النبأ
An-Naba'
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৪১ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গ
এই সূরার নামকরণ করা হইয়াছে ‘নাবা’ (মহা-সংবাদ)। কারণ ইহাতে অসামান্য ও অসাধারণ এবং অত্যুচ্চ বিষয়াদি আলোচিত হইয়াছে, যথা, পুনরুত্থানের নিশ্চয়তা, সকল অবতীর্ণ গ্রন্থাদির উর্দ্ধে কুরআনের স্থান ও প্রাধান্য এবং সকল ধর্মের উপরে ইসলাম ধর্মের স্থান ও প্রাধান্য। ‘ফয়সালার দিন’ (অর্থাৎ সেই দিন, যেদিন কুরআনের এই শ্রেষ্ঠত্বের দাবী প্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হইবে) পূর্ববতী সূরাতে দুইবার উল্লিখিত হইয়াছে এবং এই সূরাতেও পুনরায় বলা হইয়াছে। মুসলমান তফসীরকারকগণের মতে এই সূরাটি আঁ-হযরত (সাঃ)-এর মক্কী জীবনের প্রথম দিকে অবতীর্ণ হইয়াছিল। নলডিকিও এই অভিমত সমর্থন করেন। মানুষকে প্রদত্ত ঐশী অনুগ্রহরাজি ও আল্লাহ্র মহান দানসমূহ বর্ণনা করিয়া সূরাটি আরম্ভ হইয়াছে এবং এই কথার প্রতি পরোক্ষ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হইয়াছে যে, কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই এই পৃথিবীর বুকে সকলকে সৃষ্টি করা হইয়াছে। পৃথিবীতে তাহার অবস্থান বীজতলার মত চিরস্থায়ী জীবনের চারা রোপণ করার ক্ষেত্র বিশেষ। আর এই চারা রোপণ ক্ষেত্রের হিসাব-নিকাশও তাহাকে দিতে হইবে। ঐ হিসাব-নিকাশ দিবসের সংক্ষিপ্ত অথচ অতি গুরু-গম্ভীর বর্ণনাও এই সূরাতে সন্নিবেশিত হইয়াছে। ইহলোকে ও পরলোকে, ধার্মিকগণ যে সব ঐশী পুরস্কারে ভূষিত হইবেন এবং সত্যের প্রতাখ্যানকারীগণ যে সকল ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হইবে, উহার চিত্রও এই সূরার বর্ণনাতে বিধৃত হইয়াছে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
عَنِ النَّبَاِ الۡعَظِیۡمِ ۙ﴿۳﴾
الَّذِیۡ ہُمۡ فِیۡہِ مُخۡتَلِفُوۡنَ ؕ﴿۴﴾