الحجر
Al-Hijr
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ১০০ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার তারিখ ও প্রসংগ
অধিকাংশ পণ্ডিতগণের স্বীকৃত মতে এই সূরাটি মক্কায় নাযেল হইয়াছে। পূর্ববর্তী সূরায় আলোকপাত করা হইয়াছিল যে, পূর্বে নবী-রসূলগণ বাহ্যিক উপকরণের দৈন্য সত্বেও তাহাদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হইয়াছিলেন এবং তাহাদের আন্দোলন সফল ও অগ্রবর্তী হইয়াছিল। কেননা, তাহাদের পথ-প্রদর্শক ও সহায়ক হিসাবে আল্লাহ্র বাণী তাহাদের সঙ্গে ছিল। একই ভাবে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁহার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হইবেন। যেহেতু আল্লাহ্র বাণী, যাহা এই সূরার বর্ণনা মতে, এক মহা ঐশী শক্তি বিশেষ, কোন দুনিয়াবী শক্তিই সেই ঐশী শক্তির মোকাবিলা করিতে পারে না। সূরাটিতে আরো বলা হইয়াছে যে, আল্লাহ্র বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া এক জঘন্য বিষয় এবং ইহাকে কিছুতেই ছোট করিয়া দেখা যায় না। যাহারা এই ধরণের মিথ্যা অপবাদ দেয়, তাহারা শীঘ্রই তাহাদের যোগ্য পরিণাম লাভ করিবে অর্থাৎ ধ্বসের সম্মুখীন হইবে। অতঃপর, বলা হইয়াছে যে, কুরআন আল্লাহ্তা’লার অবতীর্ণ বাণী এবং ইহার ঐশী উৎসস্থল প্রমাণের জন্য বহু অখণ্ডনীয় যুক্তি-প্রমাণ ইহাতে অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে।
বিষয়বস্তু
এই সূরাটির মূল ভাবধারা হইতেছে এই যে, কুরআনের অনুপম রচনাবলী, বিষয়বস্তুর বলিষ্ঠতা ও উপস্থাপনার সৌন্দর্যের দিক হইতে অন্য কোন ঐশী গ্রন্থই ইহার মোকাবিলা করিতে পারে না। ইহা সর্বতোভাবে ক্রুটিমুক্ত এক ঐশী কতাব। সব দিকে থেকেই ইহা অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়। ইহার সৌন্দর্য ও উত্তম বৈশিষ্ট্যাবলী এত অধিক এবং ব্যাপক যে, অবিশ্বাসীরাও কোন কোন সময় এই স্বীকারোক্তি করিতে বাধ্য হইয়াছে যে, ইহার মোকাবিলায় তাহাদের কিছুই করণীয় নাই এবং তাহারা আশা পোষণ করিত যে, ইহার অনুরূপ তাহাদেরও যদি একটি কিতাব থাকিত! এই ধরণের স্বীকারোক্তি সত্বেও তাহারা ইহা গ্রহণ করিতে আগাইয়া আসে না এবং এই সত্যকে উপলদ্ধি করে না যে, কুরআনকে অস্বীকার করার ফলে তাহারা শুধু সত্য হইতেই বঞ্চিত হইবে এবং পরিণামে আল্লাহ্তা’লার অসন্তুষ্টিজনিত ঐশী আযাব ডাকিয়া আনিবে। কুরআনের বাণী অবশ্যই সফল হইবে এবং কেহই ইহার অগ্রযাত্রা প্রতিরোধ করিতে সক্ষম হইবে না। যাহারা ইহার শিক্ষাকে গ্রহণ করিতে দ্বিধান্বিত হইবে অথবা অস্বীকার করিবে তাহারাই পরিণামে দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করিবে। সূরাটিতে অতঃপর এই কথার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হইয়াছে যে, এতদসত্বেও যদি কুরআনের বাণীকে অবহেলা করা হয় বা ইহাকে নিয়া হাসি-বিদ্রুপ করা হয় তাহা হইলে ইহাতে আশ্চর্যের কিছু নাই, কেননা ইতিপূর্বেও সমাগত নবী রসূলদের প্রতি অবতীর্ণ বাণীকে লইয়া হাসি-বিদ্রুপ করা হইয়াছিল। কিন্তু বিদ্রুপকারীরা এই চিরন্তন সত্যকে কখনই মনে রাখে না যে, আল্লাহ্র বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা সহজ কাজ নহে, ইহার পরিণতিতে তাহাদিগকে অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের মুখোমুখি হইতে হইবে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র ইহা চিরন্তন রীতি যে তাঁহার নামে মিথ্যা আরোপকারীকে তিনি সফল হইতে দেন না এবং তাঁহার অবতীর্ণ বাণী হইতে মিথ্যা আরোপিত বাণীকে অতি সহজেই চিহ্নিত করিয়া দেন। আল্লাহ্র অবতীর্ণ বাণীর একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা রহিয়াছে এবং সাধু বা নেককার লোকের হৃদয়ে ইহাকে গ্রহণ করিবার মত একটি বিশেষ অবস্থার তিনি সৃষ্টি করেন এবং যাহারা ইহাকে গ্রহণ করে, তাহাদেরকে খুব সামান্য নৈতিক অবস্থা হইতে অনেক উন্নীত পর্যায়ের নৈতিকতায় তিনি অধিষ্ঠিত করেন।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
الٓرٰ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ وَقُرۡاٰنٍ مُّبِیۡنٍ ﴿۲﴾
رُبَمَا یَوَدُّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡ کَانُوۡا مُسۡلِمِیۡنَ ﴿۳﴾
ذَرۡہُمۡ یَاۡکُلُوۡا وَیَتَمَتَّعُوۡا وَیُلۡہِہِمُ الۡاَمَلُ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ﴿۴﴾
وَمَاۤ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍ اِلَّا وَلَہَا کِتَابٌ مَّعۡلُوۡمٌ ﴿۵﴾
مَا تَسۡبِقُ مِنۡ اُمَّۃٍ اَجَلَہَا وَمَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ ﴿۶﴾
وَقَالُوۡا یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡ نُزِّلَ عَلَیۡہِ الذِّکۡرُ اِنَّکَ لَمَجۡنُوۡنٌ ؕ﴿۷﴾
لَوۡ مَا تَاۡتِیۡنَا بِالۡمَلٰٓئِکَۃِ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ﴿۸﴾
مَا نُنَزِّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃَ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَمَا کَانُوۡۤا اِذًا مُّنۡظَرِیۡنَ ﴿۹﴾
اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّکۡرَ وَاِنَّا لَہٗ لَحٰفِظُوۡنَ ﴿۱۰﴾