৭

الأعراف

সূরা আল্ আ’রাফ

Al-A`raf

মক্কী ২০৭ আয়াত ২৪ রুকু পারা ৮–৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ২০৭ আয়াত এবং ২৪ রুকু আছে।

وَاِمَّا یَنۡزَغَنَّکَ مِنَ الشَّیۡطٰنِ نَزۡغٌ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰہِ ؕ اِنَّہٗ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۲۰۱﴾

২০১
এবং যদি শয়তানের পক্ষ হইতে কোন প্ররোচনা তোমাকে আক্রমণ করে তাহা হইলে তুমি আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় ভিক্ষা কর, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا اِذَا مَسَّہُمۡ طٰٓئِفٌ مِّنَ الشَّیۡطٰنِ تَذَکَّرُوۡا فَاِذَا ہُمۡ مُّبۡصِرُوۡنَ ﴿۲۰۲﴾ۚ

২০২
নিশ্চয় যাহারা তাক্‌ওয়া অবলম্বন করে, যখন শয়তানের পক্ষ হইতে কোন কুমন্ত্রণা তাহাদিগকে আক্রান্ত করে১০৮৮ তখন তাহারা (আল্লাহ্‌কে) স্মরণ করে এবং দেখ! অকস্মাৎ তাহারা (সঠিকভাবে) দেখিতে আরম্ভ করে।
১০৮৮। এই উক্তির তাৎপর্য ইহাই যে, সাধু ব্যক্তিগণকে যখন শয়তান ক্রোধান্বিত করিতে প্ররোচনা দেয় অথবা দুষ্ট লোকেরা তাহাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করে,তখন তাহারা আল্লাহ্‌তা’লার শরণাপন্ন হয়।

وَاِخۡوَانُہُمۡ یَمُدُّوۡنَہُمۡ فِی الۡغَیِّ ثُمَّ لَا یُقۡصِرُوۡنَ ﴿۲۰۳﴾

২০৩
এবং তাহাদের (কাফেরদের) ভ্রাতৃবৃন্দ তাহাদিগকে বিপথগামিতার দিকে টানে এবং তাহারা (তাহাদের চেষ্টায়) কোন ত্রুটি করে না।

وَاِذَا لَمۡ تَاۡتِہِمۡ بِاٰیَۃٍ قَالُوۡا لَوۡلَا اجۡتَبَیۡتَہَا ؕ قُلۡ اِنَّمَاۤ اَتَّبِعُ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ مِنۡ رَّبِّیۡ ۚ ہٰذَا بَصَآئِرُ مِنۡ رَّبِّکُمۡ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ﴿۲۰۴﴾

২০৪
এবং যখন তুমি তাহাদের নিকট কোন (তাজা) নিদর্শন না আন তখন তাহারা বলে, ‘তুমি কেন উহার উদ্ভাবন করিয়া আনিলে না?’ তুমি বল, ‘আমি শুধু উহার অনুগমন করি যাহা আমার প্রভুর পক্ষ হইতে আমার প্রতি ওহী করা হয়; এইগুলি মো’মেন জাতির জন্য তোমাদের প্রভুর পক্ষ হইতে সমাগত সমুজ্জ্বল প্রমাণ,১০৮৯ হেদায়াত এবং রহমত।’
১০৮৯। “বাসিরাতুন”-এর বহুবচন “বাসায়েরুন” যাহার অর্থ দৃষ্টিশক্তি, বিবেক, বুদ্ধি, মনের উপলব্ধি ক্ষমতা বা বোধশক্তি বা মেধা, অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস বা প্রত্যয়, ধর্মে স্থিরতা বা দৃঢ়তা, প্রামাণিক বিরতি বা ঐশী-বিধান, যুক্তি-প্রমাণ বা দলিল, সাক্ষী, দৃষ্টান্ত যদ্বারা কাহাকেও সতর্ক করা হয়, রক্ষক বা ঢাল (মুফরাদাত, লেইন)।

وَاِذَا قُرِیٴَ الۡقُرۡاٰنُ فَاسۡتَمِعُوۡا لَہٗ وَاَنۡصِتُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ﴿۲۰۵﴾

২০৫
এবং যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা উহা কান পাতিয়া শুন১০৯০ এবং নিরব থাক যেন তোমাদের উপর রহম করা যায়।
১০৯০। কাফেরদের তাজা নিদর্শন দেখার দাবীর উত্তরে এখানে তাহাদিগকে মনোযোগের সাথে কুরআন শ্রবণের জন্য উপদেশ দেওয়া হইয়াছে। কারণ ইহা প্রচুর নিদর্শন এবং দলিল-প্রমাণাদি ধারণ করে।

وَاذۡکُرۡ رَّبَّکَ فِیۡ نَفۡسِکَ تَضَرُّعًا وَّخِیۡفَۃً وَّدُوۡنَ الۡجَہۡرِ مِنَ الۡقَوۡلِ بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ وَلَا تَکُنۡ مِّنَ الۡغٰفِلِیۡنَ ﴿۲۰۶﴾

২০৬
এবং তুমি স্মরণ কর তোমার প্রভুকে নিজ অন্তরে কাকুতি-মিনতি ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে, প্রাতে ও সন্ধ্যায়, এবং তুমি গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

اِنَّ الَّذِیۡنَ عِنۡدَ رَبِّکَ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِہٖ وَیُسَبِّحُوۡنَہٗ وَلَہٗ یَسۡجُدُوۡنَ ﴿۲۰۷﴾٪ٛ

২০৭
নিশ্চয় যাহারা তোমার প্রভুর নিকটে আছে তাহারা তাঁহার ইবাদত হইতে অহংকার করিয়া মুখ ফিরায় না, বরং তাহারা তাঁহার মহিমা কীর্তন করে এবং তাঁহার সম্মুখে সেজদা করে।১০৯১
সূরা আল্ আ’রাফ - রুকু ২৪ সিজদাহ্‌
১০৯১। “আসাল” শব্দ (“আসিল” এর বহুবচন) যাহার অর্থ সন্ধ্যা। ইহা দৈনিক চার ওয়াক্ত অর্থাৎ যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা নামাযের ইশারা হইতে পারে, পক্ষান্তরে “বেলগুদুয়ে” ফজর নামায়ের প্রতি ইংগিত হইতে পারে। এই আয়াত কুরআন শরীফের মধ্যে প্রথম সেজদার আয়াত।