৯

التوبة

সূরা আত্‌ তাওবা

At-Taubah

মাদানী ১২৯ আয়াত ১৬ রুকু পারা ১০–১১

ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, ইহাতে ১২৯ আয়াত এবং ১৬ রুকু আছে।

یُبَشِّرُہُمۡ رَبُّہُمۡ بِرَحۡمَۃٍ مِّنۡہُ وَرِضۡوَانٍ وَّجَنّٰتٍ لَّہُمۡ فِیۡہَا نَعِیۡمٌ مُّقِیۡمٌ ﴿ۙ۲۱﴾

২১
তাহাদের প্রভু তাহাদিগকে শুভ সংবাদ দিতেছেন নিজ রহমতের এবং নিজ সন্তোষের ও জান্নাতের যাহার মধ্যে তাহাদের জন্য চিরস্থায়ী নেয়ামত বিরাজমান থাকিবে;

خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ عِنۡدَہٗۤ اَجۡرٌ عَظِیۡمٌ ﴿۲۲﴾

২২
তাহারা উহাতে সদা বাস করিতে থাকিবে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌র নিকটই রহিয়াছে মহা পুরস্কার।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوۡۤا اٰبَآءَکُمۡ وَاِخۡوَانَکُمۡ اَوۡلِیَآءَ اِنِ اسۡتَحَبُّوا الۡکُفۡرَ عَلَی الۡاِیۡمَانِ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَلَّہُمۡ مِّنۡکُمۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ﴿۲۳﴾

২৩
হে যাহারা ঈমান আনিয়াছ! তোমরা তোমাদের পিতাকে ও তোমাদের ভাইকে মিত্ররূপে গ্রহণ করিও না যদি তাহারা ঈমানের মোকাবেলায় অবিশ্বাসকে বেশী ভালবাসে।১১৭১ তোমাদের মধ্য হইতে যাহারা তাহাদিগকে মিত্ররূপে গ্রহণ করিবে, তাহারাই যালেম হইবে।
১১৭১। এই আয়াত কাফেরদিগের সেই দলের প্রতি নিদের্শ করে যাহারা ইসলামের বিরুদ্ধে তৎপরতার সহিত শত্রুতা করিত এবং ইহাকে নিশ্চিহ্ন করিয়া দিতে কঠোর ভাবে চেষ্টা করিত।

قُلۡ اِنۡ کَانَ اٰبَآؤُکُمۡ وَاَبۡنَآؤُکُمۡ وَاِخۡوَانُکُمۡ وَاَزۡوَاجُکُمۡ وَعَشِیۡرَتُکُمۡ وَاَمۡوَالُ ۣاقۡتَرَفۡتُمُوۡہَا وَتِجَارَۃٌ تَخۡشَوۡنَ کَسَادَہَا وَمَسٰکِنُ تَرۡضَوۡنَہَاۤ اَحَبَّ اِلَیۡکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَجِہَادٍ فِیۡ سَبِیۡلِہٖ فَتَرَبَّصُوۡا حَتّٰی یَاۡتِیَ اللّٰہُ بِاَمۡرِہٖ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ ﴿٪۲۴﴾

২৪
তুমি বল, ‘তোমাদের পিতা এবং তোমাদের পুত্র এবং তোমাদের ভাই এবং তোমাদের স্ত্রী এবং তোমাদের আত্মীয়গণ এবং যে মাল তোমরা অর্জন করিয়াছ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, যাহার মন্দাকে তোমরা ভয় কর এবং বাসগৃহসমূহ যাহা তোমরা ভালবাস, যদি আল্লাহ্ এবং তাঁহার রসূল ও তাঁহার পথে জিহাদ করা অপেক্ষা তোমাদের নিকট অধিকতর প্রিয় হয়১১৭২ তাহা হইলে তোমরা অপেক্ষা কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ্‌ নিজ মীমাংসা প্রকাশ করেন, এবং আল্লাহ্ অবাধ্য জাতিকে হেদায়াত দান করেন না।
সূরা আত্‌ তাওবা - রুকু ৩
১১৭২। ধর্মের মোকাবিলায় আত্মীয়তার বন্ধন,বন্ধুবর্গ ও আত্মীয় কুটুম্বের প্রতি ভালবাসা এবং অন্যান্য জাগতিক ধন-সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ভূসম্পত্তির বিবেচনা প্রাধান্য পাওয়া সমীচীন নহে। যখন ধর্ম বিষয়ক মহোত্তর কারণ এবং অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কোন বিবেচনার প্রশ্ন উঠে তখন ঐ সকল বিষয়াদি ত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়।

لَقَدۡ نَصَرَکُمُ اللّٰہُ فِیۡ مَوَاطِنَ کَثِیۡرَۃٍ ۙ وَّیَوۡمَ حُنَیۡنٍ ۙ اِذۡ اَعۡجَبَتۡکُمۡ کَثۡرَتُکُمۡ فَلَمۡ تُغۡنِ عَنۡکُمۡ شَیۡئًا وَّضَاقَتۡ عَلَیۡکُمُ الۡاَرۡضُ بِمَا رَحُبَتۡ ثُمَّ وَلَّیۡتُمۡ مُّدۡبِرِیۡنَ ﴿ۚ۲۵﴾

২৫
নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদিগকে বহু রণক্ষেত্রে সাহায্য করিয়াছেন এবং হুনায়নের দিবসেও, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদিগকে আত্মশ্লাঘায় স্ফীত করিয়াছিল, কিন্তু উহা তোমাদের কোন উপকারে আসে নাই এবং ভূ-পৃষ্ঠ বিস্তীর্ণ হওয়া সত্বেও তোমাদের জন্য সংকীর্ণ হইয়া গিয়াছিল, তখন তোমরা পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করিয়া পলায়ন করিয়াছিলে।১১৭৩
১১৭৩। মক্কার পতনের পরে হাওয়াযিন এবং সাকিফ গোত্র সেনাবাহিনীতে যোগদান করিয়াছিল এবং মুসলমানগণের উপর আক্রমণ করিতে অগ্রসর হইয়াছিল। রসূল করীম (সাঃ) মক্কা হইতে পনর মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে হুনায়ন প্রান্তরে তাহাদের মোকাবিলা করিয়াছিলেন। মক্কায় মুসলমান সেনাদলে যোগদানকারী ২,০০০ নবদীক্ষিত মুসলমানসহ ১২,০০০ হাজার সৈন্যের এক বাহিনী তাঁহার সঙ্গে ছিল। নবী করীম (সাঃ)-এর নিয়মের ব্যতিক্রমে এই নওমুসলিমদল তাড়াহুড়া করিয়া শত্রুকে আক্রমণ করিয়া বসে, কিন্তু দ্রুত প্রতিঘাতে হতভম্ব হইয়া যুদ্ধক্ষেত্র হইতে এলোপাতাড়ি পলায়ন করে।ইহার কারণে মুসলমান বাহিনী যাহারা সংকীর্ণ গিরিখাতের মধ্যে দিয়া অগ্রসর হইতেছিল তাহাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়। এই ছত্রভঙ্গ অবস্থার মধ্যে আঁ-হযরত (সাঃ)-এর চারিপাশে রণক্ষেত্রে মাত্র ১০০ লোক ছিল। শত্রুপক্ষের তীরন্দাজবাহিনীর তীরগুলি তাঁহার চতুর্দিকে বৃষ্টির মত পড়িতেছিল। ইহা এক শ্বাসরুদ্ধকর চরম বিপদের মুহূর্ত। কিন্তু আল্লাহ্‌র প্রিয় নবী (সাঃ) তাঁহার বহনকারী খচ্চরকে শত্রুর দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য নির্ভিকভাবে পরিচালিত করিয়া যথাসাধ্য উচ্চকণ্ঠে আহ্বান করিয়া বলিয়া চলিলেন “আমি নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র নবী—ইহাতে কোন মিথ্যা নাই, আমি আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র”। নবী (সাঃ)-এর চাচা আব্বাস (রাঃ) যিনি অত্যন্ত উচ্চ আওয়াজের অধিকারী ছিলেন, পলায়নপর মুসলমান সৈন্যগণকে তাঁহার প্রভুর নিকট ফিরিয়া আসার জন্য দাকিতে লাগিলেন। এই তুরীনিনাদের ন্যায় আহ্বান বিচারদিনের ভেরী ধ্বনীর মত মুসলমানদিগকে উত্তেজিত করিয়া তুলিয়াছিল, তাহারা অতি কষ্টে পুনঃশ্রেণীবদ্ধ হইয়া নেতার (নবী-সাঃ) নিকটে দ্রুত ফিরিয়া গেল এবং প্রচণ্ডভাবে শত্রুর উপরে ঝাঁপাইয়া পড়িল, শত্রুরা ভীত-সন্ত্রস্ত ও ছত্রভঙ্গ হইয়া পলায়ন করিল। তুলা-দণ্ড উল্টিয়া গেল। সেই দিনের যুদ্ধে মুসলমানদের নিদর্শন-মূলক বিজয় হইল এবং অন্যূন ৬০০০ কাফের বন্দী হইল (তাবারী ও হিশাম)।

ثُمَّ اَنۡزَلَ اللّٰہُ سَکِیۡنَتَہٗ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ وَعَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَاَنۡزَلَ جُنُوۡدًا لَّمۡ تَرَوۡہَا وَعَذَّبَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ وَذٰلِکَ جَزَآءُ الۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۲۶﴾

২৬
অতঃপর, আল্লাহ্‌ তাঁহার রসূলের উপর এবং মু’মেনগণের উপর নিজ প্রশান্তি নাযেল করিলেন এবং তিনি এমন সৈন্য বাহিনী অবতীর্ণ করিলেন যাহাদিগকে তোমরা দেখ নাই এবং তিনি শাস্তি দিলেন তাহাদিগকে যাহারা অবিশ্বাস করিয়াছে এবং ইহাই অবিশ্বাসীদের প্রতিফল।

ثُمَّ یَتُوۡبُ اللّٰہُ مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۲۷﴾

২৭
অতঃপর (এই রূপ শাস্তির পর) আল্লাহ্ সদয় দৃষ্টিপাত করেন যাহার প্রতি তিনি ইচ্ছা করেন; প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্‌ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّمَا الۡمُشۡرِکُوۡنَ نَجَسٌ فَلَا یَقۡرَبُوا الۡمَسۡجِدَ الۡحَرَامَ بَعۡدَ عَامِہِمۡ ہٰذَا ۚ وَاِنۡ خِفۡتُمۡ عَیۡلَۃً فَسَوۡفَ یُغۡنِیۡکُمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖۤ اِنۡ شَآءَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ﴿۲۸﴾

২৮
হে যাহারা ঈমান আনিয়াছ! নিশ্চয় মোশরেকরা অপবিত্র, অতএব তাহারা যেন তাহাদের এই বৎসরের পর মসজিদে হারামের নিকট না আসে। এবং যদি তোমরা দরিদ্রের ভয় কর তাহা হইলে আল্লাহ্ চাহিল অচিরেই স্বীয় অনুগ্রহ দ্বারা তোমাদিগকে ধনী করিয়া দিবেন।১১৭৪ নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞানী, পরম প্রজ্ঞাময়।
১১৭৪। মক্কা এক বিরাট ব্যবসাকেন্দ্র ছিল এবং হজ্জের মওসুম ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য বিশেষ কর্মচঞ্চল সময় এবং আরববাসীদিগের বহু আয়-উপার্জনের উৎসস্থান। এই সব বাধা-নিষেধ আরোপের কারণে তাহাদের মনে তাহাদের আয়ের পথে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হইয়াছিল।

قَاتِلُوا الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَلَا بِالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَلَا یُحَرِّمُوۡنَ مَا حَرَّمَ اللّٰہُ وَرَسُوۡلُہٗ وَلَا یَدِیۡنُوۡنَ دِیۡنَ الۡحَقِّ مِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ حَتّٰی یُعۡطُوا الۡجِزۡیَۃَ عَنۡ ‌یَّدٍ وَّہُمۡ صٰغِرُوۡنَ ﴿٪۲۹﴾

২৯
যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তাহাদের মধ্য হইতে যাহারা আল্লাহ্‌র উপর এবং পরকালের উপর ঈমান আনে না এবং আল্লাহ্ ও তাঁহার রসূল যাহা হারাম করিয়াছেন, উহাকে তাহারা হারাম বলিয়া গণ্য করে না এবং তাহারা সত্য ধর্মকে অবলম্বন করে না, তোমরা তাহাদের সহিত যুদ্ধ কর যে পর্যন্ত না তাহারা অধীনস্থ হইয়া স্বেচ্ছায় জিযিয়া দেয়।১১৭৫
সূরা আত্‌ তাওবা - রুকু ৪
১১৭৫। “আইয়াদীন” এখানে আলঙ্কারিক অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছেঃ (১) স্বেচ্ছায় এবং মুসলমানগণের উচ্চতর ক্ষমতার স্বীকৃতি স্বরূপ, (২) নগদ অর্থে, পরে কিংবা কিস্তিতে পরিশোধ নহে, (৩) মুসলমানগণের অনুগ্রহরূপে বিবেচনা করিয়া ‘আন’ অর্থ, কারণ এবং ‘ইয়াদ’ অর্থ ক্ষমতা ও অনুগ্রহ (লেইন)। এই আয়াত আহলে কিতাবদের মধ্যে যাহারা আরবে বসবাস করিত তাহাদিগকে বুঝায়। এই সব লোকেরাও পৌত্তলিকদিগের মত ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে সক্রিয় ছিল এবং এবং ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করিয়া দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। অতএব, মুসলমানগণ আদিষ্ট হইয়া ছিল এইসকল লোকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার জন্য, যতক্ষণ না তাহারা আনুগত্যের সহিত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করিতে রাজি হয়। মুসলিম রাষ্ট্রের অধীনে এই সকল অ-মুসলিমরা স্বাধীন নাগরিক হিসাবে যে নিরাপত্তা ভোগ করিত উহার বিনিময়ে যে কর তাহাদের উপরে ধার্য করা হইত উহাকে ‘জিযিয়া’ বলা হইত। উল্লেখ্য যে, অমুসলমানগণের উপরে নির্ধারিত ‘জিযিয়া’র বিপরীত মুসলমানগণের উপরে যাকাতরূপে অনেক বেশী কর ধার্য ছিল, তদুপরি তাহাদিগকে দেশরক্ষার কাজে সেনাবাহিনীতে কাজ করিতে হইত, কিন্তু অমুসলিমদিগকে দেশরক্ষার দায়িত্ব হইতে নিষ্কৃতি দেওয়া হইত। এমতাবস্থায় তাহারা মুসলমানদের তুলনায় অনেক আরামে ছিল, কারণ তাহাদিগকে লঘু কর দিতে হইত এবং সামরিক কর্তব্য হইতেও তাহারা নিস্তার পাইত। “সাগিরুন” শব্দ অধীনস্থ রাজনৈতিক অবস্থা বুঝায়, অন্যথায় তাহারা মুসলমানদের সাথে সমান সামাজিক অধিকার ভোগ করিত। আরবের পৌত্তলিকরা এবং প্রতিবেশী ইহুদী ও খৃষ্টানগণ ইসলামের প্রধান শত্রু ছিল। পৌত্তলিকদিগের সঙ্গে অবিশ্বাসীগণের সম্পর্ক বর্ণনা করার পর এই সূরা তফসীরাধীন আয়াত দ্বারা আহলে কিতাবের সঙ্গে মুসলমানগণের সম্পর্ক বর্ণনা করিতেছে, বিশেষভাবে তাহাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতবাদের ক্ষেত্রে।

وَقَالَتِ الۡیَہُوۡدُ عُزَیۡرُ ۣابۡنُ اللّٰہِ وَقَالَتِ النَّصٰرَی الۡمَسِیۡحُ ابۡنُ اللّٰہِ ؕ ذٰلِکَ قَوۡلُہُمۡ بِاَفۡوَاہِہِمۡ ۚ یُضَاہِـُٔوۡنَ قَوۡلَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَبۡلُ ؕ قٰتَلَہُمُ اللّٰہُ ۚ۫ اَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ ﴿۳۰﴾

৩০
এবং ইহুদীরা বলে, ‘উযায়ের১১৭৬ আল্লাহ্‌র পুত্র’, এবং খৃষ্টানরা বলে, ‘মসীহ্‌ আল্লাহ্‌র পুত্র’; এই তাহাদের মুখের কথা। তাহারা কেবল উহাদের কথার নকল করে যাহারা ইতিপূর্বে অবিশ্বাস করিয়াছিল, আল্লাহ্ তাহাদিগকে ধ্বংস করুন! তাহাদিগকে কিভাবে (সত্য হইতে) দূরে লইয়া যাওয়া হইতেছে!
১১৭৬। উযায়ের বা ইয্‌রা খৃষ্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে বাস করিতেন। উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরোহিত সেরাইয়াহ্‌র বংশধর উযায়ের নিজেও পুরোহিত স্বভাব একজন সদস্য ছিলেন এবং ধর্মযাজক ইয্‌রা নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁহার যুগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং ইহুদী ধর্মের উন্নতি সাধনে সুদূর-প্রসারী প্রভাব বিস্তার করিয়াছিলেন। ইসরাঈলী নবীগণের মধ্যে তিনি বিশেষভাবে সম্মানিত হইয়াছিলেন। মদীনার ইহুদীগণ এবং হাযরামাউতের এক ইহুদী ফেরকা তাহাকে খোদার পুত্র বলিয়া বিশ্বাস করিত। রাব্বীগণ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠার সহিত তাহার নাম সংযুক্ত করে। রেনান (Renan) তাহার রচিত ‘ইহুদীজাতির ইতিহাস’ (History of the people of Israil) পুস্তকের ভূমিকায় মন্তব্য প্রকাশ করিয়াছেন যে, ইহূদী জাতির নিশ্চিত সংবিধান ইয়ূরার আমলেই কোন এক নির্দিষ্ট সময় হইতে আরম্ভ হইয়াছিল। রাব্বীয়দের সাহিত্যে তিনি নিয়ম-প্রণালী বা আইন-কানুনের যোগ্য মাধ্যমরূপে বিবেচিত হইতেন, যদি না পূর্বাহ্নেই হযরত মূসা (আঃ)-এর উপর শরীয়াত নাযেল হইত। তিনি নিহিমিয়ার সহযোগীতায় কর্ম সম্পাদন করিয়াছিলেন এবং ১২০ বৎসর বয়সে ব্যাবিলোনিয়াতে মৃত্যু বরণ করেন (যিউ এনসাইকোঃ ও এনসাইকো বিবঃ)