১৩

الرعد

সূরা আর্‌-রা’দ

Ar-Ra`d

মক্কী ৪৪ আয়াত ৬ রুকু পারা ১৩

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৪৪ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

سَوَآءٌ مِّنۡکُمۡ مَّنۡ اَسَرَّ الۡقَوۡلَ وَمَنۡ جَہَرَ بِہٖ وَمَنۡ ہُوَ مُسۡتَخۡفٍۭ بِالَّیۡلِ وَسَارِبٌۢ بِالنَّہَارِ ﴿۱۱﴾

১১
তোমাদের মধ্যে যে কেহ কথা গোপন করে এবং যে কেহ উহা প্রকাশ করে (তাঁহার জ্ঞানে) উভয়ে সমান; এইরূপে সেও যে রাত্রি বেলায় আত্মগোপন করে এবং দিনের বেলায়১৪২৬ (প্রকাশ্যে) বিচরণ করে।
১৪২৬। আঁ-হযরত (সাঃ)-এর শত্রুদের প্রকাশ্য বা গুপ্ত ষড়যন্ত্র সফল হইতে পারে না, কারণ আল্লাহ্‌তা’লা, যিনি সর্বদ্রষ্টা এবং তাহাদের সকলকে জানেন, তাঁহার সাহায্যকারী এবং আশ্রয়-দাতা।

لَہٗ مُعَقِّبٰتٌ مِّنۡۢ بَیۡنِ یَدَیۡہِ وَمِنۡ خَلۡفِہٖ یَحۡفَظُوۡنَہٗ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُغَیِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتّٰی یُغَیِّرُوۡا مَا بِاَنۡفُسِہِمۡ ؕ وَاِذَاۤ اَرَادَ اللّٰہُ بِقَوۡمٍ سُوۡٓءًا فَلَا مَرَدَّ لَہٗ ۚ وَمَا لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ وَّالٍ ﴿۱۲﴾

১২
তাহার (এই রসূলের) জন্য তাহার সম্মুখে এবং তাহার পশ্চাতে পর পর আগমনকারীগণের১৪২৭ (ফিরিশ্‌তাগণের) এক জামায়াত আছে, যাহারা আল্লাহ্‌র আদেশানুযায়ী তাহার হিফাযত করে; নিশ্চয় আল্লাহ্‌ কখনও কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না তাহারা নিজেদের অন্তরের অবস্থার পরিবর্তন করে। এবং যখন আল্লাহ্‌ কোন জাতিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন উহা প্রতিরোধ করিবার কেহই নাই; বস্তুতঃ কার্যসিদ্ধির জন্য তিনি ব্যতীত তাহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।
১৪২৭। ‘আল মুয়া’ক্‌কিবাতুন’ অর্থ রাত্রি এবং দিনের ফিরিশ্‌তাগণ, কারণ তাহারা ক্রমানুক্রমে একে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়। এখানে বহুবচনে স্ত্রী লিঙ্গের ব্যবহার হওয়ার কারণ এই যে, একই কাজ তাহারা (ফিরিশ্‌তাগণ) পুনঃপুনঃ করিতেছে। আরবী ভাষার কোন কোন সময় স্ত্রীলিঙ্গ সূচক শব্দ জোরালো ভাব প্রকাশ এবং বার বার সংঘটিত হওয়ার অবস্থা বুঝাইবার জন্য ব্যবহৃত হইয়া থাকে। এই আয়াতে পরপর আগমনকারী ফিরিশ্‌তাগণের এক জামায়াত শব্দগুচ্ছের ব্যবহার অশরীরী ঐশী অস্তিত্বকে ইঙ্গিত করিতেছে; অথবা নবী করীম (সাঃ)-এর ফিদায়ী সাহাবাগণ, যাঁহারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করিয়াও আঁ-হযরত (সাঃ)-এর নিরাপত্তায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখিতেন, তাহাদিগকে বুঝাইতেছে।

ہُوَ الَّذِیۡ یُرِیۡکُمُ الۡبَرۡقَ خَوۡفًا وَّطَمَعًا وَّیُنۡشِیٴُ السَّحَابَ الثِّقَالَ ﴿ۚ۱۳﴾

১৩
তিনিই তোমাদিগকে ভয় এবং আশার১৪২৮ জন্য বিদ্যুৎ (চমক) দেখান এবং জল-পূর্ণ ভারী মেঘমালা উত্থিত করেন।
১৪২৮। আকাশে যখন বিদ্যুৎ চমকায় তখন মানুষের মনে ভয় এবং আশা উভয়েরই সঞ্চার হয়। ভয়ের উদ্রেক হয় কারণ বজ্রাঘাতে মানুষ মারা যায়,এমনকি মাতৃগর্ভের ভ্রুণও নষ্ট হয়, কোন কোন গাছ-পালা প্রতিকুল অবস্থায় পতিত হয়। এই বিদ্যুৎ আবার মানুষের জন্য আশাও নিয়া আসে, কারণ ইহা উর্বরতা দানকারী বৃষ্টির আগমন ঘোষণা করে এবং নানা প্রকার রোগের জীবাণু ধ্বসের সহায়ক এবং এইরূপে মহামারী বিস্তার রোধ করার কাজ করিয়া থাকে।

وَیُسَبِّحُ الرَّعۡدُ بِحَمۡدِہٖ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ مِنۡ خِیۡفَتِہٖ ۚ وَیُرۡسِلُ الصَّوَاعِقَ فَیُصِیۡبُ بِہَا مَنۡ یَّشَآءُ وَہُمۡ یُجَادِلُوۡنَ فِی اللّٰہِ ۚ وَہُوَ شَدِیۡدُ الۡمِحَالِ ﴿ؕ۱۴﴾

১৪
এবং তাঁহার ভয়ে বজ্রধ্বনি এবং ফিরিশ্‌তাগণ তাঁহার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে; এবং তিনিই বজ্রসমূহ প্রেরণ করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা উহা দ্বারা আঘাত করেন, তথাপি তাহারা আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে বিতর্ক করে, অথচ তিনি শাস্তি দানে অতীব কঠোর।

لَہٗ دَعۡوَۃُ الۡحَقِّ ؕ وَالَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ لَا یَسۡتَجِیۡبُوۡنَ لَہُمۡ بِشَیۡءٍ اِلَّا کَبَاسِطِ کَفَّیۡہِ اِلَی الۡمَآءِ لِیَبۡلُغَ فَاہُ وَمَا ہُوَ بِبَالِغِہٖ ؕ وَمَا دُعَآءُ الۡکٰفِرِیۡنَ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ ﴿۱۵﴾

১৫
প্রকৃত দোয়া১৪২৯ শুধু তাঁহারই জন্য এবং তাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া যাহাদিগকে ডাকে, উহারা তাহাদিগের ডাকে কোনই সাড়া দেয় না। বরং (তাহাদের অবস্থা) ঠিক ঐ ব্যক্তির মত যে নিজের দুই হাত পানির দিকে প্রসারিত করে যেন পানি তাহার মুখে পৌঁছে, কিন্তু ইহা কখনও তাহার নিকট পৌঁছে না।১৪৩০ বস্তুতঃ কাফেরদের দোয়া নিষ্ফলই হইয়া থাকে।  
১৪২৯। ‘দাওয়াতুল হাক’ অর্থাৎ প্রকৃত দোয়া যাহার অধিকার কেবল তাঁহারই। ইহার অর্থ এইভাবেও করা যাইতে পারেঃ (১) আল্লাহ্ ছাড়া আর কেহই ইবাদতের যোগ্য নহে; (২) শুধু আল্লাহ্‌তা’লার ইবাদতই মানুষের জন্য উপকারী ও কার্যকর। (৩) একমাত্র আল্লাহ্‌রই আওয়াজ সত্যের সমর্থনে অগ্রসর হইতে থাকে; এবং (৪) কেবল তাঁহার কথাই চিরস্থায়ী।
১৪৩০। জীবনে কৃতকার্য হওয়ার সঠিক পথ হইল প্রত্যেক বস্তুকে উহার উপযুক্তস্থানে স্থাপন করা— যথাঃ স্রষ্টাকে তাঁহার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া এবং সৃষ্টির প্রতি উহাদের স্ব স্ব উপযুক্ত স্থান স্বীকার করিয়া নেওয়া। একমাত্র উহাই হইল সফলতা ও শান্তির চাবিকাঠি।

وَلِلّٰہِ یَسۡجُدُ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ طَوۡعًا وَّکَرۡہًا وَّظِلٰلُہُمۡ بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ ﴿ٛ۱۶﴾

১৬
এবং যাহারা আকাশমণ্ডলে ও পৃথিবীতে আছে, তাহারা এবং তাহাদের ছায়াসমূহ স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায়১৪৩১ প্রভাতে ও সন্ধ্যায় আল্লাহ্‌কে সেজদা করে।
সিজদাহ্‌
১৪৩১। এই আয়াত এক মহান সত্য মূর্ত করিয়া তুলিয়াছে, যথা— সকল সৃষ্টি ইচ্ছায় হউক, অনিচ্ছায় হউক আল্লাহ্‌ প্রদত্ত প্রাকৃতিক বিধান মানিয়া চলিতে বাধ্য, যেমন জিহ্বা অবশ্যই স্বাদ গ্রহণের কাজ করিবে এবং কর্ণ না শুনিয়া থাকিতে পারে না। প্রকৃতির এই আইনের প্রতি আনুগত্য আবশ্যকভাবে বাধ্যতামূলক। কিন্তু মানুষকে আবার বিশেষ স্বাধীনতাও দান করা হইয়াছে, যেখানে সে নিজের ইচ্ছাশক্তি এবং পরিণামদর্শী স্ববিবেক ব্যবহার করিতে পারে। কিন্তু তবুও কার্যতঃ যেখানে মানুষকে স্বাধীনতা দেওয়া হইয়াছে বলিয়া মনে হয়, সেখানেও সে বিশেষ বাধ্যবাধকতার অধীন এবং তাহাকে আবশ্যকীয়ভাবে তাহার সব কাজে আল্লাহ্‌তা’লার বিধান মানিয়া চলিতে হয়, সে ইহা পসন্দ করুক বা না করুক। ‘ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়’ শব্দাবলী দুই প্রকারের মানুষকেও বুঝাইতে পারে, যথা—মো’মেন (বিশ্বাসীগণ) যাহারা স্বেচ্ছায় আল্লাহ্‌তা’লার নিকট আত্মসমর্পণ করিয়া থাকে, আর অবিশ্বাসীরা তাঁহার বিধান অনিচ্ছা সত্বেও মানিয়া চলে অর্থাৎ অন্তরে অস্বীকার করিলেও তাহার দেহ আল্লাহ্‌ - প্রদত্ত নিয়ম মানিয়া চলিতে বাধ্য।

قُلۡ مَنۡ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ قُلِ اللّٰہُ ؕ قُلۡ اَفَاتَّخَذۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ لَا یَمۡلِکُوۡنَ لِاَنۡفُسِہِمۡ نَفۡعًا وَّلَا ضَرًّا ؕ قُلۡ ہَلۡ یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ۬ۙ اَمۡ ہَلۡ تَسۡتَوِی الظُّلُمٰتُ وَالنُّوۡرُ ۬ۚ اَمۡ جَعَلُوۡا لِلّٰہِ شُرَکَآءَ خَلَقُوۡا کَخَلۡقِہٖ فَتَشَابَہَ الۡخَلۡقُ عَلَیۡہِمۡ ؕ قُلِ اللّٰہُ خَالِقُ کُلِّ شَیۡءٍ وَّہُوَ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ ﴿۱۷﴾

১৭
তুমি বল, ‘আকাশ-মণ্ডল ও পৃথিবীর প্রতিপালক কে?’ তুমি বল, ‘আল্লাহ্’। (পুনরায় তাহাদিগকে) বল, ‘তবুও কি তোমরা তাঁহাকে ছাড়িয়া এমন সাহায্যকারীদিগকে গ্রহণ করিয়াছ যাহারা নিজেদের জন্যও না কোন উপকারের ক্ষমতা রাখে এবং না অপকারের?’ তুমি (আবার) বল, ‘অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হইতে পারে?’ অথবা অন্ধকার ও আলো কি সমান হইতে পারে? অথবা তাহারা কি আল্লাহ্‌র সঙ্গে এমন শরীক স্থির করিয়াছে যাহারা তাহার সৃষ্টির অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করিয়াছে যাহার ফলে (তাঁহার ও অন্যদের) সৃষ্টি তাহাদের নিকট একাকার হইয়া গিয়াছে?’ তুমি বল, ‘আল্লাহ্ই সকল বস্তুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি এক১৪৩২ অদ্বিতীয়, মহা প্রতাপান্বিত।’
১৪৩২। কুরআন মজীদে আল্লাহ্‌তা’লার তওহীদ বা একত্ববাদ বুঝাইতে দুইটি শব্দ ব্যবহার হইয়াছেঃ (১) আহাদ এবং (২) ওয়াহেদ ; প্রথমোক্ত শব্দ পবিত্রতাসূচক এবং ইহার দ্বারা আল্লাহ্‌র সম্পূর্ণ একত্ব, অদ্বিতীয়ত্ব, অতুলনীয়তা এবং অংশীহীনতা বুঝায়। ‘ওয়াহেদ’ শব্দ প্রথম বা আরম্ভ বুঝায় এবং ইহার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইত্যাদি অনুগামী রহিয়াছে। আল্লাহ্‌র সিফ্‌ত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ্‌তা’লা হইলেন প্রকৃত মূল উৎস যেখান হইতে সকল সৃষ্টির উদ্ভব হইয়াছে, এবং সকল বস্তু তাঁহারই দিকে ইঙ্গিত করে— যেমন দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্বাভাবিকভাবেই প্রথমকে স্মরণ করাইয়া দেয়। কিন্তু যেখানেই কুরআন অংশীবাদিতামূলক মিথ্যার খণ্ডন করিয়াছে সেখানেই ‘আহাদ’ শব্দের ব্যবহার হইয়াছে, অর্থাৎ আল্লাহ্ যিনি এক এবং তিনি কোন সন্তানের জন্ম দেন নাই, তাঁহার কোন অংশীদার নাই (১১২ঃ২)।

اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَالَتۡ اَوۡدِیَۃٌۢ بِقَدَرِہَا فَاحۡتَمَلَ السَّیۡلُ زَبَدًا رَّابِیًا ؕ وَمِمَّا یُوۡقِدُوۡنَ عَلَیۡہِ فِی النَّارِ ابۡتِغَآءَ حِلۡیَۃٍ اَوۡ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثۡلُہٗ ؕ کَذٰلِکَ یَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡحَقَّ وَالۡبَاطِلَ ۬ؕ فَاَمَّا الزَّبَدُ فَیَذۡہَبُ جُفَآءً ۚ وَاَمَّا مَا یَنۡفَعُ النَّاسَ فَیَمۡکُثُ فِی الۡاَرۡضِ ؕ کَذٰلِکَ یَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡاَمۡثَالَ ﴿ؕ۱۸﴾

১৮
তিনি আকাশ হইতে পানি বর্ষণ করেন যাহার ফলে উপত্যকাসমূহ স্ব স্ব পরিমাপ অনুযায়ী প্লাবিত হয়, অতঃপর প্লাবন উহার (উপরিভাগে) স্ফীত ফেনাসমূহ বহন করে। এবং তাহারা অলংকার অথবা তৈজষপত্র তৈয়ার করিবার উদ্দেশ্যে যাহা আগুনে উত্তপ্ত করে উহা হইতেও উহার (প্লাবনের) অনুরূপ এক প্রকার ফেনা (বাহির) হয়। এইরূপে আল্লাহ্ সত্য ও মিথ্যার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন। এখন ফেনার অবস্থা এই যে, উহা (নিক্ষিপ্ত হইয়া) ব্যর্থ হইয়া যায় এবং যাহা মানুষের উপকারে আসে উহা ভূ-পৃষ্ঠে স্থায়ী থাকে। এই ভাবে আল্লাহ্ দৃষ্টান্তসমূহ১৪৩৩ বর্ণনা করিয়া থাকেন।
১৪৩৩। এই আয়াতে দুইটি অত্যন্ত চমৎকার উদাহরণ দেওয়া হইয়াছে। প্রথম দৃষ্টান্তে সত্যকে পানির সংঙ্গে এবং মিথ্যাকে পানির উপরে ভাসমান ফেনার সংঙ্গে তুলনা করা হইয়াছে। পানির উপরে সৃষ্ট ফেনা যেমন প্রথমদিকে বা শুরুতে পানিকে আচ্ছাদিত করিয়া ফেলে, তেমনি মিথ্যাকেও প্রারম্ভে সত্যের উপর বিজয়ী বা শক্তিশালী বলিয়া মনে হয়, কিন্তু পরিণামে ফেনা যেরূপ ক্ষণস্থায়ী হয় এবং দেখিতে দেখিতে প্রবল স্রোতের মুখে নিশ্চিহ্ন হইয়া যায় এবং সকল আবর্জনা বিধৌত ও বিলীন হইয়া স্বচ্ছ পানির স্বরূপ প্রকাশ পায়, সেইরূপ সত্যের মোকাবিলায় মিথ্যাও ছিন্ন-ভিন্ন হইয়া অবশেষে পরাজিত ও নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। দ্বিতীয়তঃ স্বর্ণ বা রৌপ্যের উদাহরণ দেওয়া হইয়াছে। আগুনে পোড়াইয়া অপ্রয়োজনীয় ও অবাঞ্ছিত ময়লা ছাড়াইয়া আলাদা করিয়া ফেলিয়া দেওয়ার পর স্বর্ণ বা রৌপ্যের ঔজ্জ্বল্য এবং খাঁটি ধাতুর অস্তিত্ব ফুটিয়া উঠে।

لِلَّذِیۡنَ اسۡتَجَابُوۡا لِرَبِّہِمُ الۡحُسۡنٰی ؕؔ وَالَّذِیۡنَ لَمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَہٗ لَوۡ اَنَّ لَہُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا وَّمِثۡلَہٗ مَعَہٗ لَافۡتَدَوۡا بِہٖ ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ سُوۡٓءُ الۡحِسَابِ ۬ۙ وَمَاۡوٰٮہُمۡ جَہَنَّمُ ؕ وَبِئۡسَ الۡمِہَادُ ﴿٪۱۹﴾

১৯
যাহারা তাহাদের প্রভুর ডাকে সাড়া দেয় তাহাদের জন্য (চিরস্থায়ী) কল্যাণ রহিয়াছে, কিন্তু যাহারা তাঁহার ডাকে সাড়া দেয় না, (তাহাদের অবস্থা এমন হইবে যে,) ভূপৃষ্ঠের উপর যাহা কিছু আছে যদি সব তাহাদের হইত এবং উহার সঙ্গে উহার সমপরিমাণ আরও হইত, তাহা হইলে তাহারা নিশ্চয় (নিজদিগকে শাস্তি হইতে রক্ষা করিবার জন্য) সব কিছুই মুক্তিপণ হিসাবে পেশ করিয়া দিত। ইহাদের জন্যই মন্দ হিসাব (অবধারিত) রহিয়াছে, এবং তাহাদের বাসস্থান হইবে জাহান্নাম। বস্তুতঃ উহা কতই না মন্দ বিশ্রামস্থল!
সূরা আর্‌-রা’দ - রুকু ২

اَفَمَنۡ یَّعۡلَمُ اَنَّمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ الۡحَقُّ کَمَنۡ ہُوَ اَعۡمٰی ؕ اِنَّمَا یَتَذَکَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ﴿ۙ۲۰﴾

২০
যে ব্যক্তি জানে যে, তোমার প্রতি তোমার প্রভুর তরফ হইতে যাহা নাযেল করা হইয়াছে উহা সম্পূর্ণ সত্য, সে কি ঐ ব্যক্তির মত হইতে পারে যে অন্ধ? কেবল বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণই উপদেশ গ্রহণ করে —