النازعات
An-Nazi`at
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৪৭ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।
সাধারণ মন্তব্যঃ
সকল সর্বমান্য পণ্ডিত একবাক্যে স্বীকার করেন যে, পূর্ববর্তী সূরাটির মত ইহাও প্রাথমিক সময়ের মক্কী সূরা। পূর্ববর্তী সূরাতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছিল যে, মুসলমানেরা বিশ্বে ক্ষমতা, উন্নতি ও প্রাধান্য লাভ করিবে। কি কি উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে তাহারা উন্নতি ও প্রাধান্য লাভ করিতে পারিবে, এই সূরাতে সেই সকল বিষয়ে আলোকপাত করা হইয়াছে। এই প্রতিশ্রুতি শীঘ্র পূর্ণ হওয়ার বিভিন্ন লক্ষণ ও চিহ্নাবলীর উপরও আলোকপাত করা হইয়াছে। সূরার প্রারম্ভে নবী করীম (সাঃ)-এর সাহাবীগণের এবং অপরাপর ধার্মিকমণ্ডলীর চারিত্রিক গুণাবলীর বিশেষ বিশেষ দিকগুলি তুলিয়া ধরা হইয়াছে যেগুলির সাহায্যে তাহারা সম্মান, ক্ষমতা ও বিজয় অর্জন করিয়াছিলেন। অতঃপর সূরাটি এই ইঙ্গিত দিতেছে যে, ঐ ক্ষমতা যুদ্ধের ফলে মুসলমানদের হস্তগত হইবে এবং ইসলামের শত্রুরা যুদ্ধে বার বারে পরাজিত হইয়া ক্ষমতাচ্যুত হইয়া পড়িবে। ফেরাউনের দৃষ্টান্ত উল্লেখ পূর্বক দেখানো হইয়াছে যে, সত্যের বিরোধিতার শাস্তি না হইয়া পারে না। অতঃপর বলা হইয়াছে, মুসলমানদের প্রাথমিককালে অতি দুর্বল অবস্থায়, ইসলামের গৌরবময় ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়া অসম্ভব বলিয়া মনে হইলেও, আকাশ ও বিশ্বজগতের মহা পরাক্রমশালী সৃষ্টি-কর্তা, যিনি পৃথিবীকে পর্বত, নদী ও বিস্তীর্ণ রাস্তা দ্বারা সাজাইয়াছেন, তিনি অসম্ভবকেও সম্ভব করিতে পারেন। এমন কি, তিনি মৃতগণকে পরজগতে নতুন জীবন দান করিতেও সমর্থ। সূরাটির শেষ দিকে বলা হইয়াছে, যখন ঐ মহাঘটনা - ইসলামের নিরঙ্কুশ বিজয় কিংবা চূড়ান্ত পরকালীন পুনরুত্থান ঘটিবে, তখন অপরাধীগণ দোযখের আগুনে জ্বলিতে থাকিবে, আর ধর্মপরায়ণ সৎকর্মশীল লোকেরা বেহেশ্তের আশীর্বাদসমূহ অবাধে উপভোগ করিতে থাকিবে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
وَالنّٰزِعٰتِ غَرۡقًا ۙ﴿۲﴾
وَّالنّٰشِطٰتِ نَشۡطًا ۙ﴿۳﴾
وَّالسّٰبِحٰتِ سَبۡحًا ۙ﴿۴﴾
فَالۡمُدَبِّرٰتِ اَمۡرًا ۘ﴿۶﴾
یَوۡمَ تَرۡجُفُ الرَّاجِفَۃُ ۙ﴿۷﴾
تَتۡبَعُہَا الرَّادِفَۃُ ؕ﴿۸﴾