৭৭

المرسلات

সূরা আল্ মুরসালাত

Al-Mursalat

মক্কী ৫১ আয়াত ২ রুকু পারা ২৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫১ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।

اَلَمۡ نَخۡلُقۡکُّمۡ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ ﴿ۙ۲۱﴾

২১
আমরা কি তোমাদিগকে এক তুচ্ছ পানি হইতে সৃষ্টি করি নাই?

فَجَعَلۡنٰہُ فِیۡ قَرَارٍ مَّکِیۡنٍ ﴿ۙ۲۲﴾

২২
অতঃপর উহাকে আমরা এক সুরক্ষিত অবস্থান-স্থলে (মাতৃগর্ভে) রাখিলাম,

اِلٰی قَدَرٍ مَّعۡلُوۡمٍ ﴿ۙ۲۳﴾

২৩
এক পরিমিত মেয়াদ পর্যন্ত।

فَقَدَرۡنَا ٭ۖ فَنِعۡمَ الۡقٰدِرُوۡنَ ﴿۲۴﴾

২৪
এইরূপে আমরা এক পরিমাণ নিরূপণ করিলাম,৩২১৩ এবং আমরা কিরূপ উত্তম পরিমাণ নিরূপণকারী!
৩২১৩। এই আয়াত এবং পূর্ববর্তী তিনটি আয়াত বলিতেছেঃ শুক্র ফোঁটা হইতে গর্ভ সঞ্চারের মাধ্যমে পূর্ণ মানবাকৃতি ও মানবসুলভ গুণাবলী লাভ এমনই অতি সূক্ষ্ম ব্যাপার যাহা মানুষকে আশ্চর্যান্বিত না করিয়া পারে না। এই সৃষ্টি পদ্ধতিকে ‘পুনরুত্থানে’র যুক্তিও প্রমাণরূপে দাঁড় করানো হইয়াছে। কেননা মানুষের জন্ম ও পুনরুত্থানের পদ্ধতিদ্বয়ের মধ্যে একটা সাদৃশ্য রহিয়াছে। মাতৃগর্ভে অবস্থানের পর জন্ম এবং পৃথিবীর গর্ভে বসবাসের পর পুনরুত্থানের পদ্ধতিদ্বয়ের মধ্যে একটা সাদৃশ্য রহিয়াছে। মাতৃগর্ভে অবস্থানের জন্ম এবং পৃথিবীর গর্ভে বসবাসের পর পুনরুত্থান সমান্তরাল ব্যাপার।

وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۲۵﴾

২৫
সেইদিন ধ্বংস (সত্যকে) মিথ্যা বলিয়া প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।

اَلَمۡ نَجۡعَلِ الۡاَرۡضَ کِفَاتًا ﴿ۙ۲۶﴾

২৬
আমরা কি পৃথিবীটি ধারণকারী করিয়া সৃষ্টি করি নাই—

اَحۡیَآءً وَّاَمۡوَاتًا ﴿ۙ۲۷﴾

২৭
জীবিতগণকে এবং মৃতগণকে?৩২১৪
৩২১৪। সকল মরণশীলেরা পৃথিবীর অধিবাসী। যখন তাহারা মরিয়া যায়, তাহাদের মৃতদেহের সর্বাংশই কোন না কোন অবস্থায় পৃথিবীতেই রহিয়া যায়। এখানে মাধ্যাকর্ষণ বিধি, বা পৃথিবীর স্বীয় অক্ষের উপর ঘূর্ণন (আহ্নিকগতি), বা সূর্যের চারিদিকে ঘুর্ণনের (বার্ষিক গতি) কথাও বলা হইয়া থাকিতে পারে। ‘কিফাত’ শব্দটি দ্বারা বুঝাইতেছে যে, মানুষের দৈহিক প্রয়োজন মিটাইবার সবকিছুই এই পৃথিবীতে রহিয়াছে।

وَّجَعَلۡنَا فِیۡہَا رَوَاسِیَ شٰمِخٰتٍ وَّاَسۡقَیۡنٰکُمۡ مَّآءً فُرَاتًا ﴿ؕ۲۸﴾

২৮
এবং আমরা উহাতে অত্যুচ্চ পর্বতমালা সংস্থাপন করিয়াছি এবং তোমাদিগকে সুমিষ্ট পানি পান করাইবার ব্যবস্থা করিয়াছি।৩২১৫
৩২১৫। পর্বতমালাগুলি স্বাভাবিক বৃহৎ জলাধাররূপে কাজ করিয়া থাকে।

وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۲۹﴾

২৯
সেইদিন ধ্বংস (সত্যকে) মিথ্যা বলিয়া প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য!

اِنۡطَلِقُوۡۤا اِلٰی مَا کُنۡتُمۡ بِہٖ تُکَذِّبُوۡنَ ﴿ۚ۳۰﴾

৩০
(তাহাদিগকে আদেশ করা হইবে:) ‘এখন তোমরা উহার দিকেই যাও যাহাকে তোমরা মিথ্যা বলিয়া প্রত্যাখ্যান করিয়াছিলে,