২১

الأنبياء

সূরা আল্ আম্বিয়া

Al-Anbiya'

মক্কী ১১৩ আয়াত ৭ রুকু পারা ১৬–১৭

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১১৩ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।

وَعَلَّمۡنٰہُ صَنۡعَۃَ لَبُوۡسٍ لَّکُمۡ لِتُحۡصِنَکُمۡ مِّنۡۢ بَاۡسِکُمۡ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ شٰکِرُوۡنَ ﴿۸۱﴾

৮১
এবং আমরা তাহাকে তোমাদের জন্য বিশেষ একপ্রকার পোশাক১৯০৮ (বর্ম) প্রস্তুত করার শিল্প-কলা শিক্ষা দিয়াছিলাম যেন উহা তোমাদিগকে তোমাদের পরস্পরের যুদ্ধের আঘাত হইতে রক্ষা করে। অতএব তোমরা কি কৃতজ্ঞ হইবে?
১৯০৮। হযরত দাউদ (আঃ)-এর সমর শক্তি সম্বন্ধে আবারও এই আয়াতে উল্লেখ হইয়াছে এবং সমরাস্ত্র এবং বর্ম নির্মাণ কাজে তাঁহার কৌশলপূর্ণ দক্ষতার প্রতিও এই আয়াতে বর্ণিত হইয়াছে। দাউদ (আঃ) বিভিন্ন প্রকারের সমরাস্ত্র আবিষ্কার করিয়াছিলেন যদ্বারা তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ বিজয় লাভ করিয়াছিলেন। তাঁহার শাসনামলে ইসরাঈলী রাজত্ব ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছিয়াছিল। ইসরাঈলী ইতিহাসে ইহা ছিল সুবর্ণ যুগ।

وَلِسُلَیۡمٰنَ الرِّیۡحَ عَاصِفَۃً تَجۡرِیۡ بِاَمۡرِہٖۤ اِلَی الۡاَرۡضِ الَّتِیۡ بٰرَکۡنَا فِیۡہَا ؕ وَکُنَّا بِکُلِّ شَیۡءٍ عٰلِمِیۡنَ ﴿۸۲﴾

৮২
এবং আমরা প্রচণ্ড বায়ুকেও সুলায়মানের নিয়ন্ত্রণাধীন করিয়াছিলাম যাহা তাহার আদেশে সেই দেশের দিকে প্রবাহিত হইত যাহাতে আমরা বরকত রাখিয়াছিলাম।১৯০৯ এবং আমরা প্রত্যেক বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।
১৯০৯। ইহা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, সোলায়মান (আঃ)-এর সওদাগরী জাহাজ বা বড় নৌকাগুলি পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগরে সচরাচর চলাচল করিত এবং পারস্য উপসাগর ও উক্ত দুই সাগরের চারিদিকে অবস্থিত দেশসমূহ এবং প্যালেষ্টাইনের মধ্যে নিয়মিত ব্যবসা-বাণিজ্য চালাইত (১ রাজাবলী- ১০ঃ২৭-২৯)।তিনি তাইর (Tyre)-এর রাজা হিরাম (Hiram)-এর সাথে যৌথ মালিকানায় সমুদ্রগামী জাহাজের এক বহর চালাইতেন। এই জাহাজগুলি ভূমধ্যসাগরের বন্দরসমূহে নিয়মিতভাবে বাণিজ্য করিত এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতির দাঁত, বানর এবং ময়ূর নিয়া আসিত (১ রাজাবলী- ১০ঃ২২; ১০ঃ২৭-২৯; ২ রাজাবলী-৮ঃ১৮, এনসাইক, ব্রিট ‘সলোমন’ অধ্যায় দ্রষ্টব্য)। এখানে বাতাসের জন্য ব্যবহৃত বিশেষণ আসিফাহ্ (প্রচণ্ড বায়ু), এবং ৩৮ঃ৩৭ আয়াতে ব্যবহৃত হইয়াছে রুখাআ (মৃদু বায়ু)—যাহাতে প্রতীয়মান হয় যে, যদিও বাতাস প্রচণ্ডবেগে বহিয়া ছিল তথাপি উহা মৃদু ছিল এবং সুলায়মান (আঃ)-এর জাহাজগুলির কোন ক্ষতি সাধন করে নাই।

وَمِنَ الشَّیٰطِیۡنِ مَنۡ یَّغُوۡصُوۡنَ لَہٗ وَیَعۡمَلُوۡنَ عَمَلًا دُوۡنَ ذٰلِکَ ۚ وَکُنَّا لَہُمۡ حٰفِظِیۡنَ ﴿ۙ۸۳﴾

৮৩
এবং কতক বিদ্রোহপরায়ণ লোক এমন ছিল যাহারা তাহার জন্য ডুবুরীর কাজ করিত১৯১০ এবং ইহা ছাড়া তাহারা অন্যান্য কাজও করিত এবং আমরাই তাহাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিলাম।
১৯১০। ‘শাইতান’ অর্থ অবাধ্য বা বিদ্রোহ-পরায়ণ লোক এবং কোন বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিকেও বুঝায় (২ঃ১৫)। এইরূপ উক্তির অভিপ্রায় এই যে, হযরত সুলায়মান (আঃ)-এর আদেশে সেই সকল বশীভূত অইসরাঈলী লোকদিগকে বিভিন্ন কষ্ট-সাধ্য কাজে লাগান হইয়াছিল। তাহারা সুতার, কামার, ডুবুরী ইত্যাদির কাজ করিত (১-রাজাবলী-৯ঃ২১-২২)। ‘যাহারা তাঁহার জন্য ডুবুরির কাজ করিত’ শব্দগুলি বাহরাইন ও মস্কটের ডুবুরীদিগের প্রতি ইশারা করে, যাহারা পারস্য উপসাগরের মনি-মুক্তা আহরণ করিত। হযরত সুলায়মানের সময়ে অনুরূপ কাজের জন্য তাহাদিগকে নিযুক্ত করা হইত।

وَاَیُّوۡبَ اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗۤ اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَاَنۡتَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ ﴿ۚۖ۸۴﴾

৮৪
এবং আইউবকেও১৯১১ (স্মরণ কর), যখন সে তাহার প্রভুকে ডাকিয়া বলিল, ‘অবশ্যই দুঃখ-ক্লেশ আমাকে স্পর্শ করিয়াছে, তুমি রহমকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রহমকারী।’
১৯১১। বাইবেলে উল্লেখ রহিয়াছে যে, সিরিয়া এরং আকাবা উপসাগরের মধ্যবর্তী আরবের উত্তরে অবিস্থত ‘উয’ নামক অঞ্চলে হযরত আইউব (আঃ) বাস করিতেন। সেখানে ইহা বর্ণিত হইয়াছে যে, ইসরাঈলীগণ মিশর ত্যাগ করিবার পূর্বে হযরত আইউব (আঃ) উক্ত স্থানে বাস করিতেন। কোন কোন ইহুদী লেখকের মতে হযরত মূসা (আঃ)-এর প্রায় দুইশত বৎসর পূর্বে আইউব (আঃ) বাস করিতেন। অন্যান্য লেখকের মতে আইউব (আঃ) ছিলেন মূসা (আঃ)-এর স্বদেশবাসী, কিন্তু তিনি ইসরাঈল বংশীয় নবী ছিলেন না। তিনি হযরত ইসরাঈল (আঃ)-এর বড় ভাই ইসাও-এর বংশধর ছিলেন। পুরাতন নিয়মের গ্রন্থাবলীর মধ্যে আইউব (আঃ)-এর গ্রন্থটিই এই ব্যাপারে একমাত্র কিতাব যাহার মধ্যে ‘যেহোবা’ (ইহুদী কর্তৃক খোদার নাম রূপে ব্যবহৃত) শব্দটি বাদ দিয়া মূসায়ী শরীয়তের এবং ইহুদী ধর্মের সমস্ত ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। হযরত আইউব (আঃ) (Job) সম্পর্কে কয়েকটি সংশ্লিষ্ট ঘটনা উল্লেখের মধ্যেই কুরআন করীম বর্তমান ও পরবর্তী আয়াতে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিয়াছে। বর্ণিত হইয়াছে যে, তিনি আল্লাহ্‌র পবিত্র বান্দা ছিলেন এবং তাঁহাকে অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করিতে হইয়াছে, যাহার ফলে তিনি তাঁহার পরিবার এবং অনুসারীগণ হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া গিয়াছিলেন, যাহারা পরবর্তী সময়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পাইয়া তাঁহার সহিত যোগ দিতে বাধ্য হইয়াছিল। হযরত আইউব (আঃ)-এর কথা ৪ঃ১৬৪; ৬ঃ৮৫ এবং ৩৮ঃ৪২ আয়াতসমূহের মধ্যে হযরত দাউদ এবং সুলায়মান (আঃ)-এর সাথে বর্ণিত হইয়াছে। ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, এই দুই জন গৌরবপূর্ণ নবীর মত, তিনিও একজন প্রভাবশালী ও সমৃদ্ধিশালী মহান ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁহাদের মতই বহু পরীক্ষা এবং কঠোর দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়া তাঁহাকেও অতিক্রম করিতে হইয়াছিল, যাহা তিনি অনুকরণীয়ভাবে ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে সহ্য করিয়াছিলেন। ভয়ানক অত্যাচার ও দুদর্শাগ্রস্ত অবস্থার মধ্যেও হযরত আইউব (আঃ) কর্তৃক প্রদর্শিত সাহস ও বীরত্বপূর্ণ সহিষ্ণুতা কিংবদন্তীর প্রবাদ বাক্য হইয়া রহিয়াছে। (‘যব’ অধ্যায়ের অধীন যিউ এনসাইক এবং ‘আইউব’ অধ্যায়ের অধীন এনসাইক অব ইসলাম দ্রষ্টব্য)

فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ فَکَشَفۡنَا مَا بِہٖ مِنۡ ضُرٍّ وَّاٰتَیۡنٰہُ اَہۡلَہٗ وَمِثۡلَہُمۡ مَّعَہُمۡ رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِنَا وَذِکۡرٰی لِلۡعٰبِدِیۡنَ ﴿۸۵﴾

৮৫
সুতরাং আমরা তাহার দোয়া শুনিলাম এবং তাহার যে দুঃখ-ক্লেশ ছিল, উহা আমরা দূরীভূত করিয়া দিলাম এবং আমরা তাহাকে তাহার পরিবার-পরিজন প্রদান করিলাম এবং আমাদের তরফ হইতে রহমতস্বরূপ তাহাদের সঙ্গে তাহাদের অনুরূপ আরও প্রদান করিলাম; এবং এই ঘটনাকে (আমরা) ইবাদতকারীদের জন্য নসিহতের কারণ করিলাম।

وَاِسۡمٰعِیۡلَ وَاِدۡرِیۡسَ وَذَا الۡکِفۡلِ ؕ کُلٌّ مِّنَ الصّٰبِرِیۡنَ ﴿ۚۖ۸۶﴾

৮৬
এবং ইসমাঈল, ইদরীস ও যুল-কিফলকেও১৯১২ (স্মরণ কর)। তাহারা সকলেই ধৈর্যশীল ছিল।
১৯১২। যুল-কিফলের পরিচয় অনিশ্চয়তার তিমিরে আচ্ছাদিত। কুরআনের মুসলমান ব্যাখ্যাকারীগণ পৃথক পৃথক একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁহার পরিচিতি সম্পৃক্ত করিয়াছেন, প্রধানতঃ বাইবেলে উল্লেখিত কয়েকজন নবীর সঙ্গে। কিন্তু এই নামে পরিচিত নবী মনে হয় যিহিষ্কেল (Ezekiel) যাহাকে আরবরা যুল-কিফল নামে অভিহিত করিয়া থাকে। যুল-কিফল (Hizqel) এবং যিহিষ্কেল (Ezekiel) এই দুই শব্দের মধ্যে উভয়ের আকার এবং অর্থে অতি নিকট সাদৃশ্য বিদ্যমান। প্রথমোক্ত শব্দের অর্থ, প্রচুর অংশের অধিকারী এবং শেষোক্ত শব্দের অর্থ আল্লাহ্ শক্তি দান করেন। রডওয়েল বলিতেন যে, আরবরা যিহিষ্কেলকে যুল-কিফল বলিয়া থাকে। কারষ্টেন নিইবুহর (Karsten Niebuhr)-এর মতে, নাযাফ এবং হিল্লা (বেবিলন)-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত কিফল নামে পরিচিত ছোট শহরে যিহিষ্কেলের সমাধি রহিয়াছে, যাহা আজও ইহুদী তীর্থযাত্রীগণের দর্শনীয় স্থান। তিনি ইহাও মনে করেন যে, যিহিষ্কেলের আরবী শব্দরূপ যুল্‌-কিফল। ইহুদীগণও যিহিষ্কেলকে যুল-কিফল বলিয়াই বিশ্বাস করিয়া থাকে (যুল-কিফল অধ্যায়—এনসাইক অব ইসলাম এবং নিসবুহারর্ক ট্রাভেল, ২য় খণ্ড ২৬৫ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। সম্ভবতঃ খৃষ্টপূর্ব প্রায় ৬২২ অব্দে যাজক পরিবারে তাঁহার জন্ম। যুল-কিফল তাঁহার জীবনের প্রথম ২৫ বৎসর অতিবাহিত করিয়াছিলেন যোধায়। ৫৯২ খৃঃ পূর্বাব্দে ত্রিশ বৎসর বয়সে আল্লাহ্‌ কর্তৃক আদিষ্ট হন এবং তাঁহার জাতির মূর্তিপূজা, অবিচার এবং অসচ্চরিত্রতার বিরুদ্ধে প্রচার করিতে আরম্ভ করেন। ইতিমধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় অ্যাসিরিয়ার স্থলে ব্যাবিলন ক্ষমতাশালী শক্তিরূপে পরিগণিত হয় এবং যোধা উহার ঊর্ধ্ব তম কর্তৃত্বকে স্বীকার করিয়া নেয়। কিন্তু যোধার রাজা যেহোইয়াকিম (Jehoiakim), তাহার অসৎ পরিষদবর্গের পরামর্শের প্রভাবাধীনে ব্যাবিলনের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এইভাবে নিজের উপরে নেবুখদ-নিৎসরের প্রতিহিংসা ডাকিয়া আনে। সে ৫৯৭ খৃষ্ট পূর্বাব্দে সফলতার সঙ্গে যেরুজালেম অবরোধ করে এবং উহার অনেক নেতৃস্থানীয় নাগরিকদিগকে বন্দী করিয়া নিয়া যায়, সেই সঙ্গে যিহিষ্কেল এবং যেহোইয়াকিমের পুত্র, মাত্র ৩ মাসের অন্তবর্তী কালে রাজা যেহোইয়াচিম (Jehoiachim)- কেও বন্দী করিয়া নিয়া যায়। যেহোইয়াচিমের চাচা সিদিকিয়া (zedekieah) তাহার স্থলাভিষিক্ত রাজা হন। কিছুকালের জন্য সে ব্যবিলনের প্রতি অনুগত ছিল, কিন্তু মিশরের সাহায্যের উপর নির্ভর করিয়া সে ব্যাবিলনের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাহার করে। এই কাজে যিহিষ্কেল অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হইয়া উঠেন এবং ইহাকে ইয়াহ্ওয়েহ (Yahweh)-এর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলিয়া প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন। ফলশ্রুতিতে নেবুখদনিৎসর কর্তৃক যেরুজালেম অধিকৃত হয় এবং আঠার মাস অবরোধের পর ইহাকে অবর্ণনীয় আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থার মধ্যে ধ্বংস করিয়া দেয়। যে উপাসনালয়ের উপরে শ্রদ্ধা-ভক্তির গভীর আবেগ অর্পিত ছিল উহাকে ভস্মস্তুপে পরিণত করা হয় এবং উহার লোকদিগকে ব্যাবিলনে নির্বাসিত করা হয় (৫৮৬ খৃঃ পূঃ অব্দ)। এই ছিল অবস্থা যাহা যিহিষ্কেলকে সংগ্রামের মুখোমুখি করিয়াছিল। পতনের পাঁচ বৎসর পূর্বে ৫৯২ খৃঃ পূঃ সনে তিনি দিব্য-জ্ঞানে কিছু জানিতে পারিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছিলেন এবং ইহুদী জাতিকে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করিয়া দিয়াছিলেন। ৫৯৭ খৃঃ ব্যাবিলন কর্তৃক প্রথম প্রচণ্ড আঘাতেই রাজনৈতিকভাবে ইহুদী জাতির আসন্ন অবলুপ্তির সম্ভাবনা সম্বন্ধে প্রত্যয়পূর্ণ বোধোদয় ঘটে নাই— যে সম্ভাবনা যিহিষ্কেলের নিকট ছিল দ্বিপ্রহরের মতই দেদীপ্যমান। কিন্তু যেমন তিনি ইহুদী জাতির ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছিলেন, তেমনি তাহাদের পুনঃস্থাপনের আগাম সংবাদও দিয়াছিলেন; তাহার জাতির অধঃপতনের ভবিষ্যদ্বাণী যেমন কঠোর ছিল, তেমনই তাহাদের ভাগ্যে মুক্তির এক মহান এবং উজ্জ্বল চিত্রও আঁকিয়াছিলেন। তাহাদের উদ্ধার এবং যেরুজালেমে প্রত্যাবর্তন সম্বন্ধে তাঁহার এই ভবিষ্যদ্বাণী কাশ্‌ফ-ভিত্তিক ছিল, যাহা তিনি দেখিয়াছিলেন (যিহিষ্কেল-৩৭) এবং এই সম্বন্ধে কুরআনেও ২ঃ২৬০ আয়াতে উল্লেখ রহিয়াছে। কিন্তু তাঁহার এই ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা স্বচক্ষে দেখিয়া যাইতে তিনি দীর্ঘ দিন বাঁচিয়া ছিলেন না, কারণ বন্দী অবস্থায় খৃঃ পূঃ ৫৭০ সনে ৫২ বৎসর বয়সে তিনি পরলোক গমন করিয়াছিলেন। যিহিষ্কেল এবং দানিয়েলকে নির্বাসিত নবী বলা হইয়া থাকে (The Holy Bible, edited by Rev. Sc.1. Cofield & Peaks ’Commetary of the Bible’)।

وَاَدۡخَلۡنٰہُمۡ فِیۡ رَحۡمَتِنَا ؕ اِنَّہُمۡ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ﴿۸۷﴾

৮৭
এবং আমরা তাহাদের সকলকে আমাদের রহমতে প্রবিষ্ট করিয়াছিলাম, নিশ্চয় তাহারা সকলেই সৎকর্মশীল ছিল।

وَذَا النُّوۡنِ اِذۡ ذَّہَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنۡ لَّنۡ نَّقۡدِرَ عَلَیۡہِ فَنَادٰی فِی الظُّلُمٰتِ اَنۡ لَّاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنۡتَ سُبۡحٰنَکَ ٭ۖ اِنِّیۡ کُنۡتُ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿ۚۖ۸۸﴾

৮৮
এবং (স্মরণ কর) যুন্‌-নূনকেও, যখন সে রাগ করিয়া চলিয়া গিয়াছিল এবং ধারণা করিয়াছিল যে, আমরা তাহাকে কখনও পাকড়াও করিব না,১৯১৩ অতঃপর সে (বিপদাবলীর) অন্ধকাররাশির মধ্য হইতে (আমাদিগকে) ডাক দিল, ‘তুমি ব্যতীত কোন মা’বূদ নাই, তুমি পবিত্র, নিশ্চয় আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’
১৯১৩। আয়াতে ইউনুস (আঃ)-এর ক্রোধের কথা নির্দিষ্ট করিয়া বলা হয় নাই। বাহ্যতঃ আল্লাহ্‌তা’লার সঙ্গে তিনি রাগান্বিত হন নাই এবং রাগ করিতেও পারেন না। অবশ্যই তাঁহার জাতি তাঁহার আহ্‌বানে সাড়া না দেওয়াতে তাঁহার জাতির একগুঁয়েমী তাঁহাকে ক্রোধান্বিত করিয়া ছিল। কারণ আল্লাহ্‌র সঙ্গে এক জন নবীর ক্রোধান্বিত হওয়া কল্পনাও করা যায় না।আল্লাহ্‌তা’লার নির্বাচিত নবী-রসূলগণ আল্লাহ্‌র নির্দেশ ছাড়া কোন কাজ করেন না, এমনকি কোন কথাও বলেন না (২১ঃ২৮)। ‘লান্‌নাক্‌দিরা আলাইহে’ শব্দগুলির অর্থ ‘আমরা তাঁহাকে কখনও পাকড়াও করিব না’ ‘তাহার জন্য আমরা কোন দুঃখ-কষ্ট বা বিপদ নির্ধারিত করিব না।’ (লিসান, আকরাব)।

فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ ۙ وَنَجَّیۡنٰہُ مِنَ الۡغَمِّ ؕ وَکَذٰلِکَ نُــۨۡجِی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۸۹﴾

৮৯
সুতরাং আমরা তাহার দোয়া শুনিলাম এবং তাহাকে দুঃখ-কষ্ট হইতে নাজাত দিলাম, এবং এইভাবে আমরা মো’মেনগণকে উদ্ধার করিয়া থাকি।

وَزَکَرِیَّاۤ اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗ رَبِّ لَا تَذَرۡنِیۡ فَرۡدًا وَّاَنۡتَ خَیۡرُ الۡوٰرِثِیۡنَ ﴿ۚۖ۹۰﴾

৯০
এবং যাকারিয়্যাকেও (স্মরণ কর), যখন সে তাহার প্রভুকে ডাকিয়াছিল (এবং বলিয়াছিল), ‘হে আমার প্রভু! তুমি আমাকে একা ছাড়িয়া দিও না এবং তুমিই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’