الذاريات
Adh-Dhariyat
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৬১ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।
অবর্তীর্ণ হওয়ার সময় এবং প্রসঙ্গ
পূর্ববর্তী সূরার মতই এই সূরাটিও নবুওয়াতের প্রথম দিকেই মক্কায় অবতীর্ণ হইয়াছিল। নলডিকি ইহার অবতরণের সময়কে নবুওয়াতের চতুর্থ বৎসরে নির্দ্ধারন করিয়াছেন। পূর্ববর্তী সূরাতে দুইটি পুনরুত্থানের কথা বর্ণিত হইয়াছে। একটি হইল কুরআনের শিক্ষাসমূহের অনুসরণ দ্বারা আনীত আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ এবং দ্বিতীয়টি হইল মৃত্যুর পরে জীবন লাভের মাধ্যমে শেষবারের মত পুনরুত্থান। প্রথম পুনর্জাগরণকে পরকালে পুনরুত্থানের স্বপক্ষে যুক্তি ও উদাহরণরূপে ব্যবহার করা হইয়াছে। সূরাটি একটি ভবিষ্যদ্বাণী দ্বারা আরম্ভ হইয়াছে। তাহা এই যে, কুরআনের পবিত্র শিক্ষাসমূহের প্রভাবে একদল মহা-ধার্মিক লোকের উদ্ভব হইবে। জল-ভারাক্রান্ত মেঘমালা যেমন শুষ্ক-পোড়া মাটির বিস্তীর্ণ এলাকাকে বৃষ্টিপাতের দ্বারা ফলে-পুষ্পে সুশোভিত করিয়া নূতন প্রাণের সঞ্চার করে, তেমনি এই পবিত্র ধার্মিকের দলও নিজেদেরকে আধ্যাত্মিক জীবনে পূরাপূরি অভিষিক্ত করিয়া কুরআনের মহাবাণীকে বিশ্বের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিবে। বিরোধিতার ঝড়-ঝঞ্ঝা ও বাধা-বিপত্তির পাহাড়সমূহ অকুতোভয়ে ডিঙ্গাইয়া গিয়া তাহারা এই মহান কার্য সম্পাদন করিবে। এই ভবিষ্যদ্বাণী যাহা পূর্ণ হওয়া বাহ্যতঃ একেবারে অসম্ভব বলিয়া মনে হয়, তাহা যদি পূর্ণ হইয়া দৃশ্যমান বাস্তবতার রূপ লাভ করে, তাহা হইলে ইহা একটি অপরাজেয় যুক্তি হইয়া দাঁড়ায় যে, মৃত্যুর পরেও একটা পুনরুত্থান আছে। এই সূরাতে এই কথাও বলা হইয়াছে যে, যখনই কোন নবী আসিয়া মানুষকে বলেন যে, ইহজীবনের মৃত্যুর পর পরকালের জীবন রহিয়াছে যেখানে ইহকালীন জীবনের কার্যাবলীর হিসাব দিতে হইবে, তখনই লোকজন তাহাকে হাসি-ঠাট্টা ও বিদ্রুপ করিতে লাগিয়া যায়, তাঁহার বিরোধিতা করে এবং তাঁহাকে অত্যাচার করিতে লাগিয়া যায়। এইভাবে, তাহারা নিজেদের উপর ঐশী শাস্তি টানিয়া আনে। অতঃপর বলা হইয়াছে যে, লুত (আঃ)-এর জাতি তাহাদের অন্যায়-অবিচার ও অপ্রাকৃতিক নীতি-বিগর্হিত কার্যাবলীর জন্য শাস্তি ভোগ করিয়াছিল। ফেরাউনও শাস্তি পাইয়াছিল, আদ জাতি, সামূদ জাতি, নূহ (আঃ)-এর জাতিকেও শাস্তি দেওয়া হইয়াছিল। অবশেষে, সূরাটি মানব জীবনের মহান উদ্দেশ্য সম্পর্কে তীক্ষ দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া বলিতেছে যে, আল্লাহ্তা’লার গুণাবলীকে নিজের মধ্যে ধারণ করা এবং নিজের জীবনের মাধ্যমে খোদার গুণের প্রকাশ ঘটানোই হইল মানব জীবনের চরম উদ্দেশ্য। মানুষ যেন আল্লাহ্তা’লার প্রতি ও সকল মানবের প্রতি তাহার দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
وَالذّٰرِیٰتِ ذَرۡوًا ۙ﴿۲﴾
فَالۡمُقَسِّمٰتِ اَمۡرًا ۙ﴿۵﴾
اِنَّمَا تُوۡعَدُوۡنَ لَصَادِقٌ ۙ﴿۶﴾
وَالسَّمَآءِ ذَاتِ الۡحُبُکِ ۙ﴿۸﴾
اِنَّکُمۡ لَفِیۡ قَوۡلٍ مُّخۡتَلِفٍ ۙ﴿۹﴾