২১

الأنبياء

সূরা আল্ আম্বিয়া

Al-Anbiya'

মক্কী ১১৩ আয়াত ৭ রুকু পারা ১৬–১৭

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১১৩ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।

لَہُمۡ فِیۡہَا زَفِیۡرٌ وَّہُمۡ فِیۡہَا لَا یَسۡمَعُوۡنَ ﴿۱۰۱﴾

১০১
তথায় তাহারা দীর্ঘশ্বাস ফেলিতে থাকিবে এবং উহাতে (সান্ত্বনার) কোন কথা তাহারা শুনিতে পাইবে না।১৯২১
১৯২১। তাহাদিগকে সান্তনা ও প্রবোধ দেওয়ার মত কিছুই শুনিবে না, অথবা জাহান্নামের এত বেশী ক্রন্দনরোল ও তীব্র চিৎকার ও বিলাপ উঠিবে যে, উহার বাসিন্দারা পরস্পরের আওয়াজ শুনিতে পাইবে না।

اِنَّ الَّذِیۡنَ سَبَقَتۡ لَہُمۡ مِّنَّا الۡحُسۡنٰۤی ۙ اُولٰٓئِکَ عَنۡہَا مُبۡعَدُوۡنَ ﴿۱۰۲﴾ۙ

১০২
নিশ্চয় যাহাদের সম্বন্ধে পূর্ব হইতে আমাদের পক্ষ হইতে কল্যাণ অবধারিত করা হইয়াছে তাহাদিগকে উহা হইতে দূরে রাখা হইবে।

لَا یَسۡمَعُوۡنَ حَسِیۡسَہَا ۚ وَہُمۡ فِیۡ مَا اشۡتَہَتۡ اَنۡفُسُہُمۡ خٰلِدُوۡنَ ﴿۱۰۳﴾ۚ

১০৩
তাহারা উহার সামান্যতম১৯২২ শব্দও শুনিবে না, এবং তাহারা সেই অবস্থায় চিরকাল থাকিবে যাহা তাহাদের অন্তর কামনা করিবে।
১৯২২। ইহা এবং পরবর্তী আয়াত ইহাই প্রতিপন্ন করে যে, আল্লাহ্‌র সৎ ও ন্যায়পরায়ণ বান্দাগণকে জাহান্নাম হইতে অনেক দূরে রাখা হইবে, এমনকি উহার ক্ষীণতম আওয়াজও তাহাদের কানে যাইবে না, উহাতে প্রবেশ করা তো দূরের কথা (যাহা ১৯ঃ৭২ আয়াত হইতে সাধারণতঃ ভুল বুঝা হইয়া থাকে)।

لَا یَحۡزُنُہُمُ الۡفَزَعُ الۡاَکۡبَرُ وَتَتَلَقّٰہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ ؕ ہٰذَا یَوۡمُکُمُ الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ تُوۡعَدُوۡنَ ﴿۱۰۴﴾

১০৪
মহা আতঙ্কও তাহাদিগকে চিন্তিত করিবে না এবং ফিরিশ্‌তাগণ তাহাদের সহিত সাক্ষাৎ করিবে এই বলিয়া ‘ইহাই তোমাদের সেই দিন যাহার ওয়াদা তোমাদের সঙ্গে করা হইত;

یَوۡمَ نَطۡوِی السَّمَآءَ کَطَیِّ السِّجِلِّ لِلۡکُتُبِ ؕ کَمَا بَدَاۡنَاۤ اَوَّلَ خَلۡقٍ نُّعِیۡدُہٗ ؕ وَعۡدًا عَلَیۡنَا ؕ اِنَّا کُنَّا فٰعِلِیۡنَ ﴿۱۰۵﴾

১০৫
যেদিন আমরা আকাশকে১৯২৩ গুটাইয়া লইব বই-খাতাদির লিখিত বস্তুকে গুটাইয়া লওয়ার ন্যায়।’ যেরূপে আমরা প্রথমবার সৃষ্টি আরম্ভ করিয়াছিলাম তদ্রূপই আমরা উহা পুনরায় করিব১৯২৪; ইহা এমন এক ওয়াদা যাহা পূর্ণ করার দায়িত্ব আমাদের উপর ন্যস্ত রহিয়াছে, আমরা ইহা অবশ্যই করিব।
১৯২৩। ‘আমরা আকাশকে গুটাইয়া লইব’ উক্তির মর্ম ইহাও হইতে পারে যে, বিশাল সাম্রাজ্যসমূহকে ঝাঁটাইয়া দূর করা হইবে, শক্তিশালী জাতিগুলি ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে এবং তাহাদের স্থলে অন্যান্য জাতি ক্ষমতাশালী হইয়া ইঠিবে। অথবা এইরূপ অর্থও হইতে পারে যে, বিশ্ব-নবী আঁ-হযরত (সাঃ)-এর মাধ্যমে এক মহান রূপান্তর ঘটিবে এবং পুরাতন আকাশ গুটান হইবে। পুরাতন নিয়ম লোপ পাইবে এবং তৎপরিবর্তে শ্রেষ্ঠতর এক নতুন নিয়ম জন্ম লাভ করিবে। পৃথিবী কোন জাতির জীবনে এরূপ পরিবর্তন কখনো দেখে নাই যেমনটি দেখিয়াছিল নবী করীম (সাঃ)-এর যুগে।
১৯২৪। ‘আমরা উহা পুনরায় করিব’ বাক্যাংশের মর্ম এই যে, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত নিয়ম-শৃংখলার মধ্যে পাশ্চাত্যের অধার্মিক যান্ত্রিক সভ্যতার সৃষ্ট পার্থিব দৃষ্টিভঙ্গী মুসলমানগণের জীবনে বিপত্তি ডাকিয়া আনিবে; কিন্তু এই অবনতি ক্ষণস্থায়ী হইবে এবং ইসলাম এক নবজাগরণের অভিজ্ঞতা লাভ করিবে এবং পুনর্বার বিজয়ীরূপে উত্থিত হইবে।

وَلَقَدۡ کَتَبۡنَا فِی الزَّبُوۡرِ مِنۡۢ بَعۡدِ الذِّکۡرِ اَنَّ الۡاَرۡضَ یَرِثُہَا عِبَادِیَ الصّٰلِحُوۡنَ ﴿۱۰۶﴾

১০৬
এবং (ইতিপূর্বে) আমরা যাবূরে উপদেশবাণীর পর ইহা লিখিয়া দিয়াছি যে, আমার নেক বান্দাগণ এই (পবিত্র) ভূমির উত্তরাধিকারী হইবে।১৯২৫
১৯২৫। ‘পবিত্র ভূমি’ শব্দ দ্বারা প্যালেষ্টাইন বুঝায়। খৃষ্টান লেখকরাও প্রার্থনা-সঙ্গীতে এই শব্দের ব্যাখ্যা করিয়াছে এই দেশের অধিকারী অর্থে ‘আল্লাহ্‌র অঙ্গীকার চিহ্ন’ কেনানের উত্তরাধিকারী হওয়া। ‘দাউদের কিতাব’ শব্দের সূত্র বাইবেলের অন্তর্গত ‘গীত সংহিতা’ ৩৭ঃ৯,১১, ২২ এবং ২৯ শ্লোক বা প্রার্থনা সঙ্গীতের প্রতি নির্দেশ করে। দ্বিতীয় বিবরণ-২৮ঃ১১ এবং ৩৪ঃ৪ তেও এক ভবিষ্যদ্বাণী রহিয়াছে যে, প্যালেষ্টাইন ইসরাঈলীদিগকে দেওয়া হইবে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর (রাঃ)-এর সময়ে মুসলমানগণের বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত প্যালেষ্টাইন খৃষ্টানদিগের অধিকারে ছিল। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তফসীরাধীন আয়াতে মুসলিম সৈন্য বাহিনীর এই প্যালেষ্টাইন বিজয়ের প্রতিও ইশারা রহিয়াছে বলা যাইতে পারে। ৯২ বৎসরের সংক্ষিপ্ত অবসর বাদে প্যালেষ্টাইন প্রায় ১৩৫০ বৎসর মুসলিম অধিকারে ছিল। তারপর ক্রুসেডের যুদ্ধের সময় ইহা হাত বদল হইয়াছিল, আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত তথাকথিত গণতান্ত্রিক খৃষ্টান-শক্তিগুলির অসাধু পরিকল্পনার মাধ্যমে প্যালেষ্টাইন নামীয় দেশটির অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত এবং ইহার ধ্বংসাবশেষের উপরে গঠিত হইয়াছে ইসরাঈল রাষ্ট্র। বিচ্ছিন্ন ইহুদী জাতি ২০০০ (দুই হাজার বৎসর) লক্ষ্যহীনভাবে বনে জংঙ্গলে ঘুরিয়া আবার তাহাদের স্বস্থানে ফিরিয়া আসিয়াছে। কিন্তু এই জ্বলন্ত ঐতিহাসিক ঘটনাটিও ঘটিয়াছে কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা পূর্ণ করিতে (১৭ঃ১০৫)। যাহা হউক ইহাও এক স্বল্পস্থায়ী অধ্যায়। ইহার পূর্ণ বিজয় মুসলিম জাতির জন্য নির্ধারিত আছে। একদিন না একদিন— বিলম্বে নহে বরং শীঘ্রই—প্যালেষ্টাইন মুসলমানদিগের পুনর্দখলে আসিবে। ইহা ঐশী ভবিষ্যদ্বাণী, এই ঐশী ভবিষ্যদ্বাণীকে কেহ পরিবর্তন করিতে পারে না।

اِنَّ فِیۡ ہٰذَا لَبَلٰغًا لِّقَوۡمٍ عٰبِدِیۡنَ ﴿۱۰۷﴾ؕ

১০৭
নিশ্চয় ইহার মধ্যে ইবাদতকারী কওমের জন্য এক পয়গাম রহিয়াছে।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ﴿۱۰۸﴾

১০৮
এবং আমরা তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য কেবল রহমতস্বরূপই প্রেরণ করিয়াছি।১৯২৬
১৯২৬। হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) সমগ্র বিশ্বের মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ ও রহমত স্বরূপ, যেহেতু তাঁহার বাণী বিশেষ জাতি বা দেশের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। তাঁহার মাধ্যমে বিশ্বের জাতিসমূহ আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ প্রাপ্ত হইয়াছে। কারণ পূর্বে কখনও তাহাদের উপর আল্লাহ্‌তা’লার রহমত এরূপ ব্যাপক আকারে বর্ষিত হয় নাই।

قُلۡ اِنَّمَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ﴿۱۰۹﴾

১০৯
তুমি বল, ‘আমার প্রতি কেবল ইহাই ওহী করা হয় যে, তোমাদের মা’বূদ এক-ই মা’বূদ। অতএব তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হইবে?’

فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَقُلۡ اٰذَنۡتُکُمۡ عَلٰی سَوَآءٍ ؕ وَاِنۡ اَدۡرِیۡۤ اَقَرِیۡبٌ اَمۡ بَعِیۡدٌ مَّا تُوۡعَدُوۡنَ ﴿۱۱۰﴾

১১০
অতএব যদি তাহারা পিঠ ফিরাইয়া লয়, তাহা হইলে তুমি বল, ‘আমি তোমাদিগকে সকল দিক দিয়া সতর্ক করিয়া দিয়াছি, এবং আমি জানি না যে বিষয়ে তোমাদিগকে ওয়াদা দেওয়া হইয়াছে উহা নিকটে না দূরে;১৯২৭
১৯২৭। আল্লাহ্‌তা’লা তাঁহার প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনে-ক্ষণে সীমাবদ্ধ বা বাধ্য নহেন। তিনিই ভাল জানেন কখন কোন্ ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হইবে।