পারা ১৩

وَمَاۤ اُبَرِّیٴُ نَفۡسِیۡ ۚ اِنَّ النَّفۡسَ لَاَمَّارَۃٌۢ بِالسُّوۡٓءِ اِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّیۡ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۵۴﴾

৫৪
এবং আমি আমার সত্তাকে ত্রুটিমুক্ত মনে করি না— নিশ্চয় আত্মা মন্দ কাজের আদেশ প্রদানে অত্যন্ত তৎপর- কেবল ঐ ব্যক্তি ব্যতিরেকে যাহার উপর আমার প্রভু রহম১৩৮৯ করেন। নিশ্চয় আমার প্রভু অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।’ 
সূরা ইউসুফ
১৩৮৯। এই খণ্ড বাক্য ‘ইল্লা মা রাহিমা রাব্বী’ (ঐ ব্যক্তি ব্যতিরেকে যাহার প্রতি আমার প্রভু দয়া করেন) তিন প্রকার ব্যাখ্যা সাপেক্ষঃ (ক) সেই নফস যাহার উপর আল্লাহ্‌তা’লার দয়া আছে, ‘মা’ শব্দাংশ এখানে ‘নাফস’ অর্থে ব্যবহৃত; (খ) সে ব্যতীত যাহার উপর আমার প্রভু দয়া করেন, এখানে ‘মা’ মানুষ বা লোক অর্থে ব্যবহৃত; (গ) হাঁ, কিন্তু আল্লাহ্‌তা’লারই করুণা যাহাকে পসন্দ করেন তাহাকে রক্ষা করিয়া থাকেন। এই তিনটি অর্থ মানবের আধ্যাত্মিক উন্নতির তিন প্রকারের অবস্থার প্রতি নির্দেশ করে। প্রথমোক্ত অর্থ সেই অবস্থার প্রতি নির্দেশ করে যখন মানুষ আধ্যাত্মিকতার পূর্ণতা অর্জন করে যে অবস্থাকে ‘নফসে মুতমা’ইন্নাহ’ বা শান্তি-প্রাপ্ত আত্মা বলা হয় (৮৯ ঃ২৮)। দ্বিতীয় অর্থ সেই লোকের জন্য প্রযোজ্য যে এখনো ‘নফসে লাও ওয়ামাহ’ বা পুনঃ পুনঃ ভর্ৎসনাকারী আত্মার অবস্থায় রহিয়াছে (৭৫ঃ৩), অর্থাৎ যখন মানুষ তাহার পাপাচারের এবং স্বাভাবিক কুপ্রবৃত্তিগুলির বিরুদ্ধে জেহাদ বা লড়াই করিতে থাকে, কখনো এই কুপ্রবৃত্তিগুলিকে দমন করিতে পারে, আবার কখনো ইহাদের দ্বারা পরাস্ত হইয়া যায়। তৃতীয় অর্থ সেই লোকের জন্য প্রয়োগ করা হইয়া থাকে যাহার মধ্যে কুবৃত্তি বা পশুত্ব প্রবল থাকে বা প্রাধান্য বিস্তার করিয়া চলে। এই অবস্থাকে ‘নফসে আম্‌মারাহ’ বা বেশী বেশী মন্দ কার্যে আদেশ দানকারী আত্মা বলা হয়।

وَقَالَ الۡمَلِکُ ائۡتُوۡنِیۡ بِہٖۤ اَسۡتَخۡلِصۡہُ لِنَفۡسِیۡ ۚ فَلَمَّا کَلَّمَہٗ قَالَ اِنَّکَ الۡیَوۡمَ لَدَیۡنَا مَکِیۡنٌ اَمِیۡنٌ ﴿۵۵﴾

৫৫
এবং বাদশাহ্ বলিল, ‘তোমরা তাহাকে আমার নিকট আন, আমি তাহাকে নিজের জন্য মনোনীত করিব। অতঃপর, যখন সে তাহার সহিত আলাপ করিল, সে বলিল, নিশ্চয় অদ্য হইতে তুমি আমাদের নিকট মর্যাদাবান, বিশ্বস্ত।’ 
সূরা ইউসুফ

قَالَ اجۡعَلۡنِیۡ عَلٰی خَزَآئِنِ الۡاَرۡضِ ۚ اِنِّیۡ حَفِیۡظٌ عَلِیۡمٌ ﴿۵۶﴾

৫৬
সে বলিল, ‘আপনি আমাকে দেশের ধন-সম্পদের উপর (কর্মকর্তা) নিযুক্ত করুন, (কারণ) নিশ্চয় আমি যোগ্য১৩৯০ রক্ষক এবং (খরচ পত্র নিয়ন্ত্রণে) বিশেষ পারদর্শী।’ 
সূরা ইউসুফ
১৩৯০। ইউসুফ (আঃ) খাজাঞ্চিখানা বা অর্থ দপ্তরের কাজ পসন্দ করিলেন। তাঁহার উক্ত পসন্দ সম্ভবতঃ এই উদ্দেশ্যে ছিল যাহাতে তিনি এই দপ্তর পরিচালনায় একাগ্রতার সাথে মনোনিবেশ করিতে পারেন যাহার সাথে বাদশাহর স্বপ্ন সত্যে বাস্তবায়িত হওয়া গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিল।

وَکَذٰلِکَ مَکَّنَّا لِیُوۡسُفَ فِی الۡاَرۡضِ ۚ یَتَبَوَّاُ مِنۡہَا حَیۡثُ یَشَآءُ ؕ نُصِیۡبُ بِرَحۡمَتِنَا مَنۡ نَّشَآءُ وَلَا نُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ﴿۵۷﴾

৫৭
এবং এইভাবে আমরা ইউসুফকে সেই দেশে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করিলাম। সে তথায় যথেচ্ছা অবস্থান করিত। আমরা যাহাকে ইচ্ছা আমাদের রহমত হইতে অংশ দান করি এবং আমরা পুণ্যবানগণের পুরস্কার বিনষ্ট হইতে দিই না। 
সূরা ইউসুফ

وَلَاَجۡرُ الۡاٰخِرَۃِ خَیۡرٌ لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَکَانُوۡا یَتَّقُوۡنَ ﴿٪۵۸﴾

৫৮
এবং পরকালের পুরস্কারই উত্তম তাহাদের জন্য যাহারা ঈমান আনে এবং তাক্‌ওয়া অবলম্বন করে। 
সূরা ইউসুফ - রুকু ৭

وَجَآءَ اِخۡوَۃُ یُوۡسُفَ فَدَخَلُوۡا عَلَیۡہِ فَعَرَفَہُمۡ وَہُمۡ لَہٗ مُنۡکِرُوۡنَ ﴿۵۹﴾

৫৯
এবং (যখন) ইউসুফের ভ্রাতৃবৃন্দ আসিল এবং তাহার নিকট উপস্থিত হইল, তখন সে তাহাদিগকে চিনিতে পারিল; কিন্তু তাহারা তাহাকে চিনিতে পারিল না। 
সূরা ইউসুফ

وَلَمَّا جَہَّزَہُمۡ بِجَہَازِہِمۡ قَالَ ائۡتُوۡنِیۡ بِاَخٍ لَّکُمۡ مِّنۡ اَبِیۡکُمۡ ۚ اَلَا تَرَوۡنَ اَنِّیۡۤ اُوۡفِی الۡکَیۡلَ وَاَنَا خَیۡرُ الۡمُنۡزِلِیۡنَ ﴿۶۰﴾

৬০
এবং যখন সে তাহাদিগকে দ্রব্য-সম্ভার দিয়া (সফরে রওয়ানা হইবার জন্য) প্রস্তুত করিয়া দিল তখন সে বলিল, ‘তোমাদের পিতার১৩৯০-ক সূত্রে তোমাদের যে ভাই আছে তাহাকেও আনিও। তোমরা কি দেখিতেছ না যে, আমি তোমাদিগকে মাপ পুরা দিই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ? 
সূরা ইউসুফ
১৩৯০-ক। হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর বারজন পুত্র ছিল, যোসেফ ও বেনজামিন এই দুই পুত্র তাঁহার স্ত্রী রাহেলের গর্ভজাত, এবং বাকী দশ জন পুত্র অন্য স্ত্রীদের সন্তান ছিল।

فَاِنۡ لَّمۡ تَاۡتُوۡنِیۡ بِہٖ فَلَا کَیۡلَ لَکُمۡ عِنۡدِیۡ وَلَا تَقۡرَبُوۡنِ ﴿۶۱﴾

৬১
যদি তোমরা তাহাকে আমার নিকট না আন তাহা হইলে তোমাদের জন্য (শস্যাদির) কোন মাপ (বরাদ্দ) হইবে না এবং তোমরা আমার নিকট আসিতে পারিবে না।’ 
সূরা ইউসুফ

قَالُوۡا سَنُرَاوِدُ عَنۡہُ اَبَاہُ وَاِنَّا لَفٰعِلُوۡنَ ﴿۶۲﴾

৬২
তাহারা বলিল, ‘আমরা নিশ্চয় তাহার পিতাকে তাহার সম্বন্ধে প্রলুব্ধ করিতে চেষ্টা করিব এবং আমরা নিশ্চয় ইহা করিবই।’ 
সূরা ইউসুফ

وَقَالَ لِفِتۡیٰنِہِ اجۡعَلُوۡا بِضَاعَتَہُمۡ فِیۡ رِحَالِہِمۡ لَعَلَّہُمۡ یَعۡرِفُوۡنَہَاۤ اِذَا انۡقَلَبُوۡۤا اِلٰۤی اَہۡلِہِمۡ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ﴿۶۳﴾

৬৩
এবং সে তাহার কার্যরত যুবকদিগকে বলিল, ‘তোমরা তাহাদের পুঁজি তাহাদের গাঁটরি-বোঁচকার মধ্যে রাখিয়া দাও যেন তাহারা ইহা তখন চিনিয়া লয় যখন তাহারা তাহাদের পরিজনদের মধ্যে ফিরিয়া যাইবে, (এবং) যেন তাহারা পুনরায় আসে।’ 
সূরা ইউসুফ