৯২

الليل

সূরা আল্‌‌ লায়্‌ল

Al-Lail

মক্কী ২২ আয়াত ১ রুকু পারা ৩০

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ২২ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

وَالَّیۡلِ اِذَا یَغۡشٰی ۙ﴿۲﴾

২
কসম রাত্রির,৩৩৬২ যখন ইহা (বিশ্বচরাচরকে) আচ্ছন্ন করিয়া ফেলে,
৩৩৬২। পূর্ববতী সূরাতে মূল বক্তব্য বিষয় ছিল ‘আশ্‌ শাম্‌স’ অর্থাৎ হযরত রসূলে পাক (সাঃ) যিনি সকল জ্যোতির উৎস ও ঝর্ণা। এই কারণেই সূর্য ও দিনের উল্লেখ আগে করা হইয়াছে এবং পরে চন্দ্র ও রাত্রির উল্লেখ করা হইয়াছে। তবে এই সূরাতে মো’মেন ও কাফেরদের মধ্যে একটি তুলনা-মূলক চিত্র তুলিয়া ধরিতে গিয়া, কাফেরদের প্রতীক ‘রাত্রি’র উল্লেখ আসিয়াছে আগে, মো’মেনদের প্রতীক ‘দিনে’র (তথা দিবালোকের) উল্লেখ আসিয়াছে পরে।

وَالنَّہَارِ اِذَا تَجَلّٰی ۙ﴿۳﴾

৩
(এবং) কসম দিবসের যখন ইহা আলোকোদ্ভাসিত হইয়া উঠে,৩৩৬৩
৩৩৬৩। এই আয়াতে ‘তাজাল্লা’ (আলোকাদ্ভাসিত হইয়া উঠে) শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে, তৎপরিবর্তে পূর্ববর্তী সূরার অনুরূপ আয়াতে ব্যবহৃত হইয়াছে ‘জাল্লা’ (ইহা সূর্যকে প্রকাশ করে) শব্দ। ইহা দ্বারা ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, পূর্ববর্তী সূরাতে শিক্ষকের অতি উন্নত আধ্যাত্মিক মর্যাদা ব্যক্ত হইয়াছে, আর এই সূরাতে শিক্ষার্থীদের ঐশী জ্ঞান আহরণের উচ্চ যোগ্যতার কথা ব্যক্ত হইয়াছে।

وَمَا خَلَقَ الذَّکَرَ وَالۡاُنۡثٰۤی ۙ﴿۴﴾

৪
(এবং) কসম ইহার যে, তিনি নর এবং নারী সৃষ্টি করিয়াছেন,৩৩৬৩-ক
৩৩৬৩-ক। স্ত্রী-পুরুষের যৌন মিলনের উপর নির্ভর করে প্রজনন। পুরুষের বৈশিষ্ট্য হইল দান করা এবং স্ত্রীলোকের বৈশিষ্ট্য হইল গ্রহণ করা। তেমনি পার্থিব জগতের মতই রূপক অর্থে আধ্যাত্মিক জগতেও ‘পুরুষ’ হিসাবে রহিয়াছেন আল্লাহ্‌তা’লার রসূল ও সংস্কারকগণ যাহারা হেদায়াত দান করেন এবং ‘স্ত্রীলোক’ হিসাবে রহিয়াছেন তাহারা যাহারা বিশ্বস্ত অনুসারী রূপে ঐশী-শিক্ষকের হেদায়াত গ্রহণ করিয়া, উন্নত সভ্যতার জন্ম দান করেন। এই আয়াতে ইঙ্গিত রহিয়াছে যে, পরিপূর্ণ শিক্ষক মহানবী(সাঃ) এবং আদর্শ- শিক্ষার্থী সাহাবীগণ—এতদুভয়ের প্রগাঢ় ও পুণ্য সংস্পর্শ বিশ্বকে এক নবসভ্যতা উপহার দিতে যাইতেছে।

اِنَّ سَعۡیَکُمۡ لَشَتّٰی ؕ﴿۵﴾

৫
নিশ্চয় তোমাদের প্রচেষ্টা বিভিন্ন মূখী।৩৩৬৪
৩৩৬৪। এই আয়াতে মো’মেনদের লক্ষ্য ও প্রচেষ্টা এবং কাফেরদের লক্ষ্য ও প্রচেষ্টার মধ্যে যে বৈষম্য ও ভিন্নমুখিতা রহিয়াছে, উহার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হইয়াছে। যেস্থলে মো’মেনগণ সত্যকে প্রচার-প্রসারের জন্য প্রাণ পণ প্রচেষ্টা করিতেছে, সেখানে কাফেরদের সকল চেষ্টা নিয়োজিত হইতেছে সত্যের বিরোধিতা ও বাধা দান করার উদ্দেশ্যে। অতএব এই দুইটি ভিন্নমুখী প্রচেষ্টার ফল যে ভিন্ন ভিন্ন হইবে, তাহা অবশ্যম্ভাবী।

فَاَمَّا مَنۡ اَعۡطٰی وَاتَّقٰی ۙ﴿۶﴾

৬
অতএব যে (আল্লাহ্‌র রাস্তায়) দান করিয়াছে এবং তাক্‌ওয়া অবলম্বন করিয়াছে,

وَصَدَّقَ بِالۡحُسۡنٰی ۙ﴿۷﴾

৭
এবং তস্‌দীক (সত্যায়ন) করিয়াছে উত্তম বিষয়ের,৩৩৬৫
৩৩৬৫। যাহারা জীবনে কৃতকার্যতা অর্জন করে, তাহাদের তিনটি গুণের উল্লেখ করা হইয়াছে এই আয়াতে ও পূর্ববর্তী আয়াতে। সংক্ষেপে এইগুলি হইলঃ সঠিক কর্ম, সঠিক বিশ্বাস এবং সঠিক চিন্তা। বিশ্বাসীদের মাঝে এইগুলি গভীরভাবে পাওয়া যায়।

فَسَنُیَسِّرُہٗ لِلۡیُسۡرٰی ؕ﴿۸﴾

৮
আমরা অবশ্যই তাহার জন্য সহজ পথ সহজ-লভ্য করিয়া দিব,৩৩৬৬
৩৩৬৬। উপরোক্ত দুইটি আয়াতে যে বিশেষ তিনটি গুণের উল্লেখ করা হইয়াছে, ঐ তিনটি গুণের অধিকারী ব্যক্তি তাহার অভিষ্ট ফল লাভে কখনও বঞ্চিত হইবে না। অন্য অর্থ ইহাও হইতে পারেঃ ঐসব গুণের অধিকারী ব্যক্তির পক্ষে ভাল ও কল্যাণকর কাজ করা সহজ হইয়া যায় এবং তাহাতে সে আনন্দ লাভ করে।

وَاَمَّا مَنۡۢ بَخِلَ وَاسۡتَغۡنٰی ۙ﴿۹﴾

৯
কিন্তু যে কৃপণতা করিয়াছে এবং বেপরওয়া হইয়াছে,

وَکَذَّبَ بِالۡحُسۡنٰی ۙ﴿۱۰﴾

১০
এবং যে উত্তম বিষয়কে মিথ্যা বলিয়া প্রত্যাখ্যান করিয়াছে,৩৩৬৭
৩৩৬৭। ৬ ও ৭ আয়াতদ্বয়ে বর্ণিত তিনটি সৎগুণের বিপরীত তিনটি মন্দ প্রবৃত্তি যাহা মানুষের ধ্বংসের কারণ হয়, তাহা এই দুইটি আয়াতে (৯ ও ১০) বর্ণিত হইয়াছে।