২১

الأنبياء

সূরা আল্ আম্বিয়া

Al-Anbiya'

মক্কী ১১৩ আয়াত ৭ রুকু পারা ১৬–১৭

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১১৩ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।

بَلۡ تَاۡتِیۡہِمۡ بَغۡتَۃً فَتَبۡہَتُہُمۡ فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ رَدَّہَا وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ ﴿۴۱﴾

৪১
বরং উহা তাহাদের নিকট হঠাৎ আসিয়া পড়িবে এবং তাহাদিগকে হতভম্ব করিয়া দিবে১৮৯০ তখন তাহারা উহাকে প্রতিরোধ করিতে পারিবে না এবং তাহাদিগকে কোন অবকাশও দেওয়া হইবে না।
১৮৯০। আয়াতের ইশারা মক্কা নগরের পতনের প্রতিও হইতে পারে, যখন কোরায়শগণ অতর্কিত আক্রমণে সম্পূর্ণভাবে পরাভূত হইয়াছিল।

وَلَقَدِ اسۡتُہۡزِئَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ﴿٪۴۲﴾

৪২
এবং তোমার পূর্বে যে সকল রসূল অতীত হইয়াছে তাহাদের সহিতও হাসি-বিদ্রূপ করা হইয়াছে, কিন্তু পরিণাম ইহাই হইয়াছিল যে, তাহাদের মধ্য হইতে যাহারা হাসি-বিদ্রূপ করিয়াছিল তাহাদিগকে সেই বিষয়ই আসিয়া ঘিরিয়া ফেলিল যাহা লইয়া তাহারা হাসি-বিদ্রূপ করিত।
সূরা আল্ আম্বিয়া - রুকু ৩

قُلۡ مَنۡ یَّکۡلَؤُکُمۡ بِالَّیۡلِ وَالنَّہَارِ مِنَ الرَّحۡمٰنِ ؕ بَلۡ ہُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ رَبِّہِمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ ﴿۴۳﴾

৪৩
তুমি বল, ‘রাত্রি ও দিবসে রহমান আল্লাহ্‌র (শাস্তি) হইতে১৮৯১ কে তোমাদিগকে রক্ষা করিতে পারে?’ বরং তাহারা তাহাদের প্রতিপালকের স্মরণ হইতে মুখ ফিরাইয়া লয়।
১৮৯১। ‘মিন’ শব্দের অর্থ বিরুদ্ধে; হইতে; পরিবর্তে (আকরাব)।

اَمۡ لَہُمۡ اٰلِہَۃٌ تَمۡنَعُہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِنَا ؕ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ نَصۡرَ اَنۡفُسِہِمۡ وَلَا ہُمۡ مِّنَّا یُصۡحَبُوۡنَ ﴿۴۴﴾

৪৪
তাহাদের কি এমন মা’বূদ আছে যাহারা তাহাদিগকে আমাদের মোকাবেলায় রক্ষা করিতে পারে? তাহারা নিজেদেরই কোন সাহায্য করিতে পারে না, এবং আমাদের মোকাবেলায় তাহাদিগকে কোন সঙ্গ-সাহচর্যও প্রদান করা হইবে না।

بَلۡ مَتَّعۡنَا ہٰۤؤُلَآءِ وَاٰبَآءَہُمۡ حَتّٰی طَالَ عَلَیۡہِمُ الۡعُمُرُ ؕ اَفَلَا یَرَوۡنَ اَنَّا نَاۡتِی الۡاَرۡضَ نَنۡقُصُہَا مِنۡ اَطۡرَافِہَا ؕ اَفَہُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ ﴿۴۵﴾

৪৫
বস্তুতঃ আমরা তাহাদিগকে এবং তাহাদের পিতৃপুরুষদিগকে বহু (পার্থিব) ভোগ-সম্ভার দিয়াছিলাম, এমন কি তাহাদের আয়ুষ্কাল দীর্ঘ হইয়া গেল। সুতরাং তাহারা কি দেখে না যে, আমরা দুনিয়াকে উহার চতুর্দিক হইতে সংকীর্ণ করিয়া অগ্রসর হইতেছি?১৮৯২ তবুও কি তাহারা বিজয়ী হইবে?
১৮৯২। কোন জাতির উন্নতির কাল যখন দীর্ঘ হয়, তখন তাহারা এই ভুল ধারণার কারণে কষ্টে পতিত হয় যে, তাহাদের উন্নতি ও অগ্রগতি কখনও অধঃগতির মুখ দেখিবে না। ইহার ফলশ্রুতিতে তাহারা উদ্ধত হয় এবং তাহাদের অন্তর কঠিন হইয়া পড়ে। এইভাবে তাহাদের উন্নতির সুদীর্ঘ সময় তাহাদের পতনের কারণ হয়। এই আয়াত অবিশ্বাসীদিগকে কল্পিত বিষয় ও মিথ্যা আত্মপ্রসাদের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করিয়া বলিয়াছে যে, তাহাদের উন্নতি ও সাফল্য অনির্দিষ্টভাবে চলিবে না এবং সেই সঙ্গে তাহাদিগকে এই প্রকৃত ঘটনার প্রতি চক্ষু বন্ধ না করিয়া চলিতে নির্দেশ দিয়াছে যে, আল্লাহ্‌তা’লা ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতরূপে, দুনিয়াকে চতুর্দিক হইতে সংকুচিত ও ছোট করিয়া আনিতেছেন, অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম সমাজের প্রতি গৃহে, সকল অংশে এবং স্তরে স্তরে প্রবেশ লাভ করিয়া চলিয়াছে।

قُلۡ اِنَّمَاۤ اُنۡذِرُکُمۡ بِالۡوَحۡیِ ۫ۖ وَلَا یَسۡمَعُ الصُّمُّ الدُّعَآءَ اِذَا مَا یُنۡذَرُوۡنَ ﴿۴۶﴾

৪৬
তুমি বল, ‘আমি কেবল ওহী দ্বারা তোমাদিগকে সতর্ক করিতেছি।’ কিন্তু বধিরগণ শুনিতে পারে না যখন তাহাদিগকে সতর্ক করা হয়।

وَلَئِنۡ مَّسَّتۡہُمۡ نَفۡحَۃٌ مِّنۡ عَذَابِ رَبِّکَ لَیَقُوۡلُنَّ یٰوَیۡلَنَاۤ اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ ﴿۴۷﴾

৪৭
এবং যদি তোমার প্রতিপালকের আযাবের কোন ঝাপ্‌টা তাহাদিগকে স্পর্শ করে তাহা হইলে নিশ্চয় তাহারা বলিবে, ‘হায়! আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা নিশ্চয় যালেম ছিলাম।’

وَنَضَعُ الۡمَوَازِیۡنَ الۡقِسۡطَ لِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٌ شَیۡئًا ؕ وَاِنۡ کَانَ مِثۡقَالَ حَبَّۃٍ مِّنۡ خَرۡدَلٍ اَتَیۡنَا بِہَا ؕ وَکَفٰی بِنَا حٰسِبِیۡنَ ﴿۴۸﴾

৪৮
এবং কেয়ামতের দিন আমরা ন্যায়-বিচারের মানদণ্ড সংস্থাপন করিব, ফলে কাহারও প্রতি কোন যুলুম করা হইবে না।১৮৯৩ এবং যদি এক সরিষা-বীজ পরিমাণও কোন কিছু (কর্ম) থাকে আমরা উহা উপস্থিত করিয়া দিব। বস্তুতঃ হিসাব গ্রহণে আমরাই যথেষ্ট।
১৮৯৩। এই আয়াত ইহা স্পষ্ট করিয়া দিয়াছে যে, জাহান্নাম চিরস্থায়ী নহে, সামান্যতম সৎকর্মও যদি কোন মানুষ করে সে উহার পুরস্কার পাইবে, তৎপর এমন এক সময় অবশ্যই আসবে যখন আযাব শেষ হইয়া যাইবে এবং সৎকাজের সুফল ও পুরস্কার আরম্ভ হইবে। অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার বিপরীতে কুরআনের শিক্ষা এই যে,জান্নাতই চিরস্থায়ী, জাহান্নাম নহে। আরও ১৩৫১ টীকা দেখুন।

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ الۡفُرۡقَانَ وَضِیَآءً وَّذِکۡرًا لِّلۡمُتَّقِیۡنَ ﴿ۙ۴۹﴾

৪৯
এবং মূসা ও হারূনকে আমরা ফুরকান (সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী নিদর্শন) এবং আলো এবং উপদেশবাণী দিয়াছিলাম—মুত্তাকীগণের জন্য,

الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَیۡبِ وَہُمۡ مِّنَ السَّاعَۃِ مُشۡفِقُوۡنَ ﴿۵۰﴾

৫০
যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে অদৃশ্যেও ভয় করে এবং (হিসাব নিকাশের) নির্ধারিত সময় সম্বন্ধেও ভীত থাকে।