৫১

الذاريات

সূরা আয্‌ যারীয়াত

Adh-Dhariyat

মক্কী ৬১ আয়াত ৩ রুকু পারা ২৬–২৭

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৬১ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

وَالذّٰرِیٰتِ ذَرۡوًا ۙ﴿۲﴾

২
কসম২৮২৩ তাহাদের যাহারা অত্যধিক ছড়ায়,২৮২৩-ক
২৮২৩। দেখুন টীকা ২৪৬৫।
২৮২৩-ক। ইহার ও পরবর্তী তিনটি আয়াতের ব্যাখ্যা একত্রিতভাবে ২৮২৪ টীকায় দেখুন।

فَالۡحٰمِلٰتِ وِقۡرًا ۙ﴿۳﴾

৩
অতঃপর কসম বোঝা বহনকারীদের,

فَالۡجٰرِیٰتِ یُسۡرًا ۙ﴿۴﴾

৪
অতঃপর কসম মৃদু গতিতে ধাবমানগণের,

فَالۡمُقَسِّمٰتِ اَمۡرًا ۙ﴿۵﴾

৫
অতঃপর কসম (আমাদের) হুকুম (অনুযায়ী রহমত বারি) বন্টনকারীগণের,২৮২৪
২৮২৪। প্রাকৃতিক জগতের ঘটমান আশ্চর্য দৃশ্যপট বর্ণনা করিয়া এই চারটি আয়াত (২-৫) আমাদের দৃষ্টিকে অনুরূপ সমান্তরাল আধ্যাত্মিক দৃশ্যপটের দিকে আকর্ষণ করিতেছে। এই সাদৃশ্য খুবই চমৎকার ও হৃদয়গ্রাহী। ‘আয্‌ যারিয়াত’ (চতুর্দ্দিকে বিস্তারকারীগণ), ‘আল্ হামিলাত’ (বহনকারীগণ), ‘আজ্‌ জারিয়াত’ (হালকা অবস্থায় দ্রুতগতিতে ধাবমানগণ) ও আল্‌ মুকাস্‌সিমাত (বন্টনকারীগণ) এই চারিটি শব্দ যদি পার্থিব প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর প্রতি আরোপ করা হয়, তখন সবটা মিলিয়া অর্থ দাঁড়াইবে সমুদ্র হইতে জলীয় বাষ্পকে বায়ু দূরদূরান্তে ছড়াইয়া দেয় এবং জলবিন্দুপূর্ণ মেঘমালাকে বহন করিয়া একত্রে জমা করে, অতঃপর মৃদুমন্দ শান্তভাব ধারণ করিয়া বৃষ্টি-বর্ষণ করে, যাহার ফলে শুষ্ক, তৃষ্ণার্ত পোড়া যমীন ফুলে-ফলে শোভিত, শস্য-শ্যামল, হাস্য-ঝলমল বাগান-ভূমিতে পরিণত হয়। এই উপমার সহিত সমান্তরাল সামঞ্জস্য রাখিয়া আধ্যাত্মিকভাবে বিশ্লেষণ করিলে উপরোক্ত চারটি শব্দের সামগ্রিক অর্থ দাঁড়ায়ঃ এই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) দ্বারা জারীকৃত আধ্যাত্মিক প্রস্রবণের পানি আকণ্ঠ পান করিয়া যে মো’মেনগণ কুরআনের সুন্দর ও সঞ্জীবনী শিক্ষামালায় ভূষিত হইয়াছিলেন, তাহারা আরব ভূখণ্ডের কোণায় কোণায় এবং পরবর্তীতে দূর-দূরান্তের দেশগুলিতে আল্লাহ্‌তা’লার অবতীর্ণ মহান আশীষবাণী বহন করিয়া ঐ সকল লোকদিগকে আলোকিত ও সঞ্জীবিত করিয়াছিলেন, যাহারা বহু-ঈশ্বরবাদ, নীতিহীনতা, কুসংস্কার ও চারিত্রিক হীনমন্যতার চরম অন্ধকারে আপাদমস্তক নিমজ্জিত ছিল। এই কাজে তাহারা তরবারী ব্যবহার করেন নাই বরং প্রেম-ভালবাসা ও সেবা-শান্তিকে ব্যবহার করিয়াছিলেন, যেমন বায়ু মেঘমালাকে দূরদূরান্তে বহন করিয়া তৃষিত শুষ্ক মাটিতে জলসিঞ্চন করিয়া শস্য-শ্যামল করে।

اِنَّمَا تُوۡعَدُوۡنَ لَصَادِقٌ ۙ﴿۶﴾

৬
তোমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইতেছে উহা নিশ্চয় সত্য,

وَّاِنَّ الدِّیۡنَ لَوَاقِعٌ ؕ﴿۷﴾

৭
এবং বিচার (দিবস) অবশ্যই সংঘটিত হইবে।

وَالسَّمَآءِ ذَاتِ الۡحُبُکِ ۙ﴿۸﴾

৮
কসম বহু (কক্ষ) পথ-বিশিষ্ট২৮২৫ আকাশের,
২৮২৫। “পথ-বিশিষ্ট আকাশ” বলিতে গ্রহের, ধূমকেতুর ও তারকারাজির কক্ষপথগুলিকে বুঝাইয়াছে। মহাকাশের নীচে এই গ্রহ-তারকাগুলি তাহাদের নিজ নিজ কক্ষপথে ভাসমান থাকিয়া তাহাদের নির্দ্ধারিত কাজ নিয়মিত, সময়মত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করিয়া চলিয়াছে। পরস্পরের কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আছে বটে, কিন্তু একের কর্মক্ষেত্রে অপরে প্রবেশ করে না। সব কিছু মিলাইয়া গতি ও গঠন কাঠামোর এক সামঞ্জস্যময় অপরূপ সমন্বয়! মহাকাশের মধ্যে যে গ্রহ-তারকার এত সব নির্দ্ধারিত কক্ষপথ রহিয়াছে, তাহা কুরআনই প্রথম আবিষ্কার করিয়া পৃথিবীকে ঐ সময় জানাইয়াছিল যখন মানুষ মনে করিত যে, আকাশস্থ সব কিছুই ঘনত্বসম্পন্ন ধাতব-গঠন বিশেষ।

اِنَّکُمۡ لَفِیۡ قَوۡلٍ مُّخۡتَلِفٍ ۙ﴿۹﴾

৯
নিশ্চয় তোমরা পরস্পর বিরোধী২৮২৬ কথায় লিপ্ত।
২৮২৬। পূর্ববর্তী আয়াতটিতে জোতিঃশাস্ত্রবিষয়ক যে সত্য কুরআনের মাধ্যমে বিশ্বে সর্ব প্রথম প্রকাশ পাইল, তাহাতেই বুঝিতে পারা যায় যে, কুরআন আল্লাহ্‌তা’লার অবতীর্ণ বাণী। আরও বুঝিতে পারা যায় যে, আল্লাহ্‌তা’লার সৃষ্টি-কর্মের মধ্যে এক নিবিড় ঐক্য ও উদ্দেশ্য বিদ্যমান আছে। তথাপি বস্তুবাদী দার্শনিকেরা কষ্ট-কল্পিত মতবাদ সৃষ্টি করিয়া, নড়বড়ে ভিত্তির অনুমান ও সন্দেহময় সিদ্ধান্তের অন্ধকারে নাকানি-চুবানি খাইতে থাকে। তাহারা আল্লাহ্ ও তাঁহার পবিত্র রসূলের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করিতে চায় না বলিয়াই এমনটা হয়।

یُّؤۡفَکُ عَنۡہُ مَنۡ اُفِکَ ﴿ؕ۱۰﴾

১০
(কেবল) সেই ব্যক্তিকে উহা (সত্য) হইতে ফিরানো হয়, যাহাকে (সিদ্ধান্ত অনুযায়ী)২৮২৭ ফিরানো হইয়াছে।
২৮২৭। এই শব্দগুলির অর্থ ইহাও হইতে পারে-‘যে নিজে নিজেই দূরে সরিয়া যায়।’