১৩

الرعد

সূরা আর্‌-রা’দ

Ar-Ra`d

মক্কী ৪৪ আয়াত ৬ রুকু পারা ১৩

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৪৪ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

الَّذِیۡنَ یُوۡفُوۡنَ بِعَہۡدِ اللّٰہِ وَلَا یَنۡقُضُوۡنَ الۡمِیۡثَاقَ ﴿ۙ۲۱﴾

২১
যাহারা আল্লাহ্‌র অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং চুক্তি ভঙ্গ করে না;

وَالَّذِیۡنَ یَصِلُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰہُ بِہٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ وَیَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ وَیَخَافُوۡنَ سُوۡٓءَ الۡحِسَابِ ﴿ؕ۲۲﴾

২২
এবং আল্লাহ্ যে সম্পর্ককে সংযুক্ত রাখিতে আদেশ করিয়াছেন তাহা যাহারা সংযুক্ত রাখে এবং যাহারা তাহাদের প্রভুকে১৪৩৪ ভয় করে এবং মন্দ হিসাবের ভয় করে;
১৪৩৪। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌তা’লার প্রতি বিশ্বস্ততার সহিত দায়িত্ব পালন করার পর মো’মেন (বিশ্বাসীগণ) কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাঁহার সৃষ্ট জীবের প্রতি কর্তব্য সমাপন করিয়া থাকে। এই দুইটি কর্তব্য সম্পাদনের উপরই ধর্মের সম্পূর্ণ কাঠামো স্থাপিত।

وَالَّذِیۡنَ صَبَرُوا ابۡتِغَآءَ وَجۡہِ رَبِّہِمۡ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَاَنۡفَقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً وَّیَدۡرَءُوۡنَ بِالۡحَسَنَۃِ السَّیِّئَۃَ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عُقۡبَی الدَّارِ ﴿ۙ۲۳﴾

২৩
এবং যাহারা তাহাদের প্রভুর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করে এবং যথাযথভাবে নামায কায়েম করে এবং আমরা তাহাদিগকে যাহা কিছু রিয্‌ক দিয়াছি উহা হইতে গোপনে এবং প্রকাশ্যে খরচ করে এবং পুণ্য১৪৩৫ দ্বারা পাপকে প্রতিহত করে। ইহাদের জন্যই (শেষ) আবাসস্থলের (উত্তম) পরিণাম অবধারিত আছে—
১৪৩৫। মন্দের বা অনাচারের মূলোৎপাটনের জন্য মো’মেন বান্দাগণ যথোপযুক্ত পন্থা অবলম্বন করিয়া থাকে। তাহারা শাস্তি বা ক্ষমা উভয় পন্থা প্রয়োজনানুযায়ী অবলম্বন করিয়া থাকে। শাস্তি দ্বারা যদি প্রয়োজনমত সংশোধনের কাজ হয় এবং ক্ষমা প্রদর্শনে যদি ঈপ্সিত সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে সেই পন্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা প্রয়োগ করিয়া থাকে। সংক্ষেপে বলা যায় যে, বিশ্বাসীগণ অবস্থাভেদে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা প্রয়োগ করিয়া মন্দকে সমূলে বিনষ্ট করিয়া থাকে।

جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَہَا وَمَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَاَزۡوَاجِہِمۡ وَذُرِّیّٰتِہِمۡ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ یَدۡخُلُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ کُلِّ بَابٍ ﴿ۚ۲۴﴾

২৪
চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহ, যাহাতে তাহারা নিজেরাও প্রবেশ করিবে এবং তাহাদের পূর্বপুরুষ, পত্নী এবং বংশধরগণের১৪৩৬ মধ্য হইতে যাহারা সৎকর্মপরায়ণ হইবে তাহারাও। এবং ফিরিশ্‌তাগণ প্রত্যেক দ্বার১৪৩৭ দিয়া তাহাদের নিকট আগমন করিবে (এই বলিয়া),
১৪৩৬। এই আয়াত এক মহান নীতির কথা প্রকাশ করিতেছে। যে কোন সৎকর্ম কোন ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্পাদিত হইয়া থাকে। সুতরাং সেই নেক কাজের পুরস্কারের মধ্যেও সহায়তাকারী সকলকে আনুপাতিক হারে অংশীদার করা হয়।
১৪৩৭। বিশ্বাসীগণের নানা ধরণের সৎকর্মসমূহ পারলৌকিক জীবনে তাহাদের নিকট বিভিন্ন জান্নাতী দরজার মত পরিদৃষ্ট হইবে যাহার মধ্য দিয়া ফিরিশ্‌তাগণ আসিয়া তাহাদিগকে অভিবাদন বা সালাম পৌঁছাইবেন।

سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ بِمَا صَبَرۡتُمۡ فَنِعۡمَ عُقۡبَی الدَّارِ ﴿ؕ۲۵﴾

২৫
তোমাদের উপর সালাম, কেননা তোমরা ধৈর্য ধারণ করিয়াছ, অতএব দেখ! (তোমাদের জন্য শেষ) আবাসস্থলের কত উত্তম পরিণতি!

وَالَّذِیۡنَ یَنۡقُضُوۡنَ عَہۡدَ اللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ مِیۡثَاقِہٖ وَیَقۡطَعُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰہُ بِہٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ وَیُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۙ اُولٰٓئِکَ لَہُمُ اللَّعۡنَۃُ وَلَہُمۡ سُوۡٓءُ الدَّارِ ﴿۲۶﴾

২৬
এবং যাহারা আল্লাহ্‌র (সঙ্গে কৃত) প্রতিজ্ঞাকে উহা সুদৃঢ় করিবার পর ভঙ্গ করে এবং যে সম্বন্ধকে সংযুক্ত রাখিবার জন্য আল্লাহ্ আদেশ দিয়াছেন উহাকে ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে (আল্লাহ্‌র) অভিসম্পাত এবং তাহাদের জন্য এক নিকৃষ্ট বাসস্থান রহিয়াছে।

اَللّٰہُ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ ؕ وَفَرِحُوۡا بِالۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ وَمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا فِی الۡاٰخِرَۃِ اِلَّا مَتَاعٌ ﴿٪۲۷﴾

২৭
আল্লাহ্ যাহার জন্য চাহেন রিয্‌ক সমৃদ্ধ করেন এবং (যাহার জন্য চাহেন) সংকীর্ণ করেন। এবং তাহারা পার্থিব জীবনের উপরই উৎফুল্ল হয়, অথচ পার্থিব জীবন পরকালের মোকাবেলায়১৪৩৮ (সাময়িক) ভোগসামগ্রী ব্যতীত আর কিছুই নহে।
সূরা আর্‌-রা’দ - রুকু ৩
১৪৩৮। এখানে ‘ফী’ আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী তুলনামূলক অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে।

وَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ اٰیَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ قُلۡ اِنَّ اللّٰہَ یُضِلُّ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡۤ اِلَیۡہِ مَنۡ اَنَابَ ﴿ۖۚ۲۸﴾

২৮
এবং যাহারা অস্বীকার করিয়াছে তাহারা বলে, ‘তাহার প্রভুর তরফ হইতে তাহার উপর কোন নিদর্শন নাযেল হয় নাই কেন?’ তুমি বল, ‘আল্লাহ্ যাহাকে চাহেন পথভ্রষ্ট১৪৩৯ হইতে দেন এবং যে (তাঁহার প্রতি) পুনঃপুনঃ অবনত হয় তিনি তাহাকে নিজের দিকে পথ প্রদর্শন করেন;
১৪৩৯। আল্লাহ্‌তা’লার এক অপরিবর্তনীয় বিধান হইল যে, যাহারা বা যাহাদের অন্তর আল্লাহ্‌র প্রতি রুজু বা আকৃষ্ট হয় আল্লাহ্ তাহাদিগকেই হেদায়াত দান করেন, এবং যাহারা আল্লাহ্‌র প্রতি বিমুখ অর্থাৎ আল্লাহ্‌তা’লার আহ্বানে সাড়া দেয় না, বরং হেদায়াত গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে তখন তিনি তাহাদিগকে তাহাদের মর্জির উপরে ছাড়িয়া দেন, ফলে তাহারা নিজেরাই বিপথগামী হইয়া যায়।

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَتَطۡمَئِنُّ قُلُوۡبُہُمۡ بِذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ اَلَا بِذِکۡرِ اللّٰہِ تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ ﴿ؕ۲۹﴾

২৯
যাহারা ঈমান আনে এবং যাহাদের হৃদয় আল্লাহ্‌র১৪৪০ স্মরণে প্রশান্তি লাভ করে। স্মরণ রাখিও! আল্লাহ্‌র স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে;
১৪৪০। সৃষ্টিকর্তার সন্ধান করা মানবাত্মার এক চিরন্তন প্রবল ইচ্ছা, এবং ইহা মানবজীবনের আসল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য যখন অর্জিত হয় তখনই মানুষের মনে চরম শান্তি বিরাজ করে। কারণ সে তখন নিজে আল্লাহ্‌তা’লার ক্রোড়ে বা তাঁহার আশ্রয়ে আছে— এই প্রত্যয়ের সাথে জীবন যাপন করিতে থাকে।

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ طُوۡبٰی لَہُمۡ وَحُسۡنُ مَاٰبٍ ﴿۳۰﴾

৩০
যাহারা ঈমান আনে এবং সৎ কর্ম করে— তাহাদের জন্য সুখ-শান্তি এবং প্রত্যাবর্তনের উত্তম স্থান নির্ধারিত আছে।’