৪৮

الفتح

সূরা আল্ ফাত্‌হ

Al-Fath

মাদানী ৩০ আয়াত ৪ রুকু পারা ২৬

ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৩০ আয়াত এবং ৪ রুকু আছে।

وَعَدَکُمُ اللّٰہُ مَغَانِمَ کَثِیۡرَۃً تَاۡخُذُوۡنَہَا فَعَجَّلَ لَکُمۡ ہٰذِہٖ وَکَفَّ اَیۡدِیَ النَّاسِ عَنۡکُمۡ ۚ وَلِتَکُوۡنَ اٰیَۃً لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَیَہۡدِیَکُمۡ صِرَاطًا مُّسۡتَقِیۡمًا ﴿ۙ۲۱﴾

২১
আল্লাহ্‌ তোমাদিগকে বহু যুদ্ধ-লব্ধ সম্পদের প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছেন২৭৭৮ যাহা তোমরা হস্তগত করিবে; এবং ইহা তিনি তোমাদিগকে ত্বরিত দান করিয়াছেন, এবং লোকদের হাতকে তোমাদের উপর হইতে প্রতিহত করিয়াছিলেন, যেন ইহা মো’মেনদের জন্য নিদর্শন হয়, এবং যেন তিনি তোমাদিগকে এতদ্বারা সরল-সুদৃঢ় পথে পরিচালিত করেন;
২৭৭৮। এই আয়াতে উল্লেখকৃত গনিমতের মাল (যুদ্ধক্ষেত্রে পরিত্যক্ত শক্র-সম্পত্তি) বলিতে খয়বরের যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে আরব দেশে ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে ইসলামী-বিজয়ের যে অব্যাহত ধারা বহিয়া গেল, তাহাতে যে সব শত্রু-পরিত্যক্ত মালামাল মুসলমানদের হস্তগত হইয়াছিল, সেই মালামালকেই বুঝাইয়াছে। কিন্তু ‘তিনি তোমাদিগকে ত্বরিত দান করিয়াছেন’ বাক্যটি খয়বরের যুদ্ধে প্রাপ্ত মালে-গনিমতকে বুঝাইয়াছে। ‘এবং তিনি লোকদের হাতকে তোমাদের উপর হইতে প্রতিরোধ করিয়াছিলেন’ বাক্যটি দ্বারা হুদায়বিয়ার সন্ধিকে বুঝাইতেছে, যাহার মাধ্যমে মুসলমানের জন্য এক শান্তির যুগের সূচনা হইয়াছিল।

وَّاُخۡرٰی لَمۡ تَقۡدِرُوۡا عَلَیۡہَا قَدۡ اَحَاطَ اللّٰہُ بِہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرًا ﴿۲۲﴾

২২
এবং আরও একটি (বিজয়)২৭৭৯ আছে, যাহা তোমরা এখনও করায়ত্ত করিতে পার নাই; আল্লাহ্‌ উহাকে পরিবেষ্টন করিয়া রাখিয়াছেন; নিশ্চয় আল্লাহ্‌ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
২৭৭৯। ‘আরও একটি (বিজয়)’ দ্বারা, খয়বরের বিজয়ের পর মুসলমানদের জন্য আরো বিজয় নির্ধারিত আছে বলিয়া আল্লাহ্‌তা’লা এই আয়াতে প্রতিশ্রুতি দিতেছেন।

وَلَوۡ قٰتَلَکُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوَلَّوُا الۡاَدۡبَارَ ثُمَّ لَا یَجِدُوۡنَ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیۡرًا ﴿۲۳﴾

২৩
এবং যাহারা অস্বীকার করিয়াছে যদি তাহারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিত তাহা হইলে নিশ্চয় তাহারা পিঠ ফিরাইয়া লইত, তখন তাহারা না পাইত কোন অভিভাবক এবং না কোন সাহায্যকারী।

سُنَّۃَ اللّٰہِ الَّتِیۡ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلُ ۚۖ وَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّۃِ اللّٰہِ تَبۡدِیۡلًا ﴿۲۴﴾

২৪
(স্মরণ কর) আল্লাহ্‌র চিরাচরিত বিধানকে যাহা ইতিপূর্বে অতীত হইয়াছে; এবং তুমি আল্লাহ্‌র চিরাচরিত বিধানের মধ্যে আদৌ কোন পরিবর্তন দেখিতে পাইবে না।

وَہُوَ الَّذِیۡ کَفَّ اَیۡدِیَہُمۡ عَنۡکُمۡ وَاَیۡدِیَکُمۡ عَنۡہُمۡ بِبَطۡنِ مَکَّۃَ مِنۡۢ بَعۡدِ اَنۡ اَظۡفَرَکُمۡ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرًا ﴿۲۵﴾

২৫
এবং তিনিই তো মক্কার উপত্যকায় তোমাদিগকে তাহাদের উপর বিজয়ী করার পর তাহাদের হাতকে তোমাদের উপর হইতে এবং তোমাদের হাতকে তাহাদের উপর হইতে প্রতিরোধ করিয়াছিলেন।২৭৮০ এবং আল্লাহ্ তোমাদের কৃত-কর্মসমূহকে প্রত্যক্ষ করিতেছিলেন।
২৭৮০। মুসলমানের ঐ সময়কার সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষিত বিবেচনায় এবং পরবর্তিতে ইহা হইতে দীর্ঘস্থায়ী সুফল লাভের প্রেক্ষিতে, এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, হুদায়বিয়ার সন্ধি এক বিরাট বিজয় ছিল। এই আয়াতে বিজয়ের কথাগুলির আরও একটি অর্থ হইতে পারে। তাহা এই যে, হুদায়বিয়ার আগমনের পূর্বেও আল্লাহ্‌তা’লা নবী করীম (সাঃ)-কে বদরের যুদ্ধে বিজয় দিয়াছিলেন, উহুদের যুদ্ধের মহা সংকটময় অবস্থার পরেও ইসলামী উম্মা সহ মহানবী (সাঃ)-কে নিরাপদে মদীনায় ফিরাইয়া আনিয়াছিলেন, খন্দকের যুদ্ধে ইসলামকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য মক্কাবাসীদের সম্মিলিত আক্রমণকে প্রতিহত ও ব্যর্থ করিয়া শত্রুর বিরাট ক্ষতি-সাধন করিয়াছিলেন। এইসব ঘটনাকেই এক অর্থে অবিশ্বাসীদের উপর বিশ্বাসীদের বিজয়-লাভ বলিয়া আখ্যায়িত করা যায়।

ہُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَصَدُّوۡکُمۡ عَنِ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ وَالۡہَدۡیَ مَعۡکُوۡفًا اَنۡ یَّبۡلُغَ مَحِلَّہٗ ؕ وَلَوۡلَا رِجَالٌ مُّؤۡمِنُوۡنَ وَنِسَآءٌ مُّؤۡمِنٰتٌ لَّمۡ تَعۡلَمُوۡہُمۡ اَنۡ تَطَـُٔوۡہُمۡ فَتُصِیۡبَکُمۡ مِّنۡہُمۡ مَّعَرَّۃٌۢ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ۚ لِیُدۡخِلَ اللّٰہُ فِیۡ رَحۡمَتِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ لَوۡ تَزَیَّلُوۡا لَعَذَّبۡنَا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ﴿۲۶﴾

২৬
তাহারাই তো ছিল যাহারা অস্বীকার করিয়াছিল এবং তোমাদিগকে মসজিদুল হারাম হইতে বাধা দিয়াছিল; এবং কুরবানীর পশুগুলিকেও, যেগুলি (কুরবানীর উদ্দেশ্যে) অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল, কুরবানীস্থলে পৌঁছিতে বাধা দিয়াছিল। এবং যদি কতিপয় এমন মো’মেন পুরুষ এবং মো’মেন নারী (মক্কায়) না থাকিত, যাহাদিগকে তোমরা জানিতে না (এবং এই আশংকা না হইত) যে তোমরা তাহাদিগকে পদদলিত করিবে, ফলে তোমাদের উপর তাহাদের পক্ষ হইতে অজ্ঞাতসারে একটা দোষ বর্তিয়া যাইবে২৭৮১ (তাহা হইলে তিনি তোমাদিগকে যুদ্ধ করার অনুমতি দিতেন, কিন্তু তিনি তোমাদিগকে নিবৃত্ত রাখিলেন); ইহা এই জন্য যেন আল্লাহ্ যাহাকে চাহেন নিজ রহমতে প্রবিষ্ট করেন। যদি তাহারা (মো’মেনগণ) এদিক ওদিক সরিয়া যাইত, তাহা হইলে আমরা অবশ্যই তাহাদের মধ্য হইতে যাহারা অস্বীকার করিয়াছে তাহাদিগকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব দিতাম।
২৭৮১। মক্কায় তখন কিছু সংখ্যক মুসলমানও বাস করিতেছিলেন। হুদায়বিয়াতে সন্ধি না হইয়া যদি মুসলমান বাহিনী ও মক্কাবাসীদের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়া যাইত, তাহা হইলে মুসলমান বাহিনী অজান্তে মক্কাবাসী মুসলমানগণকে হত্যা করিতে পারিত এবং এরূপ ঘটলে তাহাদের নিজেদেরই অপূরণীয় ক্ষতি হইত। তদুপরি ইহা হইত একটি ঘৃণ্য, নিন্দনীয় ও অপমানজনক কাজ, যাহা শত্রুদের অপপ্রচারের হাতিয়ার বনিতে পারিত।

اِذۡ جَعَلَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِیۡ قُلُوۡبِہِمُ الۡحَمِیَّۃَ حَمِیَّۃَ الۡجَاہِلِیَّۃِ فَاَنۡزَلَ اللّٰہُ سَکِیۡنَتَہٗ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ وَعَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَاَلۡزَمَہُمۡ کَلِمَۃَ التَّقۡوٰی وَکَانُوۡۤا اَحَقَّ بِہَا وَاَہۡلَہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ﴿٪۲۷﴾

২৭
(স্মরণ কর সেই সময়কে) যখন তাহারা, যাহারা অস্বীকার করিয়াছিল, নিজেদের অন্তরে জাহিলিয়্যাতের যুগের আত্মশ্লাঘার ন্যায় আত্মশ্লাঘা পোষণ করিয়াছিল, তখন আল্লাহ্ তাঁহার রসূলের উপর এবং মো’মেনগণের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযেল করিলেন এবং তিনি তাহাদিগকে তাক্‌ওয়ার নীতির উপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করিলেন, বস্তুতঃ তাহারাই ইহার অধিকতর অধিকারী ও উপযুক্ত ছিল২৭৮২ এবং আল্লাহ্‌ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞানী।
সূরা আল্ ফাত্‌হ - রুকু ৩
২৭৮২। মক্কাবাসীদের চিরাচরিত ঐতিহ্য ও নিয়ম ইহাই ছিল যে, চারিটি পবিত্র মাসে ‘কাবার যেয়ারত ও তাওয়াফ’ অবাধ ও নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত ছিল। তাহা সত্বেও মুসলমানদের মক্কা-প্রবেশ ও উমরাহ্ পালনের ক্ষেত্রে মক্কার পৌত্তলিকেরা মিথ্যা-গৌরব ও জাতীয় অহঙ্কারের দোহাই দিয়া তাহাদিগকে বাধা দিল। তখন আল্লাহ্ তাঁহার রসূলের উপর এবং মো’মেনগণের উপর স্বীয় শান্তি ও স্বস্তি নাযেল করিলেন, যদিও তাহারা সন্ধির অবমাননাকর শর্তাবলীর কারণে অত্যন্ত বিচলিত ও মনঃক্ষুণ্ণ হইয়া পড়িয়াছিলেন, তথাপি তাহারা তাহাদের প্রিয়তম নেতার ইচ্ছা ও নির্দেশে, এত উচ্চমার্গের সংযম ও ধৈর্য প্রদর্শন করিয়াছিলেন যে, কাফেরদের এই অন্যায়ের মুখেও তাহারা আনুগত্য ও ধর্মপরায়ণতার পথকে বিসর্জন দেন নাই। এরূপ বিরল ও মহতী দৃষ্টান্ত কেবল মহানবী (সাঃ)-এর সাহাবীদের দ্বারাই স্থাপন করা সম্ভব ছিল।

لَقَدۡ صَدَقَ اللّٰہُ رَسُوۡلَہُ الرُّءۡیَا بِالۡحَقِّ ۚ لَتَدۡخُلُنَّ الۡمَسۡجِدَ الۡحَرَامَ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ اٰمِنِیۡنَ ۙ مُحَلِّقِیۡنَ رُءُوۡسَکُمۡ وَمُقَصِّرِیۡنَ ۙ لَا تَخَافُوۡنَ ؕ فَعَلِمَ مَا لَمۡ تَعۡلَمُوۡا فَجَعَلَ مِنۡ دُوۡنِ ذٰلِکَ فَتۡحًا قَرِیۡبًا ﴿۲۸﴾

২৮
নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তাঁহার রসূলের জন্য স্বপ্নটি বাস্তবে সত্য করিয়া দেখাইলেন;২৭৮৩ যদি আল্লাহ্‌ চাহেন, তোমরা অবশ্যই নিরাপদে ‘আল্ মসজিদুলহারামে’ প্রবেশ করিবে; তোমাদের কেহ কেহ মাথা মুড়ানো অবস্থায় এবং কেহ কেহ কেশ ছাঁটানো অবস্থায় হইবে, তোমরা কোন ভয় করিবে না। সুতরাং আল্লাহ্ উহা জানিতেন যাহা তোমরা জানিতে না এবং ইহা ছাড়া তিনি আরও একটি আসন্ন বিজয় নির্ধারিত করিয়াছেন।
২৭৮৩। এইখানে নবী করীম (সাঃ)-এর সেই স্বপ্নের কথা বলা হইয়াছে, যাহাতে তিনি দেখিয়াছিলেন যে, তিনি কাবা-গৃহ প্রদক্ষিণ করিতেছেন (বুখারী)। তদনুযায়ী তিনি ১,৫০০ সাহাবীকে সঙ্গে নিয়া ‘উমরাহ্’ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে রওয়ানা হইলেন। যদিও এই সূরাতে পরিষ্কারভাবে, দৃঢ়তার সাথে বলা হইয়াছে যে, মহানবীর স্বপ্ন নিশ্চয় সফল হইবে এবং মুসলমানেরা নিশ্চয়ই ‘উম্‌রাহ্’ পালনের জন্য কাবায় উপস্থিত হইবে, তথাপি কুরায়শদের বাধা দানের ফলে তাহা বাস্তবায়িত হইল না। মহানবী (সাঃ)-এর এই মক্কা-গমনের অনেক সুফলাদির কথা পূর্ববর্তী আয়াতগুলিতে বর্ণিত হইয়াছে। তবে, এই ঘটনা একটি প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছে যে, আল্লাহ্‌র নবীরা পর্যন্ত স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা করিতে কখনও কখনও সম্ভবতঃ আপাতদৃষ্টিতে ভুল করিতে পারেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত অনুযায়ী নবী করীম (সাঃ) পরবর্তী বৎসরে সাহাবীদিগকে লইয়া হজ্জ পালন করেন এবং স্বপ্নটি অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়।

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَہٗ بِالۡہُدٰی وَدِیۡنِ الۡحَقِّ لِیُظۡہِرَہٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّہٖ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًا ﴿ؕ۲۹﴾

২৯
তিনিই তো তাঁহার রসূলকে হেদায়াত ও সত্য-ধর্ম সহ প্রেরণ করিয়াছেন যেন তিনি ইহাকে সকল ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন।২৭৮৪ এবং সাক্ষী হিসাবে আল্লাহ্‌ই যথেষ্ট।
২৭৮৪। এই আয়াত অতি সুস্পষ্টভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করিতেছে যে, ইসলাম নিশ্চয়ই পরিণামে সকল ধর্মের উপর বিজয়ী হইবে।

مُحَمَّدٌ رَّسُوۡلُ اللّٰہِ ؕ وَالَّذِیۡنَ مَعَہٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَی الۡکُفَّارِ رُحَمَآءُ بَیۡنَہُمۡ تَرٰٮہُمۡ رُکَّعًا سُجَّدًا یَّبۡتَغُوۡنَ فَضۡلًا مِّنَ اللّٰہِ وَرِضۡوَانًا ۫ سِیۡمَاہُمۡ فِیۡ وُجُوۡہِہِمۡ مِّنۡ اَثَرِ السُّجُوۡدِ ؕ ذٰلِکَ مَثَلُہُمۡ فِی التَّوۡرٰٮۃِ ۚۖۛ وَمَثَلُہُمۡ فِی الۡاِنۡجِیۡلِ ۚ۟ۛ کَزَرۡعٍ اَخۡرَجَ شَطۡـَٔہٗ فَاٰزَرَہٗ فَاسۡتَغۡلَظَ فَاسۡتَوٰی عَلٰی سُوۡقِہٖ یُعۡجِبُ الزُّرَّاعَ لِیَغِیۡظَ بِہِمُ الۡکُفَّارَ ؕ وَعَدَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنۡہُمۡ مَّغۡفِرَۃً وَّاَجۡرًا عَظِیۡمًا ﴿٪۳۰﴾

৩০
মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র রসূল, এবং যাহারা তাহার সঙ্গে আছে, তাহারা কাফেরদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর কিন্ত পরস্পরের প্রতি দয়ার্দ্রচিত্ত।২৭৮৫ তুমি তাহাদিগকে রুকু ও সেজদারত দেখতে পাইবে, তাহারা সর্বদা আল্লাহ্‌র ফযল ও সন্তুষ্টি লাভের জন্য যত্নবান থাকে। সেজদার চিহ্নের দরুন তাহাদের চেহারায় তাহাদের (পরিচয়ের) লক্ষণাবলী রহিয়াছে। তাহাদের এই বিবরণ তওরাতে২৭৮৬ আছে, এবং ইঞ্জীলেও আছে তাহাদের বিবরণ, এক শস্য ক্ষেত্রের ন্যায়, যাহা নিজ অঙ্কুর নির্গত করে, অতঃপর উহাকে সুদৃঢ় করে ফলে উহা আরও পুষ্ট হয়, অতঃপর উহা স্বীয় কাণ্ডের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় যাহা কৃষককে আনন্দিত করে, যেন তিনি তাহাদের (মো’মেনদের উন্নতি) দ্বারা কাফেরদিগকে ক্রোধান্বিত করেন। তাহাদের মধ্য হইতে যাহারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাহাদের সংগে ক্ষমা এবং মহা প্রতিদানের অংগীকার করিয়াছেন।
সূরা আল্ ফাত্‌হ - রুকু ৪
২৭৮৫। এই দুইটি প্রয়োজনীয় গুণই উন্নতিশীল সুযোগ্য জাতির বৈশিষ্ট্য, যাহারা ধরা-পৃষ্ঠে যুগ-যুগান্তের ঘটনা–প্রবাহে নিজেদের চিরস্থায়ী চিহ্ন রাখিয়া যায়। কুরআনের অন্যত্র (৫ঃ৫৫) বলা হইয়াছে যে, সত্যিকার সৎ মুসলমান তাহারাই, যাহারা নিজেদের মধ্যে দয়ালু ও বিনয়ী, কিন্তু অবিশ্বাসীদের শত্রুতার মোকাবিলায় শক্ত ও দৃঢ়।
২৭৮৬। ‘তাহাদের এই বিবরণ তওরাতে আছে’ বাক্য দ্বারা বাইবেলের এই বর্ণনাকে বুঝাইয়াছে— ‘তিনি কহিলেন, সদাপ্রভু সীনয় হইতে আসিলেন … ফারান পর্বত হইতে আপন তেজ প্রকাশ করিলেন এবং দশ সহস্র পবিত্র আত্মাসহ আগমন করিলেন (দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩ঃ২)। “ইঞ্জীলে তাহাদের বর্ণনা শস্য বীজ সদৃশ্য” বলিতে বাইবেলের এই নীতি-গল্পকে বুঝাইয়াছে— “দেখ, একজন বীজবপক বীজ বপন করিতে গেল। বপনের সময় কতক বীজ পথের পার্শ্বে পড়িল, তাহাতে পক্ষীরা আসিয়া তাহা খাইয়া ফেলিল। আর কতক বীজ পাষাণময় ভূমিতে পড়িল, যেখানে অধিক মৃত্তিকা ছিল না, তাহাতে অধিক মৃত্তিকা না পাওয়াতে তাহা শীঘ্র অঙ্কুরিত হইয়া উঠিল, কিন্তু সূর্য উঠিলে পর পুড়িয়া গেল, এবং তাহার মূল না থাকাতে শুকাইয়া গেল। আর কতক বীজ কাঁটাবনে পড়িল তাহাতে কাঁটা গাছ বাড়িয়া তাহা চাপিয়া রাখিল, আর কতক বীজ ভূমিতে পড়িল ও ফল দিতে লাগিল, কতক শত গুণ, কতক ষাট গুণ ও কতক ত্রিশ গুণ”(মথি ১৩ঃ ৩-৮)। প্রথম বিবরণটি নবী করীম (সাঃ)-এর সাহাবীগণের উপর প্রযোজ্য হয়। ইঞ্জীলের নীতিবাহী বর্ণনাটি ঈসা (আঃ)-এর সদৃশ প্রতিশ্রুত মুহাম্মদী মসীহের অনুসারীদের উপর প্রযোজ্য বলিয়া মনে হইতেছে। তাহারা অতি নগণ্য প্রারম্ভিক অবস্থা হইতে ধীরে ধীরে বিরাট বিশ্ব-প্রতিষ্ঠানে পরিণত হইবে। তাহারা ক্রমাগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলামের বাণী ও বার্তাকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছাইতে থাকিবে, যে পর্যন্ত ইসলাম অন্যান্য সকল ধর্মের উপরে বিজয় লাভ না করে। বিরুদ্ধবাদীরা এবং প্রতিপক্ষ ধর্মগুলি তখন ঈর্ষাপরায়ণতার সহিত এই ইসলামী নব অভ্যুত্থানের শক্তি-সামর্থ্য ও মর্যাদার দিকে বিস্ময়াভিভূত ভাবে তাকাইতে থাকিবে।