الفاتحة
Al-Fatihah
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৭ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার স্থান ও সময়
অধিকাংশ রেওয়ায়াত বর্ণনাকারীর মতে এই সূরার সম্পূর্ণটাই মক্কায় নাযিল (অবতীর্ণ) হয় এবং শুরু হইতেই ইহা মুসলমানদের নামাযের অংশ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পবিত্র কুরআনের সূরা হিজরে উল্লেখিত আয়াত “এবং আমরা তোমাকে পুনঃপুনঃ পাঠ্য সপ্ত আয়াত ও মহান কুরআন প্রদান করিয়াছি” (১৫ঃ৮৮), বস্তুতঃ সূরা ফাতেহার প্রতিই ইঙ্গিত করে। সুরাটি যে মক্কায় অবতীর্ণ হইয়াছে এই সম্পর্কে অধিকাংশ রেওয়ায়াত বর্ণনাকারীর ঐক্যমত সত্বেও কেহ কেহ ইহা পূনরায় মদীনায় অবতীর্ণ হইয়াছে বলিয়াও অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে ইহা ঠিক যে, হযরত মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত জীবনের গোড়ার দিকেই এই সূরা অবতীর্ণ হইয়াছিল বলিয়া গ্রহণ করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।
সূরাটির বিভিন্ন নাম ও ঐ সমস্ত নামের তাৎপর্য
‘ফাতেহাতুল কিতাব’ বা ‘(ঐশী) কিতাবের উদ্বোধনী সূরা’ এই শিরোনামেই ইহা সমধিক পরিচিত এবং এই নামকরণের ভিত্তি বিভিন্ন বিশ্বস্ত হাদীস বিশারদদের বর্ণনায় সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান (তিরমিযি এবং মুসলিম)। শিরোনামটি পরে ‘সূরা ফাতেহা’ বা শুধু ‘ফাতেহা’ হিসাবে সংক্ষিপ্তরূপ লাভ করে। এই সূরার আরও অনেক নাম রহিয়াছে, তন্মধ্যে ১০ টি অধিক প্রমাণসিদ্ধ, যেমন, আল্ ফাতেহা, আস্-সালাত, আল্ হাম্দ, উম্মুল্ কুরআন, আল্ কুরআনুল আযীম, আস্-সাব্উল মাসানী, উম্মুল কিতাব, আশ্-শিফা, আর রুক্ইয়া, এবং আল্ কান্য। এই নামগুলির প্রত্যেকটিই সূরার অন্তর্নিহিত বিপুল অর্থ ও তাৎপর্য প্রকাশে আলোকপাত করিতেছে।
‘ফাতেহাতুল কিতাব’ দ্বারা এই অর্থ প্রকাশ করে যে, পবিত্র কুরআনের প্রারম্ভেই ইহার অবস্থান হওয়ায় সূরাটি সমগ্র কুরআন শরীফের বিষয়বস্তুর একটি চাবিস্বরূপ। ‘আস্-সালাত’ (নামায) দ্বারা জ্ঞাত করা হইয়াছে যে, সূরাটি একটি সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ প্রার্থনা এবং ইহা ইসলামের আনুষ্ঠানিক প্রার্থনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘আল্ হাম্দ’ (প্রশংসা) দ্বারা ইহাতে মানব সৃষ্টির মহোত্তম উদ্দেশ্য সমূহ ব্যক্ত করা হইয়াছে যাহাতে এই শিক্ষা রহিয়াছে যে, বান্দার সহিত আল্লাহর সম্পর্ক মূলতঃ আল্লাহ্র দয়া ও অনুগ্রহেরই একটি দিক। উম্মুল কুরআন (কুরআন-জননী) দ্বারা বুঝানো হইয়াছে যে, ইহা সমগ্র কুরআন শরীফের সার-সংক্ষেপ, যাহাতে সংক্ষিপ্তাকারে মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির শিক্ষাসমূহ বিদ্যমান। ‘আল্ কুরআনুল আযীম’ (মহা কুরআন) দ্বারা ইঙ্গিত করা হইয়াছে যে, যদিও ইহা ‘উম্মুল কিতাব’ ও ‘উম্মুল কুরআন’ তবুও ইহা পবিত্র কুরআনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ইহাকে কুরআন হইতে আলাদা মনে করা ভুল। ‘আস্-সাব্উল মাসানী’ (পুনঃ পুনঃ পাঠ্য সাত আয়াত) দ্বারা প্রকাশ করা হইয়াছে যে, এই সূরার সাতটি ছোট আয়াত প্রকৃত পক্ষে মানুষের সমস্ত আধ্যাত্মিক প্রয়োজন মিটাইতে সক্ষম। ইহা এইদিক হইতেও গুরুত্বপূর্ণ যে, নামাযের প্রত্যেক রাকআতেই এই সূরাটি পাঠ করিতে হইবে। উম্মুল কিতাব (কিতাব-জননী) দ্বারা আলোকপাত করা হইয়াছে যে, এই সূরায় অন্তর্নিহিত প্রার্থনার ফলশ্রুতি হিসাবেই কুরআনী শরীয়াত বা বিধান গ্রন্থ অবতীর্ণ হইয়াছে। ‘আশ্ শিফা’ (আরোগ্য) দ্বারা দৃষ্টি আকর্ষণ করা হইয়াছে যে, ইহার মধ্যে মানুষের সকল প্রশ্ন ও সন্দেহের জবাব এবং বিভিন্ন ব্যাধির চিকিৎসা বিদ্যমান। ‘আর রুক্ইয়া’ (পড়িয়া ফুঁ দিবার সূরা) দ্বারা বুঝানো হইয়াছে যে, শুধুমাত্র ইহা রোগ মুক্ত হইবার সূরাই নয়, অধিকন্তু ইহা শয়তান ও তাহার অনুসারীদের আক্রমণ হইতে মানুষকে রক্ষা করে এবং তাহাদের বিরুদ্ধে মানুষের হৃদয়কে শক্তিশালী করে। ‘আল্ কান্য’ (ভাণ্ডার) দ্বারা বলা হইয়াছে যে, এই সূরা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার এক অফুরন্ত ভাণ্ডার।
বাইবেলের এক ভবিষ্যদ্বাণীতে ফাতেহার উল্লেখ
‘সূরা ফাতেহা’ নামেই এই সূরা সমধিক পরিচিত। এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, বাইবেলের নূতন নিয়মের এক ভবিষ্যদ্বাণীতে এই ‘ফাতেহা’ নামের উল্লেখ আছে। “আমি এক শক্তিমান দূতকে স্বর্গ হইতে নামিয়া আসিতে দেখিলাম, তাহার হস্তে একখানা ক্ষুদ্র উন্মুক্ত পুস্তিকা (ফতুহা) ছিল”। “তিনি তাঁহার দক্ষিণ চরণ সমুদ্র ও বাম চরণ স্থলে রাখিলেন” (প্রকাশিত বাক্য-১০:১-২)। এই বাক্যে ‘উন্মুক্ত’ বুঝাইতে হিব্রু শব্দ ‘ফতুহা’ ব্যবহৃত হইয়াছে যাহা আরবী শব্দ ফাতেহার অনুরূপ। “আর তিনি (শক্তিমান দৃত) চীৎকার করিলে সপ্ত বজ্র নিজ নিজ স্বর ধ্বনিত করিল” (প্রকাশিত বাক্য-১০: ৩-৪)। উক্ত ভবিষ্যদ্বাণীতে বর্ণিত ‘সপ্ত বজ্রধ্বনিই’ হইতেছে সপ্ত আয়াত সম্বলিত সূরা ফাতেহা। খৃষ্টান পণ্ডিতগণ অবশ্য বলেন যে, এই ভবিষ্যদ্বাণী যীশু খৃষ্টের দ্বিতীয় আগমনের সহিত সম্বন্ধযুক্ত, ইহার সত্যতা আজ প্রকৃত ঘটনার নিরিখে আমরা প্রত্যক্ষ করিতেছি। আহমদী জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আঃ) যাহার মাধ্যমে যীশু খৃষ্ট্রের দ্বিতীয় আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হইয়াছে, এই সূরার বহু জোরালো ব্যাখ্যা লিখিয়াছেন এবং ইহার আলোকে তাহার দাবীর সত্যতাকে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন এবং সর্বদা ইহাকে এক আদর্শ দেয়া হিসাবে ব্যবহার করিয়াছেন। তিনি এই সূরার সাতটি ছোট আয়াত হইতে ঐশী শিক্ষার এমন নিগুঢ় তত্বাবলী উদঘাটন করিয়াছেন যাহা পূর্বে বিশ্ববাসীর নিকট অগোচর ছিল। বলা যাইতে পারে যে, এই সূরাটির ব্যাখ্যা হযরত আহমদ (আঃ)-এর দ্বারা যথার্থ অর্থে প্রকাশিত হইয়াছে, পূর্বে যেন ইহার ভাণ্ডার মোহরাঙ্কিত ছিল। এইভাবে নূতন নিয়মের আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণীও (প্রকাশিত বাক্য-১০ঃ৪) পরিপূর্ণতা লাভ করিল। যেমন, “আর সপ্ত মেঘধ্বনি হইলে আমি লিখিতে উদ্যত হইলাম এবং (তখন) স্বর্গ হইতে এই বাণী শুনিলাম, আমাকে বলা হইলঃ ঐ সপ্ত বজ্রধ্বনি যাহা বলিল, তাহা মোহরাঙ্কিত করিয়া রাখ, এবং লিখিও না” …………..। বস্তুতঃ এই ভবিষ্যদ্বাণীর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ইহাই যে ফতুহা বা সূরা ফাতেহার নিগূঢ় তত্বাবলী কিছুকালের জন্য অনুদঘাটিত থাকিবে, কিন্তু এমন এক সময় আসিবে যখন ইহার অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক জ্ঞান-ভাণ্ডার উদঘাটিত হইবে। বর্তমানে হযরত আহমদ (আঃ) কর্তৃক এই মহান কার্য সুসম্পন্ন হইয়াছে।
কুরআনের পরবর্তী অংশের সহিত সম্পর্ক
সূরা ফাতেহা প্রকৃত পক্ষে পবিত্র কুরআনের ভূমিকা স্বরূপ। ইহা যেন এক খানা ক্ষুদ্রাকৃতি কুরআন। তাই শুরুতেই পাঠক ইহা হইতে মোটামুটিভাবে সমগ্র কুরআনের স্বরূপ ও বিষয়বস্তুর একটি সম্ভাব্য পরিচিতি বা ধারণা লাভ করিতে পারে। হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সাঃ) বলিয়াছেন, কুরআন শরীফে সূরা ফাতেহা হইতেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় (বুখারী)।
বিষয়বস্তু
পবিত্র কুরআনের শিক্ষার নির্যাস হইতেছে সূরা ফাতেহা। তাই, বিশদভাবে সমস্ত কুরআনে যে সব বিষয় আলোচিত হইয়াছে, তাহার সংক্ষিপ্ত সার সূরা ফাতেহায় সন্নিবেশিত হইয়াছে। শুরুতেই এই সূরায় আল্লাহ্তা’লার মৌলিক গুণাবলীর পরিচয় বর্ণিত হইয়াছে যেইগুলিকে কেন্দ্র করিয়া তাহার অন্যান্য গুণাবলী আবর্তিত হইতেছে এবং উহাদের উপর বিশ্বজগতের পরিচালনার ভিত্তি এবং স্রষ্টা ও বান্দার সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ্তা’লার চারিটি মৌলিক গুণ যেমন, রাব্ব, (সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, পূর্ণতাদাতা এবং ক্রমবিকাশদাতা), ‘রাহ্মান’ (অযাচিত-অসীম দাতা), ‘রাহীম’ (পরম দয়াময়) এবং ‘মালিকে ইয়াওমিদ্দীন’ (বিচার দিবসের মালিক) দ্বারা বুঝানো হইয়াছে যে, মানুষ সৃষ্টির পর আল্লাহ্তা’লা তাঁহার প্রকৃতিতে শ্রেষ্ঠ উপাদান সমূহ সংযুক্ত করিয়াছেন এবং মানুষের শারীরিক, সামাজিক, নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও ব্যবস্থা নির্ধারণ করিয়াছেন। তদুপরি, মানুষের চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও কর্মকাণ্ড যাহাতে শুভ ফলদায়ক হয় তিনি উহারও বন্দোবস্ত করিয়াছেন। সূরাতে আরো বলা হইয়াছে যে, আল্লাহ্তা’লার ‘আব্দ’ (দাস) হইবার জন্যই মানুষের সৃষ্টি, এবং এইজন্য সব সময় তাহাকে আল্লাহ্র ইবাদত ও নৈকট্য অর্জন করিতে হইবে এবং এই মহান উদ্দেশ্য সাধনে সব সময় আল্লাহ্র সাহায্য ও অনুগ্রহের প্রয়োজন। আল্লাহ্তা’লার উক্ত মৌলিক গুণাবলী বর্ণনার পর সূরাটিতে পূর্ণ আত্ম-বিলীনতা সহ বান্দা কর্তৃক এক স্বতঃস্ফূর্ত ও সর্বব্যাপী প্রার্থনার কথা ব্যক্ত করা হইয়াছে। এই প্রার্থনা বা ইবাদতের আসল শিক্ষা এই যে, মানুষ যেন সর্বাবস্থায় আল্লাহ্র সাহায্য ও অনুগ্রহ কামনা করে যাহার ফলে আল্লাহ্তা’লা তাঁহার ইহলৌকিক ও পারলৌকিক উন্নতির জন্য জরুরী উপকরণ সৃষ্টি করেন। কিন্তু মানুষ যেহেতু অতীতের উৎকৃষ্ট নমুনা ও আদর্শ হইতে অনুপ্রেরণা লাভ করে, বিশেষতঃ তাহাদের, যাহারা জীবনের উদ্দেশ্য সাধনে সফল হইয়াছিলেন, তাই মানুষকে আল্লাহ্তা’লার নিকট দোয়াও যাচনা করিতে শিখানো হইয়াছে যেন তাহাদের (পূর্ববর্তী সৎলোকদের) অনুরূপ তাহাকেও অসীম মৈতিক ও আধ্যাত্মিক সফলতার পথে পরিচালিত করা হয়। পরিশেষে, সূরাটিতে এক ভীতিপূর্ণ সতর্কবাণীসহ বলা হইয়াছে যে, মানুষ সৎপথ প্রাপ্তির পর যেন পুনরায় পথভ্রষ্ট না হইয়া পড়ে এবং তাহার আসল উদ্দেশ্য ভুলিয়া গিয়া সৃষ্টিকর্তা হইতে দূরে চলিয়া না যায়। পরন্তু সে যেন অবিরাম আল্লাহ্র সাহায্য ও অনুগ্রহ কামনা করিয়া সম্ভাব্য যে কোন পদস্খলন হইতে আত্মরক্ষা করে। ইহাই সূরা ফাতেহার সার সংক্ষেপ এবং এই বিষয়বস্তুকেই বিশদ ভাবে পাঠকদের হেদায়াতের জন্য বিভিন্ন দৃষ্টান্ত ও উপমা দ্বারা কুরআনে (পরবর্তী সূরাগুলিতে) পেশ করা হইয়াছে।
বিশ্বাসীগণকে আদেশ দেওয়া হইয়াছে যে, পবিত্র কুরআন পাঠ আরম্ভ করিবার পূর্বে তাহারা যেন শয়তানের বিরুদ্ধে আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করে। যেমন, ‘যখন তুমি কুরআন পাঠ আরম্ভ কর, তখন (প্রথমেই) বিতাড়িত শয়তান হইতে আল্লাহ্র আশ্রয় চাহিয়া লও’ (১৬ঃ ৯৯)। এখন, আশ্রয় প্রার্থনা কয়েকটি কারণে হইতে পারে - (১) এই জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করা যাইতে পারে যাহাতে কোন অমঙ্গল আমাদিগকে স্পর্শ না করে, (২) এই লক্ষ্যে আশ্রয় চাওয়া হইতে পারে যাহাতে কোন মঙ্গল আমাদের হস্তচু্যত না হয়, এবং (৩) আশ্রয় যাচনা করার উদ্দেশ্য ইহাও হইতে পারে যে, একবার কল্যাণ লাভের পর আমরা যেন উহা হইতে বঞ্চিত না হই ইহার জন্য যে নির্ধারিত দোয়া রহিয়াছে তাহা হইলঃ ‘আমি বিতাড়িত শয়তান হইতে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি’ এবং এই দোয়া কুরআন তেলাওয়াতের প্রারম্ভে অবশ্যই পাঠ করিতে হইবে।
এই সূরা পবিত্র কুরআনের একটি অধ্যায় এবং সমস্ত কুরআনে এইরূপ ১১৪ টি অধ্যায় রহিয়াছে যাহাদের প্রত্যেকটিকে এক একটি সূরা বলা হয়। সূরা কতকগুলি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন, (১) উচ্চপদ ও মর্যাদা, (২) একটি চিহ্ন বা নিদর্শন, (৩) একটি সুউচ্চ ও সুরম্য প্রাসাদ এবং (৪) এমন কিছু যাহা পরিপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ (আকরাব এবং কুরতুবী)। কুরআন করীমের অধ্যায়গুলিকে এই জন্যও সূরা বলা হয় যে, (ক) ইহা পাঠের মাধ্যমে পাঠক মর্যাদার ভূষণে ভূষিত হয় এবং ইহার ফলে সে খ্যাতি লাভ করে, (খ) এইগুলি পবিত্র কুরআনে উপস্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ের শুরু ও শেষ চিহ্ন বা নিদর্শন হিসাবে কাজ করে, (গ) ইহাদের প্রত্যেকটিই আধ্যাত্মিক (মর্যাদার) দিক হইতে এক একটি সুউচ্চ প্রাসাদ বিশেষ, এবং (ঘ) মূলভাব ও বিষয়-বস্তুর দিক হইতে ইহারা প্রত্যেকেই পরিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ। কুরআন শরীফের বিভিন্নস্থানেও এই ধরণের অধ্যায়কে সূরা নামে অভিহিত করা হইয়াছে (২ঃ ২৪ এবং ২৪ঃ২)। হাদীসেও ইহার ব্যবহার আসিয়াছে, যেমন, হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) বলিয়াছেন, ঐইমাত্র আমার নিকট একটি সূরা অবতীর্ণ হইয়াছে এবং ইহা এইরূপ’ (মুসলিম)। এই সমস্ত বর্ণনার প্রেক্ষিতে ইহা সুস্পষ্ট যে, কুরআনের একটি বিভাগ হিসাবে সূরার ব্যবহার ইসলামের আদি হইতেই প্রচলিত ছিল এবং পরবর্তীকালের কোন নূতন সংযোজন নহে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ﴿۲﴾
الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ۙ﴿۳﴾
مٰلِکِ یَوۡمِ الدِّیۡنِ ؕ﴿۴﴾
اِیَّاکَ نَعۡبُدُ وَاِیَّاکَ نَسۡتَعِیۡنُ ؕ﴿۵﴾
اِہۡدِنَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ ۙ﴿۶﴾
صِرَاطَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَیۡہِمۡ ۬ۙ غَیۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَیۡہِمۡ وَلَا الضَّآلِّیۡنَ ﴿٪۷﴾