৭

الأعراف

সূরা আল্ আ’রাফ

Al-A`raf

মক্কী ২০৭ আয়াত ২৪ রুকু পারা ৮–৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ২০৭ আয়াত এবং ২৪ রুকু আছে।

فَوَسۡوَسَ لَہُمَا الشَّیۡطٰنُ لِیُبۡدِیَ لَہُمَا مَا وٗرِیَ عَنۡہُمَا مِنۡ سَوۡاٰتِہِمَا وَقَالَ مَا نَہٰکُمَا رَبُّکُمَا عَنۡ ہٰذِہِ الشَّجَرَۃِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَا مَلَکَیۡنِ اَوۡ تَکُوۡنَا مِنَ الۡخٰلِدِیۡنَ ﴿۲۱﴾

২১
কিন্তু শয়তান তাহাদের উভয়কে কুমন্ত্রণা দিল, যেন সে (শয়তান) তাহাদের লজ্জার বিষয়াবলী,৯৫৭-ক যাহা তাহাদের নিকট গোপন রাখা হইয়াছিল, তাহাদের নিকট প্রকাশ করিয়া দেয়, এবং সে বলিল, ‘তোমাদের প্রভু তোমাদিগকে এই বৃক্ষ হইতে শুধু এই জন্য নিষেধ করিয়াছেন যেন তোমরা উভয়ে ফিরিশ্‌তা হইয়া না যাও অথবা অমর হইয়া না যাও।’
৯৫৭-ক। যখন অসৎচিন্তা সমূহ মানুষকে চূড়ান্ত ধ্বংসের দিকে পরিচালিত করে, তখন সেগুলি তাহার দূর্বলতাসমূহকেও তাহার নিকট প্রকাশিত করিয়া থাকে। যে স্থানে হযরত আদম (আঃ)-কে বাস করিতে বলা হইয়াছিল ‘কুরআন করীমে’ উহাকে রূপকভাবে “জান্নাত” রূপে বর্ণনা করা হইয়াছে। অতএব, পরবতী বর্ণনাতেও উক্ত ‘রূপক অর্থ’ ব্যবহৃত হইয়াছে এবং হযরত আদম (আঃ)-কেও যে বৃক্ষের নিকটবর্তী হইতে নিষেধ করা হইয়াছিল, উক্ত বৃক্ষ ছিল কোন বংশ বা গোত্র যাহার লোকদের নিকট হইতে তাঁহাকে দূরে থাকিতে আদেশ করা হইয়াছিল। কারণ সেই গোত্রের লোকেরা তাঁহার শত্রু ছিল এবং তাহারা তাঁহার ক্ষতি সাধনে সর্বপ্রকার চেষ্টা করিত।

وَقَاسَمَہُمَاۤ اِنِّیۡ لَکُمَا لَمِنَ النّٰصِحِیۡنَ ﴿ۙ۲۲﴾

২২
এবং সে তাহাদের নিকট কসম খাইল (এই বলিয়া) ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের জন্য হিতাকাংখী।’

فَدَلّٰٮہُمَا بِغُرُوۡرٍ ۚ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَۃَ بَدَتۡ لَہُمَا سَوۡاٰتُہُمَا وَطَفِقَا یَخۡصِفٰنِ عَلَیۡہِمَا مِنۡ وَّرَقِ الۡجَنَّۃِ ؕ وَنَادٰٮہُمَا رَبُّہُمَاۤ اَلَمۡ اَنۡہَکُمَا عَنۡ تِلۡکُمَا الشَّجَرَۃِ وَاَقُلۡ لَّکُمَاۤ اِنَّ الشَّیۡطٰنَ لَکُمَا عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ ﴿۲۳﴾

২৩
অতঃপর, সে ধোকা দিয়া উভয়কে পথচ্যুত করিল। অতঃপর, যখন তাহারা ঐ বৃক্ষের আস্বাদ গ্রহণ করিল, তাহাদের লজ্জার বিষয়াবলী৯৫৮ তাহাদের নিকট প্রকাশিত হইয়া পড়িল এবং তাহারা উভয়েই জান্নাতের পাতাসমূহের৯৫৯ দ্বারা নিজদিগকে আবৃত করিতে লাগিল। এবং তাহাদের প্রভু তাহাদিগকে (এই বলিয়া) ডাকিলেন, ‘আমি কি তোমাদের উভয়কে এই বৃক্ষ হইতে নিষেধ করি নাই এবং তোমাদিগকে বলি নাই যে, নিশ্চয় শয়তান তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য শত্রু?’
৯৫৮। “সাওয়াতুন” অর্থ যে কোন মন্দ, অশুভ, অসাধু, অনুচিত বা জঘন্য কথা বা অভ্যাস বা কর্ম যাহা লোকে গোপন রাখিতে পসন্দ করে অথবা লজ্জা, নগ্নতা (লেইন)। সাওয়াতুন শব্দ এখানে “লজ্জার বিষয় বা বস্তু” অথবা “দুর্বলতা” অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে, কারণ কোন মানুষের নগ্নতা তাহার নিজের নিকট গোপন নহে। বস্তুতঃ হযরত আদম (আঃ)-এর বিশেষ কোন দুর্বলতা তাঁহার নিকট অজানা ছিল এবং তাঁহার শত্রুরা যখন প্রলোভন দেখাইয়া তাঁহাকে নিরাপদ অবস্থা হইতে বিচ্যুত করিয়া বসিল, তখনই তিনি তাঁহার দুর্বলতা উপলব্ধি করিতে পারিলেন। প্রত্যেক মানুষের কিছু কিছু দুর্বলতা তখনই তাহার নিকট প্রকাশ হইয়া পড়ে, যখন সে চাপে পড়ে অথবা যখন সে প্ররোচনায় পড়িয়া পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। এইরূপই ঘটিয়াছিল যখন হযরত আদম (আঃ)-কে শয়তান প্রতারিত করিয়াছিল, তখনই তিনি তাঁহার কিছু স্বাভাবিক দুর্বলতা সম্বন্ধে বুঝিতে পারিয়াছিলেন। কুরআন করীম এই কথা বলে না যে, হযরত আদম ও তাঁহার স্ত্রীর দুর্বলতাসমূহ অন্যান্য লোকের নিকট প্রকাশিত হইয়াছিল, পরন্তু তাঁহারা নিজেরাই কেবল সেইগুলি সম্বন্ধে জ্ঞাত হইয়াছিলেন।
৯৫৯। “ওয়ারাক”এর শাব্দিক অর্থ কোন বস্তুর উৎকৃষ্ট ও তাজা অবস্থা; কোন সম্প্রদায়ের কিশোর, তরুণদল (লিসান)। ইহার মর্মার্থ হইতেছে যে, যখন শয়তান হযরত আদম (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে মতভেদ ও বিভেদ সৃষ্টি করাতে কৃতকার্য হইল এবং উহার কতক দুর্বল সদস্য দল ত্যাগ করিয়া গেল, তিনি জান্নাত (বাগান)-এর “আওরাক” (পত্র বা পাতা) অর্থাৎ সম্প্রদায়ের তরুণদিগকে সংঘবদ্ধ করিলেন এবং তাহাদের সহায়তায় তাঁহার লোকদিগকে পুনঃ একতাবদ্ধ এবং পুনর্গঠিত করিতে আরম্ভ করিলেন। সাধারণতঃ ইহাই প্রতীয়মান হয় যে, তরুণ সম্প্রদায় প্রচলিত ধ্যান-ধারণা হইতে এবং পক্ষপাত-দুষ্টতা হইতে অনেকাংশে মুক্ত থাকে। ফলে তাহারা আল্লাহ্‌তা’লার নবীকে মান্য করে ও সাহায্য করিয়া থাকে (১০ঃ৮৪)। কুরআন মজীদের বর্ণনা অনুযায়ী যে ব্যক্তি আদম (আঃ)-এর অনুগত হইতে অস্বীকার করিয়াছিল তাহাকে ইবলিস্ নামে আখ্যায়িত করা হইয়াছে; অথচ যে ব্যক্তি তাঁহাকে প্রলুব্ধ করিয়াছিল তাহাকে ‘শয়তান’ বলা হইয়াছে। এই পার্থক্য কেবল ব্যাখ্যাধীন আয়াতেই দেখা যায় না, বরং ইহা কুরআনের সংশ্লিষ্ট সকল আয়াতে দেখা যায়। ইহা দ্বারা প্রতিপন্ন হয় যে, উক্ত বিবরণে উল্লেখিত ‘ইবলিস্’ এবং ‘শয়তান’ দুই ভিন্ন ব্যক্তি। প্রকৃত পক্ষে ‘শয়তান’ শব্দ কেবল অসৎ আত্মাকেই বুঝায় না, অধিকন্তু ঐ সকল মানুষের জন্যও ব্যবহৃত হইয়া থাকে যাহারা তাহাদের অসৎকর্ম এবং প্রকৃতির কারণে রক্তমাংসের গঠিত দেহযুক্ত শয়তানরূপে যেন মূর্ত হইয়া উঠে। হযরত আদম (আঃ)-কে যে শয়তান প্রলুব্ধ করিয়াছিল এবং তাঁহার পদস্খলনের কারণ ঘটাইয়াছিল, সে কোন অদৃশ্য অসৎ আত্মা ছিল না, পরন্তু মানুষের মধ্য হইতেই রক্তমাংসের এক কুটিল অসৎ ব্যক্তি ছিল,—এক পাপিষ্ঠ শয়তানের বহিঃপ্রকাশও ইব্‌লিসের প্রতিনিধি। সে ঐ গোত্রের একজন ছিল, যাহার নিকট হইতে দূরে থাকার জন্য আদম (আঃ)-কে আদেশ করা হইয়াছিল। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, রসূল করীম (সাঃ) বলিয়াছেন যে, সেই ব্যক্তির নাম ছিল ’হারিস’ (তিরমিযী, কিতাবুত্ তফসীর) যদ্বারা আরো প্রতিপন্ন হয় যে, সে জড়দেহী মানুষ ছিল, কোন অশুভ শক্তি ছিল না।

قَالَا رَبَّنَا ظَلَمۡنَاۤ اَنۡفُسَنَا ٜ وَاِنۡ لَّمۡ تَغۡفِرۡ لَنَا وَتَرۡحَمۡنَا لَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ﴿۲۴﴾

২৪
তাহারা বলিল, ‘হে আমাদের প্রভু! নিশ্চয় আমরা আমাদের প্রাণের৯৬০ উপর অত্যাচার করিয়াছি এবং তুমি যদি আমাদিগকে ক্ষমা না কর এবং আমাদের উপর রহম না কর, তাহা হইলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হইয়া যাইব।’
৯৬০। আদম (আঃ) অচিরেই তাঁহার ভুল বুঝিতে পারিয়াছিলেন এবং অনুতপ্ত হইয়া অতি দ্রুত আল্লাহ্‌তা’লার দিকে প্রত্যাবর্তন করিলেন। প্রকৃত ঘটনা - হযরত আদম (আঃ)-এর ভুলটি এই ছিল যে, তিনি মানুষরূপী শয়তানকে তাঁহার শুভাকাঙ্খীরূপে গ্রহণ করিয়াছিলেন, যদিও আল্লাহ্‌তা’লা এই লোকের সম্পর্কে তাঁহাকে পূর্বাহ্নেই সতর্ক করিয়া দিয়াছিলেন।

قَالَ اہۡبِطُوۡا بَعۡضُکُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ ۚ وَلَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مُسۡتَقَرٌّ وَّمَتَاعٌ اِلٰی حِیۡنٍ ﴿۲۵﴾

২৫
তিনি বলিলেন, ‘তোমরা সকলে এখান হইতে চলিয়া যাও,৯৬১ তোমাদের কতক কতকের দুশমন হইবে এবং তোমাদের জন্য এক (নির্দিষ্ট) কাল পর্যন্ত এই পৃথিবীতে বসবাসের স্থান ও জীবিকা নির্বাহের উপকরণ (নির্ধারিত) রহিয়াছে।’
৯৬১। এই আয়াত দ্বারা ইহা স্পষ্ট হয় যে, আদম (আঃ) তাঁহার জন্মভূমি হইতে হিজরত করার জন্য আদিষ্ট হইয়াছিলেন, কারণ তাঁহার সম্প্রদায়ের বিভিন্ন লোকের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণার সৃষ্টি হইয়াছিল। ইহাতে আরো বুঝা যায় যে, আল্লাহ্‌তা’লা আদম (আঃ)-কে যেই “উদ্যান” ত্যাগ করিতে হুকুম করিয়াছিলেন উহা বেহেশ্‌ত ছিল না। সম্ভবতঃ হযরত আদম (আঃ) তাঁহার মাতৃভূমি মেসোপটেমিয়া হইতে হিজরত করিয়া কোন পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়াছিলেন। এই দেশান্তর সম্ভবতঃ অস্থায়ী ছিল এবং তিনি কিছু সময় পরে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করিয়াছিলেন। অবশ্য ‘এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত’ শব্দগুচ্ছ অস্থায়ী দেশান্তরের একটা অস্পষ্ট ইংগিত বহন করে। ভবিষ্যতে সাবধান থাকার জন্য এই আয়াতে আদম (আঃ)-কে সতর্ক করিয়া দেওয়া হয়, কারণ উহাই তাঁহার জন্মভূমি ছিল এবং যেখানে তাঁহাকে স্থায়ীভাবে বসবাস করিতে হইয়াছিল।

قَالَ فِیۡہَا تَحۡیَوۡنَ وَفِیۡہَا تَمُوۡتُوۡنَ وَمِنۡہَا تُخۡرَجُوۡنَ ﴿٪۲۶﴾

২৬
তিনি (পুনরায়) বলিলেন, ‘তোমরা ইহাতে জীবন ধারণ করিবে এবং এখানেই তোমরা মৃত্যু বরণ করিবে এবং এখান হইতে তোমাদিগকে বাহির করা হইবে।৯৬২
সূরা আল্ আ’রাফ - রুকু ২
৯৬২। সাধারণ অর্থে— এই আয়াতের ইংগিত হইতেছে যে, কোন মানুষ এই জড়দেহে আকাশে উঠিতে পারে না। মানবকে অবশ্যই এই পৃথিবীতে বাঁচিতে হইবে এবং এই পৃথিবীতেই তাহাকে মরিতে হইবে।

یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ قَدۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکُمۡ لِبَاسًا یُّوَارِیۡ سَوۡاٰتِکُمۡ وَرِیۡشًا ؕ وَلِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ ؕ ذٰلِکَ مِنۡ اٰیٰتِ اللّٰہِ لَعَلَّہُمۡ یَذَّکَّرُوۡنَ ﴿۲۷﴾

২৭
হে আদম সন্তানগণ! আমরা তোমাদের জন্য এমন পোশাক নাযেল করিয়াছি, যাহা তোমাদের লজ্জাস্থান সমূহকে আবৃত করে এবং (যাহা) সৌন্দর্য স্বরূপ; কিন্তু তাক্‌ওয়ার পোশাক৯৬৩ উহা সর্বোত্তম। ইহা আল্লাহ্‌র আদেশাবলীর অন্যতম যেন তাহারা উপদেশ গ্রহণ করিতে পারে।
৯৬৩। ইহা ধার্মিকতার অর্থাৎ তাক্‌ওয়ার পোশাক ছিল যদ্বারা হযরত আদম (আঃ) ‘জান্নাতে’ তাঁহার ‘নগ্নতা’ বা দুর্বলতা ঢাকিয়াছিলেন।

یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ لَا یَفۡتِنَنَّکُمُ الشَّیۡطٰنُ کَمَاۤ اَخۡرَجَ اَبَوَیۡکُمۡ مِّنَ الۡجَنَّۃِ یَنۡزِعُ عَنۡہُمَا لِبَاسَہُمَا لِیُرِیَہُمَا سَوۡاٰتِہِمَا ؕ اِنَّہٗ یَرٰٮکُمۡ ہُوَ وَقَبِیۡلُہٗ مِنۡ حَیۡثُ لَا تَرَوۡنَہُمۡ ؕ اِنَّا جَعَلۡنَا الشَّیٰطِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ لِلَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۲۸﴾

২৮
হে আদম সন্তানগণ! শয়তান যেন তোমাদিগকে বিপথগামী না করে, যেভাবে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত হইতে বহিষ্কার করিয়াছিল, সে উভয়ের নিকট হইতে তাহাদের পোশাক হরণ করিয়াছিল যেন তাহাদিগকে তাহাদের লজ্জাস্থানগুলিকে দেখাইয়া দেয়। নিশ্চয় সে এবং তাহার গোত্র তোমাদিগকে এমন স্থান হইতে দেখে যেখান হইতে তোমরা তাহাদিগকে দেখ না।৯৬৪ নিশ্চয় আমরা শয়তানদিগকে উহাদের বন্ধু করিয়া দিয়াছি যাহারা ঈমান আনে না।
৯৬৪। মন্দ বা অসৎ আত্মা যাহা শয়তানরূপে আখ্যায়িত এবং যাহারা ইহার মত বা সদৃশ তাহারা সাধারণতঃ দৃষ্টির আড়ালে থাকে। তাহারা অদৃশ্যভাবে তাহাদের প্রভাব খাটায় এবং মানুষের গুপ্ত দুর্বলতাসমূহ খুঁজিয়া বেড়ায় যাহাতে তাহাকে কুপথে দৃঢ়তররূপে প্রতিষ্ঠিত করিতে পারে। আল্লাহ্‌তা’লা শয়তানকে মানবের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ সৃষ্টি করিয়াছেন। মানুষ যে আধ্যাত্মিক উন্নতির সংগ্রামে নিয়োজিত উহাতে অন্তরায় সৃষ্টি করাই শয়তানের কাজ। এই বাধার অর্থ সম্পূর্ণ বন্ধ করিয়া দেওয়া নহে, বরং ইহার উদ্দেশ্য উক্ত প্রতিযোগিতায় অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে প্রতিযোগীগণকে তাহাদের প্রচেষ্টায় দ্বিগুণ তেজোদ্বীপ্ত করিয়া তোলা। এই সব প্রতিবন্ধকতায় যে সব অসাবধান ও গাফেল ব্যক্তিরা হোঁচট খায় এবং দৌড়ে হারিয়া যায়, তাহারা নিজেরাই দোষী কিন্তু যে বা যাহারা তাহাদের আগ্রহ ও যোগ্যতা পরীক্ষা ও প্রমাণ করার জন্য তাহাদের পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তাহারা নহে।

وَاِذَا فَعَلُوۡا فَاحِشَۃً قَالُوۡا وَجَدۡنَا عَلَیۡہَاۤ اٰبَآءَنَا وَاللّٰہُ اَمَرَنَا بِہَا ؕ قُلۡ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَاۡمُرُ بِالۡفَحۡشَآءِ ؕ اَتَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۲۹﴾

২৯
এবং যখন তাহারা কোন অশ্লীল কাজ করে, তখন তাহারা বলে, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদিগকে এইরূপ করিতে দেখিয়াছি এবং আল্লাহ্ আমাদিগকে ইহারই আদেশ দিয়াছেন।’ তুমি বল, ‘আল্লাহ্ কখনও অশ্লীল কাজের আদেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহ্‌র সম্বন্ধে এমন কথা বল যাহা তোমরা জান না?’

قُلۡ اَمَرَ رَبِّیۡ بِالۡقِسۡطِ ۟ وَاَقِیۡمُوۡا وُجُوۡہَکُمۡ عِنۡدَ کُلِّ مَسۡجِدٍ وَّادۡعُوۡہُ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ؕ کَمَا بَدَاَکُمۡ تَعُوۡدُوۡنَ ﴿ؕ۳۰﴾

৩০
তুমি বল, ‘আমার প্রভু ন্যায়-বিচারের আদেশ দিয়াছেন। এবং (আরও যে,) তোমরা প্রত্যেক মসজিদে উপস্থিতির সময় মনযোগ নিবদ্ধ৯৬৫ কর এবং তাঁহার উদ্দেশ্যে দীনকে বিশুদ্ধ করিয়া কেবল তাঁহাকেই ডাক। যেভাবে তিনি তোমাদিগকে প্রথমে সৃষ্টি করিয়াছিলেন, সেইভাবে তোমরা (তাঁহার পানে) ফিরিয়া যাইবে।৯৬৬
৯৬৫। যখন নামাযের সময় নিকটবর্তী হয় এবং মুসলমানগণ মসজিদে যাইতে থাকে, তখন তাহাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ পার্থিব বিষয়াদি হইতে ফিরাইয়া আল্লাহ্‌তা’লার দিকে নিবদ্ধ করা উচিৎ। প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাযের পূর্বে যে ওযু করা হয় তাহা মো’মেনের সকল ধ্যান আল্লাহ্‌র প্রতি পরিবর্তিত করার সম্পূর্ণ প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্য সাধন করে এবং প্রার্থনা করার জন্য তাহাকে সঠিক অবস্থায় স্থাপন করে।
৯৬৬। ‘যেভাবে তিনি তোমাদিগকে প্রথমে সৃষ্টি করিয়াছিলেন সেইভাবে তোমরা (তাঁহার পানে) ফিরিয়া যাইবে;’ ইহার মর্মার্থ হইতেছে, ঠিক যেভাবে আমাদের দেহ মাতৃগর্ভে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়, সেইরূপেই আমাদের আত্মা মৃত্যুর পরে ক্রমোন্নতির প্রক্রিয়ার মধ্যে অগ্রসর হইবে।