৬

الأنعام

সূরা আল্ আন্‌‘আম

Al-An`am

মক্কী ১৬৬ আয়াত ২০ রুকু পারা ৭–৮

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১৬৬ আয়াত এবং ২০ রুকু আছে।

وَلَقَدِ اسۡتُہۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ﴿٪۱۱﴾

১১
এবং তোমার পূর্বেও রসূলগণকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হইয়াছে, ফলে তাহাদের মধ্য হইতে যাহারা হাসি-বিদ্রূপ করিয়াছিল তাহাদিগকে উহাই পরিবেষ্টন করিয়াছিল যাহা লইয়া তাহারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করিত।
সূরা আল্ আন্‌‘আম - রুকু ১

قُلۡ سِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ ثُمَّ انۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۱۲﴾

১২
তুমি বল, ‘তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ, (সত্যকে) মিথ্যা বলিয়া প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণাম কি হইয়াছিল?’

قُلۡ لِّمَنۡ مَّا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ قُلۡ لِّلّٰہِ ؕ کَتَبَ عَلٰی نَفۡسِہِ الرَّحۡمَۃَ ؕ لَیَجۡمَعَنَّکُمۡ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ ؕ اَلَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۱۳﴾

১৩
তুমি বল, ‘আকাশ মণ্ডল ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে ঐ সকল কাহার? তুমিই বল, ‘আল্লাহ্‌রই।’ রহমতকে৮২৮ তিনি নিজের উপর অবধারিত করিয়া লইয়াছেন। নিশ্চয় তিনি তোমাদিগকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত একত্রিত করিয়া যাইতে থাকিবেন, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। যাহারা নিজদিগকে ক্ষতিগ্রস্ত করিয়াছে তাহারাই ঈমান আনিবে না।
৮২৮। আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যাহা কিছু আছে সবই আল্লাহ্‌তা’লার মালিকানাধীন, ঈমানের শত্রুও তাঁহারই মালিকানাধীন। আল্লাহ্‌র পক্ষে তো দুরের কথা, কোন মানুষও তাহার নিজের শিল্পকর্ম ধ্বংস করিয়া দেওয়া পসন্দ করে না। আল্লাহ্ করুণাময় এবং তিনি অবিশ্বাসীদিগকে অবকাশ দিয়া থাকেন যেন তাহারা অনুশোচনা করে এবং তাহাদের করুণা প্রদর্শন করা যায়।

وَلَہٗ مَا سَکَنَ فِی الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ ؕ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ﴿۱۴﴾

১৪
রাত্রি ও দিবসে যাহা কিছু অবস্থান করিতেছে, সকলই তাহার। বস্তুতঃ তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

قُلۡ اَغَیۡرَ اللّٰہِ اَتَّخِذُ وَلِیًّا فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَہُوَ یُطۡعِمُ وَلَا یُطۡعَمُ ؕ قُلۡ اِنِّیۡۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ اَوَّلَ مَنۡ اَسۡلَمَ وَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ﴿۱۵﴾

১৫
তুমি বল, ‘আমি কি আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়া অন্য কাহাকেও অভিভাবকরূপে গ্রহণ করিব অথচ তিনি আকাশ মণ্ডল ও পৃথিবীর আদিস্রষ্টা,৮২৯ এবং তিনিই (অন্যকে) আহার করান এবং তাঁহাকে আহার করানো হয় না?’ তুমি বল, ‘নিশ্চয় আমি আদিষ্ট হইয়াছি যেন আমি তাহাদের মধ্যে প্রথম হই যাহারা আত্মসমর্পণ করে।’ এবং তুমি আদৌ মোশরেকদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।
৮২৯। ‘ফাতির’ শব্দ যখন আল্লাহ্‌তা’লার সম্বন্ধে ব্যবহৃত হয় তখন ইহার অর্থ হয় আদি-স্রষ্টা, উদগাতা অথবা নির্মাতা।

قُلۡ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اِنۡ عَصَیۡتُ رَبِّیۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ﴿۱۶﴾

১৬
তুমি বল, ‘নিশ্চয় আমি ভয় করি এক মহা দিনের আযাবকে, যদি আমি আমার প্রভুর অবাধ্যতা৮৩০ করি।’
৮৩০। এই আয়াত আল্লাহ্‌তা’লার প্রতি অবাধ্যতার বিরুদ্ধে মানুষকে সতর্ক থাকার উদ্দেশ্যে জোরালো ভাবে পরামর্শ দান করিতেছে। ইহার অর্থ এই নহে যে, নবী করীম (সাঃ) কখনো আল্লাহ্‌র অবাধ্য হইয়াছিলেন।

مَنۡ یُّصۡرَفۡ عَنۡہُ یَوۡمَئِذٍ فَقَدۡ رَحِمَہٗ ؕ وَذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡمُبِیۡنُ ﴿۱۷﴾

১৭
সেই দিন যাহার উপর হইতে ইহা (আযাব) টলাইয়া দেওয়া হইয়াছে প্রকৃতপক্ষে তিনি (আল্লাহ্) তাহার প্রতি রহম করিয়াছেন; এবং ইহাই৮৩১ প্রকাশ্য সফলতা।
৮৩১। “যালিকা” শাস্তি সরাইয়া দেওয়া অথবা ‘অনুকম্পা’ দান করা দুই-এর যে কোন একটি উদ্দেশ্যের প্রতি ইশারা হইতে পারে।

وَاِنۡ یَّمۡسَسۡکَ اللّٰہُ بِضُرٍّ فَلَا کَاشِفَ لَہٗۤ اِلَّا ہُوَ ؕ وَاِنۡ یَّمۡسَسۡکَ بِخَیۡرٍ فَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۱۸﴾

১৮
এবং যদি আল্লাহ্ তোমাকে ক্লেশে জড়াইয়া ফেলেন তাহা হইলে তিনি ছাড়া কেহই উহা দূর করিতে পারে না, এবং যদি তিনি তোমাকে কল্যাণমণ্ডিত করেন তাহা হইলে তিনি প্রত্যেক বিষয়ের উপরে পূর্ণ ক্ষমতাবান।

وَہُوَ الۡقَاہِرُ فَوۡقَ عِبَادِہٖ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ ﴿۱۹﴾

১৯
বস্তুতঃ তিনি তাঁহার বান্দাগণের উপর প্রবল;৮৩২ এবং তিনি পরম প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞাত।
৮৩২। “আল্‌ কাহির” অর্থঃ- প্রবল, শক্তিমান, বিজয়ী, লাঞ্ছনা প্রদানকারী, সর্বোচ্চ, মহোত্তম, আল্লাহ্‌তা’লার এক নাম। পদার্থ এবং আত্মা আল্লাহ্‌র সহিত সহ-অস্তিত্ববান অর্থাৎ উহারা আল্লাহ্ কর্তৃক সৃষ্ট নয়—এই মতবাদকে খণ্ডন করে। যদি ইহাদিগকে আল্লাহ্‌তা’লা সৃষ্টি না করিতেন তাহা হইলে ইহাদিগকে দমন করা বা বশীভূত রাখার ক্ষমতা বা অধিকার তাঁহার থাকিত না।

قُلۡ اَیُّ شَیۡءٍ اَکۡبَرُ شَہَادَۃً ؕ قُلِ اللّٰہُ ۟ۙ شَہِیۡدٌۢ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ۟ وَاُوۡحِیَ اِلَیَّ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنُ لِاُنۡذِرَکُمۡ بِہٖ وَمَنۡۢ بَلَغَ ؕ اَئِنَّکُمۡ لَتَشۡہَدُوۡنَ اَنَّ مَعَ اللّٰہِ اٰلِہَۃً اُخۡرٰی ؕ قُلۡ لَّاۤ اَشۡہَدُ ۚ قُلۡ اِنَّمَا ہُوَ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ وَّاِنَّنِیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُشۡرِکُوۡنَ ﴿ۘ۲۰﴾

২০
তুমি বল, ‘সাক্ষ্যদানে কোন অস্তিত্ব সর্বশ্রেষ্ঠ?’ তুমি বল, ‘আল্লাহ্‌; তিনি আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী।৮৩৩ এবং এই কুরআন আমার প্রতি ওহী করা হইয়াছে যেন আমি ইহা দ্বারা তোমাদিগকে এবং যাহাদের নিকট ইহা পৌঁছে (ভাবী আযাব সম্বন্ধে) সতর্ক করিতে পারি। কী! তোমরা কি বাস্তবিকই সাক্ষ্য দিতেছ যে, আল্লাহ্ ব্যতিরেকে আরও অন্য মা’বূদ আছে?’ তুমি বল, ‘আমি (এইরূপ) সাক্ষ্য দিব না।’ তুমি পুনরায় বল, ‘তিনি নিজ সত্তায় এক অদ্বিতীয় মা’বূদ, এবং তোমরা যে সকল বস্তুকে (তাহার সহিত) শরীক কর, নিশ্চয় আমি ঐ সকল হইতে মুক্ত।’
৮৩৩। আল্লাহ্‌তা’লা তিন ভাবে সাক্ষ্য বা প্রমাণ পেশ করেছেন— কুরআন মজীদ নাযেলের মাধ্যমে প্রথম প্রমাণ, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রমাণ পরবর্তী আয়াত সমূহে উল্লেখিত হইয়াছে।