৫১

الذاريات

সূরা আয্‌ যারীয়াত

Adh-Dhariyat

মক্কী ৬১ আয়াত ৩ রুকু পারা ২৬–২৭

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৬১ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।

وَفِی الۡاَرۡضِ اٰیٰتٌ لِّلۡمُوۡقِنِیۡنَ ﴿ۙ۲۱﴾

২১
এবং দৃঢ়বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে নিদর্শনাবলী আছে,

وَفِیۡۤ اَنۡفُسِکُمۡ ؕ اَفَلَا تُبۡصِرُوۡنَ ﴿۲۲﴾

২২
এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তথাপি কি তোমরা দেখিতেছ না?

وَفِی السَّمَآءِ رِزۡقُکُمۡ وَمَا تُوۡعَدُوۡنَ ﴿۲۳﴾

২৩
এবং আকাশে তোমাদের রিয্‌ক আছে এবং উহাও আছে যাহার প্রতিশ্রুতি তোমাদিগকে দেওয়া হইয়াছে।২৮৩১
২৮৩১। বিশ্বাসীদের বিজয় ও ধন-সম্পদ লাভের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহা এবং অবিশ্বাসীদের প্রতি যে সতর্কবাণী দেওয়া হইয়াছে তাহা উভয়ই এই প্রতিশ্রুতির অন্তর্গত।

فَوَرَبِّ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ اِنَّہٗ لَحَقٌّ مِّثۡلَ مَاۤ اَنَّکُمۡ تَنۡطِقُوۡنَ ﴿٪۲۴﴾

২৪
এবং আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের কসম, নিশ্চয় ইহা (কুরআন) সেইভাবেই সত্য যেভাবে তোমরা কথা বলিতেছ।২৮৩২
সূরা আয্‌ যারীয়াত - রুকু ১
২৮৩২। পূর্ববর্তী আয়াতে বিশ্বাসীদেরকে বিজয় ও ধন-সম্পদসহ রিযক দানের যে প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করা হইয়াছে, তাহা মহানবী (সাঃ)-এর কল্পনা-বিলাসী একটি ইচ্ছাই কেবল নহে, বরং তাহা দৃঢ় সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিশ্রুতি এবং এমনই সুস্পষ্ট সত্য, যেমন তোমরা কথা বলিতেছ তাহা জাজ্বল্যমান সত্য। ইহার আরেকটি অর্থও বুঝাইতে পারে তাহা এই যে ‘কুরআন নিঃসন্দেহে খোদার এমনি মুখনিঃসৃত বাণী, যেমন ‘তুমি কহিতেছ’।

ہَلۡ اَتٰٮکَ حَدِیۡثُ ضَیۡفِ اِبۡرٰہِیۡمَ الۡمُکۡرَمِیۡنَ ﴿ۘ۲۵﴾

২৫
তোমার নিকট কি ইব্‌রাহীমের সম্মানিত মেহমানগণের বৃত্তান্ত পৌঁছিয়াছে?

اِذۡ دَخَلُوۡا عَلَیۡہِ فَقَالُوۡا سَلٰمًا ؕ قَالَ سَلٰمٌ ۚ قَوۡمٌ مُّنۡکَرُوۡنَ ﴿ۚ۲۶﴾

২৬
যখন তাহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইল তখন তাহারা বলিল, ‘সালাম’ (শান্তি বর্ষিত হউক)! সে বলিল, ‘সালাম!’ (ইব্‌রাহীম মনে মনে বলিল) লোকগুলি অপরিচিত মনে হইতেছে।’২৮৩৩
২৮৩৩। ১১ঃ৭০-৭১ দেখুন।

فَرَاغَ اِلٰۤی اَہۡلِہٖ فَجَآءَ بِعِجۡلٍ سَمِیۡنٍ ﴿ۙ۲۷﴾

২৭
এবং সে নিরবে নিজ পরিবারের নিকটে চলিয়া গেল এবং একটি মোটা ভাজা গো-বৎস লইয়া আসিল,

فَقَرَّبَہٗۤ اِلَیۡہِمۡ قَالَ اَلَا تَاۡکُلُوۡنَ ﴿۫۲۸﴾

২৮
এবং উহা তাহাদের সন্মুখে রাখিল এবং বলিল, ‘আপনারা কি খাইবেন না?’

فَاَوۡجَسَ مِنۡہُمۡ خِیۡفَۃً ؕ قَالُوۡا لَا تَخَفۡ ؕ وَبَشَّرُوۡہُ بِغُلٰمٍ عَلِیۡمٍ ﴿۲۹﴾

২৯
এবং সে তাহাদের নিকট হইতে ভীতি অনুভব করিল, তাহারা বলিল, ‘ভীত হইও না;’ এবং তাহারা তাহাকে এক জ্ঞানবান পুত্র-সন্তানের সুসংবাদ দিল।২৮৩৪
২৮৩৪। এই আয়াতে এবং ১৫ঃ৫৪ আয়াতে ‘প্রতিশ্রুত পুত্র’কে ‘জ্ঞানী পুত্র’ বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। অন্যদিকে ৩৭ঃ১০২ আয়াতের প্রতিশ্রুত পুত্রকে ধৈর্যশীল পুত্র বলা হইয়াছে। প্রথমোক্ত জ্ঞানী পুত্র হইলেন হযরত ইস্‌হাক এবং শেষোক্ত ধৈর্যশীল পুত্র হইলেন হযরত ইসমাঈল।

فَاَقۡبَلَتِ امۡرَاَتُہٗ فِیۡ صَرَّۃٍ فَصَکَّتۡ وَجۡہَہَا وَقَالَتۡ عَجُوۡزٌ عَقِیۡمٌ ﴿۳۰﴾

৩০
তখন তাহার স্ত্রী অত্যন্ত লজ্জিত ও হতভম্ব২৮৩৫ হইয়া সম্মুখে আসিল এবং সে নিজ মুখে করাঘাত করিয়া বলিল, ‘আমি তো একজন বন্ধ্যা, বৃদ্ধা।’
২৮৩৫। ‘সাররা’ অর্থ উচ্চেঃস্বরে চীৎকার, শোকের আতিশয্য, দুশ্চিন্তার একশেষ, ঘৃণা-লজ্জা বা অপসন্দের কারণে মুখমণ্ডলের সঙ্কোচন, বিকৃতি বা পাণ্ডু-বর্ণ ধারণ, সংজ্ঞাহীন হওয়া।