২১

الأنبياء

সূরা আল্ আম্বিয়া

Al-Anbiya'

মক্কী ১১৩ আয়াত ৭ রুকু পারা ১৬–১৭

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১১৩ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।

وَہٰذَا ذِکۡرٌ مُّبٰرَکٌ اَنۡزَلۡنٰہُ ؕ اَفَاَنۡتُمۡ لَہٗ مُنۡکِرُوۡنَ ﴿٪۵۱﴾

৫১
এবং ইহা (কুরআন) এক পরম বরকতপূর্ণ১৮৯৪ উপদেশবাণী, যাহাকে আমরা নাযেল করিয়াছি। অতএব তোমরা কি ইহার অস্বীকারকারী হইবে?
সূরা আল্ আম্বিয়া - রুকু ৪
১৮৯৪। ‘মুবারাকুন’ (অর্থ—-মঙ্গল, ভাল) শব্দ এইসকল ভাব প্রকাশ করে যেমনঃ স্থিরতা; দৃঢ়তা; মঙ্গল; প্রাচুর্য; উন্নয়ন এবং সংগ্রহ ইত্যাদি (লেইন)। ইহা শুধু কুরআনের জন্যই সংরক্ষিত এক বিশেষ বিশেষণ বা গুণাবাচক উক্তি (৬ঃ৯৩) এবং এই নামের মধ্যে ইহার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ স্বাতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে। ‘মুবারাকুন’ অর্থ মঙ্গলপূর্ণ হওয়ায় কুরআন করীম সকল সদগুণাবলী নিজের মধ্যে একত্রিভূত করিয়াছে, যাহার অধিকারী হওয়াই এক ঐশী-গ্রন্থের পক্ষে সমীচীন। এমন কোন মঙ্গল নাই যাহা প্রচুর পরিমাণে ইহা ধারণ করে না এবং যাহা তুলনায় অন্যান্য গ্রন্থ হইতে শ্রেষ্ঠতর নহে।

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ رُشۡدَہٗ مِنۡ قَبۡلُ وَکُنَّا بِہٖ عٰلِمِیۡنَ ﴿ۚ۵۲﴾

৫২
এবং নিশ্চয় আমরা ইতিপূর্বে ইব্‌রাহীমকে তাহার সঠিক পথ নির্ণয়ের যোগ্যতা প্রদান করিয়াছিলাম এবং আমরা তাহার সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত ছিলাম।

اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖ مَا ہٰذِہِ التَّمَاثِیۡلُ الَّتِیۡۤ اَنۡتُمۡ لَہَا عٰکِفُوۡنَ ﴿۵۳﴾

৫৩
যখন সে তাহার পিতা ও তাহার কওমকে বলিয়াছিল, ‘এইসব প্রতিমা কি১৮৯৫ যাহাদের সম্মুখে তোমরা ধ্যান-মগ্ন হইয়া বসিয়া থাক?’
১৮৯৫। ‘মা’ উক্তি এখানে ঘৃণা-সূচক এবং প্রশ্ন-সূচক নহে। প্রতিমা উপাসকদিগের সঙ্গে কথা বলার সময় হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ) সাধারণভাবে বিদ্রুপের ব্যবহার করিয়াছিলেন (দেখুন ৬ঃ৭৭,৭৮, ৭৯)। মনে হয় তিনি তাঁহার জাতিকে বলিয়াছিলেন, ‘কিরূপ নিষ্ফল এবং তুচ্ছ এই মূর্তিগুলি যে সবের তোমরা উপাসনা কর ।’ হযরত ইব্‌রাহীম (আঃ) যেখানে শ্লেষপূর্ণভাব ব্যবহার করিয়াছিলেন, সেখানে হযরত ঈসা (আঃ) রূপকে কথা বলিয়াছিলেন।

قَالُوۡا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا لَہَا عٰبِدِیۡنَ ﴿۵۴﴾

৫৪
তাহারা বলিল, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষগণকে এইভাবে ইহাদের ইবাদত করিতে দেখিয়া আসিতেছি।’

قَالَ لَقَدۡ کُنۡتُمۡ اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُکُمۡ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ﴿۵۵﴾

৫৫
সে বলিল, ‘তাহা হইলে তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষগণও প্রকাশ্য ভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত।’

قَالُوۡۤا اَجِئۡتَنَا بِالۡحَقِّ اَمۡ اَنۡتَ مِنَ اللّٰعِبِیۡنَ ﴿۵۶﴾

৫৬
তাহারা বলিল, ‘তুমি কি আমাদের নিকট (প্রকৃতই) সত্য লইয়া আসিয়াছ অথবা তুমি আমাদের সহিত হাসি-ঠাট্টা করিতেছ?’

قَالَ بَلۡ رَّبُّکُمۡ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ الَّذِیۡ فَطَرَہُنَّ ۫ۖ وَاَنَا عَلٰی ذٰلِکُمۡ مِّنَ الشّٰہِدِیۡنَ ﴿۵۷﴾

৫৭
সে বলিল, ‘বরং আকাশসমূহের এবং পৃথিবীর প্রতিপালকই তোমাদের প্রতিপালক যিনি এইগুলিকে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং আমি এই বিষয়ে তোমাদের সম্মুখে অপরাপর সাক্ষীদের১৮৯৬ মধ্যে অন্যতম;
১৮৯৬। আয়াত এই পরম সত্যের দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করিতেছে যে, নবীগণ যখন আল্লাহ্‌র সম্বন্ধে কথা বলেন তখন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, তাঁহারা মানুষকে আল্লাহ্‌র দিকে আহ্বান শুধু এই কারণে করেন না যে, আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের চাহিদা মানবের স্বভাবেই নিহিত রহিয়াছে, বরং তাঁহারা পূর্ণ আস্থা এবং অবিচল প্রত্যয়ের সঙ্গেই এরূপ করিয়া থাকেন (১২ঃ১০৯)।

وَتَاللّٰہِ لَاَکِیۡدَنَّ اَصۡنَامَکُمۡ بَعۡدَ اَنۡ تُوَلُّوۡا مُدۡبِرِیۡنَ ﴿۵۸﴾

৫৮
এবং আল্লাহ্‌র কসম, তোমাদের পিঠ ফিরাইয়া চলিয়া যাওয়ার পর আমি নিশ্চয় তোমাদের প্রতিমাগুলির বিরুদ্ধে অবশ্যই পরিকল্পনা গ্রহণ করিব।’

فَجَعَلَہُمۡ جُذٰذًا اِلَّا کَبِیۡرًا لَّہُمۡ لَعَلَّہُمۡ اِلَیۡہِ یَرۡجِعُوۡنَ ﴿۵۹﴾

৫৯
অতঃপর সে ঐগুলিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করিয়া ফেলিল, একমাত্র উহাদের প্রধানটি ব্যতীত, যেন তাহারা উহার নিকট পূনরায় ফিরিয়া আসে।১৮৯৭
১৮৯৭। ‘ইলাইহে’ উক্তিতে ‘হে’ সর্বনাম আল্লাহ্‌তা’লাকে বা প্রধান প্রতিমাকে অথবা স্বয়ং ইব্‌রাহীম (আঃ)-কেও বুঝাইতে পারে।

قَالُوۡا مَنۡ فَعَلَ ہٰذَا بِاٰلِہَتِنَاۤ اِنَّہٗ لَمِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۶۰﴾

৬০
তাহারা বলিল, ‘আমাদের মা’বূদদের সহিত এইরূপ কে করিল? সে নিশ্চয় যালেমদের অন্তর্ভুক্ত।’