১৪

إبراهيم

সূরা ইব্‌রাহীম

Ibrahim

মক্কী ৫৩ আয়াত ৭ রুকু পারা ১৩

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫৩ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।

وَّمَا ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ بِعَزِیۡزٍ ﴿۲۱﴾

২১
এবং ইহা আল্লাহ্‌র জন্য (আদৌ) কঠিন নহে।

وَبَرَزُوۡا لِلّٰہِ جَمِیۡعًا فَقَالَ الضُّعَفٰٓؤُا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡۤا اِنَّا کُنَّا لَکُمۡ تَبَعًا فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّغۡنُوۡنَ عَنَّا مِنۡ عَذَابِ اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ قَالُوۡا لَوۡ ہَدٰٮنَا اللّٰہُ لَہَدَیۡنٰکُمۡ ؕ سَوَآءٌ عَلَیۡنَاۤ اَجَزِعۡنَاۤ اَمۡ صَبَرۡنَا مَا لَنَا مِنۡ مَّحِیۡصٍ ﴿٪۲۲﴾

২২
তাহারা সকলেই আল্লাহ্‌র১৪৬৩ সম্মুখে উপস্থিত হইবে; তখন দুর্বল লোকেরা ঐ সকল লোকদিগকে বলিবে যাহারা অহংকার করিয়াছিল, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের অনুসরণকারী ছিলাম, অতএব তোমরা কি (এখন) আমাদের উপর হইতে আল্লাহ্‌র আযাবের কিয়দংশ দূর করিতে পার। তাহারা বলিবে, ‘যদি আল্লাহ্ আমাদিগকে হেদায়াত দিতেন তাহা হইলে আমরাও তোমাদেরকে হেদায়াত দিতাম। আমাদের অধৈর্য হওয়া অথবা আমাদের ধৈর্য ধারণ করা উভয়ই আমাদের জন্য সমান, আমাদের১৪৬৪পরিত্রাণের কোন পথ নাই।’
সূরা ইব্‌রাহীম - রুকু ৩
১৪৬৩। কোন জাতির প্রকৃত অপকর্মগুলি, যেগুলি তাহাদের অধঃপতনের কারণ হয় তত অধিক মারাত্মক নয় যতটা তাহাদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ফাঁশ হইয়া গেলে হয়। তাহাদের দুর্বলতা লোক সমক্ষে প্রকাশ হওয়ার ফলে, তাহাদের নিকট নিজেদের কার্য সম্পাদনেরও উর্ধ্বে তাহাদের মর্যাদা ও খ্যাতি, যাহা তাহাদের সফলতার প্রধান অবলম্বন, মরণাঘাতগ্রস্ত হয়। ইহাতে তাহারা প্রতিপক্ষের নিকট হেয় প্রতিপন্ন হয় এবং তাহাদের পতন আর অবক্ষয় পশ্চাতে চলিতে থাকে। ইহাই হইল “তাহারা সকলেই আল্লাহ্‌র সম্মুখে উপস্থিত হইবে” বাক্যের মর্ম।
১৪৬৪। ধ্বংস যে জাতির নিয়তি তাহারা হতাশার মধ্যে গা ঢালিয়া দেয় এবং সহজেই নিজের নিকৃষ্ট অবস্থার নিকট আত্মসমর্পণ করিয়া বসে।

وَقَالَ الشَّیۡطٰنُ لَمَّا قُضِیَ الۡاَمۡرُ اِنَّ اللّٰہَ وَعَدَکُمۡ وَعۡدَ الۡحَقِّ وَوَعَدۡتُّکُمۡ فَاَخۡلَفۡتُکُمۡ ؕ وَمَا کَانَ لِیَ عَلَیۡکُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍ اِلَّاۤ اَنۡ دَعَوۡتُکُمۡ فَاسۡتَجَبۡتُمۡ لِیۡ ۚ فَلَا تَلُوۡمُوۡنِیۡ وَلُوۡمُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ مَاۤ اَنَا بِمُصۡرِخِکُمۡ وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُصۡرِخِیَّ ؕ اِنِّیۡ کَفَرۡتُ بِمَاۤ اَشۡرَکۡتُمُوۡنِ مِنۡ قَبۡلُ ؕ اِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۲۳﴾

২৩
এবং যখন সব বিষয়ের মীমাংসা করিয়া দেওয়া হইবে তখন শয়তান বলিবে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তোমাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন—সত্য প্রতিশ্রুতি এবং আমিও তোমাদিগকে এক প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলাম, কিন্তু আমি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিয়াছিলাম। বস্তুতঃ তোমাদের উপর আমার কোন আধিপত্য ছিল না, আমি তোমাদিগকে কেবল (আমার দিকে) ডাক দিয়াছিলাম এবং তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়াছিলে। সুতরাং তোমরা আমাকে তিরস্কার করিও না, বরং নিজদিগকেই তিরষ্কার কর। আমি তোমাদের ফরিয়াদ শুনিতে পারিব না এবং তোমরাও আমার ফরিয়াদ শুনিতে পারিবে না। তোমরা যে আমাকে (আল্লাহ্‌র সহিত) শরীক করিয়াছিলে, আমি পূর্বেই তাহা অস্বীকার করিয়াছি। যালেমদের জন্য নিশ্চয় যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।’

وَاُدۡخِلَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ ؕ تَحِیَّتُہُمۡ فِیۡہَا سَلٰمٌ ﴿۲۴﴾

২৪
এবং যাহারা ঈমান আনে এবং সৎ কর্ম করে তাহাদিগকে তাহাদের প্রভুর আদেশ অনুযায়ী এমন বাগান সমূহে দাখিল করানো হইবে, যাহার তলদেশ দিয়া নহরসমূহ প্রবাহিত হইবে, তাহারা উহাতে সদা বাস করিবে, সেখানে তাহাদের (পরস্পরের) সম্ভাষণ হইবে ‘সালাম’ (শান্তি)।

اَلَمۡ تَرَ کَیۡفَ ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا کَلِمَۃً طَیِّبَۃً کَشَجَرَۃٍ طَیِّبَۃٍ اَصۡلُہَا ثَابِتٌ وَّفَرۡعُہَا فِی السَّمَآءِ ﴿ۙ۲۵﴾

২৫
তুমি কি লক্ষ্য কর নাই যে, আল্লাহ্‌ কিভাবে একটি পবিত্র বাক্যকে একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায় বলিয়া উপমাস্বরূপ বর্ণনা করিয়াছেন, যাহার শিকড় দৃঢ়ভাবে প্রোথিত এবং উহার শাখা প্রশাখাসমূহ আকাশে১৪৬৫ (বিস্তৃত) রহিয়াছে?
১৪৬৫। এই আয়াতে আল্লাহ্‌তা’লার পবিত্র কালাম ‘কুরআন’-এর সাদৃশ্য এমন বৃক্ষের সহিত বর্ণনা করা হইয়াছে যাহার মধ্যে চারিটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অত্যাবশ্যকীয় গুণাবলী রহিয়াছেঃ (ক) ইহা উত্তম অর্থাৎ ইহা এমন সব শিক্ষা হইতে দোষমুক্ত যাহা মানবীয় বিবেক-বুদ্ধির বিরুদ্ধে পীড়াদায়ক, বা অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার বিপরীত নহে; (খ) যাহা উৎকৃষ্ট, দৃঢ় ও শক্ত ফলবতী বৃক্ষের ন্যায়। ইহা মজবুত ও স্থায়ী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং ইহার উৎস হইতে উপজীবিকা বা শক্তি রক্ষার উপায় আহরণ করিয়া নূতন ও সবল জীবন ধারণ করে এবং মজবুত বৃক্ষের ন্যায় বিরুদ্ধবাদীদের বিরূপ সমালোচনার সশব্দ বিস্ফোরণের ঝাপটায় মাথা নত করে না এবং সকল বিরোধিতার ঝড়ের মুখে মাথা উঁচু করিয়া দণ্ডায়মান থাকে। ইহার জীবন ও জীবিকা একই উৎস হইতে প্রবাহিত বলিয়া ইহার মূলনীতি এবং শিক্ষার মধ্যে কোন বিরোধ বা গরমিল নাই; (গ) ইহার শাখা প্রশাখাসমূহ বেহেশ্‌ত পর্যন্ত পৌঁছায়। ইহার আজ্ঞানুবর্তীতায় অর্থাৎ আমল করিয়া মানুষ আধ্যাত্মিক মর্যাদার উচ্চতম সোপানে আরোহণ করিতে পারে; (ঘ) ইহা স্বীয় প্রভুর অনুমতিক্রমে সকল ঋতুতে সদা ফল দিতেছে অর্থাৎ কুরআন প্রচুর পরিমাণে সুফল প্রদান করে, ইহার আশিসসমূহের নিদর্শন সকল সময়েই পরিলক্ষিত হইয়া থাকে, সর্বযুগের মানুষ ইহার শিক্ষার উপর আমল করিয়া আল্লাহ্‌তা’লার সহিত মিলনের সৌভাগ্য লাভ করিতেছে এবং তাহাদের চারিত্রিক সৌন্দর্য ও সততা সমসাময়িক লোকদের উপরে উচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হইয়াছে। কুরআন মজীদ উপরোল্লিখিত সকল গুণাবলী পরিপূর্ণভাবে বহন করে।

تُؤۡتِیۡۤ اُکُلَہَا کُلَّ حِیۡنٍۭ بِاِذۡنِ رَبِّہَا ؕ وَیَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡاَمۡثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ ﴿۲۶﴾

২৬
উহা স্বীয় প্রভুর আদেশক্রমে সদা ফল দিতেছে। এবং আল্লাহ্ মানুষের জন্য উপমাসমূহ বর্ণনা করিতেছেন যেন তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে।

وَمَثَلُ کَلِمَۃٍ خَبِیۡثَۃٍ کَشَجَرَۃٍ خَبِیۡثَۃِ ۣاجۡتُثَّتۡ مِنۡ فَوۡقِ الۡاَرۡضِ مَا لَہَا مِنۡ قَرَارٍ ﴿۲۷﴾

২৭
এবং মন্দ বাক্যের১৪৬৬ উপমা মন্দ বৃক্ষের ন্যায়, যাহাকে ভুমির উপর হইতে উৎপাটিত করিয়া দেওয়া হইয়াছে; যাহার কোন স্থায়িত্ব নাই।
১৪৬৬। সুবৃক্ষের বিসদৃশরূপে মিথ্যারচনাকারী কর্তৃক জালকৃত গ্রন্থ কুবৃক্ষের (শাজারায়ে খবীসা) ন্যায়। ইহার দৃঢ়তা, স্থিরতা বা স্থায়িত্ব নাই। ইহার শিক্ষাকে যুক্তি এবং প্রকৃতির নিয়ম বা বিধান সমর্থন করে না। ইহা সমালোচনার মোকাবেলা করিতে পারে না এবং ইহার নীতি ও আদর্শ মানুষের পরিস্থিতির ও অবস্থার সাথে পরিবর্তিত হইতে থাকে। ইহার শিক্ষাসমূহ সন্দেহপূর্ণ উৎস হইতে গৃহীত জগাখিচুড়ী বিশেষ। ইহা এমন মানুষ তৈয়ারী করিতে ব্যর্থ হইয়াছে, যাহারা দাবী করিতে পারে যে, তাহারা আল্লাহ্‌তা’লার সঙ্গে সত্য এবং প্রকৃত সম্পর্ক স্থাপন করিয়াছে। ইহা ঐশী উৎস হইতে নবজীবন লাভ করিতে পারে না এবং অবক্ষয় ও অধঃপতনের বস্তুতে পরিণতি লাভ করে।

یُثَبِّتُ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِالۡقَوۡلِ الثَّابِتِ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَفِی الۡاٰخِرَۃِ ۚ وَیُضِلُّ اللّٰہُ الظّٰلِمِیۡنَ ۟ۙ وَیَفۡعَلُ اللّٰہُ مَا یَشَآءُ ﴿٪۲۸﴾

২৮
যাহারা ঈমান আনিয়াছে, আল্লাহ্‌ এই স্থায়ী বাক্য দ্বারা তাহাদিগকে ইহজগতে স্থায়িত্ব দান করেন এবং পরজগতেও; এবং আল্লাহ্ যালেমদিগকে পথ ভ্রষ্ট হইতে দেন। এবং আল্লাহ্‌ যাহা চাহেন তাহাই করেন।
সূরা ইব্‌রাহীম - রুকু ৪

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ بَدَّلُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ کُفۡرًا وَّاَحَلُّوۡا قَوۡمَہُمۡ دَارَ الۡبَوَارِ ﴿ۙ۲۹﴾

২৯
তুমি কি ঐ সকল লোকের অবস্থা লক্ষ্য কর নাই, যাহারা অকৃতজ্ঞতা প্রদর্শনপূর্বক আল্লাহ্‌র নেয়ামতকে পরিবর্তন করিয়া লইয়াছে। এবং তাহারা তাহাদের জাতিকে ধ্বংসের গহ্বরে নিপতিত করিয়াছে-

جَہَنَّمَ ۚ یَصۡلَوۡنَہَا ؕ وَبِئۡسَ الۡقَرَارُ ﴿۳۰﴾

৩০
জাহান্নামে, সেখানে তাহারা জ্বলিতে থাকিবে এবং উহা কতই না নিকৃষ্ট বাসস্থান!