إبراهيم
Ibrahim
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৫৩ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।
ভূমিকা
পূর্ববর্তী সূরার বিষয়-বস্তুর জের এই সূরাতেও জারী রহিয়াছে এবং আরো সুস্পষ্ট ও বিশদভাবে উহাকে বর্ণনা করা হইয়াছে। কুরআনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পর্যবেক্ষণ ও ইতিহাসের ঘটনাবলী পর্যালোচনার জন্য ইঙ্গিত করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মত বিভিন্ন যুগের নবী-রসুলগণ, শত্রুপক্ষ অত্যন্ত প্রবল থাকা সত্বেও তাহাদের উপর বিজয়ী হইয়াছিলেন। কাজেই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাহ্যিক উপকরণ যতই ক্ষুদ্র হউক না কেন, পরিণামে তিনিই সফলতা লাভ করিবেন। অতঃপর বলা হইয়াছে যে, কুরআনের শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হইতেছে মানুষকে অন্ধকার হইতে আলোতে নিয়া আসা, মানুষ যখন অন্ধকারে পথ হাতড়াইয়া মরে তখন তাহাকে সঠিক পথের অনুসন্ধান দেওয়া। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আবির্ভাব হইয়াছে মানুষকে ঘোর অন্ধকার হইতে আলোতে আনার জন্য। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পূর্বেও বহু নবীর আর্বিভাব ঘটিয়াছে, যাহাদের মধ্যে অন্যতম নবী ছিলেন হযরত মূসা (আঃ)। অতঃপর, সূরাটিতে সত্যের বিজয় কেন অবশ্যম্ভাবী, উহার প্রতি আলোকপাত করা হইয়াছে। ইহার পর সূরাটিতে আল্লাহ্তা’লার তরফ হইতে অবতীর্ণ বাণীর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করিয়া উক্ত বাণীর সত্যতার মানদণ্ড সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে। সেই মানদণ্ডের আলোকে বিচার করিলে কুরআন যে সত্যসত্যই আল্লাহ্তা’লার বাণী, তাহা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়। মুসলমানদেরকে ইহার পর উপদেশ দেওয়া হইয়াছে, কিভাবে তাহারা কুরআনের মহান শিক্ষা ও নীতি হইতে বেশী বেশী উপকৃত হইতে পারে। অতঃপর, সূরাটিতে বলা হইয়াছে যে, কুরআনের বাণীর মাধ্যমে আরবে যে পরিবর্তন সূচিত হইতে যাইতেছে, তাহা পূর্ব পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ছিল যখন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ফারানের মরু-প্রান্তরে তাহার শিশু পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) ও বিবি হাজেরাকে রাখিয়া আসিয়াছিলেন এই জন্য যে, একদিন সেই মরু-প্রান্তর হইতেই পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় আন্দোলনের সূত্রপাত হইবে, যাহার নযীর পৃথিবীতে আর অন্য কোথাও নাই। এই ঐশী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই মক্কা নগরী প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। এবং এই কারণেই অনুর্বর ও মরুভূমি হওয়া সত্বেও আল্লাহ্তা’লা তাঁহার করুণায় এই এলাকাবাসীর জন্য পর্যাপ্ত রিযকের বন্দোবস্ত করিয়া দিয়াছেন। যখন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তদীয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) সহ মক্কায় কাবার ঘর পুনর্নিমাণ করিতেছিলেন, তখন তিনি আল্লাহ্র কাছে এই প্রার্থনা করিয়াছিলেন যে, আল্লাহ্ যেন মক্কায় তাঁহার বংশধরদের মধ্য হইতে এমন একজন রসূলের আর্বিভাব ঘটান যিনি তাহাদের নিকট আল্লাহ্তা’লার নিদর্শন বর্ণনা করেন, তাহাদিগকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তাহাদিগকে পবিত্র করেন (২ঃ১৩০)। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আর্বিভাবের মাধ্যমে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর এই দোয়ার পূর্ণতা দান করা হইয়াছিল। এই সূরা মো’মেনদেরকে তাই স্মরণ করাইয়া দেয় যে,তাহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য তো ইতিপূর্বে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-ই বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন, উহা যেন তাহারা কিছুতেই বিস্মৃত না হয়। সূরাটি পরিশেষে অবিশ্বাসীদের প্রতি এক সতর্কবাণী উচ্চারণ করিয়া ঘোষণা করিয়াছে যে, যেহেতু মক্কা নগরীর উদ্ভবই হইয়াছিল আল্লাহ্তা’লার একত্বকে সারা বিশ্বব্যাপী প্রচার ও প্রসার করার উদ্দেশ্যে, সেহেতু আল্লাহ্র একত্বের সেই কেন্দ্রস্থল মক্কাতে তাহারা যেন মূর্তিপূজাকে পরিহার করে। আর তাহারা যেন তাহাদের কর্ম সম্পর্কে সতর্ক হয়, কেননা ঐশী উদ্দেশ্যকে বানচাল করিবার জন্য তাহারা যাহা কিছুই করুক না কেন, পরিণামে তাহা সম্পূর্ণ ব্যর্থতা ও হতাশায় পর্যবসিত হইবে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
الٓرٰ ۟ کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ اِلَیۡکَ لِتُخۡرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ۬ۙ بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ اِلٰی صِرَاطِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَمِیۡدِ ۙ﴿۲﴾
اللّٰہِ الَّذِیۡ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَوَیۡلٌ لِّلۡکٰفِرِیۡنَ مِنۡ عَذَابٍ شَدِیۡدِ ۙ﴿۳﴾
ۣالَّذِیۡنَ یَسۡتَحِبُّوۡنَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا عَلَی الۡاٰخِرَۃِ وَیَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَیَبۡغُوۡنَہَا عِوَجًا ؕ اُولٰٓئِکَ فِیۡ ضَلٰلٍۭ بَعِیۡدٍ ﴿۴﴾
وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ؕ فَیُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۵﴾
وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اَنۡ اَخۡرِجۡ قَوۡمَکَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ۬ۙ وَذَکِّرۡہُمۡ بِاَیّٰٮمِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوۡرٍ ﴿۶﴾
وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہِ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ اَنۡجٰکُمۡ مِّنۡ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ یَسُوۡمُوۡنَکُمۡ سُوۡٓءَ الۡعَذَابِ وَیُذَبِّحُوۡنَ اَبۡنَآءَکُمۡ وَیَسۡتَحۡیُوۡنَ نِسَآءَکُمۡ ؕ وَفِیۡ ذٰلِکُمۡ بَلَآءٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ عَظِیۡمٌ ﴿٪۷﴾
وَاِذۡ تَاَذَّنَ رَبُّکُمۡ لَئِنۡ شَکَرۡتُمۡ لَاَزِیۡدَنَّکُمۡ وَلَئِنۡ کَفَرۡتُمۡ اِنَّ عَذَابِیۡ لَشَدِیۡدٌ ﴿۸﴾
وَقَالَ مُوۡسٰۤی اِنۡ تَکۡفُرُوۡۤا اَنۡتُمۡ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ۙ فَاِنَّ اللّٰہَ لَغَنِیٌّ حَمِیۡدٌ ﴿۹﴾
اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ نَبَؤُا الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ قَوۡمِ نُوۡحٍ وَّعَادٍ وَّثَمُوۡدَ ۬ؕۛ وَالَّذِیۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ؕۛ لَا یَعۡلَمُہُمۡ اِلَّا اللّٰہُ ؕ جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَرَدُّوۡۤا اَیۡدِیَہُمۡ فِیۡۤ اَفۡوَاہِہِمۡ وَقَالُوۡۤا اِنَّا کَفَرۡنَا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ وَاِنَّا لَفِیۡ شَکٍّ مِّمَّا تَدۡعُوۡنَنَاۤ اِلَیۡہِ مُرِیۡبٍ ﴿۱۰﴾