৭৭

المرسلات

সূরা আল্ মুরসালাত

Al-Mursalat

মক্কী ৫১ আয়াত ২ রুকু পারা ২৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫১ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

وَالۡمُرۡسَلٰتِ عُرۡفًا ۙ﴿۲﴾

২
কসম কল্যাণ (সম্প্রসারণের) নিমিত্তে প্রেরিতগণের৩২০৪
৩২০৪। এই আয়াত ও পরবর্তী চারিটি আয়াতে ‘প্রেরিতগণ’ বলিতে বস্তু, প্রাণী, সহায়ক শক্তি, মাধ্যম ও প্রতিনিধি ইত্যাদি বুঝায়। বিভিন্ন সর্বমান্য ব্যাখ্যাকারীগণ বাতাস, ফিরিশ্‌তা, আল্লাহ্‌র নবীগণ ও তাঁহাদের অনুসারীগণকে, বিশেষ করিয়া মহানবী (সাঃ)-এর সঙ্গী-সাথী ও অনুসারীদিগকে এই ‘মুরসালাতের’ অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন। রসূলে পাক (সাঃ)-এর ‘সাহাবীগণ’ যখন এই ‘মুরসালাত’ এর আওতায় আসেন, তখন ইহার অর্থ দাঁড়ায়, সাহাবীগণ (রাঃ) প্রারম্ভিক দিকে শান্ত ও ধীরগতিতে ইসলামের বাণী প্রচার করিবেন।

فَالۡعٰصِفٰتِ عَصۡفًا ۙ﴿۳﴾

৩
অতঃপর অতি দ্রুতগতিতে ধাবমানদের কসম,৩২০৫
৩২০৫। ইসলামের বাণী প্রচারে প্রাথমিক বাধা-বিঘ্ন অতিক্রমের পর, সাহাবীগণ (রাঃ) প্রচারের গতি বৃদ্ধি করিবেন এবং জোরে-শোরে, উৎসাহের সহিত মানুষকে আল্লাহ্‌র দিকে আহ্বান করিবেন৷ অথবা, সাহাবীগণ কুরআনের শিক্ষার সাহায্যে কাফেরদের অশুভ শক্তি ও মিথ্যার বেসাতিকে এমনইভাবে লণ্ড-ভণ্ড করিয়া দিবেন, যেমন প্রবল বাতাসের সামনে খড়-কুটা লণ্ড-ভণ্ড হইয়া যায়।

وَّالنّٰشِرٰتِ نَشۡرًا ۙ﴿۴﴾

৪
এবং (সত্যকে) ব্যাপকভাবে বিস্তারকারীগণের (কসম),৩২০৬
৩২০৬। তাহারা সত্যের বাণীকে দূর-দূরান্তে ঘোষণা ও প্রচার করিবে, অথবা সত্য ও সততার বীজ চতুর্দিকে ছড়াইয়া দিবে।

فَالۡفٰرِقٰتِ فَرۡقًا ۙ﴿۵﴾

৫
অতঃপর (ভাল ও মন্দের মধ্যে) পূর্ণরূপে পার্থক্যকারীদের (কসম);৩২০৭
৩২০৭। কুরআনের বাণী বিস্তৃতি লাভের পর সত্য মিথ্যা হইতে এবং সৎলোক মন্দলোক হইতে পৃথক হইয়া যাইবে।

فَالۡمُلۡقِیٰتِ ذِکۡرًا ۙ﴿۶﴾

৬
এবং উপদেশ-বাণীকে (দেশে-দেশে) উপস্থাপনকারীগণের (কসম);

عُذۡرًا اَوۡ نُذۡرًا ۙ﴿۷﴾

৭
ওজর-আপত্তি খণ্ডনের জন্য অথবা সতর্কীকরণের জন্য,৩২০৮
৩২০৮। আয়াতটির তাৎপর্য এই যে, সাহাবীগণ পূর্ণোদ্যমে প্রচার কার্য সম্পাদন করিয়া নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পূর্ণরূপে পালন করিয়াছেন— এই কথাটা প্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হইবে।

اِنَّمَا تُوۡعَدُوۡنَ لَوَاقِعٌ ؕ﴿۸﴾

৮
নিশ্চয় যাহার প্রতিশ্রুতি তোমাদিগকে দেওয়া হইয়াছে উহা পূর্ণ হইবেই।

فَاِذَا النُّجُوۡمُ طُمِسَتۡ ۙ﴿۹﴾

৯
অতএব যখন নক্ষত্ররাজি জ্যোতিহীন হইয়া পড়িবে,৩২০৯
৩২০৯। আয়াতটির তাৎপর্যঃ যখন জাতির উপর বিবিধ রকমের বিপৎপাত অত্যাসন্ন। তারকার অস্তগমন আসন্ন বিপদাবলীর চিহ্ন বলিয়া আরববাসীরা জ্ঞান করিত।

وَاِذَا السَّمَآءُ فُرِجَتۡ ۙ﴿۱۰﴾

১০
এবং যখন আকাশকে বিদীর্ণ করা হইবে,৩২১০
৩২১০। বিশ্বের উপরে যখন বড় বড় বিপদ-সম্পাৎ ও দুঃখ-যাতনা আপতিত হইবে।