الأنبياء
Al-Anbiya'
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ১১৩ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার তারিখ ও প্রসংগ
এই সূরাটি, পূর্ববর্তী তিনটি সূরার মতই, নবুওয়াতের খুব গোড়ার দিকে মক্কাতে নাযেল হইয়াছিল। ইবনে মাসউদের (রাঃ) বর্ণনা মতে নবুওয়াতের ৫ম বৎসরের পূর্বে সূরা তাহা, আল কাহ্ফ এবং মারইয়াম অবতীর্ণ হওয়ার সময় বর্তমান সূরাটিও অবতীর্ণ হয়। সূরা মারইয়ামের প্রথম দিককার আয়াতসমূহ আবিসিনিয়ার বাদশাহ্ নাজ্জাশীর দরবারে হযরত জাফর (রাঃ) পাঠ করিয়া শুনাইয়াছিলেন, যখন তাঁহারা ঐ বৎসর হিজরত করিয়া সেখানে পৌঁছান। সূরা তাহার সহিত আলোচ্য সূরাটির যে নিকট সম্পর্ক রহিয়াছে তাহা হইল এই যে, সূরা তাহার শেষ দিকে বলা হইয়াছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীগণ অবশ্যই ঐশী আযাব কর্তৃক ধৃত হইবে, তাই নবী করীম (সাঃ)-কে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছিল যে, তিনি যেন ধৈর্য ও দৃঢ়তার সহিত বিরুদ্ধবাদীদের অত্যাচার ও নির্যাতনের মোকাবিলা করেন। উক্ত বক্তব্যের সূত্র ধরিয়া আলোচ্য সূরাটিতে কাফেরদের উদ্দেশ্যে সতর্কবাণী উচ্চারণ পূর্বক বলা হইয়াছে যে, তাহাদের শাস্তির সময় সমাসন্ন, এই সময়ে যদিও তাহাদের কাজের হিসাব-নিকাশ দিতে হইবে, কিন্তু উদাসীনতা ও অবিশ্বাসে এখনো তাহারা মুখ ফিরাইয়া রহিয়াছে। এই সতর্কবাণীর মাধ্যমেই পূর্ববতী সূরার সহিত আলোচ্য সূরাটির ধারাবাহিক সংযোগ রক্ষা করা হইয়াছে। কিন্তু সার্বিকভাবে বিষয়বস্তুর দিক হইতে বর্তমান সূরাটির সহিত ইহার পূর্ববর্তী কয়েকটি সূরার সত্যিকারের সম্পর্ক বিদ্যমান। সূরা মারইয়ামে খৃস্টানদের কয়েকটি ভ্রান্ত ধর্মীয় আকিদা যুক্তি-প্রমাণ দ্বারা খণ্ডন করা হইয়াছিল। দৃষ্টান্তস্বরূপ, হযরত ঈসা (আঃ)-এর ঐশী গুণাবলী, ঈসা (আঃ) কর্তৃক বিধানকে রহিত করা এবং শরীয়ত মাত্রই অভিশাপ এই ঘোষণা দেওয়া,মানুষের মুক্তি সৎ কাজের দরুন হইবে না বরং প্রায়শ্চিত্তবাদ মনিবার মাধ্যমে হইবে—এই জাতীয় ভুল বিশ্বাসগুলি উহাতে আলোচনা হইয়াছিল ‘সূরা তাহা’তেও এই জাতীয় ভ্রান্ত-আকিদা খণ্ডনের লক্ষ্যে হযরত মূসা (আঃ)-এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হইয়াছিল। বস্তুতঃ খৃষ্টান ধর্ম মূসায়ী বিধানেরই একটি অংশবিশেষ। তাই খৃষ্টানদের উদ্দেশ্যে বলা হইয়াছিল যে, স্বয়ং মূসা (আঃ) তাঁহার শিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ্র একত্ববাদ, বিধানের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয়গুলি প্রতিপালন করিয়া ভ্রান্ত খৃষ্টীয় মতবাদ প্রত্যাখ্যানের ভিত্তি রচনা করিয়া গিয়াছেন। হযরত মূসা (আঃ)-এর গৌরবের বিষয়তো এই যে, তিনি একজন বিধান বা শরীয়াত-দাতা নবী। যদি বিধান মাত্রই অভিশাপ হয়, তাহা হইলে খৃষ্টানদের বিশ্বাস মতে হযরত মূসা (আঃ)-কে শ্রদ্ধা ও গৌরবের পরিবর্তে নিন্দা ও ভৎসনা করা উচিত। অতঃপর, সূরা তাহাতে আদম (আঃ) কর্তৃক অনিচ্ছাকৃত ভুলের প্রসঙ্গ আলোচনা সাপেক্ষে খৃষ্টানদের আদি-পাপজনিত তত্ত্বের মূলকেও খণ্ডন করা হইয়াছিল। উক্ত সূরাতে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলা হইয়াছিল যে, উত্তরাধিকার সূত্রে কেহই পাপ অর্জন করে না, বরঞ্চ মানুষ তাহার নিজস্ব অন্যায় ও অবৈধ কাজের জন্য শাস্তি প্রাপ্ত হয়। অতঃপর, বলা হইয়াছে যে, কোন মানুষের পক্ষেই যদি পাপ-বর্জন করা সম্ভবপর না হয়, তাহা হইলে ঐশী শাস্তি প্রদানের বিষয়টিই বিফল হইয়া পড়ে। তখন আল্লাহ্র প্রেরিত নবী-রসূলগণকে পাপীদিগকে সতর্ক করিবার পরিবর্তে বরং এই কথা বলিতে হইবে যে, মানুষ তো অবস্থার শিকার মাত্র, তাহাদের না আছে কোন ইচ্ছা-শক্তি, না আছে ভাল-মন্দ যাচাই করার কোন বিচক্ষণতা, তাই তাহাদের কাজের জন্য তাহারা দায়ী নহে। বর্তমান সূরাতে এই বিষয়টিই ব্যাপক পরিসরে আলোচিত হইয়াছে এবং বলা হইয়াছে যে, কোন বিশেষ নবী বা রসূলের শত্রুপক্ষই শুধু নয়, বরং হযরত আদম (আঃ) হইতে শুরু করিয়া হযরত ঈসা (আঃ), এমনকি তৎপরবর্তী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত, সার্বিকভাবে সকল নবী-রসূলের বিরুদ্ধপক্ষকেই বিনা ব্যতিক্রমে তাহাদের অন্যায় কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হইয়াছে এবং নবী-রসূলের সাহায্যকারী দলকে তাহাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হইয়াছে। মানুষ যদি উত্তারাধিকার সূত্রেই পাপী হইয়া জন্মগ্রহণ করে এবং কোনভাবেই এই পাপ হইতে মুক্তি না পায়, তাহা হইলে তো পাপীদের শাস্তি বা পুণ্যবানদের পুরস্কার— কোন কিছুই অর্থবহ হয় না। কাজেই আদিপাপ-জনিত খৃষ্টানদের এই আকিদা একটি ভিত্তিহীন উদ্ভাবনা বা অলীক বিশ্বাস ছাড়া আর কিছু নহে।
বিষয়বস্তু
অবিশ্বাসীদের প্রতি এক সতর্কবাণী উচ্চারণ পূর্বক সূরাটিতে বলা হইয়াছে যে, ঐশীশাস্তি দ্রুত তাহাদের নিকটবর্তী হইতেছে, অথচ তাহারা এক মিথ্যা নিরাপত্তার খেয়ালে নিজদিগকে এখনো উদাসীন রাখিতেছে। অতঃপর বলা হইয়াছে যে, যখনই পৃথিবীতে কোন ঐশী-বাণী বাহকের আবির্ভাব হইয়াছে, তখনই সমসাময়িক লোক তাহাদিগকে নিয়া হাসি-ঠাট্টা ও উপহাস করিয়াছে। কিন্তু নিজ সমাজ ও সম্প্রদায়ের লোকদের আধ্যাত্মিক মঙ্গল ও সহানুভূতির তাগিদে আল্লাহ্র রসূলগণ সর্বদাই তাহাদিগকে সত্য গ্রহণের আহবান জানাইয়াছেন, যেন তাহারা সত্য গ্রহণ পূর্বক ধ্বংস হইতে রক্ষা প্রাপ্ত হয়। যদি মানুষ উত্তরাধিকার সূত্রে পাপী হইত, তাহা হইলে এই ধরণের আহ্বানের কোন যৌক্তিকতা থাকিত না। অতঃপর, সূরাটিতে অবিশ্বাসীদের আরোপিত কতকগুলি আপত্তির উল্লেখ করিয়া উহাদের যথাযথ উত্তর প্রদান করা হইয়াছে। অতঃপর, সত্য প্রত্যাখ্যানকারীগণকে ভাবিয়া দেখিতে বলা হইয়াছে যে, পবিত্র কুরআন এমনকি নূতন বোঝা তাহাদের উপর অর্পণ করিতেছে যাহার ফলে তাহারা ইহার বাণীকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কুরআনের শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যই হইতেছে তাহাদিগকে নৈতিকতার উচ্চতর স্তরে উন্নীত করা। আর যেহেতু পবিত্র কুরআন আল্লাহ্র নিজস্ব বাণী, কাজেই ইহার অস্বীকারকারীরা তাঁহার শাস্তি হইতে নিজদিগকে রক্ষা করিতে পারিবে না। অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে অতঃপর সূরাটিতে বলা হইয়াছে যে, তাহারা কি ভাবিয়া দেখে না যে, সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্ কোন মহান উদ্দেশ্যে এই বিশ্বের বস্তুরাজি সৃষ্টি করিয়াছেন! কাজেই যাহারা আল্লাহ্র এই মহান লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করিবে, তাহারা অবশ্যই ব্যর্থকাম হইবে। অতঃপর সূরাটি আল্লাহ্তা’লার তওহীদ বা একত্ব, যাহা সমস্ত ধর্ম-বিশ্বাসের বুনিয়াদী ভিত্তি, সেই বিষয়ের আলোচনা করিয়াছে। বলা হইয়াছে যে, সমস্ত বিশ্ব চরাচর যখন একই নিয়মের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হইতেছে তখন বহু-ঈশ্বরবাদীরা কি করিয়া একই আল্লাহ্র সাথে অন্য উপাস্যের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে? আল্লাহ্ যদি একাধিক হইত তাহা হইলে এই বিশ্ব-চরাচরের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তাহাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিত। অথচ ইহা সুস্পষ্ট যে, বিশ্ব-পরিচালনার নীতি ও নিয়ম একই শৃঙ্খলে আবদ্ধ, তাই বিশ্ব-জগতের একই স্রষ্টা ও একই পরিচালক রহিয়াছে এবং এমন অদ্বিতীয় যে সত্তা, তাঁহার তো কোন পুত্রের দরকার নাই। কেননা, পুত্র তখনই প্রয়োজন হয়, যখন পিতার ক্ষয় বা মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে এবং যখন পিতা এককভাবে অন্যের সাহায্য ব্যতিরেকে তদীয় কর্ম সম্পাদনে অপারগ। কাজেই আল্লাহ্র অংশীদার সম্পর্কিত সমস্ত ধারণাই অপবিত্র ও ভিত্তিহীন। অতঃপর, সূরাটিতে অন্য একটি ঐশী নিয়মের অবতারণা করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে যে, পৃথিবী যখন আধ্যাত্মিক অন্ধকারে নিমজ্জিত হইয়া যায়,তখন ইহার বুকে সত্যিকার পুণ্যাত্মা লোকের বড়ই অভাব দেখা দেয়। এমতাবস্থার আল্লাহ্ দয়াপরবশ হইয়া পুনরায় তাঁহার কৃপা ও আশিসের বারি বর্ষণ করেন, যাহা ওহী-ইলহামের আকারে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয় এবং পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত পৃথিবীকে আরেকবার নূতন জীবন দান করে। এইভাবে আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও আলো এবং অন্ধকারের পরিবর্তন হয় যেইরূপ পৃথিবীতেও দিন এবং রাত্রির পরিবর্তন ঘটিয়া থাকে। অতঃপর সূরাটিতে এই যুক্তির অবতারণা করা হইয়াছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) একজন সাধারণ মানুষ মাত্র, এই ওজর পেশ করিয়া অবিশ্বাসীরা তাঁহাকে অস্বীকার করিতে পারে না। ইহা তাহাদের জন্য বোকামী ছাড়া অন্য কিছু নয়, কেননা ঐশী-বাণীর বাহক হিসাবে তাঁহার মান, মযাদা বা প্রতিপত্তিই বড় কথা নয়। আসল কথা হইতেছে কে তাঁহাকে প্রেরণ করিয়াছেন— সেই দিকে লক্ষ্য রাখা। পরিণামে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কার্যক্রমই যে সফল হইবে এই সত্য অনুধাবনের জন্য অতঃপর সূরাটিতে পূর্ববর্তী সময়ের একাধিক নবী-রসূলের জীবনের দৃষ্টান্ত পেশ করা হইয়াছে। তাহাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইতেছেন হযরত নূহ (আঃ), ইবরাহীম (আঃ), সুলায়মান (আঃ) ইদরীস (আঃ) এবং আরো কতিপয় নবী-রসূল যাহারা সমসাময়িক কালের তীব্র বিরোধিতা, অত্যাচার, উৎপীড়ন সত্বেও পরিণামে সফলকাম হইয়াছিলেন। এই সকল নবী-রসূল হযরত ঈসা (আঃ)-এর মত স্ব স্ব যুগে ন্যায় ও পুণ্য কর্মের আদর্শ-দৃষ্টান্ত ছিলেন এবং ঈসা (আঃ)-এর মত তাঁহারাও আল্লাহ্র পথে বড়ই বাধা-বিপত্তি ও ক্লেশ ভোগ করিয়াছিলেন। তাহা হইলে তাহাদের সকলের মধ্যে একমাত্র হযরত ঈসা (আঃ) কেই কেন ঈশ্বর-পুত্র হিসাবে বিবেচনা করা হইবে, ঈশ্বর-পুত্র হিসাবে তাঁহারা সকলেই কেন গণ্য হইবেন না? এই সমস্ত নবী-রসূলদের ঘটনা উল্লেখের পর সূরাটিতে বিশেষভাবে হযরত ঈসা (আঃ) ও তাঁহার মাতার প্রসঙ্গও বর্ণনা করা হইয়াছে এবং বলা হইয়াছে যে, তাঁহাদের সঙ্গেও পূর্ববর্তীদের মতই ব্যবহার করা হইয়াছিল। এমনকি হযরত ঈসা (আঃ)-এর অস্বাভাবিক জন্মের দিক বিবেচনা করিয়াও তাঁহাকে বিশেষ কোন আধ্যাত্মিক মর্যাদা বা সত্তার অধিকারী বলিয়া অভিহিত করা যায় না। কেননা, হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ)-এর জন্মও অত্যন্ত ব্যতিক্রমী অবস্থার মধ্যে সম্পন্ন হইয়াছিল। ঈসা (আঃ) জন্মগ্রহণ করিয়া ছিলেন কোন পিতার মাধ্যম ব্যতিরেকে। ইহা যেমন সত্য, তেমনি ইহাও নিশ্চিতভাবে যে, ইয়াহ্ইয়ার (আঃ) জন্ম হইয়াছিল যখন তাঁহার পিতা অত্যন্ত বার্ধক্যে উপনীত হইয়াছিলেন এবং তাঁহার মাতা ছিলেন বন্ধ্যা ও সন্তান উৎপাদনে সম্পূর্ণ অযোগ্য। তদ্রুপ, সত্যের খাতিরে হযরত ঈসা (আঃ)-এর কষ্ট করাও অভিনব কোন বিষয় নহে। যদিও তাঁহাকে ক্রুশে লটকানো হইয়াছিল, তথাপি পরে জীবিতাস্থায় তাঁহাকে ক্রুশ হইতে নামানো হইয়াছিল। কিন্তু, আল্লাহ্র রাস্তায় হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ)-কে জীবনদান করিতে হইয়াছিল। তাহা হইলে শুধু ঈসা (আঃ)-এর রক্তই কেন মানুষের পাপের জন্য একমাত্র প্রায়শ্চিত্তের কারণ হইবে, ইয়াহ্ইয়া (আঃ)-এর রক্তও কেন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিবে না? সূরাটির শেষাংশে পাশ্চাত্যের খৃষ্টান শক্তি তথা ইয়াজুজ-মা’জুজের অসাধারণ উন্নতি, জাগতিক প্রাচুর্য ও প্রতিপত্তির কথা বলা হইয়াছে। প্রসঙ্গতঃ ইঙ্গিত দেওয়া হইয়াছে যে, এই জাতিগুলি যখন সারা পৃথিবীতে ছড়াইয়া পড়িবে এবং ক্ষমতা ও খ্যাতির উচ্চপদসমূহে আরোহণ করিবে এবং অন্যান্য জাতিসমূহ তাহাদের নিকট বশ্যতা ও আনুগত্য স্বীকার করিবে, তখনই তাহাদের ধ্বংসের সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণতাপ্রাপ্ত হইবে। তাহাদের উপর এমন হঠাৎ করিয়া ও ত্বরিৎগতিতে ঐশী শাস্তি নামিয়া আসিবে যে, তাহারা সকলেই হতবুদ্ধি হইয়া পড়িবে। তাহাদের বিভিন্ন শিল্প-কারখানা জাগতিক প্রাচুর্যের বিভিন্ন উপকরণ, আড়ম্বর ও জাকজমকের বিভিন্ন উৎস-উপকরণ সবই এই বিপর্যয়ের ফলে ভস্মীভূত ও ধূলিসাত হইয়া যাইবে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
اِقۡتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُہُمۡ وَہُمۡ فِیۡ غَفۡلَۃٍ مُّعۡرِضُوۡنَ ۚ﴿۲﴾
مَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ ذِکۡرٍ مِّنۡ رَّبِّہِمۡ مُّحۡدَثٍ اِلَّا اسۡتَمَعُوۡہُ وَہُمۡ یَلۡعَبُوۡنَ ۙ﴿۳﴾
لَاہِیَۃً قُلُوۡبُہُمۡ ؕ وَاَسَرُّوا النَّجۡوَی ٭ۖ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ٭ۖ ہَلۡ ہٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ ۚ اَفَتَاۡتُوۡنَ السِّحۡرَ وَاَنۡتُمۡ تُبۡصِرُوۡنَ ﴿۴﴾
قٰلَ رَبِّیۡ یَعۡلَمُ الۡقَوۡلَ فِی السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ۫ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ﴿۵﴾
بَلۡ قَالُوۡۤا اَضۡغَاثُ اَحۡلَامٍۭ بَلِ افۡتَرٰٮہُ بَلۡ ہُوَ شَاعِرٌ ۚۖ فَلۡیَاۡتِنَا بِاٰیَۃٍ کَمَاۤ اُرۡسِلَ الۡاَوَّلُوۡنَ ﴿۶﴾
مَاۤ اٰمَنَتۡ قَبۡلَہُمۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَا ۚ اَفَہُمۡ یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۷﴾
وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَکَ اِلَّا رِجَالًا نُّوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۸﴾
وَمَا جَعَلۡنٰہُمۡ جَسَدًا لَّا یَاۡکُلُوۡنَ الطَّعَامَ وَمَا کَانُوۡا خٰلِدِیۡنَ ﴿۹﴾
ثُمَّ صَدَقۡنٰہُمُ الۡوَعۡدَ فَاَنۡجَیۡنٰہُمۡ وَمَنۡ نَّشَآءُ وَاَہۡلَکۡنَا الۡمُسۡرِفِیۡنَ ﴿۱۰﴾