৭

الأعراف

সূরা আল্ আ’রাফ

Al-A`raf

মক্কী ২০৭ আয়াত ২৪ রুকু পারা ৮–৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ২০৭ আয়াত এবং ২৪ রুকু আছে।

وَلُوۡطًا اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہٖۤ اَتَاۡتُوۡنَ الۡفَاحِشَۃَ مَا سَبَقَکُمۡ بِہَا مِنۡ اَحَدٍ مِّنَ الۡعٰلَمِیۡنَ ﴿۸۱﴾

৮১
এবং (আমরা পাঠাইয়াছিলাম) লূতকেও,১০০৫ যখন সে তাহার জাতিকে বলিল, ‘তোমরা কি এমন নির্লজ্জ কাজ১০০৬ করিতেছ, যাহা তোমাদের পূর্বে জগদ্বাসীর মধ্যে কেহই করে নাই?
১০০৫। হযরত লুত (আঃ) হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র এবং তাঁহার সমসাময়িক ছিলেন (আদি পুস্তক- ১১ঃ২৭,৩১)
১০০৬। উক্তিটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হইতেছে যে, উহা এক প্রকার নূতন ধরণের কুপ্রবৃত্তি বা পাপাচার ছিল, যাহা পূর্বে অজানা ছিল। অথবা উহার অধিকাংশই সেই সময়ের মধ্যে সংঘটিত হইয়াছিল যাহার কোন উপমা অতীতে খুঁজিয়া পাওয়া যায় না।

اِنَّکُمۡ لَتَاۡتُوۡنَ الرِّجَالَ شَہۡوَۃً مِّنۡ دُوۡنِ النِّسَآءِ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ مُّسۡرِفُوۡنَ ﴿۸۲﴾

৮২
তোমরাই স্ত্রীলোকদের পরিবর্তে কাম-বাসনায় পুরুষদের নিকট গমন কর। বরং তোমরা এক সীমালংঘনকারী জাতি।

وَمَا کَانَ جَوَابَ قَوۡمِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡۤا اَخۡرِجُوۡہُمۡ مِّنۡ قَرۡیَتِکُمۡ ۚ اِنَّہُمۡ اُنَاسٌ یَّتَطَہَّرُوۡنَ ﴿۸۳﴾

৮৩
তখন ইহা ছাড়া তাহার জাতির আর কোন উত্তর ছিল না যে, তাহারা (লোকদিগকে) বলিল, ‘তোমরা তোমাদের শহর হইতে তাহাদিগকে বাহির করিয়া দাও, কেননা তাহারা এমন লোক যে, নিজেদের পবিত্রতার বড়াই করিতেছে।’১০০৭
১০০৭। লুত (আঃ)-এর বিরোধী লোকেরা তাঁহার অনুসারী লোকগণকে উপহাস করিয়া বলিত যে, তাহারা এমন দেখায় যে, তাহারা খুবই সাধু ও পবিত্র লোক।

فَاَنۡجَیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗۤ اِلَّا امۡرَاَتَہٗ ۫ۖ کَانَتۡ مِنَ الۡغٰبِرِیۡنَ ﴿۸۴﴾

৮৪
সুতরাং আমরা তাহাকে এবং তাহার পরিবারবর্গকে উদ্ধার করিলাম—কেবল তাহার স্ত্রী ব্যতীত, কারণ সে পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ مَّطَرًا ؕ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ﴿٪۸۵﴾

৮৫
আমরা তাহাদের উপর এক প্রবল (শিলা-) বৃষ্টি১০০৮ বর্ষণ করিলাম; অতএব দেখ, অপরাধীদের পরিণাম কি হইয়াছিল।১০০৯
সূরা আল্ আ’রাফ - রুকু ১০
১০০৮। প্রচণ্ড ভূমিকম্পে প্রায়শঃ এরূপ ঘটে যে, পাথর কুচি ও শীলাখণ্ডের বিস্ফোরণ ঘটিয়া উপরে উত্থিত হইয়া আবার ভূমিতে পতিত হয়। এইরূপে পম্পাইতে ভূমিকম্প হইয়াছিল এবং ভারতের কাংড়াতেও ১৯০৫ খৃঃ ঘটিয়াছিল।
১০০৯। কাহারো কাহারো মতে ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরীসমূহের স্থান মৃত-সাগরের (Dead Sea) চারিপার্শ্বে অবস্থিত। কুরআন করীম ইহাকে মদিনা হইতে সিরিয়া যাওয়ার পথে অবস্থিত বলিয়া প্রকাশ করিয়াছে (১৫ঃ৮০) বলিয়া মনে হয়।

وَاِلٰی مَدۡیَنَ اَخَاہُمۡ شُعَیۡبًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ قَدۡ جَآءَتۡکُمۡ بَیِّنَۃٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ فَاَوۡفُوا الۡکَیۡلَ وَالۡمِیۡزَانَ وَلَا تَبۡخَسُوا النَّاسَ اَشۡیَآءَہُمۡ وَلَا تُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ بَعۡدَ اِصۡلَاحِہَا ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ﴿ۚ۸۶﴾

৮৬
এবং মিদিয়ান১০১০ বাসীদের নিকট (পাঠাইয়াছিলাম) তাহাদের ভাই শোআয়্‌বকে।১০১১ সে বলিল, ‘হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মা’বূদ নাই। অবশ্যই তোমাদের নিকট তোমাদের প্রভুর পক্ষ হইতে এক স্পষ্ট নিদর্শন আসিয়াছে। সুতরাং তোমরা মাপ এবং ওজন পুরা দাও এবং লোকদিগকে তাহাদের জিনিষপত্র কম দিও না এবং পৃথিবীতে উহার সংশোধনের পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করিও না; ইহা তোমাদের জন্য উৎকৃষ্টতর, যদি তোমরা মো’মেন হইয়া থাক;
১০১০। মিদিয়ান হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ)-এর পুত্র, কতুরার গর্ভজাত (আদি পুস্তক-২৫ঃ১-২)। তাঁহার বংশধরগণ হেজায্‌-এর উত্তরাঞ্চলে বসতি স্থাপন করিয়াছিল। আরবের উপকুলবর্তী সিনাই-এর অপরদিকে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত এক শহরের নামও মিদিয়ান ছিল।শহরটি এই নামে পরিচিত হওয়ার কারণ ইহাই ছিল যে, উহার অধিবাসীরা মিদিয়ানের পরবর্তী বংশধর ছিল। সাগর কূলের নিকটতম হওয়ার কারণে কেহ কেহ ইহাকে সমুদ্র বন্দর বলিয়া উল্লেখ করিয়াছে। ‘আকাবা উপসাগর হইতে ইহার দূরত্ব মাত্র আট মাইল। অন্যেরা কেহ কেহ ইহাকে অভ্যন্তরস্থ শহর বলিয়াছে। হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধরের এক বৃহৎ জনগোষ্ঠি মিদিয়ানের অধিবাসী ছিল। হযরত শুয়াইব (আঃ) এবং আঁ- হযরত (সাঃ) এর মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ছিল, যেমন উভয়েই নিজ জন্মভূমি ছাড়িয়া অন্য শহরে চলিয়া যাইতে বাধ্য হইয়াছিলেন, হযরত শুয়াইব গিয়াছিলেন মিদিয়ানে এবং নবী করীম (সাঃ) মদীনায়।
১০১১। হযরত শোআয়্‌ব নামে এক অ-ইসরাঈলীয় নবী হযরত মূসা (আঃ)-এর পূর্বে আবির্ভূত হইয়াছিলেন। তিনি হযরত মূসা (আঃ)-এর শ্বশুর ছিলেন বলিয়া মনে করা হয়, যদিও বাইবেলে তাহার নাম উল্লেখ নাই। বাইবেলের মতে হযরত মূসা (আঃ)-এর শ্বশুরের নাম ছিল যিথ্রো, তাহাকে নবী বলা হয় নাই। কুরআন বলে হযরত শুয়াইব (আঃ)-এর পরে হযরত মূসা (আঃ)-এর আবির্ভাব, অতএব তাঁহারা সমসাময়িক নহেন (৭ঃ১০৪)। এই আয়াতে হযরত শোআয়্‌বকে যেহেতু মিদিয়ানের “ভাই” বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে, সেহেতু নিশ্চিত ভাবেই অনুমান করা যায় যে, তিনি (শোআয়্‌ব) হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ)-এর বংশধরগণের মধ্যে ছিলেন—কেননা মিদিয়ান ছিল হযরত ইব্‌রাহীমের কৃতদাসী ও স্ত্রী কতুরার গর্ভজাত পুত্র।

وَلَا تَقۡعُدُوۡا بِکُلِّ صِرَاطٍ تُوۡعِدُوۡنَ وَتَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ مَنۡ اٰمَنَ بِہٖ وَتَبۡغُوۡنَہَا عِوَجًا ۚ وَاذۡکُرُوۡۤا اِذۡ کُنۡتُمۡ قَلِیۡلًا فَکَثَّرَکُمۡ ۪ وَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ﴿۸۷﴾

৮৭
এবং তোমরা রাস্তায় রাস্তায় (এই উদ্দেশ্যে) বসিয়া থাকিও না যাহাতে তোমরা তাহাদিগকে ভয় দেখাও এবং আল্লাহ্‌র পথ হইতে নিবৃত্ত রাখ যাহারা তাঁহার উপর ঈমান আনে, এবং উহাকে বক্র করার চেষ্টা কর। এবং স্মরণ কর যখন তোমরা স্বল্প ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদিগকে অধিক সংখ্যায় বৃদ্ধি করিলেন।১০১২ এবং লক্ষ্য কর, বিশৃঙ্খলাকারীদের পরিণাম কি হইয়াছিল!
১০১২। কৃতদাসী পত্নী ছিল বলিয়া কতুরার গর্ভজাত হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ)-এর সন্তানদিগকে ইসরাঈলীরা এবং ইসমাঈলীরা উভয়েই অবজ্ঞার চক্ষে দেখিত। দুর্বল এবং ঘৃণ্য রূপে তাহাদিগকে তুচ্ছ জ্ঞান করা হইত, কিন্তু আল্লাহ্‌তা’লা তাহাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করিলেন এবং তাহাদিগকে সম্পদ ও শক্তি দান করিলেন।

وَاِنۡ کَانَ طَآئِفَۃٌ مِّنۡکُمۡ اٰمَنُوۡا بِالَّذِیۡۤ اُرۡسِلۡتُ بِہٖ وَطَآئِفَۃٌ لَّمۡ یُؤۡمِنُوۡا فَاصۡبِرُوۡا حَتّٰی یَحۡکُمَ اللّٰہُ بَیۡنَنَا ۚ وَہُوَ خَیۡرُ الۡحٰکِمِیۡنَ ﴿۸۸﴾

৮৮
এবং তোমাদের মধ্য হইতে যদি কোন দল এরূপ থাকে, যাহারা উহার উপর ঈমান আনিয়াছে, যাহা দিয়া আমি প্রেরিত হইয়াছি এবং কোন দল এমন থাকে যাহারা ঈমান আনে নাই, তাহা হইলে ধৈর্য ধারণ কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ্ আমাদের মধ্যে মীমাংসা করিয়া দেন। এবং তিনিই সর্বোত্তম মীমাংসাকারী।

قَالَ الۡمَلَاُ الَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ لَنُخۡرِجَنَّکَ یٰشُعَیۡبُ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَکَ مِنۡ قَرۡیَتِنَاۤ اَوۡ لَتَعُوۡدُنَّ فِیۡ مِلَّتِنَا ؕ قَالَ اَوَلَوۡ کُنَّا کٰرِہِیۡنَ ﴿۟۸۹﴾

৮৯
তাহার জাতির প্রধান ব্যক্তিবর্গ যাহারা অহংকার করিত, বলিল, ‘হে শোআয়্‌ব! অবশ্যই আমরা তোমাকে এবং ঐ সকল লোককে যাহারা তোমার সহিত ঈমান আনিয়াছে, আমাদের শহর হইতে বাহির করিয়া দিব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরিয়া আসিবে।’ সে বলিল, যদি আমরা অপসন্দ করি, তবুও কি?১০১৩
১০১৩। এই উক্তি দ্বারা বুঝা যায় যে, যুগ যুগ ধরিয়া সমাজের ভাল এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা, বিবেক সম্বন্ধীয় ব্যাপারে শক্তি প্রয়োগ যে অনুচিত, তাহা বিশ্বাস করিয়াছে।

قَدِ افۡتَرَیۡنَا عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اِنۡ عُدۡنَا فِیۡ مِلَّتِکُمۡ بَعۡدَ اِذۡ نَجّٰنَا اللّٰہُ مِنۡہَا ؕ وَمَا یَکُوۡنُ لَنَاۤ اَنۡ نَّعُوۡدَ فِیۡہَاۤ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ رَبُّنَا ؕ وَسِعَ رَبُّنَا کُلَّ شَیۡءٍ عِلۡمًا ؕ عَلَی اللّٰہِ تَوَکَّلۡنَا ؕ رَبَّنَا افۡتَحۡ بَیۡنَنَا وَبَیۡنَ قَوۡمِنَا بِالۡحَقِّ وَاَنۡتَ خَیۡرُ الۡفٰتِحِیۡنَ ﴿۹۰﴾

৯০
যদি আমরা তোমাদের ধর্মে ফিরিয়া যাই, ইহার পরও যে, আল্লাহ্ আমাদিগকে উহা হইতে উদ্ধার করিয়াছেন, তাহা হইলে (ইহার অর্থ হইবে যে,) আমরা আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা রচনা করিয়াছিলাম। এবং আমাদের প্রভু আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ব্যতীত উহাতে ফিরিয়া যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নহে, আমাদের প্রভু সকল বস্তুকে জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করিয়া আছেন। আল্লাহ্‌র উপরই আমরা নির্ভর করি। (সুতরাং) ‘হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের এবং আমাদের জাতির মধ্যে যথাযথভাবে মীমাংসা করিয়া দাও, কেননা তুমি উত্তম মীমাংসাকারী।’