২১

الأنبياء

সূরা আল্ আম্বিয়া

Al-Anbiya'

মক্কী ১১৩ আয়াত ৭ রুকু পারা ১৬–১৭

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১১৩ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।

قَالُوۡا سَمِعۡنَا فَتًی یَّذۡکُرُہُمۡ یُقَالُ لَہٗۤ اِبۡرٰہِیۡمُ ﴿ؕ۶۱﴾

৬১
তাহারা (অন্য লোকেরা) বলিল, ‘আমরা এক যুবককে ইহাদের (সম্বন্ধে মন্দ) উল্লেখ১৮৯৮ করিতে শুনিয়াছি যে ইব্‌রাহীম বলিয়া অভিহিত।’
১৮৯৮। ‘যাকারাহু’-এর অর্থ সে তাহার সম্বন্ধে প্রশংসা করিয়াছিল বা মন্দ বলিয়াছিল; তাহার দোষ উল্লেখ করিয়াছিল (লেইন)।

قَالُوۡا فَاۡتُوۡا بِہٖ عَلٰۤی اَعۡیُنِ النَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَشۡہَدُوۡنَ ﴿۶۲﴾

৬২
তাহারা বলিল, ‘তাহা হইলে তাহাকে সব লোকের চোখের সামনে আন যেন তাহারা (তাহার বিরুদ্ধে) সাক্ষ্য দিতে পারে।’১৮৯৯
১৮৯৯। জনসমক্ষে হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ)-কে হাজির করা হইয়াছিল। ইহার দুইটি কারণ হইতে পারে যে, যাহারা তাঁহাকে প্রতিমা সম্বন্ধে কুৎসা করিতে শুনিয়াছিল, তাহাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা অথবা তাঁহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ করার পর তাহাকে কি শাস্তি দেওয়া উচিৎ সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং সেই শাস্তির দৃশ্য অবলোকন করা যাহা হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ)-কে প্রদান করার উদ্দেশ্য ছিল।

قَالُوۡۤا ءَاَنۡتَ فَعَلۡتَ ہٰذَا بِاٰلِہَتِنَا یٰۤـاِبۡرٰہِیۡمُ ﴿ؕ۶۳﴾

৬৩
তাহারা বলিল, ‘হে ইব্‌রাহীম! তুমিই কি আমাদের মা’বূদগণের সহিত এইরূপ করিয়াছ?’

قَالَ بَلۡ فَعَلَہٗ ٭ۖ کَبِیۡرُہُمۡ ہٰذَا فَسۡـَٔلُوۡہُمۡ اِنۡ کَانُوۡا یَنۡطِقُوۡنَ ﴿۶۴﴾

৬৪
সে বলিল, ‘অবশ্যই কেহ ইহা করিয়াছে। তাহাদের সর্বাপেক্ষা বড় প্রতিমা এই তো। অতএব যদি তাহারা কথা বলিতে পারে তাহা হইলে তোমরা তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর।’১৯০০
১৯০০। আয়াতে উল্লেখিত অর্থ ছাড়াও আরবী ভাষায় প্রকাশিত উক্তি হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ) কর্তৃক প্রতিমা উপাসকদিগের সহিত সচরাচর কথা বলার অভ্যাসগত শ্লেষাত্মক ভঙ্গি হইতে পারে। এই ক্ষেত্রে শব্দগুলির অর্থ এরূপ কিছু হইবেঃ আমি কেন ইহা করিব? তাহাদের বড়টি করিলে করিতে পারে। অর্থাৎ ঘটনার সত্যতা কোন প্রশ্নের বা আমার কৈফিয়তের প্রয়োজনের অপেক্ষা রাখে না যে, আমিই এই কাজ করিয়াছি। যদি আমি ইহা না করিয়া থাকি, তাহা হইলে এই প্রাণহীন অচেতন প্রস্তর খণ্ডগুলি কি এই কাজটি করিতে পারে ? হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ) মনে হয় তাঁহার জাতির লোকদিগকে তিরস্কার করিয়াছিলেন এবং তাহাদের প্রতিমা-উপাসনা-ভিত্তিক এই ধর্মের অসারতা তাহাদিগকে অবহিত করিয়াছিলেন—প্রথমে মূর্তিগুলিকে ভাঙ্গিয়া দিয়া এবং তারপর প্রতিমাগুলিকে জিজ্ঞাসা করিবার জন্য ভক্তদিগকে এই মর্মে চ্যালেঞ্জ করিয়া যে, উহারা যদি কথা বলার শক্তি রাখে, তবে তাহাদিগকে বলিয়া দিতে বল যে কে উহাদিগকে ভাঙ্গিয়াছে।

فَرَجَعُوۡۤا اِلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ فَقَالُوۡۤا اِنَّکُمۡ اَنۡتُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ﴿ۙ۶۵﴾

৬৫
অতঃপর তাহারা পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকাইল এবং বলিল, ‘আসলে যালেম তো তোমরাই।’

ثُمَّ نُکِسُوۡا عَلٰی رُءُوۡسِہِمۡ ۚ لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَا ہٰۤؤُلَآءِ یَنۡطِقُوۡنَ ﴿۶۶﴾

৬৬
তখন তাহাদের মস্তক লজ্জায় অবনত হইয়া পড়িল১৯০১ (এবং ইব্‌রাহীমকে বলিল,) ‘তুমি তো জানই যে ইহারা কথা বলে না।’
১৯০১। এই আরবী প্রকাশ ভঙ্গীর অর্থঃ (ক) তাহারা পূর্বের কুফরীর অবস্থায় ফিরিয়া গেল, অথবা তাহাদের পূর্বেকার অসদাচরণে ফিরিয়া গেল; (খ) সঠিক পথ গ্রহণ করার পর পুনরায় তাহারা বাদানুবাদে প্রত্যাবর্তন করিল; (গ) তাহারা লজ্জায় মস্তক অবনত করিল এবং সম্পূর্ণ হতবাক হইয়া গেল (লেইন এবং মায়ানী)।

قَالَ اَفَتَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَنۡفَعُکُمۡ شَیۡئًا وَّلَا یَضُرُّکُمۡ ﴿ؕ۶۷﴾

৬৭
সে বলিল, ‘তবুও কি তোমরা আল্লাহ্‌কে ছাড়িয়া এমন বস্তর ইবাদত কর, যাহা তোমাদের না কোন কল্যাণ করিতে পারে এবং না কোন অকল্যাণ করিতে পারে?

اُفٍّ لَّکُمۡ وَلِمَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ﴿۶۸﴾

৬৮
ধিক, তোমাদের জন্য এবং তাহাদের জন্যও যাহাদের তোমরা ইবাদত কর আল্লাহ্‌কে ছাড়িয়া। তবুও কি তোমরা বিবেক-বুদ্ধি খাটাইবে না?

قَالُوۡا حَرِّقُوۡہُ وَانۡصُرُوۡۤا اٰلِہَتَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ فٰعِلِیۡنَ ﴿۶۹﴾

৬৯
তাহারা বলিল, ‘তোমরা তাহাকে আগুনে পোড়াইয়া ফেল এবং নিজেদের মা’বূদদের সাহায্য কর যদি তোমরা অবশ্যই কিছু করিতে চাহ।’

قُلۡنَا یٰنَارُ کُوۡنِیۡ بَرۡدًا وَّسَلٰمًا عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ ﴿ۙ۷۰﴾

৭০
আমরা বলিলাম, ‘হে আগুন! ইব্‌রাহীমের জন্য শীতল হও এবং নিরাপত্তার১৯০২ কারণ হও।’
১৯০২। আগুন কিভাবে শান্ত হইয়াছিল বলা হয় নাই। সময় মত বৃষ্টি অথবা প্রবল ঝঞ্ঝা হয়ত উহাকে নিভাইয়া দিয়াছিল। যেভাবেই হউক আল্লাহ্‌তা’লা এমন অবস্থা সৃষ্টি করিয়াছিলেন যাহা ইব্‌রাহীম (আঃ)-কে রক্ষা করিয়াছিল। অলৌকিক বিষয় সর্বদাই রহস্যাবৃত হয় এবং হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ)-এর আগুন হইতে বাঁচিয়া যাওয়া নিঃসন্দেহে এক অত্যাশ্চর্য অলৌকিক রহস্য। হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ)-কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হইয়াছিল। ইহা কেবল ইহুদীগণ কর্তৃকই স্বীকৃত নহে, প্রাচ্যের খৃষ্টানগণও ইহাতে স্বীকৃতি দেয়— উক্ত ঘটনার স্মৃতি উৎসব উদযাপনের জন্য সিরীয় পঞ্জীতে দ্বিতীয় কেনুন বা জানুয়ারী মাসের ২৫ তারিখের দিনটি পৃথকভাবে চিহ্নিত করা আছে (Hyde, De Rel. vet Pers, P. 73); See also Mdr. Rabbah on Gen. par 17; Schalacheleth Hakabala, 2; Maimon de Idol. Ch 1; and Jad Hachazakah vet, 6).