৪৮

الفتح

সূরা আল-ফাতহ

Al-Fath

মাদানী ৩০ আয়াত ৪ রুকু পারা ২৬

মাদানী সূরা, বিসমিল্লাহসহ ৩০ আয়াত এবং ৪ রুকূ

وَعَدَکُمُ اللّٰہُ مَغَانِمَ کَثِیۡرَۃً تَاۡخُذُوۡنَہَا فَعَجَّلَ لَکُمۡ ہٰذِہٖ وَکَفَّ اَیۡدِیَ النَّاسِ عَنۡکُمۡ ۚ وَلِتَکُوۡنَ اٰیَۃً لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَیَہۡدِیَکُمۡ صِرَاطًا مُّسۡتَقِیۡمًا ﴿ۙ۲۱﴾

২১
আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যা তোমরা লাভ করবে। অতএব তিনি এটি (তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) তোমাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে দান করলেন এবং কদেখুন: ৫:১২তোমাদের ওপর হতে লোকদের হাত প্রতিহত করলেন, যেন তা মুমিনদের জন্য এক বড়ো নিদর্শন হয়ে যায় আর (যেন) তিনি তোমাদের সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।২৭৭৮
২৭৭৮। এ আয়াতে উল্লিখিত ‘যুদ্ধলব্ধ সম্পদ’ বলতে খায়বারের যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে আরব দেশে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ইসলামী বিজয়ের যে অব্যাহত ধারা বয়ে গেল তাতে যে-সব শত্রুর পরিত্যক্ত মালামাল মুসলমানদের হস্তগত হয়েছিল, সে মালামালকেই বুঝিয়েছে, কিন্তু ‘তিনি এটি (তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) তোমাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে দান করলেন’ বাক্যটি খায়বারের যুদ্ধে প্রাপ্ত মালে গনিমতকে বুঝিয়েছে। ‘তোমাদের ওপর হতে লোকদের হাত প্রতিহত করলেন’ বাক্যটি দ্বারা হুদায়বিয়ার সন্ধিকে বুঝাচ্ছে, যার মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য এক শান্তির যুগের সূচনা হয়েছিল।

وَّاُخۡرٰی لَمۡ تَقۡدِرُوۡا عَلَیۡہَا قَدۡ اَحَاطَ اللّٰہُ بِہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرًا ﴿۲۲﴾

২২
অধিকন্তু আরো একটি (বিজয়) রয়েছে- যা তোমরা এখনো করায়ত্ত করতে পারো নি।২৭৭৯ নিশ্চয় আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। বস্তুত আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।কদেখুন: ১৭:৭৮; ৩৩:৬৮; ৩৫:৪৪
২৭৭৯। ‘আরো একটি (বিজয়)’ দ্বারা খায়বারের বিজয়ের পর মুসলমানদের জন্য আরো বিজয় নির্ধারিত আছে বলে আল্লাহ তা’লা এ আয়াতে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

وَلَوۡ قٰتَلَکُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوَلَّوُا الۡاَدۡبَارَ ثُمَّ لَا یَجِدُوۡنَ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیۡرًا ﴿۲۳﴾

২৩
আর যারা অস্বীকার করেছে তারা যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তাহলে নিশ্চয় তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। সেক্ষেত্রে তারা কোনো অভিভাবক ও কোনো সাহায্যকারী পাবে না।

سُنَّۃَ اللّٰہِ الَّتِیۡ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلُ ۚۖ وَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّۃِ اللّٰہِ تَبۡدِیۡلًا ﴿۲۴﴾

২৪
এমনটিই আল্লাহর প্রতিষ্ঠিত রীতি- যা পূর্বেও (কার্যকর) ছিল। আর আল্লাহর প্রতিষ্ঠিত রীতিতে তুমি কখনো কোনো পরিবর্তন দেখবে না।

وَہُوَ الَّذِیۡ کَفَّ اَیۡدِیَہُمۡ عَنۡکُمۡ وَاَیۡدِیَکُمۡ عَنۡہُمۡ بِبَطۡنِ مَکَّۃَ مِنۡۢ بَعۡدِ اَنۡ اَظۡفَرَکُمۡ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرًا ﴿۲۵﴾

২৫
আর তিনিই মক্কার উপত্যকায় তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে সাফল্য দান করার পর তাদের ও তোমাদের উভয় পক্ষকে একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ রচনা করা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলেন।২৭৮০ আর তোমরা যা করো আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
২৭৮০। মুসলমানদের সে সময়কার সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষিত বিবেচনায় এবং পরবর্তীতে তা থেকে দীর্ঘস্থায়ী সুফল লাভের প্রেক্ষিতে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, হুদায়বিয়ার সন্ধি এক বিরাট বিজয় ছিল। এ আয়াতে বিজয়ের কথাগুলোর আরো একটি অর্থ হতে পারে। তা হলো, হুদায়বিয়া আগমনের পূর্বেও আল্লাহ তা’লা নবী করীম (সা.)- কে বদরের যুদ্ধে বিজয় দিয়েছিলেন, উহুদের মহাসংকটময় অবস্থার পরও ইসলামী বাহিনীসহ মহানবী (সা.)-কে নিরাপদে মদীনায় ফিরিয়ে এনেছিলেন, খন্দকের যুদ্ধে ইসলামকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য মক্কাবাসীদের সম্মিলিত আক্রমণকে প্রতিহত ও ব্যর্থ করে শত্রুর বিরাট ক্ষতিসাধন করেছিলেন। এসব ঘটনাকেই এক অর্থে কাফিরদের ওপর মুমিনদের বিজয়লাভ বলে আখ্যায়িত করা যায়।

ہُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَصَدُّوۡکُمۡ عَنِ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ وَالۡہَدۡیَ مَعۡکُوۡفًا اَنۡ یَّبۡلُغَ مَحِلَّہٗ ؕ وَلَوۡلَا رِجَالٌ مُّؤۡمِنُوۡنَ وَنِسَآءٌ مُّؤۡمِنٰتٌ لَّمۡ تَعۡلَمُوۡہُمۡ اَنۡ تَطَـُٔوۡہُمۡ فَتُصِیۡبَکُمۡ مِّنۡہُمۡ مَّعَرَّۃٌۢ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ۚ لِیُدۡخِلَ اللّٰہُ فِیۡ رَحۡمَتِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ لَوۡ تَزَیَّلُوۡا لَعَذَّبۡنَا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ﴿۲۶﴾

২৬
এরাই তারা- যারা সত্যকে অস্বীকার করেছিল এবং কদেখুন: ৮:৩৫; ২২:২৬মসজিদুল হারামে যেতে তোমাদের বাধা দিয়েছিল আর কুরবানীর পশুগুলোকেও আটকে দিয়েছিল, যেন সেগুলো তাদের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে না পারে। এছাড়া তোমাদের অচেনা কিছু মুমিন পুরুষ ও নারী যদি এমন না থাকত যাদেরকে নিজেদের অজান্তে পদদলিত করে নিজেরাই নিজেদের গ্লানিকর লজ্জার কারণ সৃষ্টি করতে তাহলে আমরা তোমাদের মুখোমুখি যুদ্ধ করতে দিতাম।২৭৮১ এক্ষেত্রে আল্লাহ তোমাদের রক্ষা করলেন, যেন আল্লাহ যাকে চান স্বীয় কৃপায় ধন্য করতে পারেন। আর (এ শ্রেণির অচেনা মুমিনরা) যদি সরে পড়ত তাহলে এদের মাঝে অস্বীকারকারীদের আমরা নির্ঘাত কষ্টদায়ক শাস্তি প্রদান করতাম।
২৭৮১। মক্কায় তখন কিছুসংখ্যক মুসলমানও বাস করছিল। হুদায়বিয়াতে সন্ধি না হয়ে যদি মুসলিম বাহিনী ও মক্কাবাসীদের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যেত তাহলে মুসলিম বাহিনী অজান্তে মক্কাবাসী মুসলমানদেরকে হত্যা করতে পারত এবং এরূপ ঘটলে তাদের নিজেদের অপূরণীয় ক্ষতি হতো। তদুপরি এটা হতো এক ঘৃণ্য, নিন্দনীয় ও অপমানজনক কাজ, যা শত্রুদের অপপ্রচারের হাতিয়ার হতে পারত।

اِذۡ جَعَلَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِیۡ قُلُوۡبِہِمُ الۡحَمِیَّۃَ حَمِیَّۃَ الۡجَاہِلِیَّۃِ فَاَنۡزَلَ اللّٰہُ سَکِیۡنَتَہٗ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ وَعَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَاَلۡزَمَہُمۡ کَلِمَۃَ التَّقۡوٰی وَکَانُوۡۤا اَحَقَّ بِہَا وَاَہۡلَہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ﴿٪۲۷﴾

২৭
(স্মরণ করো!) যারা অস্বীকার করেছিল তারা যখন নিজেদের অন্তরে আত্মাভিমান তথা অজ্ঞতার যুগের আত্মাভিমান পোষণ করেছিল, খদেখুন: ৯:২৬-তখন আল্লাহ তাঁর রসূলের প্রতি এবং মুমিনদের প্রতি তাঁর প্রশান্তি অবতীর্ণ করেছিলেন, এমনকি তাকওয়ার নীতিতে তাদেরকে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত করে দিলেন। আর তারাই এর সর্বাধিক যোগ্য ও উপযুক্ত ছিল।২৭৮২ আর আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।
সূরা আল-ফাতহ - রুকু ৩
২৭৮২। মক্কাবাসীদের এক চিরাচরিত ঐতিহ্য ও নিয়ম ছিল যে, চারটি পবিত্র মাসে কাবার যিয়ারত ও তাওয়াফ অবাধ ও নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত থাকবে। তা সত্ত্বেও মুসলমানদের মক্কা-প্রবেশ ও উমরা পালনের ক্ষেত্রে মক্কায় পৌত্তলিকরা মিথ্যা গৌরব ও জাতীয় অহংকারের দোহাই দিয়ে তাদেরকে বাধা দিল। তখন আল্লাহ তাঁর রসূলের ওপর এবং মুমিনদের ওপর স্বীয় শান্তি ও স্বস্তি অবতীর্ণ করলেন। যদিও তারা সন্ধির অবমাননাকর শর্তাবলির কারণে অত্যন্ত মনক্ষুন্ন হয়ে পড়েছিল তথাপি তারা তাদের প্রিয়তম নেতার ইচ্ছা ও নির্দেশে এত উচ্চমার্গের সংযম ও ধৈর্য প্রদর্শন করেছিল যে, কাফিরদের এ অন্যায়ের মুখেও তারা আনুগত্য ও ধর্মপরায়ণতার পথকে বিসর্জন দেয় নি। এমন বিরল ও মহতী দৃষ্টান্ত কেবল মহানবী (সা.)-এর সাহাবীদের দ্বারাই স্থাপন করা সম্ভব ছিল।

لَقَدۡ صَدَقَ اللّٰہُ رَسُوۡلَہُ الرُّءۡیَا بِالۡحَقِّ ۚ لَتَدۡخُلُنَّ الۡمَسۡجِدَ الۡحَرَامَ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ اٰمِنِیۡنَ ۙ مُحَلِّقِیۡنَ رُءُوۡسَکُمۡ وَمُقَصِّرِیۡنَ ۙ لَا تَخَافُوۡنَ ؕ فَعَلِمَ مَا لَمۡ تَعۡلَمُوۡا فَجَعَلَ مِنۡ دُوۡنِ ذٰلِکَ فَتۡحًا قَرِیۡبًا ﴿۲۸﴾

২৮
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর রসূলকে (তার) স্বপ্নটি যথাযথভাবে পূর্ণ করে দেখালেন।২৭৮৩ আল্লাহ চাইলে তোমরা তোমাদের মাথা মুড়ানো ও চুল faith হারামে’ প্রবেশ করবে, (আর) তোমরা ভয় করবে না। সুতরাং তিনি তা জানতেন, যা তোমরা জানতে না। আর এছাড়া তিনি আরো একটি সন্নিকটবর্তী বিজয় (তোমাদের জন্য) নির্ধারিত করে দিয়েছেন।
২৭৮৩। এখানে নবী করীম (সা.)-এর সেই স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে যাতে তিনি দেখেছিলেন, তিনি কাবাঘর প্রদক্ষিণ করছেন (বুখারী)। তদনুযায়ী তিনি পনেরোশ সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে ‘উমরা’ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে রওয়ানা হলেন। যদিও এ সূরাতে পরিষ্কারভাবে, দৃঢ়তার সাথে বলা হয়েছে যে মহানবী (সা.)-এর স্বপ্ন নিশ্চয় সফল হবে এবং মুসলমানরা নিশ্চয় ‘উমরা’ পালনের জন্য কাবায় উপস্থিত হবে। তথাপি কুরাইশদের বাধা দানের ফলে তা বাস্তবায়িত হলো না। মহানবী (সা.)-এর এই মক্কা-গমনের অনেক সুফলের কথা পূর্ববর্তী আয়াতগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। তবে এ ঘটনা একটি প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যে, আল্লাহর নবীগণ পর্যন্ত স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা বুঝতে কখনো কখনো আপাতদৃষ্টিতে ভুল করতে পারেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত অনুযায়ী নবী করীম (সা.) পরবর্তী বছরে সাহাবীদেরকে নিয়ে উমরা পালন করেন এবং স্বপ্নটি অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়।

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَہٗ بِالۡہُدٰی وَدِیۡنِ الۡحَقِّ لِیُظۡہِرَہٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّہٖ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًا ﴿ؕ۲۹﴾

২৯
কদেখুন: ৬১:১০তিনিই তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্যধর্মসহ পাঠিয়েছেন, যেন তিনি একে (তথা ধর্মকে) সকল ধর্মের ওপর জয়যুক্ত করতে পারেন।২৭৮৪ আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।*খদেখুন: ৪:১৬৭; ১৩:৪৪; ২৯:৫৩গদেখুন: ৯:১২৩
২৭৮৪। এ আয়াত অতি সুস্পষ্টভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করছে যে, ইসলাম নিশ্চয় পরিণামে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী হবে।
* এ আয়াতে পৃথিবীর সব ধর্মের ওপর ইসলামের জয়যুক্ত হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। এ আয়াত অবতীর্ণ হবার সময়ে তো বাহ্যিকভাবে মক্কাবাসীদের ওপরও জয় লাভের সৌভাগ্য হয় নি। এটি এক অতুলনীয় মাহাত্ম্যপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী যে, ইসলাম গোটা বিশ্বে সব ধর্মের ওপর জয়যুক্ত হবে। [হযরত খলীফাতুল মসীহ রাবে (রাহে.) কর্তৃক উর্দুতে অনূদিত কুরআন করীমে প্রদত্ত টীকা দ্রষ্টব্য)

مُحَمَّدٌ رَّسُوۡلُ اللّٰہِ ؕ وَالَّذِیۡنَ مَعَہٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَی الۡکُفَّارِ رُحَمَآءُ بَیۡنَہُمۡ تَرٰٮہُمۡ رُکَّعًا سُجَّدًا یَّبۡتَغُوۡنَ فَضۡلًا مِّنَ اللّٰہِ وَرِضۡوَانًا ۫ سِیۡمَاہُمۡ فِیۡ وُجُوۡہِہِمۡ مِّنۡ اَثَرِ السُّجُوۡدِ ؕ ذٰلِکَ مَثَلُہُمۡ فِی التَّوۡرٰٮۃِ ۚۖۛ وَمَثَلُہُمۡ فِی الۡاِنۡجِیۡلِ ۚ۟ۛ کَزَرۡعٍ اَخۡرَجَ شَطۡـَٔہٗ فَاٰزَرَہٗ فَاسۡتَغۡلَظَ فَاسۡتَوٰی عَلٰی سُوۡقِہٖ یُعۡجِبُ الزُّرَّاعَ لِیَغِیۡظَ بِہِمُ الۡکُفَّارَ ؕ وَعَدَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنۡہُمۡ مَّغۡفِرَۃً وَّاَجۡرًا عَظِیۡمًا ﴿٪۳۰﴾

৩০
মুহাম্মদ- আল্লাহর রসূল। আর যারা তার সাথে আছে তারা অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর এবং পরস্পর অতীব দয়ার্দ্র।২৭৮৫ তুমি এদেরকে রুকু ও সিজদারত অবস্থায় দেখতে পাবে। এরা আল্লাহরই অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির সন্ধানে থাকে। সিজদার প্রভাবে এদের মুখাবয়বে বিশেষ লক্ষণাদি বিদ্যমান। এই হলো তওরাতে বর্ণিত এদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজীলে বর্ণিত এদের দৃষ্টান্ত হলো এক শস্যক্ষেত্রের ন্যায়, যা (প্রথমে) নিজ অঙ্কুর উদ্‌গত করে, এরপর একে পুষ্টি যোগায়, ফলে তা আরো পরিপুষ্ট হয় এবং পরিণামে এটি নিজ মূল-কাণ্ডে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।২৭৮৬ (এ দৃশ্য) কর্ষণকারীদের আনন্দ দেয় ঠিকই, কিন্তু এরা (তথা এদের সাফল্য) কাফিরদের ক্রোধান্বিত করে। তাদের মাঝ থেকে যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপ্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।কদেখুন: ৫৯:৯
সূরা আল-ফাতহ - রুকু ৪
২৭৮৫। এ দুটি প্রয়োজনীয় গুণই উন্নতিশীল সুযোগ্য জাতির বৈশিষ্ট্য, যারা ধরাপৃষ্ঠে যুগযুগান্তরে ঘটনাপ্রবাহে নিজেদের চিরস্থায়ী চিহ্ন রেখে যায়। কুরআনের অন্যত্র (৫:৫৫) বলা হয়েছে, সত্যিকার সৎ মুসলমান তারাই যারা নিজেদের মধ্যে দয়ালু ও বিনয়ী, কিন্তু অবিশ্বাসীদের শত্রুতার মোকাবিলায় কঠোর ও অবিচল।
২৭৮৬। ‘এই হলো তওরাতে বর্ণিত এদের দৃষ্টান্ত’ বাক্যাংশ দ্বারা বাইবেলের এ বর্ণনাকে বুঝিয়েছে- ‘তিনি কহিলেন, সদাপ্রভু সীনয় হইতে আসিলেন... ফারান পর্বত হইতে আপন তেজ প্রকাশ করিলেন এবং দশ সহস্র পবিত্র আত্মাসহ আগমন করিলেন (দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:২)। ‘ইনজীলে বর্ণিত এদের দৃষ্টান্ত হলো এক শস্যক্ষেত্রের ন্যায়’ বলতে বাইবেলের এই নীতিগল্পকে বুঝিয়েছে, “দেখো! একজন বীজবপক বীজ বপন করিতে গেল। বপনের সময় কিছু বীজ পথের পার্শ্বে পড়িল, তাহাতে পক্ষীরা আসিয়া তাহা খাইয়া ফেলিল। আর কিছু বীজ পাষাণময় ভূমিতে পড়িল, যেখানে অধিক মৃত্তিকা ছিল না, তাহাতে অধিক মৃত্তিকা না পাওয়াতে তাহা শীঘ্র অঙ্কুরিত হইয়া উঠিল, কিন্তু সূর্য উঠিলে পর পুড়িয়া গেল এবং তাহার মূল না থাকাতে শুকাইয়া গেল, কিছু বীজ কাঁটাবনে পড়িল তাহাতে কাঁটা গাছ বাড়িয়া তাহা চাপিয়া রাখিল, আর কিছু বীজ ভূমিতে পড়িল ও ফল দিতে লাগিল, কিছু শত গুণ কিছু ষাট গুণ ও কিছু ত্রিশ গুণ” (মথি ১৩:৩-৮)। প্রথম বিবরণটি নবী করীম (সা.)-এর সাহাবীদের ওপর প্রযোজ্য হয়। ইনজীলের নীতিবাহী বর্ণনাটি ঈসা (আ.)-এর সদৃশ প্রতিশ্রুতি মুহাম্মদী মসীহের অনুসারীদের ওপর প্রযোজ্য বলে মনে হচ্ছে। তারা অতি নগণ্য প্রারম্ভিক অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বিরাট বিশ্বপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তারা ক্রমাগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলামের বাণী ও বার্তাকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছাতে থাকবে, যে পর্যন্ত ইসলাম অন্যান্য সকল ধর্মের ওপর বিজয় লাভ না করে। বিরুদ্ধবাদীরা এবং প্রতিপক্ষ ধর্মগুলো তখন ঈর্ষাপরায়ণতার সাথে এ ইসলামী নবঅভ্যুত্থানের শক্তিসামর্থ্য ও মর্যাদার দিকে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে তাকাতে থাকবে।