২

البقرة

সূরা আল্ বাকারা

Al-Baqarah

মাদানী ২৮৭ আয়াত ৪০ রুকু পারা ১–৩

ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ২৮৭ আয়াত এবং ৪০ রুকু আছে।

وَقَالُوۡا لَنۡ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَیَّامًا مَّعۡدُوۡدَۃً ؕ قُلۡ اَتَّخَذۡتُمۡ عِنۡدَ اللّٰہِ عَہۡدًا فَلَنۡ یُّخۡلِفَ اللّٰہُ عَہۡدَہٗۤ اَمۡ تَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۸۱﴾

৮১
এবং তাহারা বলে, ‘আগুন আমাদিগকে আদৌ স্পর্শ করিবে না কেবল কয়েকদিন১১৫ ব্যতিরেকে।’ তুমি বল, ‘তোমরা কি আল্লাহ্‌র নিকট কোন অঙ্গীকার লইয়াছ? তাহা হইলে আল্লাহ্‌ কখনও তাহার অঙ্গীকার ভঙ্গ করিবেন না, অথবা আল্লাহ্ সম্বন্ধে তোমরা এমন কথা বলিতেছ যাহা তোমরা জান না?’
১১৫। ইহুদীদের দুষ্কর্মের কিছু বিবরণ দিবার পর, কুরআন তাহাদের ঔদ্ধত্য ও পাষণ্ডতার মূল কারণ ব্যাখ্যা করিতেছে। কুরআন বলিতেছে, ইহুদীদের এই গর্হিত কাজের জন্য তাহাদের এই ভুল ধারণাই দায়ী যে, তাহারা শাস্তি হইতে মুক্ত (জিও, এন সাইক্লোপিডিয়াতে গেহেন্না’ দেখুন)। অথবা তাহাদিগকে অগত্যা যদি শাস্তি দেওয়াই হয়, তাহা হইলেও সেই শাস্তি হইবে খুব লঘু এবং স্বল্প স্থায়ী। মহানবী (সাঃ)-এর সময়ে, ইহুদীদের একাংশ মনে করিত যে, তাহাদের শাস্তি কখনও চল্লিশ দিনের অতিরিক্ত সময়ের জন্য হইবে না। অন্যেরা বলিত, তাহাদিগকে সাত দিনের বেশী সময় ব্যাপী শাস্তি দেওয়া হইবে না (জরীর, ২ঃ৮১ এর ব্যাখ্যা)। “বর্তমান ইহুদীদের মধ্যে ইহাই প্রচলিত বিশ্বাস যে, (তাহাদের) কোনও ব্যক্তি এগারো মাসের বা সর্বাধিক এক বৎসরের বেশী দোযখে থাকিবে না, তাহারা যতই দুষ্ট প্রকৃতির হউক না কেন। তবে দাছান, এবিরাম এবং নাস্তিকেরা (ইহুদীদের মধ্যে হওয়া সত্ত্বেও) চিরকাল নরক-যন্ত্রণা ভোগ করিবে” (সেইল)।

بَلٰی مَنۡ کَسَبَ سَیِّئَۃً وَّاَحَاطَتۡ بِہٖ خَطِیۡٓــَٔتُہٗ فَاُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۸۲﴾

৮২
হাঁ, যে কেহ মন্দ কর্ম করে এবং তাহার পাপ তাহাকে পরিবেষ্টন করে – তাহারাই আগুনের অধিবাসী, তথায় তাহারা দীর্ঘকাল অবস্থান করিবে।

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ﴿٪۸۳﴾

৮৩
এবং যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং সৎকর্ম করিয়াছে — তাহারাই জান্নাতের অধিবাসী সেখানে তাহারা চিরকাল বাস করিবে।
সূরা আল্ বাকারা - রুকু ৯

وَاِذۡ اَخَذۡنَا مِیۡثَاقَ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ لَا تَعۡبُدُوۡنَ اِلَّا اللّٰہَ ۟ وَبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا وَّذِی الۡقُرۡبٰی وَالۡیَتٰمٰی وَالۡمَسٰکِیۡنِ وَقُوۡلُوۡا لِلنَّاسِ حُسۡنًا وَّاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ ؕ ثُمَّ تَوَلَّیۡتُمۡ اِلَّا قَلِیۡلًا مِّنۡکُمۡ وَاَنۡتُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ ﴿۸۴﴾

৮৪
এবং (স্মরণ কর সেই সময়কে) যখন আমরা বনী ইসরাঈলের নিকট হইতে দৃঢ় অঙ্গীকার লইয়াছিলাম, ‘তোমরা আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কাহারো ইবাদত করিবে না, এবং সদয় ব্যবহার করিবে পিতা-মাতার সহিত এবং আত্মীয় স্বজনের সহিত এবং এতীমদের সহিত এবং মিসকীনদের সহিত, এবং তোমরা লোকের সহিত সুন্দর ও উত্তমভাবে কথা বলিবে এবং নামায কায়েম করিবে এবং যাকাত১১৬ দিবে, কিন্তু তোমাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক লোক ব্যতিরেকে বাকি সকলেই পরান্মুখ হইয়া ফিরিয়া গেলে।
১১৬। এই আয়াতে কোন বিশেষ বা নির্দিষ্ট স্বর্গীয় চুক্তির উল্লেখ নাই। এখানে সাধারণ অঙ্গীকারের উল্লেখ করিয়া বলা হইয়াছে যে, ইহুদীরা তাহাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী যেন তাহাদের মধ্যে প্রচলিত পাপাচারগুলি পরিত্যাগ করে এবং সৎ ও পূণ্যময় জীবন অবলম্বন করে (যাত্রাপুস্তক ২০ঃ৩-৬, ১২ লেবীয় পুস্তক-১৯ঃ১৭-১৮; হিতোপদেশ- ৩ঃ২৭, ২৮, ৩০, দ্বিতীয় বিবরণ- ৬ঃ১৩, ১৪ঃ২৯)। কুরআনের অন্যান্য স্থানের মত এখানেও শব্দ-ক্রমকে কার্যক্রমের স্বাভাবিক গুরুত্ব ও বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো হইয়াছে।

وَاِذۡ اَخَذۡنَا مِیۡثَاقَکُمۡ لَا تَسۡفِکُوۡنَ دِمَآءَکُمۡ وَلَا تُخۡرِجُوۡنَ اَنۡفُسَکُمۡ مِّنۡ دِیَارِکُمۡ ثُمَّ اَقۡرَرۡتُمۡ وَاَنۡتُمۡ تَشۡہَدُوۡنَ ﴿۸۵﴾

৮৫
এবং (সেই সময়কে স্মরণ কর) যখন আমরা তোমাদের নিকট হইতে দৃঢ় অঙ্গীকার লইয়াছিলামঃ ‘তোমরা একে অপরের রক্তপাত করিবে না এবং নিজ (জাতির লোক) দিগকে স্ব স্ব গৃহ১১৭ হইতে বহিষ্কার করিবে না,’ এবং তোমরা ইহা স্বীকার করিয়াছিলে, এবং তোমরা ইহার সাক্ষ্য দিতেছিলে।
১১৭। এই আয়াতে যে চুক্তির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হইয়াছে, তাহা রসূলে আকরাম (সাঃ) ও মদীনার ইহুদীদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিই মনে হয়। এই চুক্তিদ্বারা উভয়পক্ষ অঙ্গীকারাবদ্ধ হইয়াছিলেন যে, তাহারা সাধারণ শত্রুর (বহিঃশত্রুর) ক্ষেত্রে পরস্পরকে সাহায্য করিবে এবং মদীনার সর্বপ্রকার বিরোধ মীমাংসার জন্য আঁ-হযরত (সাঃ)-এর কাছে পেশ করিতে হইবে (মূইর কর্তৃক রচিত ‘মোহাম্মদের জীবনী, মির্যা বশীর আহমদ এম, এ কর্তৃক রচিত ‘সীরাত’ দ্রষ্টব্য)।

ثُمَّ اَنۡتُمۡ ہٰۤـؤُلَآءِ تَقۡتُلُوۡنَ اَنۡفُسَکُمۡ وَتُخۡرِجُوۡنَ فَرِیۡقًا مِّنۡکُمۡ مِّنۡ دِیَارِہِمۡ ۫ تَظٰہَرُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ بِالۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ ؕ وَاِنۡ یَّاۡتُوۡکُمۡ اُسٰرٰی تُفٰدُوۡہُمۡ وَہُوَ مُحَرَّمٌ عَلَیۡکُمۡ اِخۡرَاجُہُمۡ ؕ اَفَتُؤۡمِنُوۡنَ بِبَعۡضِ الۡکِتٰبِ وَتَکۡفُرُوۡنَ بِبَعۡضٍ ۚ فَمَا جَزَآءُ مَنۡ یَّفۡعَلُ ذٰلِکَ مِنۡکُمۡ اِلَّا خِزۡیٌ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یُرَدُّوۡنَ اِلٰۤی اَشَدِّ الۡعَذَابِ ؕ وَمَا اللّٰہُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۸۶﴾

৮৬
তথাপি তোমরাই সেই লোক যাহারা একে অপরকে হত্যা করিতেছ এবং নিজেদের মধ্য হইতে এক দলকে তাহাদের বিরুদ্ধে তাহাদের শত্রুগণের পৃষ্ঠপোষকতা করিয়া পাপ ও যুলুমের মাধ্যমে তাহাদিগকে তাহাদের আবাসগৃহ হইতে বহিষ্কার করিয়া দিতেছ। এবং যদি তাহারা বন্দী হইয়া তোমাদের নিকট আসে, তখন তোমরা তাহাদিগকে মুক্তিপণ দিয়া উদ্ধার করিয়া থাক অথচ তাহাদিগকে বহিষ্কার করাই তোমাদের জন্য হারাম (নিষিদ্ধ) করা হইয়াছিল। তবে কি তোমরা কিতাবের এক অংশের উপর ঈমান রাখ এবং অপর অংশকে অস্বীকার কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাহারা এরূপ কার্য করে, পার্থিব জীবনে তাহাদের জন্য লাঞ্ছনা ব্যতীত আর কি শাস্তি হইতে পারে? কিয়ামত দিবসে তাহাদিগকে ইহা অপেক্ষা কঠোরতর শাস্তির দিকে তাড়াইয়া লইয়া যাওয়া হইবে, এবং তোমরা যাহা কিছু করিতেছ আল্লাহ্‌ সেই বিষয়ে গাফেল নহেন।১১৮
১১৮। আঁ-হযরত (সাঃ)-এর সময়ে মদীনাতে তিনটি ইহুদী গোত্র বসবাস করিত। তাহারা হইল বনু কাইনুকা, বনু নাযীর এবং বনু কুরাইযা। দুইটি পৌত্তলিক গোত্রও মদীনাতে ছিল—একটি হইল ‘আউস’ ও অপরটি খাযরাজ। ইহুদীদের দুইটি গোত্র বনু কাইনুকা ও বনু কুরাইযা আউসদের পক্ষে ছিল, আর বনু নাযীর ছিল খাযরাজদের পক্ষে। অতএব, যখনই দুইটি পৌত্তলিক গোত্রের মাঝে যুদ্ধ বাধিত, তখনই ইহুদীরাও যুদ্ধে জড়িত হইয়া পড়িত। এই সব যুদ্ধে যদি কোন ইহুদী বন্দী হইত, তখন সকল ইহুদী মিলিয়া চাঁদা তুলিয়া মুক্তি-পণ যোগাইত। তাহারা অ-ইহুদীর হাতে ইহুদীর বন্দী থাকাকে অত্যন্ত গর্হিত বিষয় বলিয়া মনে করিত। কুরআন তাহাদের এইরূপ সামঞ্জস্যহীন আচরণের বিরোধিতা করিয়া বলিতেছে, তাহাদের ধর্ম কেবল ইহুদীকে বন্দী করার বা বন্দী হওয়ার বিষয়ই নিষেধ করে না, বরং পারস্পরিক যুদ্ধরত হওয়াও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং হতাহত করাও নিষেধ করে। অথচ ইহুদীরা এই নিষিদ্ধ কাজগুলিতে খোলাখুলিভাবে লিপ্ত আছে। কুরআন বলে, এর চাইতে জঘন্য কাজ কি হইতে পারে যে, তাহারা ধর্মগ্রন্থের একাংশ পালন করে এবং অন্য অংশ বর্জন করে। এইভাবে একাংশ পূর্ণ ও বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে তাহারা সারা ধর্মগ্রন্থটাকে বিশ্বস্ততার মর্যাদা দেয়। অতএব, অপরাংশকে প্রত্যাখ্যান করার মাঝে তাহাদের বিকল মানসিকতাই পরিষ্কার ফুটিয়া উঠে। ‘ইহুদী বন্দী করণ নিষেধ’-এর জন্য দেখুন লেবীয় পুস্তক- ২৫ঃ৩৯-৪৩, ৪৭-৪৯, ৫৪-৫৫; নহিমিয় ৫ঃ৮।

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ اشۡتَرَوُا الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا بِالۡاٰخِرَۃِ ۫ فَلَا یُخَفَّفُ عَنۡہُمُ الۡعَذَابُ وَلَا ہُمۡ یُنۡصَرُوۡنَ ﴿٪۸۷﴾

৮৭
ইহারাই এমন লোক যাহারা পরজীবনের বিনিময়ে ইহজীবনকে ক্রয় করিয়াছে, সুতরাং তাহাদের উপর হইতে না শাস্তি লাঘব করা হইবে এবং না তাহাদিগকে কোন সাহায্য করা হইবে।
সূরা আল্ বাকারা - রুকু ১০

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ وَقَفَّیۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہٖ بِالرُّسُلِ ۫ وَاٰتَیۡنَا عِیۡسَی ابۡنَ مَرۡیَمَ الۡبَیِّنٰتِ وَاَیَّدۡنٰہُ بِرُوۡحِ الۡقُدُسِ ؕ اَفَکُلَّمَا جَآءَکُمۡ رَسُوۡلٌۢ بِمَا لَا تَہۡوٰۤی اَنۡفُسُکُمُ اسۡتَکۡبَرۡتُمۡ ۚ فَفَرِیۡقًا کَذَّبۡتُمۡ ۫ وَفَرِیۡقًا تَقۡتُلُوۡنَ ﴿۸۸﴾

৮৮
এবং নিশ্চয় আমরা মূসাকে কিতাব দিয়াছিলাম, এবং তাহার পর পর্যায়ক্রমে তাহার অনুসরণে রসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছিলাম, এবং মরিয়মের পুত্র ঈসাকেও আমরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী দিয়াছিলাম এবং রূহুল কুদুস১১৯ (পবিত্র আত্মা) দ্বারা তাহাকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম; তবে কি ইহা সত্য নহে যে, যখনই তোমাদের নিকট কোন রসূল এমন শিক্ষা লইয়া আসিয়াছে যাহা তোমাদের মনঃপুত হয় নাই, তখনই তোমরা অহংকার করিয়াছ এবং তাহাদের কতককে তোমরা মিথ্যাবাদী বলিয়া প্রত্যাখ্যান করিয়াছ এবং কতককে হত্যা করিয়াছ?
১১৯। পবিত্র আত্মা বলিতে সাধারণতঃ বিশ্বাস করা হয় যে, ইহা জিব্‌রাঈল ফিরিশ্‌তারই অন্য নাম (জরীর, কাসীর)। রুহুল কুদুস-এর অপর অর্থ, আল্লাহ্‌র পবিত্র বাণী।

وَقَالُوۡا قُلُوۡبُنَا غُلۡفٌ ؕ بَلۡ لَّعَنَہُمُ اللّٰہُ بِکُفۡرِہِمۡ فَقَلِیۡلًا مَّا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۸۹﴾

৮৯
তাহারা বলিল, ‘আমাদের হৃদয়গুলি পর্দায় আবৃত আছে।’ না, বরং তাহাদের অস্বীকারের কারণে আল্লাহ্ তাহাদিগকে অভিসম্পাত করিয়াছেন। বস্তুতঃ তাহারা অল্প ঈমানই রাখে।

وَلَمَّا جَآءَہُمۡ کِتٰبٌ مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَہُمۡ ۙ وَکَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ یَسۡتَفۡتِحُوۡنَ عَلَی الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ۚۖ فَلَمَّا جَآءَہُمۡ مَّا عَرَفُوۡا کَفَرُوۡا بِہٖ ۫ فَلَعۡنَۃُ اللّٰہِ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۹۰﴾

৯০
এবং যখন আল্লাহ্‌র পক্ষ হইতে তাহাদের নিকট এক কিতাব আসিল যাহা উহার তস্‌দীক্‌ (সত্যায়ন) করে যাহা তাহাদের নিকট রহিয়াছে, এবং ইতিপূর্বে তাহারা কাফেরদের উপর বিজয়১২০ লাভের প্রার্থনা করিত; অতঃপর, যখন তাহাদের নিকট উহা আসিল যাহা তাহারা (সত্য বলিয়া) চিনিল, তখন তাহারা উহা প্রত্যাখ্যান করিল। সুতরাং কাফেরদিগের উপর আল্লাহ্‌র অভিসম্পাত।
১২০। এই আয়াত বলিতেছে যে, ইহুদীরা পৌত্তলিক আরবদের কাছে বলিয়া বেড়াইত যে, তাহাদের গ্রন্থগুলিতে এমন একজন নবীর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী রহিয়াছে, যিনি সারা বিশ্বের জন্য সত্য প্রচার করিবেন (দ্বিতীয় বিবরণ- ১৮ঃ১৮, ২৮ঃ১-২)। কিন্তু সত্য সত্যই যখন সেই নবী আগমন করিলেন, তখন যাহারা ঐ নবীর মধ্যে আল্লাহ্‌র পূর্ব-প্রদত্ত সকল চিহ্নাবলীর প্রকাশ দেখিতে পাইল, তাহারা তাঁহাকে গ্রহণ করিল না, বরং মুখ ফিরাইয়া লইল। এই আয়াতের আরেকটি অর্থ হইতে পারে আঁ-হযরত (সাঃ)-এর আগমনের পূর্বে ইহুদীরা আল্লাহ্‌র কাছে সকাতরে প্রার্থনা করিত, যাহাতে তাহাদের মধ্যে এমন একজন নবীর আগমন হয়, যিনি সত্য ধর্মকে সকল মিথ্যা ধর্মের উপর বিজয় দান করেন। (হিশাম, ১ম খণ্ড, ১৫০পৃঃ)। কিন্তু তাহাদের প্রার্থীত সেই নবী যখন সত্য সত্যই শুভাগমন করিলেন এবং মিথ্যার উপরে সত্যের প্রকাশ্য বিজয় যখন অত্যাসন্ন দেখা গেল, তখন তাহারা তাঁহাকে গ্রহণ করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। এই ভাবে তাহারা নিজেদের মাথার উপর আল্লাহ্‌র অভিসম্পাত ডাকিয়া আনিল।