২

البقرة

সূরা আল্ বাকারা

Al-Baqarah

মাদানী ২৮৭ আয়াত ৪০ রুকু পারা ১–৩

ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ২৮৭ আয়াত এবং ৪০ রুকু আছে।

وَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ ؕ وَمَا تُقَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِکُمۡ مِّنۡ خَیۡرٍ تَجِدُوۡہُ عِنۡدَ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ﴿۱۱۱﴾

১১১
এবং তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত দাও এবং তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য যে কোন উত্তম কাজ অগ্রে প্রেরণ করিবে, উহা তোমরা আল্লাহ্‌র নিকট পাইবে, তোমরা যাহা কিছু কর নিশ্চয় আল্লাহ্ উহার সর্বদ্রষ্টা।

وَقَالُوۡا لَنۡ یَّدۡخُلَ الۡجَنَّۃَ اِلَّا مَنۡ کَانَ ہُوۡدًا اَوۡ نَصٰرٰی ؕ تِلۡکَ اَمَانِیُّہُمۡ ؕ قُلۡ ہَاتُوۡا بُرۡہَانَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۱۱۲﴾

১১২
এবং তাহারা বলে, ‘যাহারা ইহুদী অথবা খৃষ্টান১৩৪ তাহারা ব্যতিরেকে অন্য কেহ জান্নাতে আদৌ প্রবেশ করিবে না।’ ইহা তাহাদের বৃথা আকাংখা মাত্র। তুমি বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হইয়া থাক তাহা হইলে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।’
১৩৪। ইহুদী ও খৃষ্টানেরা উভয়েই এই ভ্রান্ত মোহে নিপতিত যে, একমাত্র ইহুদী বা একমাত্র খৃষ্টান ছাড়া আর কেহই মুক্তি-প্রাপ্ত হইবে না।

بَلٰی ٭ مَنۡ اَسۡلَمَ وَجۡہَہٗ لِلّٰہِ وَہُوَ مُحۡسِنٌ فَلَہٗۤ اَجۡرُہٗ عِنۡدَ رَبِّہٖ ۪ وَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ﴿۱۱۳﴾٪

১১৩
না, বরং যে কেহ আল্লাহ্‌র সমীপে আত্মসমর্পণ১৩৫ করে এবং সৎকর্মশীল হয় সেইক্ষেত্রে তাহার জন্য তাহার প্রভুর নিকট প্রতিদান রহিয়াছে এবং না তাহাদের উপর কোন ভয় আসিবে এবং না তাহারা দুঃখিত হইবে।
সূরা আল্ বাকারা - রুকু ১৩
১৩৫। ‘ওয়াজহুন্‌’ অর্থ মুখমণ্ডল, বস্তুটি স্বয়ং, উদ্দেশ্য; এমন কাজ যাহাতে সমস্ত মনোযোগ নিবদ্ধ হয়, ঈপ্সিত পথ, অনুগ্রহ (আকরাব)। এই আয়াতটি পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিকতার তিনটি স্তরের প্রতি প্রসঙ্গতঃ ইঙ্গিত করিতেছে। যথা ‘ফানা’ (আত্ম-বিলীন অবস্থা), ‘বাকা’ (পুনরুজ্জীবন), ‘লিকা’ (আল্লাহ্‌র সাথে মিলন)। ‘আল্লাহ্‌র কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ’ দ্বারা ইহাই বুঝায় যে, আমাদের সমস্ত শক্তি সামর্থ্য, দেহ-মন এবং আমাদের যাহা কিছু আছে — সবকিছুই আল্লাহ্‌র কাছে সমর্পণ করিয়া একমাত্র তাঁহারই সেবায় ন্যস্ত করা। এই অবস্থার নাম ‘ফানা’ বা মৃত্যু, যাহা একজন সত্যিকার মুসলমান নিজের উপর আনয়ন করিয়া লয়। দ্বিতীয় বাক্যাংশ ‘সে সৎকর্মে সর্বদা নিয়োজিত থাকে’-‘বাকা’ বা পুনরুজ্জীবনের অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করিতেছে। কেননা, যখন কোন ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ভালবাসায় নিজেকে বিলীন করিয়া দেয় এবং তাহার পার্থিব আশা-আকাঙ্খা ও কামনা-বাসনা সব নির্বাপিত হইয়া যায় এবং এক প্রকার মৃত্যুবরণ করে, যেমন আঁ-হযরত (সাঃ) বলিয়াছেনঃ মূতূক্বাবলা আল্ তামূতূ--অর্থাৎ মৃত্যু বরণ করার পূর্বে মৃত্যুবরণ কর, তখন তাহাকে এক নব-জীবন দান করা হয় যাহাকে ‘বাকা’ নামে অভিহিত করা হয়। তখন সে আল্লাহ্‌র জন্যই বাঁচে এবং মানুষের সেবায় আত্ম-নিয়োগ করে। আয়াতের শেষ শব্দগুলি তৃতীয় ও উচ্চতম অবস্থা ‘লেকা’ বুঝাইতেছে, যেখানে সে আল্লাহ্‌র সাথে মিলিত হয়। এই শেষ অবস্থার অপর নাম ‘নফস্ মুৎমায়িন্নাহ্’(শান্তি-প্রাপ্ত আত্মা) (৮৯ঃ২৮)।

وَقَالَتِ الۡیَہُوۡدُ لَیۡسَتِ النَّصٰرٰی عَلٰی شَیۡءٍ ۪ وَّقَالَتِ النَّصٰرٰی لَیۡسَتِ الۡیَہُوۡدُ عَلٰی شَیۡءٍ ۙ وَّہُمۡ یَتۡلُوۡنَ الۡکِتٰبَ ؕ کَذٰلِکَ قَالَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ مِثۡلَ قَوۡلِہِمۡ ۚ فَاللّٰہُ یَحۡکُمُ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ﴿۱۱۴﴾

১১৪
ইহুদীগণ বলে, ‘খৃষ্টানগণ কোন কিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত নহে’ এবং খৃষ্টানগণ বলে, ‘ইহুদীগণ কোন কিছুর১৩৬ উপর প্রতিষ্ঠিত নহে’, অথচ তাহারা একই কিতাব পাঠ করে। যাহারা কোন জ্ঞান রাখে না তাহারাও তাহাদের অনুরূপ কথা বলিত। সুতরাং কেয়ামত দিবসে আল্লাহ্ তাহাদের মধ্যে সেই বিষয়ের মীমাংসা করিবেন যে বিষয়ে তাহারা মতভেদ করিয়া আসিতেছে।
১৩৬। ‘শাঈ’ অর্থ বস্তু, যাহাকিছু ভাল, ঈপ্সিত বস্তু (লেইন)। সত্যের অপলাপ ও সত্যের বিরোধিতার মত ধিকৃত ও ঘৃণিত ব্যাপার ইসলামের চোখে আর কিছু নাই। তাই ইসলাম শিক্ষা দিয়াছে যে, সকল ধর্মের মাঝেই কিছু কিছু সত্য রহিয়াছে। একটি ধর্মকে ‘সত্যধর্ম’ এই জন্য বলা হয় না যে, সত্যের উপর ইহার একচেটিয়া অধিকার রহিয়াছে, বরং এই জন্য বলা হয় যে, ইহাতে যাহা কিছু আছে, তাহা সম্পূর্ণ সত্য এবং সর্ব প্রকার মিথ্যার সংমিশ্রণ হইতে ইহা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত। ইসলাম নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিখুঁত ও পূর্ণতম ধর্ম বলিয়া দাবী করে, ইহা সম্পূর্ণ সত্য। কিন্তু তাই বলিয়া অন্য ধর্মগুলির সত্য এবং সৎগুণাবলীকে অকপটে স্বীকার করিতেও ইসলাম কুণ্ঠা বোধ করে নাই।

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللّٰہِ اَنۡ یُّذۡکَرَ فِیۡہَا اسۡمُہٗ وَسَعٰی فِیۡ خَرَابِہَا ؕ اُولٰٓئِکَ مَا کَانَ لَہُمۡ اَنۡ یَّدۡخُلُوۡہَاۤ اِلَّا خَآئِفِیۡنَ ۬ؕ لَہُمۡ فِی الدُّنۡیَا خِزۡیٌ وَّلَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ﴿۱۱۵﴾

১১৫
এবং ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা অধিকতর যালেম আর কে যে আল্লাহ্‌র মসজিদসমূহে তাহার নাম লইতে বাধা দেয়, এবং সেইগুলির ধ্বংস১৩৭ সাধনে প্রয়াসী হয়? তাহাদের জন্য আদৌ সংগত ছিল না যে (আল্লাহ্‌র) ভয়ে ভীত না হইয়া তাহারা ঐগুলির মধ্যে প্রবেশ করে। তাহাদের জন্য পৃথিবীতেও লাঞ্ছনা আছে এবং তাহাদের জন্য পরকালেও মহা আযাব নির্ধারিত আছে।
১৩৭। এই আয়াত ঐসব লোকের প্রতি ক্রোধ ও ঘৃণা প্রকাশ করিতেছে, যাহারা ধর্মীয় মতানৈক্যকে সীমার বাহিরে লইয়া যায়; এমনকি অন্যের উপাসনালয়কে অপদস্থ ও ধ্বংস করার মত হীন কর্মে লিপ্ত হইতেও কুষ্ঠিত হয় না। তাহারা মানুষকে তাহাদের পবিত্র উপাসনালয়ে যাইয়া আল্লাহ্‌র ইবাদত করিতে বাধা দান করে। এইরূপ হিংসাত্মক কার্য-কলাপকে এই আয়াতে কঠোর ভাষায় নিন্দা করা হইয়াছে এবং সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা ও মহানুভবতা অবলম্বনের উদাত্ত আহবান জানান হইয়াছে। কুরআন সকল মানবেরই আপন আপন উপসনালয়ে আল্লাহ্‌র ইবাদত করিবার পূর্ণ ও অবাধ অধিকার স্বীকার করে। মন্দির বলুন আর মস্‌জিদ বলুন, এইগুলি আল্লাহ্‌র উপাসনার উদ্দেশ্যেই নিবেদিত। যে ব্যক্তি এইগুলিতে আল্লাহ্‌র উপাসনা করিতে বাধা দান করে, সে এইগুলিকে ধ্বংস ও অনাবাদ করিতে চায়।

وَلِلّٰہِ الۡمَشۡرِقُ وَالۡمَغۡرِبُ ٭ فَاَیۡنَمَا تُوَلُّوۡا فَثَمَّ وَجۡہُ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۱۱۶﴾

১১৬
এবং পূর্ব ও পশ্চিম১৩৮ আল্লাহ্‌রই জন্য, অতএব তোমরা যেদিকে মুখ ফিরাও সেই দিকেই আল্লাহ্‌র চেহারা বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ প্রাচুর্যদানকারী, সর্বজ্ঞানী।
১৩৮। এই আয়াতে একটি ভবিষ্যদ্বানী আছে। তাহা এই যে, ইসলাম প্রথমে প্রাচ্যে এবং শেষ যমানায় পাশ্চাত্যে বিস্তার লাভ করিবে।

وَقَالُوا اتَّخَذَ اللّٰہُ وَلَدًا ۙ سُبۡحٰنَہٗ ؕ بَلۡ لَّہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ کُلٌّ لَّہٗ قٰنِتُوۡنَ ﴿۱۱۷﴾

১১৭
এবং তাহারা বলে, ‘আল্লাহ্ পুত্র১৩৯ গ্রহণ করিয়াছেন।’ তিনি পবিত্র। (শুধু তাহাই) নহে, বরং আকাশ সমূহে এবং পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সবই তাঁহার জন্য। সকলই তাঁহার অনুগত।
১৩৯। ‘আল্লাহ্‌র পুত্র’ কথাগুলি ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থগুলিতে রূপক ও আলঙ্কারিকভাবে ‘আল্লাহ্‌র প্রিয় বান্দা’ বা ‘আল্লাহ্‌র প্রিয় নবী’ অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছিল। কিন্তু পরবর্তী কালে, ইহার শাব্দিক অর্থ গ্রহণ করা আরম্ভ হইয়া গেল (লুক-২০ঃ৩৬; মথি-৫ঃ৯, ৪৫, ৪৮; দ্বিতীয় বিবরণ-১৪ঃ১, যাত্রাপুস্তক-৪ঃ২২, গালাতিয়-৩ঃ২৬ ইত্যাদি)। আল্লাহ্‌র যদি পুত্র থাকে, তাহা হইলে তাহাকে যৌন প্রবৃত্তির অধীন হইতে হয় এবং সেক্ষেত্রে তাহার স্ত্রী থাকাও প্রয়োজন। ফলে, তিনি এক অদ্বিতীয় ও অবিভাজ্য থাকিতে পারেন না; কেননা পুত্রতো পিতার দেহাংশ বিশেষ। তিনি মৃত্যুর ঊর্ধেও থাকিতে পারেন না, কেননা জন্মদান প্রক্রিয়া, যাহা পুত্র গ্রহণ দ্বারা আল্লাহ্‌র প্রতি আরোপিত হইয়া যায়, একমাত্র মরণশীলদের জন্যই প্রযোজ্য। ইসলাম এইরূপ ধারণাকে ধারে কাছেও ঘেঁষতে দেয় না। কারণ ইসলামের আল্লাহ্‌ পরম পবিত্র ও সকল দূর্বলতার ঊর্ধে।

بَدِیۡعُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَاِذَا قَضٰۤی اَمۡرًا فَاِنَّمَا یَقُوۡلُ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ﴿۱۱۸﴾

১১৮
তিনি আকাশ সমূহের ও পৃথিবীর আদি-স্রষ্টা,১৪০ এবং যখন তিনি কোন বিষয়ের ফয়সালা করেন তখন তিনি উহাকে শুধু বলেন, ‘হও’, অতঃপর উহা হইয়া যায়।
১৪০। আল্লাহ্‌ই প্রথম সৃষ্টিকারী। এই গুণটি ঈসা বা যীশুর ঈশ্বরত্বকে নস্যাৎ করিয়া দেয়, তেমনি হিন্দুদের ‘বস্তু ও আত্মা আদি ও অবিনশ্বর’ হওয়ার ধারণাকে বানচাল করিয়া দেয়। (১) আল্লাহ্‌তা’লা পৃথিবী ও আকাশ সমূহের স্রষ্টা- কথাটি দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়, পুত্রের তথা অন্যের সাহায্য তাঁহার জন্য নিষ্প্রয়োজন। (২) বিশ্ব-জগতের আদি-স্রষ্টা তিনিই অর্থাৎ তিনি নাস্তি হইতেই সব কিছু অস্তিত্বে আনয়ন করিয়াছেন, তাঁহার জন্য কোন নমুনা বা কোন উপাদানের প্রয়োজন হয় নাই। (৩) তিনি সর্বশক্তিমান অর্থাৎ তিনি যখন কোন কিছু সৃষ্টি করিতে মনস্থ করেন, তখন তাঁহার হুকুমে, উপযুক্ত আকারে তাহা অস্তিত্বে আসিয়া যায় ও বাস্তবতা লাভ করে। এই কথার অর্থ সর্ব ক্ষেত্রেই ইহা নয় যে, আল্লাহ্‌ যখন কোন কিছু করিতে বা ঘটাইতে ইচ্ছা করেন, তখন তাহা সঙ্গে সঙ্গেই ঘটাইয়া ফেলেন। আসলে ইহার অর্থ এই যে, তিনি কোন কিছুকে অস্তিত্বে আনিতে ইচ্ছা করিলে, সেই ইচ্ছাকে ব্যর্থ করিবার শক্তি কাহারো নাই, তাহা হইবেই, ঘটিবেই।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ لَوۡلَا یُکَلِّمُنَا اللّٰہُ اَوۡ تَاۡتِیۡنَاۤ اٰیَۃٌ ؕ کَذٰلِکَ قَالَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّثۡلَ قَوۡلِہِمۡ ؕ تَشَابَہَتۡ قُلُوۡبُہُمۡ ؕ قَدۡ بَیَّنَّا الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ ﴿۱۱۹﴾

১১৯
এবং যাহারা কোন জ্ঞান রাখে না, তাহারা বলে, ‘কেন আল্লাহ্ আমাদের সহিত (সরাসরি) কথা বলেন না, অথবা আমাদের নিকট কোন নিদর্শন১৪১ আসে না?’ এইরূপেই তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহারাও তাহাদের অনুরূপ কথা বলিয়াছিল। তাহাদের হৃদয়গুলি পরস্পর একইরূপ হইয়া গিয়াছে। নিশ্চয় আমরা সর্ব প্রকার নির্দশন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করিয়া দিয়াছি ঐ জাতির জন্য যাহারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
১৪১। ইহা লক্ষ্যণীয় যে, যখনই অবিশ্বাসীরা নিদর্শন চায় বলিয়া কুরআনে উল্লেখিত হয়, সেক্ষেত্রে চিহ্ন বা নিদর্শন বলিতে তাহাদের নিজেদের মনগড়া বা মনোমত নিদর্শন বুঝায় কিংবা শাস্তিসম্বলিত নিদর্শন বুঝাইয়া থাকে (২১ঃ৬, ৬ঃ৩৮; ১৩ঃ২৮; ২০ঃ১৩৪-১৩৫; ২১ঃ৬, ২৯ঃ৫১)।

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ بِالۡحَقِّ بَشِیۡرًا وَّنَذِیۡرًا ۙ وَّلَا تُسۡئَلُ عَنۡ اَصۡحٰبِ الۡجَحِیۡمِ ﴿۱۲۰﴾

১২০
নিশ্চয় আমরা তোমাকে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এবং তুমি দোযখের অধিবাসীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হইবে না।