১৩

الرعد

সূরা আর্‌-রা’দ

Ar-Ra`d

মক্কী ৪৪ আয়াত ৬ রুকু পারা ১৩

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৪৪ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

کَذٰلِکَ اَرۡسَلۡنٰکَ فِیۡۤ اُمَّۃٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہَاۤ اُمَمٌ لِّتَتۡلُوَا۠ عَلَیۡہِمُ الَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ وَہُمۡ یَکۡفُرُوۡنَ بِالرَّحۡمٰنِ ؕ قُلۡ ہُوَ رَبِّیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ عَلَیۡہِ تَوَکَّلۡتُ وَاِلَیۡہِ مَتَابِ ﴿۳۱﴾

৩১
এই ভাবে আমরা তোমাকে এমন এক জাতির নিকট প্রেরণ করিয়াছি যাহার পূর্বে অনেক জাতি বিগত হইয়াছে, যেন তুমি তাহাদের নিকট উহা পাঠ করিয়া শুনাও যাহা আমরা তোমার প্রতি ওহী করিয়াছি, কেননা তাহারা রহমানকে (অসীম অযাচিত দাতা আল্লাহ্‌কে) অস্বীকার করে। তুমি বল, ‘তিনিই আমার প্রভু, তিনি ব্যতিরেকে আর কোন মা’বূদ নাই। তাঁহার উপরই আমি নির্ভর করি এবং তাঁহারই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন।’

وَلَوۡ اَنَّ قُرۡاٰنًا سُیِّرَتۡ بِہِ الۡجِبَالُ اَوۡ قُطِّعَتۡ بِہِ الۡاَرۡضُ اَوۡ کُلِّمَ بِہِ الۡمَوۡتٰی ؕ بَلۡ لِّلّٰہِ الۡاَمۡرُ جَمِیۡعًا ؕ اَفَلَمۡ یَایۡـَٔسِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡ لَّوۡ یَشَآءُ اللّٰہُ لَہَدَی النَّاسَ جَمِیۡعًا ؕ وَلَا یَزَالُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا تُصِیۡبُہُمۡ بِمَا صَنَعُوۡا قَارِعَۃٌ اَوۡ تَحُلُّ قَرِیۡبًا مِّنۡ دَارِہِمۡ حَتّٰی یَاۡتِیَ وَعۡدُ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُخۡلِفُ الۡمِیۡعَادَ ﴿٪۳۲﴾

৩২
যদি এমন কোন কুরআন হইত যাহা দ্বারা পর্বত সমূহকে১৪৪১ পরিচালিত করা যাইত অথবা যাহা দ্বারা পৃথিবীকে কাটিয়া১৪৪২ টুকরা টুকরা করা যাইত, অথবা উহা দ্বারা মৃতদের সহিত কথা১৪৪৩ বলা যাইত (তবুও এই সকল লোক ঈমান আনিত না)। বরং (ঈমান আনার) বিষয় সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ্‌র হাতে। যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহারা কি জানিতে পারে নাই যে, যদি আল্লাহ্ চাহিতেন তাহা হইলে তিনি সকল মানুষকে হেদায়াত দিতেন? এবং যাহারা অস্বীকার করিয়াছে, তাহাদের কৃত-কর্মের জন্য সর্বদা তাহাদের উপর কোন না কোন ভয়ংকর আযাব আসিতে থাকিবে অথবা তাহাদের গৃহের১৪৪৪ নিকট আপতিত হইতে থাকিবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়। আল্লাহ্ আদৌ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।
সূরা আর্‌-রা’দ - রুকু ৪
১৪৪১। জাবাল(পাহাড়)- বহুবচনে জিবাল যাহার আলংকারিক অর্থ (১) গোত্র বা গোষ্ঠির নেতা; (২) সমসাময়িক লোকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্বান ব্যক্তি; (৩) ভীষণ দুঃখ, ক্লেশ, দুর্যোগ (আকরাব)। এখানে তফসীরাধীন বাক্যাংশের অর্থ হইতে পারে যে, সকল কঠিন সমস্যা, মানুষকে যে সবের সম্মুখীন হইতে হয় কুরআন করীম উহার সমাধান দেয়; ইহাও হইতে পারে যে, ইহা (কুরআন) সব পুরাতন নিয়মাবলী রদ করিয়াছে এবং নানা প্রকার মানবিক সমস্যাবলী সমাধানে এক নূতন পথ উন্মুক্ত করিয়াছে।
১৪৪২। এই বাক্যের রূপক অর্থ এই যে, কুরআন দ্রুত গতিতে সারা দুনিয়াতে বিস্তার লাভ করিবে। শাব্দিক অর্থে শত্রুর এলাকা হইতে ভুখণ্ড কর্তন (বিচ্ছিন্ন) করিয়া বিশ্বাসীগণের দখলে অর্পণ করা হইবে।
১৪৪৩। আধ্যাত্মিকভাবে মৃত ব্যক্তিগণকে কুরআনের সাহায্যে কেবল শীঘ্র নূতন জীবনই দান করা হইবে না, দেখিতে দেখিতে তাহারা তত্ত্বপূর্ণ জ্ঞানের কথাও বলিবে এবং সারা পৃথিবীতে কুরআনের বাণী প্রচার করিবে।
১৪৪৪। অবিশ্বাসীদের উপর বিপদের পর বিপদ পতিত হইতে থাকিবে, এবং একের পর এক বিপর্যয় তাহাদের উপর নিপতিত হইবে যে পর্যন্ত না তাহাদের দূর্গতুল্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল প্রধান নগরী মক্কার পতনের মাধ্যমে তাহাদের শক্তি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয়।

وَلَقَدِ اسۡتُہۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَاَمۡلَیۡتُ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ثُمَّ اَخَذۡتُہُمۡ ۟ فَکَیۡفَ کَانَ عِقَابِ ﴿۳۳﴾

৩৩
নিশ্চয় তোমার পূর্বেও রসূলগণের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হইয়াছিল, কিন্তু যাহারা অস্বীকার করিয়াছিল, আমি কিছু কালের জন্য তাহাদিগকে অবকাশ দিয়াছিলাম। অতঃপর আমি তাহাদিগকে ধৃত করিয়াছিলাম, সুতরাং দেখ! আমার শাস্তি কেমন (ভয়ংকর) ছিল।

اَفَمَنۡ ہُوَ قَآئِمٌ عَلٰی کُلِّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ ۚ وَجَعَلُوۡا لِلّٰہِ شُرَکَآءَ ؕ قُلۡ سَمُّوۡہُمۡ ؕ اَمۡ تُنَبِّـُٔوۡنَہٗ بِمَا لَا یَعۡلَمُ فِی الۡاَرۡضِ اَمۡ بِظَاہِرٍ مِّنَ الۡقَوۡلِ ؕ بَلۡ زُیِّنَ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مَکۡرُہُمۡ وَصُدُّوۡا عَنِ السَّبِیۡلِ ؕ وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ ہَادٍ ﴿۳۴﴾

৩৪
তবে কি তিনি, যিনি প্রত্যেক আত্মার উপর যাহা সে অর্জন করে, উহার সম্বন্ধে পর্যবেক্ষক আছেন (তাহাদিগকে বিনা শাস্তিতে ছাড়িয়া দিবেন)? তবুও তাহারা আল্লাহ্‌র সঙ্গে শরীক স্থির করিয়া লইয়াছে। তুমি বল, ‘তোমরা তাহাদের নাম উল্লেখ১৪৪৫ কর।’ তোমরা কি তাঁহাকে পৃথিবীর এমন বিষয়ের সংবাদ দিবে যাহা তিনি জানেন না, অথবা ইহা কি কেবল ফাঁকা বুলি? এবং যাহারা অস্বীকার করিয়াছে তাহাদিগকে তাহাদের ছলনা সুন্দর১৪৪৬ করিয়া দেখানো হইয়াছে এবং তাহাদিগকে (সঠিক) পথ হইতে বিরত রাখা হইয়াছে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ যাহাকে পথভ্রষ্ট হইতে দেন, তাহার জন্য কোন হেদায়াত- দাতা নাই।
১৪৪৫। এই কথা দ্বারা মোশরেকগণকে বলা হইয়াছে, তোমরা তোমাদের উপাস্য দেবদেবীর নাম বল দেখি, অর্থাৎ তাহাদের কর্মকাণ্ড বা গুণাবলী কি? এই আয়াতে নাম শব্দটি ব্যক্তিগত নাম বুঝায় না, গুণবাচক নাম প্রকাশার্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। কারণ তাহাদের কিছু দেবদেবীর ব্যক্তিগত নাম কুরআনে উল্লেখ রহিয়াছে (৭১ ঃ২৪)। ‘নাম বল দেখি’ শব্দত্রয় ঘৃণা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ভাবেরই প্রকাশ অর্থাৎ অংশীবাদীগণের (মূর্তি পূজারীদের) দেবদেবী এতই অপদার্থ যে উহাদের নাম উচ্চারণ করিতেও তাহাদের লজ্জায় পড়িতে হয়।
১৪৪৬। প্রায়শঃ এইরূপ ঘটতে দেখা যায় যে, যখন কোন লোক পার্থিব স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে প্রতারণার আশ্রয় নেয় তখন সে ক্রমশঃ নিজেই নিজের প্রতারণার শিকার হইয়া যায়।

لَہُمۡ عَذَابٌ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَشَقُّ ۚ وَمَا لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ وَّاقٍ ﴿۳۵﴾

৩৫
তাহাদের জন্য এক আযাব (নির্ধারিত) আছে এই পার্থিব জীবনে এবং নিশ্চয় পরকালের আযাব আরও কঠিনতর হইবে, এবং আল্লাহ্‌র মোকাবেলায় তাহাদের জন্য কোন রক্ষাকর্তা নাই।

مَثَلُ الۡجَنَّۃِ الَّتِیۡ وُعِدَ الۡمُتَّقُوۡنَ ؕ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ؕ اُکُلُہَا دَآئِمٌ وَّظِلُّہَا ؕ تِلۡکَ عُقۡبَی الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا ٭ۖ وَّعُقۡبَی الۡکٰفِرِیۡنَ النَّارُ ﴿۳۶﴾

৩৬
মুত্তাকীগণকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে, উহার দৃষ্টান্ত এইরূপ—উহার তলদেশ দিয়া নহরসমূহ প্রবাহিত, উহার ফল১৪৪৭ সমূহ চিরস্থায়ী এবং উহার ছায়াও। ইহা ঐ সকল লোকের পুরস্কার যাহারা তাক্‌ওয়া অবলম্বন করে; এবং কাফেরদের পরিণাম হইবে আগুন।
১৪৪৭। ইহার অর্থ ফল কখনো ফুরাইবে না। অর্থাৎ বেহেশ্‌তের ফলসমূহে কখনও হেমন্ত আসিবে না, ঋতু বিবর্ণ হইবে না, না কোন সুপ্তাবস্থা বিরাজ করিবে। এইরূপে জান্নাতের সুখ এবং অনুগ্রহরাজীতে কখনও বিঘ্ন বা বিরতি আসিবে না। ‘ফল’ এবং ‘ছায়া’ শব্দদ্বয় বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ নেয়ামতের প্রতি ইংগিত করিতেছে। মো’মেনগণ বেহেশ্‌তের মধ্যে আল্লাহ্‌তা’লার সকল প্রকার নেয়ামত তথা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আশিসসমূহ উপভোগ করিতে থাকিবে।

وَالَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یَفۡرَحُوۡنَ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَمِنَ الۡاَحۡزَابِ مَنۡ یُّنۡکِرُ بَعۡضَہٗ ؕ قُلۡ اِنَّمَاۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ اللّٰہَ وَلَاۤ اُشۡرِکَ بِہٖ ؕ اِلَیۡہِ اَدۡعُوۡا وَاِلَیۡہِ مَاٰبِ ﴿۳۷﴾

৩৭
এবং যাহাদিগকে আমরা কিতাব দিয়াছি, তাহারা তোমার প্রতি যাহা নাযেল করা হইয়াছে উহাতে আনন্দিত হয়। এবং এই (বিভিন্ন) দলগুলির১৪৪৮ মধ্যে কতক এমনও আছে যাহারা ইহার (কতক) অংশকে অস্বীকার করে। তুমি বল, ‘আমাকে কেবল এই আদেশ প্রদান করা হইয়াছে যেন আমি একমাত্র আল্লাহ্‌র ইবাদত করি এবং তাহার সহিত কাহাকেও শরীক না করি। তাঁহার দিকেই আমি আহ্বান করিতেছি এবং তাঁহারই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন।’
১৪৪৮। আহযাব অর্থ দলসমূহ অর্থাৎ ঐ সকল লোকের দল যাহাদের নিকট নবী প্রেরিত হন এবং যাহারা তাঁহাকে (আল্লাহ্‌র নবীকে) গ্রহণ করে না।

وَکَذٰلِکَ اَنۡزَلۡنٰہُ حُکۡمًا عَرَبِیًّا ؕ وَلَئِنِ اتَّبَعۡتَ اَہۡوَآءَہُمۡ بَعۡدَمَا جَآءَکَ مِنَ الۡعِلۡمِ ۙ مَا لَکَ مِنَ اللّٰہِ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا وَاقٍ ﴿٪۳۸﴾

৩৮
এবং এইরূপে আমরা ইহাকে সুস্পষ্ট আদেশাকারে আরবী ভাষায় নাযেল করিয়াছি। এবং তোমার নিকট জ্ঞান আসিবার পরও যদি তুমি তাহাদের মন্দ বাসনার অনুসরণ কর তাহা হইলে আল্লাহ্‌র মোকাবেলায় না তোমার কোন বন্ধু হইবে এবং না রক্ষাকারী।
সূরা আর্‌-রা’দ - রুকু ৫

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلًا مِّنۡ قَبۡلِکَ وَجَعَلۡنَا لَہُمۡ اَزۡوَاجًا وَّذُرِّیَّۃً ؕ وَمَا کَانَ لِرَسُوۡلٍ اَنۡ یَّاۡتِیَ بِاٰیَۃٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ لِکُلِّ اَجَلٍ کِتَابٌ ﴿۳۹﴾

৩৯
এবং আমরা তোমার পূর্বে বহু রসূল প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং তাহাদিগকে স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততি প্রদান করিয়াছিলাম। এবং কোন রসূলের পক্ষে ইহা সম্ভব ছিল না যে, সে আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতিরেকে কোন নিদর্শন আনে। প্রত্যেক মেয়াদের জন্য একটি নির্ধারিত বিধান আছে।

یَمۡحُوا اللّٰہُ مَا یَشَآءُ وَیُثۡبِتُ ۚۖ وَعِنۡدَہٗۤ اُمُّ الۡکِتٰبِ ﴿۴۰﴾

৪০
আল্লাহ্ যাহা চাহেন বিলুপ্ত করেন এবং (যাহা চাহেন) প্রতিষ্ঠিত১৪৪৯ করেন এবং তাঁহারই নিকট সকল নির্ধারিত বিধানের১৪৫০ মূল উৎস রহিয়াছে।
১৪৪৯। এই আয়াতে ঐশী আযাব বা শাস্তি সম্পর্কে দুইটি নিয়ম নির্দেশ করিতেছেঃ (ক) আল্লাহ্‌তা’লা ইচ্ছা করিলে শাস্তি রদ করিয়া থাকেন (সম্পূর্ণরূপে বা আংশিকরূপে) অথবা (খ) আল্লাহ্ ইহাকে (শাস্তি) কপালের লিখন রূপে বিধিবদ্ধ করিয়া দেন।
১৪৫০। (ক) সকল অনুশাসনের মূল কারণ বা উহার অন্তর্নিহিত জ্ঞান বা হিকমত একমাত্র আল্লাহ্‌তা’লাই সুবিদিত, (খ) শরীয়াতের সকল বিধানের ভিত্তি আল্লাহ্‌তা’লার সিফ্‌ত বা গুণাবলীর উপর প্রতিষ্ঠিত। অতএব, বিধান বা শরীয়াতের মূল উৎস আল্লাহ্‌তা’লা। উম্মুন অর্থ মাতা, উৎস, ভিত্তি, মূল, শিকড়, উপকরণ, অবস্থান বা ধরিয়া রাখা (লেইন)।