সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করিতে ‘কুরআন’কেই তিনি অস্ত্র হিসাবে ব্যাবহার করিবেন।
বিষয়-বস্তু
এই সূরা হইতে সূরা আল্ ওয়াকিআ পর্যন্ত সাতটি সূরা একটি বিশেষ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। মক্কায় অবতীর্ণ অন্যান্য সকল সূরার মত, এই সূরাটিও ভবিষ্যদ্বাণীর ওজস্বী ভাষায় বিশেষভাবে জোর দিয়া বলিতেছে যে, কুরআন সুনিশ্চিতভাবে আল্লাহ্র বাণী, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এক অবশ্যম্ভাবী বাস্তবতা, আর ইসলামের বিজয় এক অবধারিত চরম সত্য। প্রকৃতির লীলা-খেলা এবং পুরানা দিনের নবী-রসূলের ইতিহাস আমাদিগকে এই অবিসংবাদিত সিদ্ধান্তে উপনীত করে। প্রথমেই এই সূরাটি পুনরুত্থানের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি উত্থাপন করিয়া ইহার সত্যতার প্রাথমিক দলীলরূপে এই যুক্তি প্রদর্শন করিতেছে যে, এমন একটা জাতি যাহারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরিয়া নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও প্রভাব-প্রতিপত্তির দিক দিয়া একেবারে নিষ্কিয় ও মৃতপ্রায় হইয়া পড়িয়াছিল, তাহারা শীঘ্রই কুরআনের প্রভাবে এক কর্মচঞ্চল ও প্রাণ-প্রাচুর্যময় জীবনের অধিকারী হইবে। সূরাটি এই কথাও জানাইয়া দিতেছে যে, অবিশ্বাসীদের এই জাতিটি এতই চেতনাহীন যে, তাহারা এই কথা কোন মতেই মানিতে পারিতেছে নাঃ তাহাদেরই মধ্য হইতে এমন একজন সতর্ককারীকে তাহাদের মৃতাবস্থা হইতে জাগাইবার জন্য কিভাবে অবির্ভুত করা হইতে পারে? তাহারা তো মরিয়া মাটি হইয়া গিয়াছে, তাহাদের পক্ষে আবার জাগিয়া উঠা কি কখনও সম্ভব? তাহাদিগকে বলা হইতেছে যে, তাহারা যেন সৃষ্টির বিস্ময়কর বিষয়ে ভালভাবে ভাবিয়া দেখে, মহাশূন্যের গ্রহ-তারকা-সজ্জিত আকাশমালা সৃষ্টির অত্যাশ্চর্যজনক কলা-কৌশলের কথা গভীরভাবে চিন্তা করে। তাহারা যেন লক্ষ্য করে যে, কত নিয়মনিষ্ঠা, দক্ষতা ও সময়ানুবর্তিতার সহিত ব্যতিক্রমহীন ও বিরামহীনভাবে এইগুলি আপন আপন নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করিয়া চলিয়াছে। তাহারা যেন পৃথিবীর বিশালতা, ইহার প্রাণীকুল ও উদ্ভিদরাজির দিকে তাকাইয়া নিবিষ্ট চিত্তে ধ্যান করে এবং এইগুলির সৃষ্টি, খাদ্য-যোগানো ও ফল-ফলাদির উৎপাদন ইত্যাদির বিষয়ে আগ্রহ সহকারে বুদ্ধি খাটায় ও তলাইয়া দেখে। তাহা হইলেই তাহারা সম্যকভাবে হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিবে যে, এই জটিল বিশ্ব-জগতের যিনি কুশলী স্রষ্টা, তিনি নিশ্চয়ই সেই ক্ষমতা ও জ্ঞান রাখেন যে, মানুষের নশ্বর দেহ পচিয়া গলিয়া, ধূলায় মিশিয়া নিশ্চিহ্ন হইয়া গেলেও তিনি তাহাকে নবজীবন দান করিতে সম্পূর্ণ সক্ষম। অতঃপর, আল্লাহ্তা’লার সৃষ্টির সর্বোচ্চ মুকুট-মনি, যাহাকে মানব নামে আখ্যায়িত করা হইয়াছে তাহার জীবনের উদ্দেশ্য, কর্ম-স্বাধীনতা, দায়িত্ব ও কৃত-কর্মের হিসাব-নিকাষ প্রদান ইত্যাদি বিষয় এই সূরাতে আলোচিত হইয়াছে। শেষ দিকে এই কথার উপরই সর্ব শেষ জোর দেওয়া হইয়াছে যে, এই মহান বিশ্বের সৃষ্টি ও বিশ্বের মাঝে সকল সৃষ্টির সেরা যে মানব তাঁহার সৃষ্টি এই কথাই প্রমাণ করে যে, জটিলতা পূর্ণ মহাসৃষ্টির পিছনে মহাস্রষ্টার নিশ্চয়ই মহান উদ্দেশ্য রহিয়াছে। এই সব কিছুর সৃষ্টি করা স্রষ্টার কাছে অনর্থক ও উদ্দেশ্য বর্জিত হইতেই পারে না। অতএব এইসব ভাবনা আমাদিগকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাইয়া দেয় যে, মৃত্যুর পরেও জীবন থাকা আবশ্যক এবং অবশ্যই মৃত্যুর পরেও জীবন আছে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
قٓ ۟ۚ وَالۡقُرۡاٰنِ الۡمَجِیۡدِ ۚ﴿۲﴾
بَلۡ عَجِبُوۡۤا اَنۡ جَآءَہُمۡ مُّنۡذِرٌ مِّنۡہُمۡ فَقَالَ الۡکٰفِرُوۡنَ ہٰذَا شَیۡءٌ عَجِیۡبٌ ۚ﴿۳﴾
ءَاِذَا مِتۡنَا وَکُنَّا تُرَابًا ۚ ذٰلِکَ رَجۡعٌۢ بَعِیۡدٌ ﴿۴﴾
قَدۡ عَلِمۡنَا مَا تَنۡقُصُ الۡاَرۡضُ مِنۡہُمۡ ۚ وَعِنۡدَنَا کِتٰبٌ حَفِیۡظٌ ﴿۵﴾
بَلۡ کَذَّبُوۡا بِالۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہُمۡ فَہُمۡ فِیۡۤ اَمۡرٍ مَّرِیۡجٍ ﴿۶﴾
اَفَلَمۡ یَنۡظُرُوۡۤا اِلَی السَّمَآءِ فَوۡقَہُمۡ کَیۡفَ بَنَیۡنٰہَا وَزَیَّنّٰہَا وَمَا لَہَا مِنۡ فُرُوۡجٍ ﴿۷﴾
وَالۡاَرۡضَ مَدَدۡنٰہَا وَاَلۡقَیۡنَا فِیۡہَا رَوَاسِیَ وَاَنۡۢبَتۡنَا فِیۡہَا مِنۡ کُلِّ زَوۡجٍۭ بَہِیۡجٍ ۙ﴿۸﴾
تَبۡصِرَۃً وَّذِکۡرٰی لِکُلِّ عَبۡدٍ مُّنِیۡبٍ ﴿۹﴾
وَنَزَّلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً مُّبٰرَکًا فَاَنۡۢبَتۡنَا بِہٖ جَنّٰتٍ وَّحَبَّ الۡحَصِیۡدِ ۙ﴿۱۰﴾