الأعراف
Al-A`raf
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ২০৭ আয়াত এবং ২৪ রুকু আছে।
শিরোনাম এবং অবতীর্ণ হওয়ার তারিখঃ
হযরত ইবনে আব্বাস, ইবনে যোবায়ের, হামান, মুজাহিদ, ইকরিমা, আতা এবং জাবির বিন্ যায়েদের মতে সূরাটি মক্কী সূরা সমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং ১৬৫ হইতে ১৭২ আয়াত ছাড়া সম্পূর্ণ সূরাটি হিজরতের পূর্বেই অবতীর্ণ হইয়াছে। কাতাদা অবশ্য এই অভিমত পোষণ করেন যে, এই সূরার ১৬৫ আয়াতটি মদীনায় অবতীর্ণ হইয়াছে। সূরাটির শিরোনাম অর্থাৎ ‘আল্ আ’রাফ’ ইহার ৪৭ আয়াত হইতে লওয়া হইয়াছে। অধিকাংশ তফসীরকারক এই সূরাটির বিষয়বস্তু এবং শিরোনাম ‘আল্ আ’রাফ’-এর মধ্যে সত্যিকারের কি সম্পর্ক তাহা নির্ণয় করিতে পারেন নাই। ইহা মূলতঃ এই কারণে যে, তাহারা ‘আ’রাফ’ শব্দটিতে একটি ভুল অর্থ আরোপ করিয়াছেন। তাহারা মনে করেন যে, আ’রাফ হইল বেহেশত্ এবং দোযখের মধ্যবর্তী একটি আধ্যাত্মিক অবস্থান স্থল এবং আ’রাফের আধিবাসীরা দোযখ বাসী হইতে স্বতন্ত্র প্রতীয়মান হইলেও তখন পর্যন্ত বেহেশতে প্রবেশ লাভ করিতে পারে নাই। পবিত্র কুরআন ‘আ’রাফের’ এই ধরণের অর্থ সমর্থন করে না—কেননা ইহাতে শুধুমাত্র দুই দল লোক বেহেশতবাসী ও দোযখবাসীর কথাই বর্ণিত হইয়াছে, ইহাতে অন্য কোন তৃতীয় দল বা শ্রেণীর কথা উল্লেখ করা হয় নাই। তাছাড়া ‘আ’রাফ’ শব্দের সার্বিক ব্যাখ্যাও মধ্যবর্তী একটি আধ্যাত্মিক অবস্থাপ্রাপ্ত লোকের কথা সমর্থন করে না। আবার কোন অভ্যন্তরীণ যুক্তিও ইহার সমর্থনে উদ্ধৃত করা যায় না। কুরআনের বর্ণনায় দেখা যায় যে, আ’রাফবাসীরা একসময় বেহেশতবাসীদের সম্বোধন করিয়া কথা কহিতেছে, অন্য সময় আবার দোযখবাসীদের সাথে বাক্যালাপ করিতেছে। শুধু তাই নয়, তাহাদের আধ্যাত্মিক জ্ঞান এমন সুদূরপ্রসারী যে, তাহারা বেহেশতবাসীদের বিশেষ চিহ্ন দেখিয়া সনাক্ত করিতে সক্ষম এবং দোযখবাসীদেরও বিশেষ নিদর্শন দেখিয়া চিহ্নিত করিতে পারে। তাহারা বেহেশতবাসীদের জন্য প্রার্থনা করে (৭ঃ৪৭) এবং দোযখবাসীদের তিরস্কার করে (৭ঃ৪৯,৫০)। ইহা কি আশ্চর্যজনক নয় যে, যাহাদের নিজেদের অবস্থাই এখন পর্যন্ত দোদুল্যমান, অর্থাৎ বেহেশতে না দোযখে যাইবে তাহা সঠিকভাবে নির্ধারিত হয় নাই, তাহারা কি করিয়া এই ধরণের উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত লোকের অনুরূপ সাহস ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করে? আসল কথা হইল, আ’রাফবাসীরা হইতেছে আল্লাহ্তা’লার নবী-রসূল, যাহারা শেষ বিচারের দিন ঐশী অনুগ্রহে এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করিবে, যাহার বদৌলতে তাঁহারা বেহেশতবাসীদের স্বাগতম জানাইয়া দোয়া করিবে এবং দোযখবাসীদের তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করিবে। আর যেহেতু কুরআন মজীদের সূরাসমূহের মধ্যে প্রথমে এই সূরাতেই কতিপয় নবী-রসূলের জীবনী সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা হইয়াছে, কাজেই সংগত কারণেই ইহার নাম ‘আল-আ’রাফ’ রাখা হইয়াছে। ইহা ছাড়া, ‘আ’রাফ’ শব্দটির গঠনও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। ‘আ’রাফ’ শব্দটি ‘উরফ্’ শব্দের বহুবচন, যাহার অর্থ একটি সুউচ্চ উন্নত স্থান, এবং যেখানে উন্নীত হইতে আল্লাহ্ প্রদত্ত শক্তির পূর্ণ সদ্ব্যবহার ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির প্রয়োজন। এই সমস্ত দিক বিবেচনা করিয়া ‘আ’রাফ’ দ্বারা ঐ সমস্ত শিক্ষাকেই বুঝায় যেগুলির সত্যতা বিচার-বুদ্ধি বা মানবীয় প্রকৃতির সাক্ষ্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। যেহেতু নবী রসূলদের শিক্ষা ও আদর্শে এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য সবাধিক বিদ্যমান থাকে, তাই সংগত কারণে তাঁহারাই এই উচ্চ আধ্যাত্মিক মোকামের হকদার এবং তাঁহাদেরকেই সঙ্গতভাবে ‘আ’রাফের’ অধিবাসী বা উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ হিসাবে অভিহিত করা হইয়াছে। সংক্ষেপে, সূরা আল্ আ’রাফে এমন কিছু ব্যক্তিত্বের উদাহরণ দেওয়া হইয়াছে যাহাদের জীবন ছিল অত্যন্ত মহান ও সুউচ্চ আধ্যাত্মিক মর্যাদা সম্পন্ন এবং যাঁহারা অতীতে মানব-প্রকৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী শাশ্বত সত্যের শিক্ষা প্রদান করিয়াছিলেন। বলা বাহুল্য, সমস্ত নবী-রসূলদের সমসাময়িক লোকজন তাঁহাদের সর্বাত্মক বিরোধিতা করিয়াছিল এবং তাঁহাদেরকে হেয় ও অপদস্থ করিবার জন্য কোন চেষ্টারই ত্রুটি করে নাই। কিন্তু মহান আল্লাহ্তা’লা পরিণামে তাহাদেরকেই বিজয়ী করিয়াছেন এবং অত্যন্ত সুউচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করিয়াছেন।
বিষয়বস্তু এবং প্রসংগঃ
আধ্যাত্মিক অর্থে বলিতে গেলে এই সূরাটি ইহার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সূরা সমূহের মধ্যে এক ধরণের বরযখ বা মধ্যবর্তী যোগসূত্র। স্বাভাবিকভাবে, পূর্ববর্তী সূরা সমূহের বিষয়বস্তু এক নূতন আঙ্গিকে এই সূরায় পেশ করা হইয়াছে। পূর্ববতী সূরা সমূহের মূলভাব ছিল ইহুদী, খৃষ্টান ও অন্যান্য ধর্মমত যেগুলি দার্শনিক তত্ব ও যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত বলিয়া দাবী করা হয় সেগুলির দাবী খণ্ডন করা। তেমনি এই সূরাতে ঐ সমস্ত ভ্রান্ত ধর্মমতের ভুল বিশ্বাস যেমন একদিকে প্রদর্শন করা হইয়াছে, তেমনি অন্যদিকে ইসলামের সত্যতাও সাথে সাথে প্রতিষ্ঠিত করা হইয়াছে। প্রথমেই বলা হইয়াছে যে, যেহেতু কুরআন আল্লাহ্তা’লার প্রেরিত বাণী, সেহেতু ইহার ধ্বংস বা ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার কোন আশংকাও নাই। অতঃপর, মুসলমানদের সতর্ক করিয়া বলা হইয়াছে যে, সাময়িকভাবে কোন হতাশা বা নৈরাশ্যজনক অবস্থা দেখিয়া তাহারা যেন অবিবেচকের মত অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে কোন আপোষ-নিষ্পত্তির মনোভাব প্রদর্শন না করে। কেননা, সত্য ধর্মের বিরুদ্ধশক্তি যত প্রবল ও শক্তি-ধরই হউক না কেন, পরিণামে তাহারা অপদস্থ হইবে। অতপর, বলা হইয়াছে যে, আল্লাহ্তা’লা মানুষকে এক মহান উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন, যদিও অধিকাংশ মানুষ জীবনের এই উচ্চ লক্ষ্যকে প্রায়শঃই ভুলিয়া যায়। এই বিষয়টির একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে পৃথিবীর বুকে হযরত আদমের (আঃ) জান্নাতের জীবন এবং তথা হইতে তাঁহার নির্বাসনের ঘটনা বর্ননা করিয়া বলা হইয়াছে যে, মানুষ সৃষ্টির আদি লগ্নেই আল্লাহ্তা’লা তাঁহার উচ্চ আধ্যাত্মিক মোকাম লাভের ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ মানুষ ঐশী-পরিকল্পনা ভুলিয়া গিয়া শয়তানের অনুসরণ করে। অতঃপর, বর্ণনা করা হইয়াছে যে, পূর্ববর্তী ধর্মবিশ্বাসগুলি ছিল মূলতঃ ব্যক্তি-কেন্দ্রিক এবং ব্যক্তির উৎকর্ষতার প্রতিই নযর দিত, কিন্তু ইসলামের শিক্ষা সার্বজনীন এবং তাই ইসলাম সমস্ত সমাজ ব্যবস্থার সংস্কার ও সংশোধনের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে। পূর্ববর্তী নবী-রসূলগণ যেখানে ব্যক্তিকে বেহেশতের আস্বাদ গ্রহণ করাইবার চেষ্টা করিয়াছে, সেখানে ইসলামের প্রচেষ্টা হইতেছে যাহাতে সকল সম্প্রদায় ও জাতিসমূহ বেহেশ্ত লাভ করিতে পারে উহার ব্যবস্থা করা। কিন্তু সংস্কারধর্মী প্রতিটি প্রচেষ্টাই ইহার লক্ষ্যে পৌঁছাবার পথে নানারূপ বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হইয়াছে। তাই, মুসলিম সম্প্রদায় যখন সত্যিকারের ইসলামী শিক্ষা ও নীতি হইতে দূরে সরিয়া পড়ে, তখন আল্লাহ্তা’য়ালা স্বীয় অনুগ্রহে নবী করীম (সাঃ)-এর উম্মত হইতেই প্রত্যাদিষ্ট কোন সংস্কারকের আবির্ভাব ঘটান যাহাতে মানুষ জামায়াতী জীবন হইতে বিচ্যুত না হয় এবং জাতীয় উন্নতি ও প্রগতি হইতে বঞ্চিত না হয়। অতঃপর, সূরাটিতে এই ধরণের প্রতিশ্রুত সংস্কারকদের স্বীকৃতি ও সত্যতা নির্ণয়ের মানদণ্ড এবং বাঞ্ছনীয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করা হইয়াছে এবং বলা হইয়াছে যে, ইহাদের বিরুদ্ধবাদী শক্তি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইবে। অতঃপর বলা হইয়াছে যে, সমস্ত ঐশী-পরিকল্পনাই ক্রমে ক্রমে কার্যকরী হইয়া থাকে। পার্থিব জগতের অনুরূপ আধ্যাত্মিক জগতেও সমস্ত প্রকার উন্নতি ক্রমবিকাশের সূত্রে গাঁথা এবং এই বিবর্তনের ধারা অনুসারেই হযরত আদম (আঃ) হইতে শুরু করিয়া হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত মানুষের আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়াছে। সেইজন্য হযরত রসূলে করীম (সাঃ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষায় সমগ্র মানবজাতিকে উন্নতিশীল ও সংগঠিত করণের উপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হইয়াছে। মুসলমানকে তাই সব সময় এই সত্যকে মনে রাখিতে হইবে যে, একটি বিরাট মহীরুহ অতি ছোট বীজ হইতে যেইরূপ জন্মলাভ করিয়া থাকে, তেমনি অনেক বড় ঘটনা বা বিষয় উহার উষালগ্নে অনেকটা অজ্ঞাত পরিচয় থাকিয়া যাইতে পারে, যাহা হয়ত তেমন কোন উল্লেখের দাবী রাখে না। তাই, মুসলমানের জন্য উহাই সঙ্গত যে, তাহারা যেন সর্বাবস্থায় তাহাদের চোখ কান খোলা রাখে এবং তাহাদের সৃষ্টির মূখ্য উদ্দেশ্য যেন কোন অবস্থাতেই তাহাদের অগোচরে না থাকিয়া যায়, অন্যথায় চিরদিনের জন্য ইহা হয়ত হারানোই থাকিয়া যাইবে।
অতঃপর, ৬০ আয়াত হইতে পূর্বের কয়েকজন নবী-রসূলের জীবন-ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে যে, এই পৃথিবীর বুকে মানুষের পরম সুখকর যেই অবস্থান হইতে তাহারা একদিন নির্বাসিত হইয়াছিল, সেইখানে তাহাদের পূনর্বাসন করাই ছিল এই সমস্ত নবী-রসূলের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য। অতঃপর বলা হইয়াছে যে, ঈমানবিল্লাহ্ মানুষের স্বভাবজাত, মানুষের অভ্যন্তরীণ সত্তার গভীরে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে নিহিত রহিয়াছে। পক্ষান্তরে, মানুষের জীবনে পরবর্তীতে অশুভের সৃষ্টি হয় এবং ইহা মূলতঃ পারিপার্শ্বিক প্রতিকূল অবস্থা হইতে জন্মলাভ করিয়া থাকে। অবশ্য এই কথা সত্য যে, শুভগুণ মানুষের স্বভাবের বৈশিষ্ট্য হওয়া সত্বেও ঐশী বাণীর সাহায্য ছাড়া মানুষ কখনো পূর্ণতা লাভ করিতে পারে না। বরং ঐশী-নির্দেশ অমান্য করার ফলে মানুষ তাহার স্বভাবজাত ভাল বৈশিষ্ট্যগুলিকে হারাইয়া ফেলে এবং আধ্যাত্মিকভাবে ধ্বংস হইয়া যায়। অতঃপর, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মিশনকে উল্লেখ করিয়া তাঁহার বিরুদ্ধবাদীদেরকে সতর্ক করা হইয়াছে, যাহাতে তাহারা এই প্রকাশ্য সত্যকে উপেক্ষা না করে, যাহা হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর বুদ্ধি, বিচার শক্তি ঐশী-নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ার কারণে ভ্রম হইতে মুক্ত এবং তাঁহার শিক্ষাপ্রাকৃতিক আইন ও মানব-প্রকৃতির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যুগের সাক্ষ্য-প্রমাণও তাঁহার অনুকূলে। অতঃপর, অবিশ্বাসীদের কিছু সংশয় ও আশংকার অপনোদন করিয়া বলা হইয়াছে যে, বিরুদ্ধবাদীদের প্রবল শক্রুতা সত্বেও আল্লাহতা’লা তাঁহাকে সর্বপ্রকার অনিষ্ট হইতে রক্ষা করিবেন। অবশ্য মুসলমানদেরকে স্বরণ করাইয়া দেওয়া হইয়াছে যে তাহারা যেন কাফেরদের নির্যাতন ধৈর্যের সহিত শুধু মোকাবিলাই না করে, বরং তাহাদের জন্য যেন দোয়াও করে। অতঃপর, এই বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হইয়াছে যে, পূর্ববর্তী যুগের নবীদের বিরুদ্ধবাদীরা যেরূপ তাঁহাদের নিকট নিদর্শন দেখিতে চাহিত, তদ্রুপ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বিরুদ্ধবাদীরাও তাঁহার নিকট নিদর্শন চাহিতে থাকিবে, যদিও নিদর্শন প্রদর্শন করা একমাত্র আল্লাহ্তা’লারই এখতিয়ারভুক্ত। তাঁহার অনন্ত জ্ঞানে যখন তিনি প্রয়োজন মনে করেন, তখনই নিদর্শন দেখাইয়া থাকেন। কাফেরদিগকে উদ্দেশ্য করিয়া বলা হইয়াছে যে, তাহারা কি ঐশী নিদর্শন হিসাবে কুরআনকে দেখে না? বস্তুতঃ কুরআন, যাহা নবুওয়াতের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ করিয়াছে, উহা স্বয়ং এক জীবন্ত ও পর্যাপ্ত নিদর্শন। মুসলমানদেরকে তাই এই জীবন্ত নিদর্শনের অলৌকিকতার যথোচিত মূল্য—যাহা সত্যিকার ভাবেই ইহার প্রাপ্য-তাহা প্রদানের জন্য উৎসাহিত করা হইয়াছে। অবশ্য এই কথা সত্য যে, যত বেশী ঐশী-আলো মানুষকে দান করা হইবে, তত বেশী কুরআনের যথোচিত মূল্যায়ণ করা তাহার পক্ষে সম্ভব হইবে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
الٓـمّٓصٓ ۚ﴿۲﴾
کِتٰبٌ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ فَلَا یَکُنۡ فِیۡ صَدۡرِکَ حَرَجٌ مِّنۡہُ لِتُنۡذِرَ بِہٖ وَذِکۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۳﴾
اِتَّبِعُوۡا مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَلَا تَتَّبِعُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَذَکَّرُوۡنَ ﴿۴﴾
وَکَمۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَا فَجَآءَہَا بَاۡسُنَا بَیَاتًا اَوۡ ہُمۡ قَآئِلُوۡنَ ﴿۵﴾
فَمَا کَانَ دَعۡوٰٮہُمۡ اِذۡ جَآءَہُمۡ بَاۡسُنَاۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡۤا اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ ﴿۶﴾
فَلَنَسۡـَٔلَنَّ الَّذِیۡنَ اُرۡسِلَ اِلَیۡہِمۡ وَلَنَسۡـَٔلَنَّ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۙ﴿۷﴾
فَلَنَقُصَّنَّ عَلَیۡہِمۡ بِعِلۡمٍ وَّمَا کُنَّا غَآئِبِیۡنَ ﴿۸﴾
وَالۡوَزۡنُ یَوۡمَئِذِ ۣالۡحَقُّ ۚ فَمَنۡ ثَقُلَتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ﴿۹﴾
وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ بِمَا کَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَظۡلِمُوۡنَ ﴿۱۰﴾