الضحى
Ad-Duha
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ১২ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।
অবতরণ কাল ও প্রসঙ্গ
প্রথম দুই তিনটি সূরা অবতরণের পরে, কিছু দিনের জন্য রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর কাছে আল্লাহ্র বাণী আসা স্থগিত ছিল। পুনরায় যখন ঐশী বাণী অবতীর্ণ হইতে লাগিল, তখন সাথে সাথে যে সূরাগুলি অবতীর্ণ হইয়াছিল, এই সূরাটি ইহাদের অন্যতম। অতএব ইহা মক্কায় অবতীর্ণ সূরাগুলির মধ্যে অতি প্রাথমিক কালের। নলডিকি এই সূরাকে সূরা বালাদের পরে এবং মুইর ইহাকে সূরা আলাম নাশরাহ সংলগ্ন বলিয়া, ইহার অবতরণ-কাল নির্ধারণ করিয়াছেন। এই সূরার মধ্যে এক বিরাট ভবিষ্যদ্বাণী রহিয়াছে যে, মহানবী (সাঃ)-এর প্রতিটি আগামী কল্য প্রতিটি ‘গতকল্য হইতে শ্রেষ্ঠতর সাব্যস্ত হইবে, সমাগত উপস্থিত দিন হইতে পরবর্তী দিন অধিকতর সফলতা পূর্ণ হইবে, যে পর্যন্ত না তাঁহার রেসালতের উদ্দেশ্য সফলতার শেষ বিন্দুতে পৌঁছায়। এই ভবিষ্যদ্বাণী মহানবী (সাঃ)-এর, একাদিক্রমে বিজয়ের পর বিজয়ের দ্বারা, কী অসাধারণভাবেই না পূর্ণ হইয়াছিল! বিষয়-বস্তুর দিক হইতে সূরাটি, পূর্ববর্তী কয়েকটি সূরার অনেকটা অনুরূপ। ঐ সূরাগুলির মত, এই সূরাতেও মক্কাবাসীদের মজ্জাগত দুষ্কৃতির কথা জোরে শোরে বলা হইয়াছে। প্রভেদ শুধু এইটুকু যে, এই সূরাতে যেখানে মহানবী (সাঃ) ও তাঁহার অনুসারীদিগকে তাহাদের অর্থ-সম্পদের সদ্ব্যবহার করার উপদেশ দান করা হইয়াছে, সেখানে পূর্ববর্তী সূরাতে এতীম ও দরিদ্রদের প্রতি মো’মেন ও কাফেরদের ব্যবহারের তারতম্য দেখানো হইয়াছে। তদুপরি পূর্ববতী সূরাতে সংক্ষেপে বলা হইয়াছিল যে, আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ও শুভ-দৃষ্টি লাভের জন্য বিশ্বাসীগণ তাহাদের ধন-সম্পদ আল্লাহ্র পথে ব্যয় করে। আর এই সূরাতে নবী করীম (সাঃ)-এর নামের অন্তরালে আল্লাহ্র নৈকট্যপ্রাপ্ত মনোনীত বিশ্বাসীগণকে যে আল্লাহ্ কত রকমের আশীর্বাদে ভূষিত করিয়া থাকেন, উহার উল্লেখ রহিয়াছে। অতএব এই সূরাটি পূর্ববর্তী সূরার যথোপযুক্ত উত্তরসূরী।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
وَالضُّحٰی ۙ﴿۲﴾
وَالَّیۡلِ اِذَا سَجٰی ۙ﴿۳﴾
مَا وَدَّعَکَ رَبُّکَ وَمَا قَلٰی ؕ﴿۴﴾
وَلَلۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لَّکَ مِنَ الۡاُوۡلٰی ؕ﴿۵﴾
وَلَسَوۡفَ یُعۡطِیۡکَ رَبُّکَ فَتَرۡضٰی ؕ﴿۶﴾
اَلَمۡ یَجِدۡکَ یَتِیۡمًا فَاٰوٰی ۪﴿۷﴾
وَوَجَدَکَ ضَآلًّا فَہَدٰی ۪﴿۸﴾
وَوَجَدَکَ عَآئِلًا فَاَغۡنٰی ؕ﴿۹﴾
فَاَمَّا الۡیَتِیۡمَ فَلَا تَقۡہَرۡ ؕ﴿۱۰﴾