১০

يونس

সূরা ইউনুস

Yunus

মক্কী ১১০ আয়াত ১১ রুকু পারা ১১

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১১০ আয়াত এবং ১১ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

الٓرٰ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ الۡحَکِیۡمِ ﴿۲﴾

২
আলিফ লাম রা১২২৮ এইগুলি১২২৯ জ্ঞান ও হিকমতপূর্ণ১২৩০ কিতাবের আয়াত।
১২২৮। দেখুন টীকা ১৬।
১২২৯। “তিলকা” নির্দেশক সর্বনাম দূরের কোন বিষয় বা বস্তুকে বুঝাইবার জন্য ব্যবহৃত হইয়া থাকে। শব্দটি পূর্ববতী ধর্মগ্রন্থের ঐ সকল আয়াতের প্রতি নির্দেশ করিতেছে যাহাতে কুরআন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী নিহিত এবং কুরআনের মধ্যেই উহাদের পূর্ণতা ঘটিয়াছে। কোন কোন তফসীরকারকের মতে একটি লিখিত পূর্ণ কিতাব পূর্বাহ্নেই আল্লাহ্‌তা’লার নিকট রক্ষিত ছিল এবং সেই ঐশী কিতাব হইতেই তিনি সময়ে সময়ে আয়াতসমূহ নাযেল করিয়াছিলেন এবং ঐ মূল কিতাবের প্রতিই এই ইংগিত। অন্যান্যদের মতে উক্ত সর্বনাম কুরআনের উচ্চ মর্যাদা জ্ঞাপন করে এবং উহা কুরআনের আয়াতসমূহের মহত্ব ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
১২৩০। “জ্ঞান ও হিকমতপূর্ণ” শব্দগুলি কুরআনের তিনটি বৈশিষ্ট্যের প্রতি নির্দেশ করিতেছেঃ (ক) কুরআন জ্ঞান সমৃদ্ধ, ইহা সকল আধ্যাত্মিক জ্ঞানের ভিত্তি এবং সকল সত্যের আধার ও নিয়ামক; (খ) সকল প্রকার অবস্থা ও পরিস্থিতির শিক্ষা ইহাতে বিদ্যমান; (গ) সকল ধর্মের মতভেদ বা বিরোধসমূহের ক্ষেত্রে সঠিক মীমাংসা দানকারী।

اَکَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا اَنۡ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی رَجُلٍ مِّنۡہُمۡ اَنۡ اَنۡذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنَّ لَہُمۡ قَدَمَ صِدۡقٍ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕؔ قَالَ الۡکٰفِرُوۡنَ اِنَّ ہٰذَا لَسٰحِرٌ مُّبِیۡنٌ ﴿۳﴾

৩
ইহা কি মানব জাতির জন্য আশ্চর্যজনক বিষয় যে, তাহাদের মধ্য হইতে একজন মানুষের নিকট আমরা ওহী করিয়াছি যে, ‘তুমি মানব জাতিকে সতর্ক কর এবং যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদিগকে এই শুভ সংবাদ দাও যে, নিশ্চয় তাহাদের জন্য তাহাদের প্রভুর নিকট প্রকৃত মর্যাদা১২৩১ আছে?’ কাফেররা বলিল, ‘নিশ্চয় এই ব্যক্তি এক প্রকাশ্য যাদুকর।’১২৩১-ক
১২৩১। “কাদাম” অর্থ অগ্রাধিকার; পদমর্যাদা; প্রতিষ্ঠা। বলা হয় ‘লাহু ইনদী কাদামুন’ অর্থাৎ শক্তি বা পদমর্যাদায় সে আমার মত (লেইন)।
১২৩১-ক। এই আয়াত এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সুস্পষ্ট করিয়া দিয়াছে যে, দুশ্চরিত্র লোকেরা সকল আত্মমর্যাদা, জ্ঞান ও আত্ম-বিশ্বাস হারাইয়া ফেলে। এখানে অবিশ্বাসীদিগকে এত অধঃপতিত লোকরূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে যে, তাহারা কল্পনাও করিতে পারিত না যে, উহাদের মধ্য হইতে কোন ব্যক্তি নবীরূপে আসিয়া তাহাদিগকে এই মর্যাদাহীন পঙ্কিলে নিমজ্জিত অবস্থা হইতে উদ্ধার করিতে পারে। কেবল বাহির হইতেই কোন লোক আসিয়া তাহাদের অবস্থার পরিবর্তন করিতে পারে বলিয়া তাহারা মনে করিত।

اِنَّ رَبَّکُمُ اللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ ؕ مَا مِنۡ شَفِیۡعٍ اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ اِذۡنِہٖ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡہُ ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ﴿۴﴾

৪
নিশ্চয় তোমাদের প্রভু সেই আল্লাহ্ যিনি আকাশমণ্ডল এবং পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করিয়াছেন,১২৩২ অতঃপর তিনি আরশের১২৩২-ক উপর অধিষ্ঠিত হইয়াছেন;১২৩৩ তিনি সকল বিষয়১২৩৪ নিয়ন্ত্রণ করিতেছেন। তাঁহার অনুমতি ব্যতিরেকে কেহই সুপারিশকারী হইতে পারে না। ইনিই আল্লাহ্, তোমাদের প্রভু, অতএব তোমরা তাঁহারই ইবাদত কর। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে না?
১২৩২। ৯৮৪ টীকা দ্রষ্টব্য।
১২৩২-ক। ৫৪ টীকা দ্রষ্টব্য।
১২৩৩। “আরশ” অর্থ আল্লাহ্‌তা’লার অলৌকিক গুণাবলী, যাহাতে তিনি ছাড়া অন্য কাহারো কোনও অধিকার নাই। আল্লাহ্‌তা’লার এই সমূদয় সীফ্‌ত বা গুণাবলী তাঁহার সাদৃশ্য-জ্ঞাপক গুণাবলীর মাধ্যমে প্রদর্শিত বা প্রকাশিত হইয়া থাকে যাহা ৬৯ঃ১৮ আয়াতে “তোমার প্রভুর আরশ কে বহন করিবে” রূপে বর্ণিত হইয়াছে। ৯৮৬ টীকা দ্রষ্টব্য।
১২৩৪। ‘তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করিতেছেন’ শব্দগুলি বিশ্বজগতের কার্য-প্রক্রিয়াকে এবং ইহার উপায়-উপকরণকে নির্দেশ করে যাহা আল্লাহ্‌তা’লা তাঁহার হুকুম এবং ইচ্ছা কার্যকরী করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করিয়া থাকেন।

اِلَیۡہِ مَرۡجِعُکُمۡ جَمِیۡعًا ؕ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقًّا ؕ اِنَّہٗ یَبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ لِیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ بِالۡقِسۡطِ ؕ وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَہُمۡ شَرَابٌ مِّنۡ حَمِیۡمٍ وَّعَذَابٌ اَلِیۡمٌۢ بِمَا کَانُوۡا یَکۡفُرُوۡنَ ﴿۵﴾

৫
তাঁহারই দিকে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি সত্য। নিশ্চয় তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর, তিনি উহার পুনরাবর্তন করেন১২৩৫ যাহাতে তিনি ঐ সকল লোককে ন্যায়-সংগতভাবে প্রতিদান দিতে পারেন যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং পুণ্য কর্ম করিয়াছে এবং যাহারা অবিশ্বাস করিয়াছে, তাহাদের পান করিবার জন্য ফুটন্ত পানি থাকিবে এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থাকিবে কেননা তাহারা অবিশ্বাস করিত।
১২৩৫। মৃত্যুর পরে মানুষকে কেবল নূতন জীবনই দেওয়া হইবে না বরং সেখানে তাহার ইহজগতের কর্মের মূল্যায়ন করিয়া তাহাকে শাস্তি ও পুরস্কার দেওয়া হইবে। ইহজীবনেও পুরুষানুক্রমে উত্তরাধিকারিত্ব চলিতে থাকে যাহাতে পূর্বপুরুষের সৎকর্মসমূহ বৃথা না হয় এবং পরবর্তী বংশধরগণ উহা হইতে উপকৃত হইতে পারে। “সালিহাত” শব্দের অর্থ ভাল ও সৎকর্মসমূহ ছাড়াও, নিদিষ্ট বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে জরুরী প্রয়োজনানুসারে কৃত-কর্মসমূহকেও বুঝায়।

ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ الشَّمۡسَ ضِیَآءً وَّالۡقَمَرَ نُوۡرًا وَّقَدَّرَہٗ مَنَازِلَ لِتَعۡلَمُوۡا عَدَدَ السِّنِیۡنَ وَالۡحِسَابَ ؕ مَا خَلَقَ اللّٰہُ ذٰلِکَ اِلَّا بِالۡحَقِّ ۚ یُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ ﴿۶﴾

৬
তিনিই যিনি সূর্যকে প্রখর জ্যোতিবিশিষ্ট১২৩৬ এবং চন্দ্রকে স্নিগ্ধ কিরণবিশিষ্ট করিয়াছেন এবং উহার মনযি্‌লসমূহ নির্ধারণ করিয়াছেন যেন তোমরা বৎসরের গণনা এবং (সময়ের) হিসাব১২৩৭ জানিতে পার। আল্লাহ্ ইহা অবশ্যই যথাযথরূপে সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি এই সকল আয়াত জ্ঞানবান জাতির জন্য বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করিতেছেন।
১২৩৬। “যিয়া” অর্থ, আলো, উজ্জ্বল বা চমকপ্রদ আলো। “যিয়া” নূর শব্দের সমার্থ-বোধক। কাহারো কাহারো মতে, ইহা নূর অপেক্ষা অধিক তীব্রতা বা গভীর তাৎপর্য বহন করে। অভিধান বিশারদগণের কাহারো কাহারো বিবেচনায় ‘যিয়া’ দ্বারা এমন আলো বুঝায় যাহা ‘নূর’ দ্বারা বিস্তৃত বা বিকীর্ণ হয়। আবার অন্যান্যদের মতে ‘যিয়া’ সেই আলোকরশ্মিকে বুঝায় যাহার নিজস্ব বিদ্যমানতা আছে—যথা সূর্যের বা আগুনের আলো এবং ‘নূর’ হইল সেই আলোর অস্তিত্ব যাহা অন্য কিছুর দ্বারা প্রতিফলিত—যথা চন্দ্রের আলো অর্থাৎ প্রতিবিম্বিত আলো (লেইন ও আকরাব)। ইহাই সঠিক তথ্য বলিয়া অনুমিত হয় যে, ‘যিয়া’ হইল তীব্র আলোকচ্ছটা এবং নূর হইল এমন আলো, যাহা সাধারণভাবে ব্যাপক ও অন্ধকারের বিপরীত অর্থ বুঝায়। এই জন্যই আল্লাহ্‌তা’লার আরেক নাম ‘নূর’। এই অর্থই বরং অধিক ব্যাপক এবং গভীর এবং সেই সঙ্গে অধিকতর গূঢ় ভাব ও তাৎপর্য জ্ঞাপক (মুহীত)।
১২৩৭। তফ্সীরাধীন আয়াত অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ প্রাকৃতিক নিয়মের প্রতি নির্দেশ করিতেছে। কোন বস্তু মহাশূন্যে কতটুকু স্থান পরিভ্রমণ করিয়াছে তাহা আমরা নিরূপণ করিতে পারি কেবলমাত্র অন্যান্য বস্তুর আপেক্ষিকতায় উহার স্থান পরিবর্তনের দ্বারা। আল্লাহ্‌তা’লা সূর্য এবং চন্দ্রের গতির ভিন্ন ভিন্ন ধাপ নিয়োজিত করিয়াছেন যাহাতে আমরা সময়ের গণনা করিতে সক্ষম হই। অন্য কথায়, তিনি এই সকল গ্রহ-নক্ষত্র প্রভৃতি জ্যোতিষ্কমণ্ডলীকে চলমান করিয়াছেন এবং ইহাদের গতির পর্যায় বা ক্রম নির্ধারিত করিয়া দিয়াছেন যাহাতে এই গতি লক্ষ্য করিয়া আমরা বুঝিতে পারি যে, এত সময় অতিবাহিত হইয়াছে এবং আমাদের মূল অবস্থান হইতে আরো সরিয়া চলিয়াছি। সর্বপ্রকার পঞ্জিকা বা কাল গণনার পদ্ধতি সূর্য এবং চন্দ্রের গতিবিধির উপর নির্ভর করে। চন্দ্র পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে, ফলে আমরা মাস-পঞ্জির হিসাব জানতে পারি। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে এবং নিজ অক্ষ-রেখার উপরেও আবর্তন করে, এইরূপে আমাদিগকে বৎসর এবং দিন নিরূপণ করিতে সক্ষম করে।

اِنَّ فِی اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ وَمَا خَلَقَ اللّٰہُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَّقُوۡنَ ﴿۷﴾

৭
নিশ্চয় রাত্রি ও দিবসের পরিবর্তনের মধ্যে এবং প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে যাহা আল্লাহ্ আকাশমণ্ডলে এবং পৃথিবীতে সৃষ্টি করিয়াছেন মুত্তাকী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে।১২৩৮
১২৩৮। বর্তমান আয়াতে “মুত্তাকী সম্প্রদায়ের জন্য” উক্তিটি পূর্ববর্তী আয়াতের “জ্ঞানবান জাতির জন্য” উক্তির বদলে ব্যবহৃত হইয়াছে। কারণ যদিও চন্দ্র-সূর্যের ক্রম-আবর্তন ইন্দ্রিয়-গ্রাহ্য বিষয়– সাধারণ ব্যক্তিও উহা জানে,তবুও শুধু মুত্তাকী লোকেরাই বিরূপভাব না লইয়া বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে উহা হইতে প্রকৃত আধ্যাত্মিক ফায়দা হাসিল করিতে পারে। পূর্বোক্ত আয়াতে বর্ণিত চন্দ্র এবং সূর্যের ভিন্ন ভিন্ন কক্ষ বিন্যাস সকলের অনুধাবন করা এবং বোধগম্য হওয়া সহজসাধ্য ব্যাপার নহে। অতএব কেবল জ্ঞান-সমৃদ্ধ ব্যক্তিগণই ইহা দ্বারা উপকৃত হইতে পারে। এতদ্ব্যতীত দিন এবং রাত্রির পরিবর্তন জাতিসমূহের উত্থান-পতনের অনুরূপ। তাহাদের উন্নতি এবং গৌরবময় দিবসের পরে আসে তাহাদের অবনতি ও অধঃপতনের রাত্রি। কোন জাতিই কখনও অবিরাম বা স্থায়ী গৌরব ভোগ করে নাই, কোন জনগোষ্ঠীও চিরকাল দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকে নাই বা চিরদিন অধঃপতিত অবস্থায় অন্ধকারে পথ হাতড়াইয়া বেড়ায় নাই। কোন জাতি তাহাদের উন্নতির কালকে দীর্ঘায়ীত করিতে পারে এবং অবনতি ও অবক্ষয়ের অন্ধকার রাত্রিকে হ্রাস করিতে পারে। তাহাদের রাত্রির আগমনকে বিলম্বিত করাও তাহাদের কর্মফল দ্বারাই সম্ভব।

اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوۡا بِالۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَاطۡمَاَنُّوۡا بِہَا وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنۡ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوۡنَ ۙ﴿۸﴾

৮
নিশ্চয় যাহারা আমাদের সাক্ষাতের আশা১২৩৯ রাখে না এবং পার্থিব জীবনের প্রতি পরিতুষ্ট হইয়াছে এবং উহাতেই পরিতৃপ্তি লাভ করিয়াছে এবং আমাদের নিদর্শনাবলীর প্রতি অমনোযোগী রহিয়াছে—
১২৩৯। মানব প্রকৃতি বিশ্লেষণ করিলে এই গুরুত্ববহ বাস্তব সত্য উদঘাটিত হয় যে, মানবীয় সকল উন্নতি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি আশা ও ভয়ের সহিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমাদের চরম প্রচেষ্টা এই দুইটির যে কোন একটি সহজাত বৃত্তির প্রেরণা গ্রসূত। কেহ কেহ ক্ষমতা, পদ বা সম্পদ বৃদ্ধির আশায় অনুপ্রাণিত হইয়া কঠোর পরিশ্রম করে, অন্যান্যরা ভীতির কারণে কাজ করে। বর্তমান আয়াত উল্লেখিত উভয় শ্রেণীর লোকের কথাই উল্লেখ করিয়াছে “রাযা” শব্দ ব্যবহারে, যাহার অর্থ সে আশা করিয়াছিল; সে ভীত হইয়াছিল (লেইন)।

اُولٰٓئِکَ مَاۡوٰٮہُمُ النَّارُ بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ﴿۹﴾

৯
এই সকল লোকের আবাসস্থল হইবে আগুন—তাহাদের কর্মফলের জন্য!

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَہۡدِیۡہِمۡ رَبُّہُمۡ بِاِیۡمَانِہِمۡ ۚ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہِمُ الۡاَنۡہٰرُ فِیۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ ﴿۱۰﴾

১০
নিশ্চয় যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং পুণ্য কর্ম করিয়াছে– তাহাদের প্রভু তাহাদের ঈমানের জন্য তাহাদিগকে (সাফল্যের পথে) পরিচালিত করিবেন। নেয়ামতপূর্ণ বাগান সমূহে তাহাদের তলদেশ১২৪০ দিয়া নহর সমূহ প্রবাহিত হইবে।
১২৪০। “তাহত” (তলদেশ) শব্দ এখানে বশ্যতা বা দাসত্ব অর্থে আলঙ্কারিকভাবে ব্যবহৃত হইয়াছে। এই অর্থে “উহাদের নিম্নে বা তলদেশে” উক্তির মর্ম হইতেছে যে, জান্নাতের অধিবাসীগণ তাহাদের তলদেশে প্রবাহিত ঝর্ণাধারা দখলদাররূপে বা প্রজাস্বত্ব রূপে ভোগ করিবে না, বরং তাহারা জান্নাতের উক্ত স্রোতস্বিনীর মালিক এবং পরিচালকও হইবে।