৭৯

النازعات

সূরা আন্‌ নাযে‘আত

An-Nazi`at

মক্কী ৪৭ আয়াত ২ রুকু পারা ৩০

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৪৭ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

وَالنّٰزِعٰتِ غَرۡقًا ۙ﴿۲﴾

২
কসম তাহাদের যাহারা (লোকদিগকে সত্যের দিকে) পূর্ণ মনযোগের৩২৩৬ সহিত আকর্ষণ করে,৩২৩৭
৩২৩৬। ‘নাযে’আত’ শব্দটি ‘নাযাত’ ধাতু হইতে উৎপন্ন। ইহার অর্থ যাহারা বা যে দল কোন বস্তুকে টানিয়া নিজের দিকে আনে; বড় কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করে; অন্যের মত হওয়া; জোরে-শোরে আকর্ষণ করে, অন্যকে সত্যের দিকে আকর্ষণ করে (আকরাব)। ‘নাযা’আ’ ধাতুর মধ্যে এই সব অর্থই নিহিত রহিয়াছে।
৩২৩৭। ‘গারক’ এখানে ‘ইগরাক’ অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। ইহার তাৎপর্য হইল, তীরকে যথাসম্ভব দূরে নিক্ষেপ করা বা কোন লোককে আক্রমণ করিয়া পরাভূত করা অথবা শেষ সীমা পর্যন্ত প্রচেষ্টা চালানো (লেইন)।

وَّالنّٰشِطٰتِ نَشۡطًا ۙ﴿۳﴾

৩
এবং (কসম) তাহাদের যাহারা (তাহাদের) গ্রন্থিসমূহকে দৃঢ়ভাবে বাঁধে,৩২৩৮
৩২৩৮। ‘নাশেতাত’ অর্থ যাহারা বা যে দল স্বীয় কর্তব্য পালনে মনে প্রাণে চেষ্টিত থাকে (আকরাব)।

وَّالسّٰبِحٰتِ سَبۡحًا ۙ﴿۴﴾

৪
এবং (কসম) তাহাদের যাহারা ত্বরিত গতিতে সন্তরণ করে,৩২৩৯
৩২৩৯। ‘সাবেহাত’ অর্থঃ (১) যে সব সত্তা বা দলবদ্ধ মানুষ তাহাদের কাজের অন্বেষণে দেশের প্রান্ত পর্যন্ত চলিয়া যায়, (২) যাহারা নিজেদের উদ্দিষ্ট পথে একে অন্যকে ছাড়াইয়া যাইবার আপ্রাণ চেষ্টা করে (লেইন)।

فَالسّٰبِقٰتِ سَبۡقًا ۙ﴿۵﴾

৫
অতঃপর তাহারা প্রতিযোগতিায় দ্রুত বেগে অগ্রে চলিয়া যায়,

فَالۡمُدَبِّرٰتِ اَمۡرًا ۘ﴿۶﴾

৬
অতঃপর তাহারা (উওমরূপে) কার্যাবলী পরিচালনা করে;৩২৪০
৩২৪০। ‘মুদাব্বেরাত’ অর্থ ঐ সকল সত্তা বা মানুষের দল যাহারা অতিশয় দক্ষতার সহিত তাহাদের উপর ন্যস্ত কর্তব্য সম্পাদনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করে এবং তাহা বাস্তবায়নের সর্বপ্রকার ব্যবস্থা করিয়া থাকে। ২ হইতে ৬ পর্যন্ত আয়াতগুলিকে কিছু সংখ্যক জ্ঞানীগুণী তফসীরকারক ফিরিশ্‌তাদের প্রতি আরোপ করিয়াছেন এবং মনে করিয়াছেন, ৭-৮ আয়াতে যে মহাঘটনা ঘটিবার কথা রহিয়াছে, ফিরিশ্‌তাগণকে সেই ঘটনার সাক্ষীরূপে পেশ করা হইয়াছে। কিন্তু ফিরিশ্‌তাগণের সাক্ষ্য প্রদান মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধির আওতায় আসে না। অতএব, প্রসঙ্গ দৃষ্টে মনে হয়, এই আয়াতগুলি (২ হইতে ৬) নবী করীম (সাঃ)-এর সাহাবীগণের (রাঃ) দলকেই বুঝাইয়াছে, যাহারা অদূর ভবিষ্যতে আত্মোৎসর্গ ও আপ্রাণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলামকে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়াইয়া দিয়াছিলেন। এই আয়াতগুলিতে সাহাবীগণের অতুলনীয় কর্তব্য-নিষ্ঠার একটি চিত্র ভবিষ্যদ্বাণীরূপে চিত্রিত আছে। শুধু তাহাই নয়, এই কর্তব্য-নিষ্ঠার ফলে, তাহাদের উপর মানব-গোষ্ঠীর এক বিরাট অংশের প্রশাসনিক দায়িত্ব আসিয়া বর্তাইবে এবং সেই দায়িত্বও তাহারা অত্যন্ত দক্ষতা ও ন্যায়-পরায়ণতার সহিত সম্পাদন করিবেন— এই কথাও ভবিষ্যদ্বাণীর আকারে এই আয়াতগুলিতে ইঙ্গিত দেওয়া হইয়াছে। সংক্ষেপে বলিতে গেলে, এই আয়াতগুলিতে, মহানবী (সাঃ)-এর সাহাবীগণের চারিত্রিক গুণাবলীর বৈশিষ্ট্যগুলি তুলিয়া ধরা হইয়াছে (দি লারজার এডিশন অব দি কমেন্টারী দেখুন)।

یَوۡمَ تَرۡجُفُ الرَّاجِفَۃُ ۙ﴿۷﴾

৭
যেদিন কম্পনশীল পৃথিবী কম্পমান হইবে,৩২৪১
৩২৪১। এই আয়াতের অর্থঃ পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে যে ভবিষ্যদ্বাণী প্রচ্ছন্ন রহিয়াছে, তাহা সেই যুদ্ধের ফলে পূর্ণ হইবে, যাহা আল্লাহ্‌র ধার্মিক বান্দাগণ ও চক্রান্তকারী কাফেরদের মধ্যে সংঘটিত হইবে এবং তাহাতে অবিশ্বাসীরা চূরমার হইয়া যাইবে। ‘রাজাফা’ শব্দটির অর্থ হইল যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ (লেইন)।

تَتۡبَعُہَا الرَّادِفَۃُ ؕ﴿۸﴾

৮
(এবং) আর একটি পশ্চাদ্‌বর্তী (কম্পন) উহার অনুসরণ করিবে।৩২৪২
৩২৪২। যখন একবার মো’মেন ও কাফেরদের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়া যাইবে, তখন তাহা আর থামিবে না, যে পর্যন্ত অশুভ পশু-শক্তি পরাজয়ের পর পরাজয় বরণ করিয়া চূরমার না হইবে।

قُلُوۡبٌ یَّوۡمَئِذٍ وَّاجِفَۃٌ ۙ﴿۹﴾

৯
সেই দিন অন্তরসমূহ ভয়ে কম্পমান হইবে,

اَبۡصَارُہَا خَاشِعَۃٌ ۘ﴿۱۰﴾

১০
(এবং) তাহাদের চক্ষুগুলি অবনত থাকিবে।৩২৪৩
৩২৪৩। অবিশ্বাসীরা যখন পরাজয়ের পর পরাজয় বরণ করিতে থাকিবে এবং ইসলামকে বিজয়ী ও প্রতিপত্তিশালী হইতে দেখিবে, তখন তাহাদের মনে চাঞ্চল্য দেখা দিবে এবং পুনরুত্থানের সম্ভাবনার চিন্তা তাহাদের মনকে আঘাত করিতে থাকিবে।