৫০

ق

সূরা কাফ্

Qaf

মক্কী ৪৬ আয়াত ৩ রুকু পারা ২৬

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৪৬ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।

وَنُفِخَ فِی الصُّوۡرِ ؕ ذٰلِکَ یَوۡمُ الۡوَعِیۡدِ ﴿۲۱﴾

২১
এবং শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে। ইহাই সেই প্রতিশ্রুত দিবস।

وَجَآءَتۡ کُلُّ نَفۡسٍ مَّعَہَا سَآئِقٌ وَّشَہِیۡدٌ ﴿۲۲﴾

২২
এবং প্রত্যেকটি আত্মা (এমন অবস্থায়) উপস্থিত হইবে যে, পিছন হইতে হাঁকিবার জন্য তাহার সঙ্গে একজন চালক (ফিরিশ্‌তা) এবং একজন সাক্ষী (ফিরিশ্‌তা) থাকিবে।২৮০৭
২৮০৭। ‘সায়েক’ ঐ ফিরিশ্‌তা ‘যে মানুষের বাম দিকে বসিয়া তাহার কুকর্মগুলির হিসাব রাখে এবং শাস্তির জন্য তাহাকে দোযখের দিকে লইয়া যায়। আর ‘শাহীদ’ ঐ ফিরিশ্‌তা, যে মানুষের ডান দিকে বসিয়া তাহার সৎকর্মগুলির হিসাব রাখে এবং তাহার স্বপক্ষে ও অনুকূলে সাক্ষ্য দান করিবে। ইহাও হইতে পারে যে, এই দুইটি শব্দ ‘সায়েক’ ও ‘শাহীদ’ রূপক বর্ণনা হিসাবে যথাক্রমে মানুষের অপব্যবহৃত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও কর্মশক্তিকে এবং সঠিক ব্যবহৃত অঙ্গাদি ও কর্ম-শক্তিকে বুঝাইয়াছে।

لَقَدۡ کُنۡتَ فِیۡ غَفۡلَۃٍ مِّنۡ ہٰذَا فَکَشَفۡنَا عَنۡکَ غِطَآءَکَ فَبَصَرُکَ الۡیَوۡمَ حَدِیۡدٌ ﴿۲۳﴾

২৩
(তখন আমরা বলিব) ‘এই (দিন) সম্বন্ধে তুমি গাফেল ছিলে, সুতরাং (এখন) আমরা তোমার উপর হইতে তোমার পর্দা সরাইয়া দিলাম, ফলে আজ তোমার দৃষ্টি অতিশয় তীক্ষ্ণ হইয়াছে।’২৮০৮
২৮০৮। পরজগতে চক্ষু হইতে সকল পর্দা অপসারণ করা হইবে। তখন তাহার দৃষ্টি ও মানসিক সামর্থ্য স্পষ্ট ও ধারাল হইয়া যাইবে। সে তাহার কৃত-কর্মের ফলাফলকে দৃশ্যমান রূপে রূপায়িত দেখিতে পাইবে, যাহা ইহজগতে থাকাবস্থায় তাহার চক্ষুর অন্তরালে ছিল। তখন সে সুনিশ্চিতভাবে বুঝিতে পারিবে, যে ব্যাপারকে সে নিছক মায়া বলিয়া মনে করিত, তাহা কত সুনিশ্চিত ও নিদারুণ সত্য ছিল!

وَقَالَ قَرِیۡنُہٗ ہٰذَا مَا لَدَیَّ عَتِیۡدٌ ﴿ؕ۲۴﴾

২৪
এবং তাহার সঙ্গী বলিবে, ‘যাহা কিছু আমার নিকট প্রস্তুত আছে তাহা এই।’

اَلۡقِیَا فِیۡ جَہَنَّمَ کُلَّ کَفَّارٍ عَنِیۡدٍ ﴿ۙ۲۵﴾

২৫
(অতঃপর আমরা তাহাদের উভয় চালক ও সাক্ষীকে বলিব) ‘তোমরা জাহান্নামে নিক্ষেপ কর২৮০৯ প্রত্যেক অস্বীকারকারীকে, সত্যের শত্রুকে,
২৮০৯। দ্বি-বচন ‘আল্‌কিয়া’ এইজন্য ব্যবহৃত হইয়াছে যেহেতু দুইজন ফিরিশ্‌তা - ‘সায়েক’ ও ‘শাহীদকে’ আদেশ দেওয়া হইয়াছে অথবা আদেশটিতে সবিশেষ জোর দিবার জন্য এই দ্বিবচন ব্যবহার করা হইয়াছে। এইরূপ প্রকাশভঙ্গী ২৩ঃ১০০ তে ব্যবহৃত হইয়াছে। সেখানে কর্তা একবচন হওয়া সত্বেও বহুবচনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হইয়াছে। ইহা আরবী ভাষার ব্যাকরণ-সম্মত।

مَّنَّاعٍ لِّلۡخَیۡرِ مُعۡتَدٍ مُّرِیۡبِ ﴿ۙ۲۶﴾

২৬
ভাল কাজের প্রতিরোধকারীকে, সীমাতিক্রমকারীকে, সন্দেহ পোষণকারীকে—

ۣالَّذِیۡ جَعَلَ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَاَلۡقِیٰہُ فِی الۡعَذَابِ الشَّدِیۡدِ ﴿۲۷﴾

২৭
যে আল্লাহ্‌র সঙ্গে অন্যান্য মা’বূদ গ্রহণ করিয়াছিল, সুতরাং তোমরা তাহাকে অতি কঠোর আযাবে নিক্ষেপ কর।’

قَالَ قَرِیۡنُہٗ رَبَّنَا مَاۤ اَطۡغَیۡتُہٗ وَلٰکِنۡ کَانَ فِیۡ ضَلٰلٍۭ بَعِیۡدٍ ﴿۲۸﴾

২৮
তাহার সঙ্গী বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তো তাহাকে অবাধ্য করি নাই, বরং সে (নিজেই) ঘোর পথভ্রষ্টতায় নিপতিত ছিল।’২৮১০
২৮১০। ইহা মানুষের এক স্বাভাবিক প্রবৃত্তি যে, যখন দুষ্কৃতকারী আপন কুকর্মের শাস্তিপ্রাপ্তির জন্য দণ্ডায়মান হয়, তখন সে দুষ্কর্মের সকল দায়িত্ব অন্যের উপর চাপাইবার প্রয়াস পায়। অবিশ্বাসীর এই মানসিকতার চিত্রই এই আয়াতটিতে বিধৃত হইয়াছে। তাহার নিজের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের পাপের জন্য সে শয়তানেক দায়ী করে।

قَالَ لَا تَخۡتَصِمُوۡا لَدَیَّ وَقَدۡ قَدَّمۡتُ اِلَیۡکُمۡ بِالۡوَعِیۡدِ ﴿۲۹﴾

২৯
তিনি বলিবেন, ‘তোমরা আমার নিকট ঝগড়া করিবে না, আমি তোমাদিগকে পূর্বেই সতর্ক করিয়া দিয়াছিলাম,

مَا یُبَدَّلُ الۡقَوۡلُ لَدَیَّ وَمَاۤ اَنَا بِظَلَّامٍ لِّلۡعَبِیۡدِ ﴿٪۳۰﴾

৩০
আমার দরবারে কোন কথা পরিবর্তন করা যায় না, এবং আমি বান্দাগণের প্রতি ন্যূনতম যুলুমও করিব না।’
সূরা কাফ্ - রুকু ২