৭

الأعراف

সূরা আল্ আ’রাফ

Al-A`raf

মক্কী ২০৭ আয়াত ২৪ রুকু পারা ৮–৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ২০৭ আয়াত এবং ২৪ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

الٓـمّٓصٓ ۚ﴿۲﴾

২
আলিফ লাম মীম্‌ সাদ।৯৪২
৯৪২। হযরত ইব্নে আব্বাস (রাঃ)-এর মতে, সংযুক্ত চারটি বর্ণ —“আলিফ লাম মীম্‌ সাদ”-এর মর্মার্থ “আমি আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞানী এবং আমি ব্যাখ্যাকারী”। প্রথম তিন-আয়াতের জন্য ১৬ টীকা দ্রষ্টব্য এবং “সাদ” বর্ণ ‘উফাস্‌সিলু’-এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হইয়াছে, যাহার অর্থ - ‘আমি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করি’। এই সূরায় বর্ণিত বিষয়য়াদি উক্ত ব্যাখ্যারই সমর্থন করে, কারণ এই সূরা শুধু পূর্ববর্তী সূরায় বর্ণিত বিষয়বস্তু সম্পর্কিত ঐশী-জ্ঞান সম্বলিতই নহে, বরং উহার বিশদ ব্যাখ্যা ও উদাহরণ-সমৃদ্ধও বটে। ‘সাদ’ অক্ষরটিকে এখানে সর্বাপেক্ষা সত্যনিষ্ঠ অর্থেও ব্যবহার করা হইয়াছে।

کِتٰبٌ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ فَلَا یَکُنۡ فِیۡ صَدۡرِکَ حَرَجٌ مِّنۡہُ لِتُنۡذِرَ بِہٖ وَذِکۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۳﴾

৩
(ইহা) এক মহা গ্রন্থ, যাহা তোমার উপর নাযেল করা হইয়াছে। অতএব ইহার কারণে তোমার বক্ষে যেন কোন প্রকার সংকীর্ণতার সৃষ্টি না হয় — যেন তুমি ইহার দ্বারা (মানবজাতিকে) সতর্ক কর; বস্তুতঃ ইহা মো’মেনগণের জন্য মহা উপদেশ স্বরূপ।৯৪৩
৯৪৩। এই আয়াতে শুধু নবী করীম (সাঃ)-কেই সম্বোধন করা হয় নাই, বরং প্রত্যেক মো’মেনকেই সম্বোধন করা হইয়াছে।

اِتَّبِعُوۡا مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَلَا تَتَّبِعُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَذَکَّرُوۡنَ ﴿۴﴾

৪
তোমরা উহার অনুসরণ কর যাহা তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রভুর নিকট হইতে নাযেল করা হইয়াছে এবং তিনি ব্যতীত অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করিও না। তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ কর।

وَکَمۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَا فَجَآءَہَا بَاۡسُنَا بَیَاتًا اَوۡ ہُمۡ قَآئِلُوۡنَ ﴿۵﴾

৫
এবং কত জনপদ এমন যাহা আমরা ধ্বংস করিয়াছি! এবং আমাদের শাস্তি ইহার উপর আপতিত হইয়াছিল রাত্রিকালে অথবা দুপুরে যখন তাহারা ঘুমাইতেছিল।৯৪৪
৯৪৪। কোন জনপদে বা জাতির উপরে ঐশী- শাস্তি আসার সাধারণতঃ দুইটি সময় রহিয়াছে বলিয়া এখানে উল্লেখিত হইয়াছে রাত্রির শেষাংশ এবং দ্বিপ্রহরে। এই সময়ই তাহারা হয় নিদ্রিত থাকে, নয়ত বিশ্রামের জন্য অসতর্ক অবস্থায় থাকে।

فَمَا کَانَ دَعۡوٰٮہُمۡ اِذۡ جَآءَہُمۡ بَاۡسُنَاۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡۤا اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ ﴿۶﴾

৬
সুতরাং যখন তাহাদের উপর আমাদের শাস্তি আসিয়াছিল, তাহাদের চিৎকার ইহা ব্যতিরেকে আর কিছু ছিল না যে তাহারা বলিয়াছিল, ‘নিশ্চয় আমরাই যালেম ছিলাম।’৯৪৫
৯৪৫। যখন আল্লাহ্‌র শাস্তি পরিবেষ্টন করিয়া ফেলে তখন নাস্তিকদিগকেও কোন কোন সময় আল্লাহ্‌তা’লার সাহায্যের জন্য আকুল চিৎকার করিতে দেখা যায়। ইহা এই কারণে যে, এইরূপে ভয়াবহ অবস্থায় মানুষের কাছে কেবল তাহার নিজের সম্পূর্ণ অসহায়ত্বই নহে, উপরন্তু এক উচ্চতর সত্তার অসীম শক্তি ও ক্ষমতা সম্বন্ধেও উপলব্ধি স্পষ্ট হইয়া উঠে।

فَلَنَسۡـَٔلَنَّ الَّذِیۡنَ اُرۡسِلَ اِلَیۡہِمۡ وَلَنَسۡـَٔلَنَّ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۙ﴿۷﴾

৭
এবং আমরা অবশ্যই তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিব যাহাদের নিকট (রসূলগণ) প্রেরিত হইয়াছিল এবং আমরা অবশ্যই রসূলগণকেও জিজ্ঞাসা করিব।৯৪৬
৯৪৬। এই আয়াতে এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি বর্ণিত হইয়াছে যে, সকলেই কোন না কোন প্রকারে আল্লাহ্‌তা’লার নিকট দায়ী। সকল মানুষকেই প্রশ্ন করা হইবে যে, তাহারা আল্লাহ্‌র প্রেরিত রসূলকে কিরূপে গ্রহণ করিয়াছিল এবং নবীগণকে জিজ্ঞাসা করা হইবে, কিভাবে তাঁহারা ঐশী সংবাদ পৌঁছাইয়াছিলেন এবং লোকেরা উহার প্রতি কিরূপে সাড়া দিয়াছিল।

فَلَنَقُصَّنَّ عَلَیۡہِمۡ بِعِلۡمٍ وَّمَا کُنَّا غَآئِبِیۡنَ ﴿۸﴾

৮
অতঃপর, আমরা অবশ্যই জ্ঞানের ভিত্তিতে তাহাদিগকে (তাহাদের কার্যকলাপের) তথ্য বর্ণনা করিব এবং আমরা কখনও অনুপস্থিত ছিলাম না।

وَالۡوَزۡنُ یَوۡمَئِذِ ۣالۡحَقُّ ۚ فَمَنۡ ثَقُلَتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ﴿۹﴾

৯
এবং সেই দিনে ওজন হইবে নিশ্চিত সত্য৯৪৭। অতএব, যাহাদের পাল্লা ভারী হইবে তাহারাই সফলকাম হইবে।
৯৪৭। “ওজন করা” কথাটি এখানে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। জড় বস্তুর ওজন করার জন্য ধাতব বা কাঠের নির্মিত স্কেল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু যাহা জড় বা পার্থিব নহে এমন বিষয় বা বস্তুর ওজন বা পরিমাপ করার অর্থ হইতেছে, উহার প্রকৃত মূল্য, মান বা গুরুত্ব নির্ধারণ করা।

وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ بِمَا کَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَظۡلِمُوۡنَ ﴿۱۰﴾

১০
এবং যাহাদের পাল্লা হালকা হইবে প্রকৃতপক্ষে তাহারাই নিজেদের আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিয়াছে, কেননা তাহারা আমাদের নিদর্শন সমূহের প্রতি অন্যায়াচরণ৯৪৮ করিত।
৯৪৮। “যুলুম” শব্দের আক্ষরিক অর্থ-কোন বিষয় বা বস্তুকে ভুল স্থানে স্থাপন করা (লেইন)। এখানে ইহার অর্থ হইতেছে যে, আল্লাহ্‌তা’লার নিদর্শনাবলীকে যেভাবে গ্রহণ করা উচিৎ ছিল অবিশ্বাসীগণ সেইভাবে গ্রহণ করে নাই। ঐশী-নিদর্শন সমূহের উদ্দেশ্য ছিল তাহাদের মনে ভয় ও বিনয় সঞ্চারিত করা, কিন্তু তদপরিবর্তে তাহারা অধিকতর রূঢ় ও উদ্ধত হইয়াছিল এবং উপহাস ও ব্যঙ্গোক্তির দ্বারা তাহা প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল।