১৬

النحل

সূরা আন্‌ নাহ্‌ল

An-Nahl

মক্কী ১২৯ আয়াত ১৬ রুকু পারা ১৪

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১২৯ আয়াত এবং ১৬ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

اَتٰۤی اَمۡرُ اللّٰہِ فَلَا تَسۡتَعۡجِلُوۡہُ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ﴿۲﴾

২
আল্লাহ্‌র আদেশ আসন্ন,১৫২৮ অতএব, তোমরা উহার জন্য তাড়াতাড়ি করিও না, তিনি পরম পবিত্র এবং তাহারা (তাঁহার সঙ্গে) যাহা শরীক করে তাহা হইতে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।
১৫২৮। ‘আতাআমরুল্লাহে’ অর্থ আল্লাহ্‌তা’লার হুকুম আসিয়া গিয়াছে অর্থাৎ কাফেরদের শাস্তির সময় আসন্ন অথবা নবযুগের সময় সূচিত হইয়াছে।

یُنَزِّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃَ بِالرُّوۡحِ مِنۡ اَمۡرِہٖ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖۤ اَنۡ اَنۡذِرُوۡۤا اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاتَّقُوۡنِ ﴿۳﴾

৩
তিনি তাঁহার বান্দাগণের মধ্য হইতে যাহাকে চাহেন তাহার উপর নিজ আদেশ দ্বারা বাণী সহ ফিরিশ্‌তাগণকে১৫২৯ অবতীর্ণ করেন (এই বলিয়া) যে, ‘তোমরা (লোকদিগকে) সতর্ক কর যে, আমি ব্যতিরেকে কোন মা’বূদ নাই; অতএব, তোমরা আমারই তাক্‌ওয়া অবলম্বন কর।’
১৫২৯। রূহ অর্থ আত্মা, ঐশী-বাণী, কুরআন, জিবরাঈল ফিরিশ্‌তা এবং নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ইত্যাদি (মুফরাদাত,লেইন)। এই আয়াতে রূহ দ্বারা আল্লাহ্‌র জীবনদানকারী বাণী বুঝাইতেছে। এই শব্দ দ্বারা নবীর মারফতে নাযেলকৃত ঐশী সংবাদকেও বুঝায়, কারণ উহার মধ্যে জীবন-সঞ্চারী শক্তি রহিয়াছে।

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ﴿۴﴾

৪
তিনি আকাশসমূহ এবং পৃথিবীকে যথাযথভাবে১৫৩০ সৃষ্টি করিয়াছেন। তাহারা (তাঁহার সঙ্গে) যাহা শরীক করে তাহা হইতে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।
১৫৩০। ‘বিলহাক্কে’ অর্থ বুদ্ধিমত্তার চাহিদা মোতাবেক। এই কথার অর্থ এইরূপ হইতে পারে যে, আকাশসমূহ ও পৃথিবীর জন্য মানবের আধ্যাত্মিক পূনর্জন্মের কাজে আপন আপন দায়িত্ব নির্ধারিত রহিয়াছে, যাহাতে উহাদের সমন্বয়ে ঈপ্সিত উদ্দেশ্য সফল হয়। অথবা ইহার এই মর্মও হইতে পারে যে, আল্লাহ্‌তা’লা এই আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন যেন ইহা মানবের মনোযোগ আল্লাহ্‌তা’লার দিকে আকর্ষণ করার কার্য সম্পাদন করে এবং মানুষ যেন উপলব্ধি করিতে পারে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন কিছুই স্বয়ং সম্পূর্ণ নহে। আকাশসমূহের কার্য সম্পাদনের জন্য ভূপৃষ্ঠের বিদ্যমানতার প্রয়োজন রহিয়াছে এবং একইভাবে পৃথিবীও আকাশের উপর নির্ভরশীল এবং উভয়ই আল্লাহ্‌তা’লার ইচ্ছা বা হুকুমের অধীন। সুতরাং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির উদ্দেশ্য হইল মানবের নিকট এই বাস্তব সত্যকে স্পষ্টরূপে প্রদর্শন করা যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন কিছুই স্বয়ং সম্পূর্ণ নহে।

خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ فَاِذَا ہُوَ خَصِیۡمٌ مُّبِیۡنٌ ﴿۵﴾

৫
তিনি মানুষকে এক নগণ্য শুক্র-বীর্য হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন, তথাপি দেখ! সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী হইয়া দাঁড়ায়।১৫৩১
১৫৩১। এক অটল প্রাকৃতিক বিধানের অধীন আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পর আল্লাহ্‌তা’লা মানব সৃষ্টি করেন এবং তাহার ইহজীবনে চলার পথ প্রদর্শনের জন্য ঐশী-বাণী প্রেরণ করেন। কিন্তু যদিও বাহ্যতঃ নিকৃষ্ট বস্তু হইতে মানুষের জন্ম, তথাপি আল্লাহ্‌তা’লা তাহাকে সর্বোত্তম গুণাবলীতে ভূষিত করিয়াছেন; এতদ্‌সত্বেও সে (মানুষ) আল্লাহ্‌তা’লার অনুগ্রহপূর্ণ নির্দেশের অনুগত না হইয়া তাঁহার বিশেষ ক্ষমতা এবং অধিকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করিয়া বসে।

وَالۡاَنۡعَامَ خَلَقَہَا ۚ لَکُمۡ فِیۡہَا دِفۡءٌ وَّمَنَافِعُ وَمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ﴿۪۶﴾

৬
আর চতুষ্পদ জন্তু— উহাদিগকেও তিনিই সৃষ্টি করিয়াছেন; যাহাদের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তাপের উপকরণ এবং নানাবিধ উপকার নিহিত আছে এবং উহাদের মধ্যে হইতে কতককে তোমরা ভক্ষণ করিয়া থাক।

وَلَکُمۡ فِیۡہَا جَمَالٌ حِیۡنَ تُرِیۡحُوۡنَ وَحِیۡنَ تَسۡرَحُوۡنَ ﴿۪۷﴾

৭
এবং উহাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রহিয়াছে সৌন্দর্য, যখন তোমরা উহাদিগকে চারণভূমি হইতে গোধূলী লগ্নে (গৃহে) লইয়া আস এবং যখন তোমরা উহাদিগকে প্রভাতে চারণভূমিতে লইয়া যাও তখনও।

وَتَحۡمِلُ اَثۡقَالَکُمۡ اِلٰی بَلَدٍ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا بٰلِغِیۡہِ اِلَّا بِشِقِّ الۡاَنۡفُسِ ؕ اِنَّ رَبَّکُمۡ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ۙ﴿۸﴾

৮
এবং তাহারা তোমাদের বোঝা বহন করিয়া দূরবর্তী শহরে-বন্দরে লইয়া যায়, যেখানে তোমরা নিজদিগকে কঠিন ক্লেশে না ফেলিয়া পৌঁছিতে পার না। নিশ্চয় তোমাদের প্রভু অতীব মমতাশীল, পরম দয়াময়।

وَّالۡخَیۡلَ وَالۡبِغَالَ وَالۡحَمِیۡرَ لِتَرۡکَبُوۡہَا وَزِیۡنَۃً ؕ وَیَخۡلُقُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۹﴾

৯
এবং (তিনি সৃষ্টি করিয়াছেন) ঘোড়া এবং খচ্চর এবং গাধা, যেন তোমরা এইগুলিতে আরোহণ করিতে পার, এবং শোভা-সৌন্দর্যের উপকরণরূপে১৫৩২ (ব্যবহার করিতে পার)। এবং তিনি আরও এমন কিছু সৃষ্টি করিবেন যাহা তোমরা (এখন) জান না।১৫৩২-ক
১৫৩২। যখন আল্লাহ্‌তা’লা মানবের দৈহিক এবং পার্থিব প্রয়োজনের উপকরণ সরবরাহ করার জন্য এত যত্নবান, তখন এক মুহূর্তের জন্যও এই কথা চিন্তা করা যায় না যে, তিনি মানুষের আত্মার প্রয়োজনে অনুরূপ উপায় উপকরণ সরবরাহ না করিয়া থাকিতে পারেন বা উপেক্ষা করিতে পারেন।
১৫৩২-ক। আয়াতের এই অংশটুকু ইংগিত করিতেছে যে, আল্লাহ্‌তা’লা মানবের জন্য নূতন যানবাহনের অস্তিত্বের প্রকাশ করিবেন, যাহা তখন পর্যন্ত মানবের অজানা ছিল। এই ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা আশ্চর্যরূপে প্রতিফলিত হইয়াছে রেলগাড়ী, জলযান, মটর গাড়ী, উড়োজাহাজ ইত্যাদি আবিষ্কারের মধ্য দিয়া। আল্লাহ্‌তা’লাই কেবল জানেন আরো নতুন কি কি যানবাহন ভবিষ্যতে মানুষের সুবিধার জন্য উদ্ভাবিত হইবে, যাহা এখনো অনাবিষ্কৃত রহিয়াছে।

وَعَلَی اللّٰہِ قَصۡدُ السَّبِیۡلِ وَمِنۡہَا جَآئِرٌ ؕ وَلَوۡ شَآءَ لَہَدٰٮکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ﴿٪۱۰﴾

১০
এবং সোজা পথ ধরাইয়া দেওয়াও আল্লাহ্‌র দায়িত্বে রহিয়াছে, এবং উহাদের মধ্যে কতকগুলি বাঁকা পথও আছে৷ কিন্তু যদি তিনি (বাধ্যবাধকতা আরোপ করিতে) চাহিতেন তাহা হইলে তিনি তোমাদের সকলকে অবশ্যই হেদায়াত দান করিতেন।
সূরা আন্‌ নাহ্‌ল - রুকু ১