৯৪

الانشراح

সূরা আল্‌‌ ইনশেরাহ্

Al-Inshirah

মক্কী ৯ আয়াত ১ রুকু পারা ৩০

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৯ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

اَلَمۡ نَشۡرَحۡ لَکَ صَدۡرَکَ ۙ﴿۲﴾

২
আমরা কি তোমার জন্য তোমার বক্ষঃকে উন্মুক্ত করিয়া দিই নাই,

وَوَضَعۡنَا عَنۡکَ وِزۡرَکَ ۙ﴿۳﴾

৩
এবং তোমার বোঝা তোমার নিকট হইতে অপসারিত করিয়া দিই নাই,

الَّذِیۡۤ اَنۡقَضَ ظَہۡرَکَ ۙ﴿۴﴾

৪
যাহা তোমার পৃষ্ঠদেশকে ভাঙ্গিয়া ফেলিতেছিল?৩৩৮০
৩৩৮০। রসূলে পাক (সাঃ)-এর উপর সকল বিশ্ববাসীকে হেদায়াত দেওয়ার এত বিরাট স্নায়ু-ছিন্নকর ও হাড়ভাংগা বোঝা চাপিয়াছিল যে, সৃষ্টি অবধি কোন মানব-সন্তানের উপর আর কখনও এতবড় বোঝ চাপে নাই। দুর্বিনীত, অধঃপতিত, নীতিবিগর্হিত, বর্বর জাতিকে অন্ধকারের অতল গহ্বর হইতে টানিয়া তুলিয়া ঊর্ধ্ব গামী আধ্যাত্মিক উন্নতির চরম শৃঙ্গে উত্তোলন করা এবং তাহাদের মাধ্যমে অন্যায়-অবিচারে ও অজ্ঞানতা-কুসংস্কারে আপাদমস্তক-নিমজ্জিত মানব জাতিকে সুসভ্য পবিত্র মানুষে পরিণত করা যে কত বড় অসামান্য গুরুভার তাহা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। এই দায়িত্বের গুরু ভার তাঁহাকে একেবারে চূরমার করিয়া দিত যদি না আল্লাহ্ তাঁহার ভারকে নিজেই লঘু করিয়া দিতেন।

وَرَفَعۡنَا لَکَ ذِکۡرَکَ ؕ﴿۵﴾

৫
এবং আমরা তোমার স্মরণকে উন্নীত ও সম্মানিত করিয়াছি।৩৩৮১
৩৩৮১। এই সূরা নবুওয়াতের দ্বিতীয় বা তৃতীয় বৎসরে নাযেল হইয়াছিল, যখন মহানবী (সাঃ) তাঁহার আশেপাশের বাহিরে পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু অতি অল্পদিনের মধ্যেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত, নন্দিত ও শ্রদ্ধাভাজন কৃতী ধর্মগুরুর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হইলেন। পৃথিবীতে ধর্মীয় বা জাগতিক এমন একজন নেতাও নাই যিনি মহানবী (সাঃ)-এর স্বীয় অনুসারীদের কাছ হইতে এত অপরিসীম ভালবাসা ও শ্রদ্ধা-ভক্তি লাভ করিয়াছেন।

فَاِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ یُسۡرًا ۙ﴿۶﴾

৬
নিশ্চয় কষ্ট-কাঠিন্যের সাথে সহজসাধ্যতা রহিয়াছে,৩৩৮২
৩৩৮২। ‘নিশ্চয় কষ্ট-কাঠিন্যের সাথে সহজসাধ্যতা রহিয়াছে’ এই বাক্য পর পর দুইবার ব্যবহৃত হইয়াছে। ইহা দ্বারা বুঝা যায় ইসলামকে যে কঠিন ও কঠোর সময়ের মধ্য দিয়া অতিক্রম করিতে হইবে তন্মধ্যে দুইটি সময়ের ভীষণ কঠোরতা ইহার অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জ হইয়া দাঁড়াইবে। প্রথমে একবার ইহার প্রাথমিক বৎসরগুলিতে এবং দ্বিতীয়বার আখেরী যামানার দজ্জালিয়াতের যুগে। এই উভয় ক্ষেত্রেই, ইসলাম বিজয়ীর বেশে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইবে। এই আয়াত দ্বারা এই কথাও বুঝা যায় যে, নবী করীম (সাঃ) ও মুসলিম উম্মত যে সকল বিপদাবলীর সম্মুখীন হইবেন, তাহা অস্থায়ী ধরণের হইবে। সেই তুলনায় তাহারা যে কৃতকার্যতা লাভ করিবেন, তাহা হইবে স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী।

اِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ یُسۡرًا ؕ﴿۷﴾

৭
(হ্যাঁ) নিশ্চয় কষ্ট-কাঠিন্যের সাথে সহজসাধ্যতা রহিয়াছে।

فَاِذَا فَرَغۡتَ فَانۡصَبۡ ۙ﴿۸﴾

৮
অতএব যখন তুমি অবসর পাও, তখনই কঠোর সাধনায় ব্রতী হও।

وَاِلٰی رَبِّکَ فَارۡغَبۡ ﴿٪۹﴾

৯
এবং তোমার প্রতিপালকের প্রতি (পূর্ণ একাগ্রতার সহিত) মনোনিবেশ কর।৩৩৮২-ক
সূরা আল্‌‌ ইনশেরাহ্ - রুকু ১
৩৩৮২-ক। নবী করীম (সাঃ)-কে সান্ত্বনা ও নিশ্চয়তা দেওয়া হইতেছে যে, তাহার সম্মুখে আধ্যাত্মিক উন্নতির সীমাহীন পথ উন্মুক্ত রহিয়াছে। অতএব উপস্থিত বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করিয়া কৃতকার্য হইয়াই তিনি যেন সন্তুষ্ট না হন, বরং এক চূড়া অতিক্রম করার পর, অপর চূড়ায় আরোহণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন এবং এইভাবে শৃঙ্গ অতিক্রম করিতে থাকেন। কেননা পতিত মানবজাতিকে সুসভ্য জাগ্রত জনমানবে পরিণত করিতে হইলে এবং বিশ্বে আল্লাহ্‌র রাজত্ব কায়েম করিতে হইলে, সর্বকালীন প্রচেষ্টার প্রয়োজন, তাহাতে বিরামের সুযোগ কোথায়? আয়াতটির অন্য অর্থ ইহাও হইতে পারেঃ শিষ্যগণের শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণ দানের কর্তব্য সমাপনান্তে এবং দৈনন্দিন জাগতিক কার্যাদি সম্পাদনের পর, তিনি যেন রাতভর সর্বান্তঃকরণে আল্লাহ্‌র দিকে চিত্ত নিবিষ্ট করেন, কেননা তাঁহার আধ্যাত্মিক ভ্রমণ পথের কোন সীমা-পরিসীমা নাই।