المرسلات
Al-Mursalat
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৫১ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গঃ
নলডিকি এবং মূইর এই সূরাকে নবুওয়াতের চতুর্থ বৎসরে অবতীর্ণ বলিয়া নির্ধারণ করিয়াছেন। ইহা সঠিক বলিয়া মনে হয়। অন্যান্য প্রাথমিক মক্কী সূরার মত, এই সূরাটিও পুনরুত্থানের বিষয় উত্থাপন করিয়া এবং ইহার স্বপক্ষে যুক্তি দেখাইয়াছে যে, নবীগণ বিভিন্ন যুগে আসিয়া নিজ নিজ জাতির মধ্যে বড় বড় আধ্যাত্মিক বিপ্লব সাধন করিয়া গিয়াছেন। বিশেষ করিয়া, নবী করীম (সাঃ) পতনোন্মুখ, পথ-ভ্রষ্ট, বিভ্রান্ত আরবজাতির মধ্যে যে অত্যাশ্চর্য নৈতিক পরিবর্তন আনয়ন করিয়াছেন, তাহাও পুনরুত্থানের পক্ষে সায় দেয়। আল্লাহ্র নবীদের শুভাগমনকে এই সূরাতে ‘ফয়সলার দিন’ বলিয়া তুলনা করা হইয়াছে। কেননা তাহাদের আগমনে, মন্দ লোক ভাল লোক হইতে পৃথক হইয়া যায়, যেমন শস্যের দানা হইতে ভূষি আলাদা হইয়া পড়ে। ফয়সালার দিনে দোষীরা শাস্তি প্রাপ্ত হয় এবং ধার্মিকেরা তাহাদের সৎকর্মের পুরস্কার লাভ করে। ঐশী বিধানের অস্বীকারকারী ও অবজ্ঞাকারীগণকে, তাহাদের প্রত্যেকটি কুকর্মের জন্য আনুপাতিক হারে যে সকল শাস্তি দেওয়া হইবে, উহার বিস্তারিত ও যথাযথ বর্ণনা এই সূরাতে প্রাঞ্জল ভাষায় দেওয়া হইয়াছে। অপরদিকে, যাহারা ঐশী বিধান সমুন্নত রাখিয়া তদনুযায়ী নিজেদের কাজকর্ম ও জীবনকে পরিচালিত করে, বেহেশ্তে তাহারা কি কি ধরণের পুরস্কার ও আশীর্বাদ লাভ করিবে তাহাও সুন্দরভাবে বর্ণিত হইয়াছে। ‘পুনরুত্থান’ মতবাদের সমর্থনে এই সূরা অত্যন্ত জোরের সহিত সৃষ্টির এই রহস্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে, একটি সামান্য শুক্রের ফোঁটা হইতে যদি সুশোভন, সুগঠিত পূর্ণ মানবীয় দেহ ও শত শত গুণাবলীসম্পন্ন মানবীয় শক্তি সৃষ্টি হইতে পারে, তবে পুনরুত্থান হইতে পারিবেনা কেন? শেষের দিকে, সূরাটি কাফেরদের মনে এই কথা ঢুকাইবার জোর চেষ্টা করিয়াছে যে, কুরআনের অবতীর্ণ বাণীকে অগ্রাহ্য করার কোন যৌক্তিকতা অবিশ্বাসীদের নাই।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
وَالۡمُرۡسَلٰتِ عُرۡفًا ۙ﴿۲﴾
فَالۡعٰصِفٰتِ عَصۡفًا ۙ﴿۳﴾
وَّالنّٰشِرٰتِ نَشۡرًا ۙ﴿۴﴾
فَالۡفٰرِقٰتِ فَرۡقًا ۙ﴿۵﴾
عُذۡرًا اَوۡ نُذۡرًا ۙ﴿۷﴾
اِنَّمَا تُوۡعَدُوۡنَ لَوَاقِعٌ ؕ﴿۸﴾
فَاِذَا النُّجُوۡمُ طُمِسَتۡ ۙ﴿۹﴾