২১

الأنبياء

সূরা আল্ আম্বিয়া

Al-Anbiya'

মক্কী ১১৩ আয়াত ৭ রুকু পারা ১৬–১৭

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১১৩ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।

فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ ۫ وَوَہَبۡنَا لَہٗ یَحۡیٰی وَاَصۡلَحۡنَا لَہٗ زَوۡجَہٗ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا یُسٰرِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ وَیَدۡعُوۡنَنَا رَغَبًا وَّرَہَبًا ؕ وَکَانُوۡا لَنَا خٰشِعِیۡنَ ﴿۹۱﴾

৯১
তখন আমরা তাহার দোয়া শুনিলাম, এবং আমরা তাহাকে ইয়াহ্ইয়া দান করিলাম এবং তাহার জন্য তাহার স্ত্রীকে সুস্থ করিয়া দিলাম। নিশ্চয় তাহারা সৎকর্মে পরস্পর তৎপরতা অবলম্বন করিত এবং তাহারা আমাদিগকে আশা ও ভয়ের সহিত ডাকিত এবং আমাদের সান্নিধ্যে বিনয়ী ছিল।

وَالَّتِیۡۤ اَحۡصَنَتۡ فَرۡجَہَا فَنَفَخۡنَا فِیۡہَا مِنۡ رُّوۡحِنَا وَجَعَلۡنٰہَا وَابۡنَہَاۤ اٰیَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ﴿۹۲﴾

৯২
এবং সেই মহিলাকেও (স্মরণ কর), যে তাহার সতীত্বের হিফাযত করিয়াছিল, সুতরাং আমরা তাহার মধ্যে আমাদের রূহ (আদেশ) হইতে কিছু ফুৎকার করিলাম,১৯১৪ এবং আমরা তাহাকে ও তাহার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য এক নিদর্শন করিলাম।
১৯১৪। এই আয়াত মিথ্যা অপবাদমূলক অভিযোগ খণ্ডন করিয়াছে যাহা ইহুদীরা মরিয়মের বিরুদ্ধে আরোপ করিয়াছিল, ইহা যে কোন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির জন্যও প্রযোজ্য। ৬৬ঃ১৩ আয়াতে এক বিশেষ শ্রেণীর নিরপেক্ষ বিশ্বাসীকে মরিয়মের অনুরূপ বলিয়া তুলনা করা হইয়াছে। এইরূপ সাধু বিশ্বাসীগণের প্রত্যেককেই ‘মরিয়ম’ বলা যায় এবং আল্লাহ্‌তা’লা যখন এহেন লোকদের অন্তরে রূহ বা আদেশ (১৭ঃ৮৬) ফুঁকিয়া দেন তখন সে ‘মরিয়ম-পুত্র’ হয়, অর্থাৎ সে ঈসা (আঃ)-এর মত পবিত্র গুণাবলীর অধিকারী হইয়া যায়।

اِنَّ ہٰذِہٖۤ اُمَّتُکُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً ۫ۖ وَّاَنَا رَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡنِ ﴿۹۳﴾

৯৩
নিশ্চয় তোমাদের এই উম্মত এক-ই উম্মত এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক,১৯১৫ সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর।
১৯১৫। পূর্ববর্তী কিছু আয়াতে আল্লাহ্‌র কোন কোন নবী এবং কোন কোন সৎ ব্যক্তির উল্লেখ একত্রে করা হইয়াছে। ইহা কোন কাকতালীয় ব্যাপার নহে। এই সকল নবীগণের একই স্থানে যুগপৎ উল্লেখ বিশেষ উদ্দেশ্য সম্বলিত। তাহাদের সকলের মধ্যেই একটি মিল আছে। তাহারা সকলেই কোন না কোন ভাবে দুঃখ-কষ্ট ও চরম দুর্দশা ভোগ করিয়াছিলেন এবং কঠোরতর পরীক্ষার মধ্যেও উচ্চতম ও মহোত্তম ধৈর্য এবং সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করিয়াছিলেন। তাঁহারা সকল ধর্মের একই মূলনীতি— আল্লাহ্‌র তৌহীদের (একত্ববাদ)— শিক্ষা দিয়াছিলেন।

وَتَقَطَّعُوۡۤا اَمۡرَہُمۡ بَیۡنَہُمۡ ؕ کُلٌّ اِلَیۡنَا رٰجِعُوۡنَ ﴿٪۹۴﴾

৯৪
এবং তাহারা তাহাদের মধ্যে নিজেদের (দীনের) বিষয়কে টুকরা টুকরা করিয়া ফেলিল,১৯১৬ তাহাদের প্রত্যেককেই আমাদের দিকে ফিরাইয়া আনা হইবে।
সূরা আল্ আম্বিয়া - রুকু ৬
১৯১৬। পূর্ববর্তী কয়েকটি আয়াতে আল্লাহ্‌র এক শ্রেণীর ন্যায়পরায়ণ বান্দার উল্লেখ করা হইয়াছে। বর্তমান আয়াতে অন্য এক প্রকার লোকের কথা বলা হইয়াছে যে, যাহারা আল্লাহ্‌র প্রেরিত নবীদিগকে প্রত্যাখান করে যাহার ফলে তাহারা নিজেদের মধ্যে মতভেদ ও মতবিরোধের শিকারে পরিণত হয় এবং পরস্পরবিরোধী বিশ্বাস এবং মতবাদ আঁকড়াইয়া ধরে।

فَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَا کُفۡرَانَ لِسَعۡیِہٖ ۚ وَاِنَّا لَہٗ کٰتِبُوۡنَ ﴿۹۵﴾

৯৫
অতএব যে ব্যক্তি মো’মেন হওয়া অবস্থায় সৎকর্ম করিবে তাহার কর্ম-প্রচেষ্টা রদ করা হইবে না এবং নিশ্চয় আমরা উহা লিখিয়া রাখি।

وَحَرٰمٌ عَلٰی قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَاۤ اَنَّہُمۡ لَا یَرۡجِعُوۡنَ ﴿۹۶﴾

৯৬
এবং প্রত্যেক জনপদের জন্য, যাহাকে আমরা ধ্বংস করিয়া দিয়াছি, ইহা অলংঘনীয় বিধান করা হইয়াছে যে, উহার অধিবাসীগণ পুনরায় কখনও ফিরিয়া আসিবে না।১৯১৭
১৯১৭। ইহা এক অলংঘনীয় ঐশী-বিধান যে, মৃতদিগকে কখনও এই পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো হয় না, ইহলোক হইতে যাহারা চলিয়া যায় তাহারা চিরকালের জন্যই চলিয়া যায় (২৩ঃ১০০, ১০১)।

حَتّٰۤی اِذَا فُتِحَتۡ یَاۡجُوۡجُ وَمَاۡجُوۡجُ وَہُمۡ مِّنۡ کُلِّ حَدَبٍ یَّنۡسِلُوۡنَ ﴿۹۷﴾

৯৭
এমন কি যখন ইয়া’জুজ ও মা’জুজকে১৯১৮ ছাড়িয়া দেওয়া হইবে এবং তাহারা প্রত্যেক উচ্চভূমি (ও সামুদ্রিক তরঙ্গমালার উপর) হইতে ছুটিয়া আসিবে।১৯১৯
১৯১৮। ১৭২৮ টীকা দ্রষ্টব্য।
১৯১৯। পূর্ববর্তী আয়াতের সঙ্গে সংযুক্ত করিয়া পড়িলে বর্তমান আয়াতের অভিপ্রায় ইহাই মনে হয় যে, প্রকৃতির নিয়ম এমনভাবে কাজ করে যে, কোন জাতির গৌরবময় জাঁকজমকের তুঙ্গ অবস্থার পরে একবার যখন উহা মৃত এবং ধ্বংসের শিকারে পরিণত হয় তখন উহা লুপ্ত-গৌরব কখনো পুনরুদ্ধার করিতে পারে না। এমনকি ইয়া’জুজ-মা’জুজ তাহাদের পার্থিব গৌরব ও মর্যাদা সত্ত্বেও একই নিয়মের শিকার হইবে। তাহাদের পতন হইবে এবং কখনও তাহারা সেই মোকাম-মর্যাদা পুনরায় অর্জন করিতে পারিবে না। ইয়া’জুজ ও মা’জুজ অর্থাৎ পশ্চিমা খৃষ্টান জাতিগুলি ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ইতিপূর্বেই রাজনৈতিক শক্তির সর্বোচ্চে উঠিয়াছে এবং সমগ্র পৃথিবীতে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। কুরআনের উক্তির মর্ম— তাহারা প্রত্যেক অনুকুল অবস্থানসমূহ দখল করিবে এবং সমগ্র জগতের উপর কর্তৃত্ব করিবে।

وَاقۡتَرَبَ الۡوَعۡدُ الۡحَقُّ فَاِذَا ہِیَ شَاخِصَۃٌ اَبۡصَارُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ یٰوَیۡلَنَا قَدۡ کُنَّا فِیۡ غَفۡلَۃٍ مِّنۡ ہٰذَا بَلۡ کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ ﴿۹۸﴾

৯৮
এবং যখন (আল্লাহ্‌র) সত্য ওয়াদা (পূর্ণ হওয়ার সময়) সন্নিকট হইবে,১৯২০ তখন দেখ! সহসা কাফেরদের চক্ষু ভয়ে বিস্ফারিত হইয়া যাইবে,১৯২০-ক (এবং তাহারা বলিবে) ‘আমাদের জন্য পরিতাপ! নিশ্চয় আমরা এই (দিন) সম্বন্ধে গাফেল ছিলাম বরং আমরা যালেম ছিলাম।’
১৯২০। ইয়া’জুজ ও মা’জুজের স্বৈর শাসনের ফলে পৃথিবীতে সর্বনাশা ঘটনাসমূহের উদ্ভব হইবে এবং পরিণামে ইসলামের বিজয় হইবে (৬১ঃ১০)। ইয়া’জুজ ও মা’জুজের প্রদর্শিত মিথ্যা এবং জড়বাদের শক্তি পরাভূত হইবে।
১৯২০-ক। ইয়া’জুজ ও মা’জুজের সম্পূর্ণ ধ্বংসের পর ইসলাম ধর্ম যখন ইহার পূর্ব মর্যাদা ও গৌরব পুনরাধিকার করিবে, তখন যাহারা ইসলামের পুনরুদ্ধারের সকল আশা হারাইয়া বসিয়াছিল তাহারা নিজেদের চক্ষুকে বিশ্বাসই করিতে পারিবে না।

اِنَّکُمۡ وَمَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ حَصَبُ جَہَنَّمَ ؕ اَنۡتُمۡ لَہَا وٰرِدُوۡنَ ﴿۹۹﴾

৯৯
(তখন বলা হইবে) ‘নিশ্চয় তোমরা এবং আল্লাহ্ ব্যতীত তোমরা যাহার ইবাদত করিতে তাহারা সকলেই জাহান্নামের ইন্ধন হইবে, তোমরা সকলেই উহাতে প্রবেশ করিবে।’

لَوۡ کَانَ ہٰۤؤُلَآءِ اٰلِہَۃً مَّا وَرَدُوۡہَا ؕ وَکُلٌّ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۱۰۰﴾

১০০
যদি এইগুলি মা’বূদ হইত, তাহা হইলে তাহারা উহাতে প্রবেশ করিত না; এবং তাহারা সকলেই উহাতে দীর্ঘকাল পড়িয়া থাকিবে।