৫০

ق

সূরা কাফ্

Qaf

মক্কী ৪৬ আয়াত ৩ রুকু পারা ২৬

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৪৬ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

قٓ ۟ۚ وَالۡقُرۡاٰنِ الۡمَجِیۡدِ ۚ﴿۲﴾

২
কাফ।২৭৯৯ এই পরম মর্যাদাশালী-মহান কুরআনের কসম২৮০০ (যাহা একটি বড় প্রমাণ স্বরূপ যে পুনরুত্থান অবশ্যই সংঘটিত হইবে)।
২৭৯৯। “কাফ্‌” অক্ষরটি আল্লাহ্‌তা’লার ‘কাদীর’ (সর্বময় ও সর্বশক্তিমান) হওয়ার গুণ প্রকাশক। ইহা “আল্‌ কিয়ামাতু হাক্কুন” (পুনরুত্থান অবশ্যই হইবে, ইহাতে সন্দেহ নাই) অর্থেও ব্যবহৃত হইয়া থাকিতে পারে।
২৮০০। মহাপুনরুত্থান যে নিশ্চয়ই সংঘটিত হইবে, উহার সাক্ষ্যস্বরূপ ‘কুরআন’কে পেশ করা হইয়াছে।

بَلۡ عَجِبُوۡۤا اَنۡ جَآءَہُمۡ مُّنۡذِرٌ مِّنۡہُمۡ فَقَالَ الۡکٰفِرُوۡنَ ہٰذَا شَیۡءٌ عَجِیۡبٌ ۚ﴿۳﴾

৩
কিন্তু তাহারা বিস্ময় প্রকাশ করিতেছে যে, তাহাদের নিকট তাহাদেরই মধ্য হইতে একজন সতর্ককারী আগমন করিয়াছে। অতএব কাফেররা বলিতেছে, ‘ইহা এক তাজ্জবের ব্যাপার!

ءَاِذَا مِتۡنَا وَکُنَّا تُرَابًا ۚ ذٰلِکَ رَجۡعٌۢ بَعِیۡدٌ ﴿۴﴾

৪
কী আমরা যখন মরিয়া যাইব এবং মাটিতে পরিণত হইব (তখন আমরা পুনর্জীবিত হইব)? এইরূপ প্রত্যাবর্তন (সম্ভাবনা হইতে) অনেক দূরের বিষয়।’

قَدۡ عَلِمۡنَا مَا تَنۡقُصُ الۡاَرۡضُ مِنۡہُمۡ ۚ وَعِنۡدَنَا کِتٰبٌ حَفِیۡظٌ ﴿۵﴾

৫
আমরা নিশ্চয় জানি যাহা যমীন তাহাদের মধ্য হইতে হ্রাস করে (এবং উহাও যাহা তাহাদের মধ্যে বৃদ্ধি করে), এবং আমাদের নিকট এমন এক কিতাব আছে, যাহা (সবকিছু) সংরক্ষণ করিয়া যাইতেছে।২৮০১
২৮০১। পূর্ববর্তী আয়াতে অবিশ্বাসীদের এই আপত্তির উল্লেখ করা হইয়াছে যে, তাহারা যখন মরিয়া হাড়গোড়সহ ধূলিকণাতে পর্যবসিত হইয়া যাইবে, তখন তাহারা পুনরায় উত্থিত হইবে কিরূপে। এই প্রশ্নেরই উত্তর এই আয়াতে দেওয়া হইয়াছে এবং বলা হইয়াছে যে, মানুষের শরীর তো চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া নিশ্চিহ্ন হইয়া যায় ঠিকই, কিন্তু তাহার আত্মা কস্মিনকালেও বিনষ্ট হয় না।পরজগতে তাহার আত্মাকে এক নূতন দেহ প্রদান করা হইবে এবং ইহকালে সে ভাল-মন্দ যাহা কিছু করিয়াছে, নূতন দেহধারী আত্মাকে তাহার জন্য হিসাব দান ও জবাবদিহি করিতে হইবে; কেননা তাহার ইহলৌকিক কার্যাবলী পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে ‘এক অবিনশ্বর হিসাব-খাতায় সংরক্ষিত রহিয়াছে’। ইহার অর্থ ইহাও হইতে পারে যে, বস্তু-জগতের সবকিছুই যখন অণু-পরমাণুতে পরিণত ও বিচ্ছিন্ন হইয়া নিশ্চিহ্ন হয়, তখন তাহাও ঐ সংরক্ষণ-খাতায় তথা আল্লাহ্‌তা’লার জ্ঞানে সংরক্ষিত থাকে। এই আয়াত দ্বারা এই কথাও বুঝাইতে পারে যে, কোন কিছু সৃষ্টি করিতে গেলে যেমন কি কি জিনিষ ও উপকরণ, কি কি পরিমাণে, কি কি অবস্থায়, কি কি ভাবে সংমিশ্রিত করিলে তবে সেই জিনিষ সৃষ্টি হয়, তাহা পূর্বাহ্নে জানা থাকিলে সেই জিনিষ বার বার বানানো যায়, ঠিক সেইরূপ আল্লাহ্‌তা’লা মানবদেহের প্রতিটি বিষয়ের (এনাটোমী) সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। ইহা কিভাবে গঠিত হয় আর কিভাবে লয় পায় উহার পুরাপুরি জ্ঞান আল্লাহ্‌তা’লার রহিয়াছে। অতএব,মানুষের সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পরও তাহাকে তিনি আবার সৃষ্টি করিবেন।

بَلۡ کَذَّبُوۡا بِالۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہُمۡ فَہُمۡ فِیۡۤ اَمۡرٍ مَّرِیۡجٍ ﴿۶﴾

৬
বরং যখন পূর্ণ সত্য তাহাদের নিকট আসিল, তখন তাহারা ইহাকে মিথ্যা বলিয়া অস্বীকার করিল; এইজন্য তাহারা বিষম দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবস্থায় পড়িয়া আছে।

اَفَلَمۡ یَنۡظُرُوۡۤا اِلَی السَّمَآءِ فَوۡقَہُمۡ کَیۡفَ بَنَیۡنٰہَا وَزَیَّنّٰہَا وَمَا لَہَا مِنۡ فُرُوۡجٍ ﴿۷﴾

৭
তাহারা কি নিজেদের ঊর্ধ্বস্থিত আকাশকে দেখে না যে, আমরা উহাকে কিরূপে সৃষ্টি করিয়াছি এবং উহাকে কিরূপে সৌন্দর্যমণ্ডিত করিয়াছি, এবং যাহার মধ্যে কোন ছিদ্র নাই?২৮০২
২৮০২। এই আয়াত ও পরবর্তী কয়েকটি আয়াতে সৃষ্টির বিস্ময়কর বিষয়গুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হইয়াছে। বিশ্ব-জগতের মাঝে রহিয়াছে একটি অত্যাশ্চর্য সুসামঞ্জস পরিকল্পনা। ইহাতে রহিয়াছে সংখ্যাতীত সুন্দর সুন্দর গ্রহ-তারকা; সুশোভিত আকাশমালা। ইহাতে রহিয়াছে জীব-জন্তু, গাছপালা পাহাড়-পর্বত ও নদ-নদী এবং মানব-জাতি-সম্বলিত এই বিরাট বিস্তীর্ণ পৃথিবী। অতঃপর এই আয়াতগুলি ইঙ্গিতে বুঝাইয়া দিতেছে যে, সৃজনের এই বিচিত্র ও অত্যাশ্চর্য-ভাণ্ডারসমূহ আমদিগকে এই অনিবার্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাইয়া দেয় যে, সেই মহামহিম পরম প্রজ্ঞাশীল কুশলী, সেই মহা পরিকল্পনাকারী নির্মাতা ও নিয়ন্ত্রক, যিনি এই বিস্ময়কর বিশ্ব-জগৎ সৃষ্টি করিয়া মানুষকে ইহার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করিয়াছেন, তাঁহার নিশ্চয়ই এই ক্ষমতা রহিয়াছে যে, সব কিছু ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন-বিলুপ্ত হওয়ার পরও তিনি উহা পুনরায় সৃষ্টি করিতে পারেন এবং মানুষের মৃত্যুর পরেও তিনি তাহাকে নূতন জীবন দিতে পারেন।

وَالۡاَرۡضَ مَدَدۡنٰہَا وَاَلۡقَیۡنَا فِیۡہَا رَوَاسِیَ وَاَنۡۢبَتۡنَا فِیۡہَا مِنۡ کُلِّ زَوۡجٍۭ بَہِیۡجٍ ۙ﴿۸﴾

৮
এবং (তাহারা কি দেখে না) পৃথিবীকে— আমরা ইহাকে সম্প্রসারিত করিয়াছি, এবং ইহাতে পর্বতমালা সংস্থাপিত করিয়াছি এবং উহার মধ্যে সর্ব প্রকারের সুন্দর সুন্দর জোড়া উৎপন্ন করিয়াছি,

تَبۡصِرَۃً وَّذِکۡرٰی لِکُلِّ عَبۡدٍ مُّنِیۡبٍ ﴿۹﴾

৯
ইহাতে (আল্লাহ্‌র সমীপে) অবনত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য অন্তর্দৃষ্টি ও উপদেশ২৮০৩ রহিয়াছে।
২৮০৩। বস্তুজগত ও প্রকৃতির অন্তরালে উদ্দেশ্য নিহিত রহিয়াছে মনে করা যুক্তি-সঙ্গত। আল্লাহ্‌তা’লা সব কিছুর পরিকল্পনাকারী ও স্রষ্টা বলিয়া ধারণা করার মধ্য দিয়া সৃষ্টির আদি-কারণ, সৃষ্টির পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য সম্বন্ধে একটা স্বচ্ছ যোগসূত্রসম্পন্ন ও অবিচ্ছিন্ন চিত্র মানস-পটে ফুটিয়া উঠে যাহাতে কোন অসংলগ্নতা নাই। সৃষ্টির পিছনে উদ্দেশ্যের অস্তিত্বের স্বীকৃতি পরোক্ষভাবে ইহাই প্রমাণ করে যে, মৃত্যুর পরেও জীবন আছে। কারণ মানুষের শারীরিক অবসানের সাথে সাথে আত্মাও লয় প্রাপ্ত হইয়া যায়, এমন ধারণা আল্লাহ্‌তা’লার সৃষ্টি-পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞাময়তার বিপরীত এবং বিশ্ব-সৃষ্টির উদ্দেশ্যেরও পরিপন্থী।

وَنَزَّلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً مُّبٰرَکًا فَاَنۡۢبَتۡنَا بِہٖ جَنّٰتٍ وَّحَبَّ الۡحَصِیۡدِ ۙ﴿۱۰﴾

১০
এবং আমরা মেঘ হইতে বরকত পূর্ণ বারি বর্ষণ করি, অতঃপর আমরা উহা দ্বারা বাগানসমূহ এবং কর্তনযোগ্য শস্য উৎপন্ন করি,