৬

الأنعام

সূরা আল্ আন্‌‘আম

Al-An`am

মক্কী ১৬৬ আয়াত ২০ রুকু পারা ৭–৮

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১৬৬ আয়াত এবং ২০ রুকু আছে।

اَلَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یَعۡرِفُوۡنَہٗ کَمَا یَعۡرِفُوۡنَ اَبۡنَآءَہُمۡ ۘ اَلَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿٪۲۱﴾

২১
যাহাদিগকে আমরা এই কিতাব দিয়াছি তাহারা উহাকে সেইভাবে চিনে যেভাবে তাহার নিজ সন্তান-সন্ততিকে চিনে।৮৩৪ যাহারা নিজেদের আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিয়াছে, বস্তুতঃ তাহারাই ঈমান আনিবে না।
সূরা আল্ আন্‌‘আম - রুকু ২
৮৩৪। আল্লাহ্‌তা’লার কোন নবী (এবং ইমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত যে কোন বিষয়) তাঁহার দাবীর শুরুতেই পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করে না। তাঁহার উপরে বিশ্বাস আনয়ন বা তাঁহার স্বীকৃতি দেওয়া হয় যেমন এক পিতা বিশ্বাসের উপর নির্ভর করিয়া তাহার পুত্রের পুত্রত্বের স্বীকৃতি দেয়— অদৃশ্য অবস্থার উপরেই সদা বিশ্বাসের ভিত্তি সূচিত হয়।

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ کَذَّبَ بِاٰیٰتِہٖ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الظّٰلِمُوۡنَ ﴿۲۲﴾

২২
এবং ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যালেম কে, যে আল্লাহ্‌র উপর মিথ্যা আরোপ করে অথবা তাঁহার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলিয়া প্রত্যাখ্যান করে? নিশ্চয় যালেমরা কখনও সফলকাম হয় না।৮৩৫
৮৩৫। তৃতীয় প্রকারের প্রমাণ বা সাক্ষ্য মানবীয় যুক্তি-ভিত্তিক। প্রত্যেক সাধু বা সৎ ব্যক্তি স্বীকার করিবেন যে, কোন মানুষ যদি আল্লাহ্‌তা’লার সাথে কথা বলিবার দাবী করে এবং তাঁহার বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, সে কেবল তাহার জীবনকে অকৃতকার্যতার মধ্যেই বিনাশ করে। অপর পক্ষে, যাহারা আল্লাহ্‌তা’লার প্রেরিত পুরুষ বা নবীর বিরোধিতা করে তাহারা কখনও উন্নতি করিতে পারে না এবং নতুন ধর্মের প্রতিবন্ধকতা বা গতিরোধ করার জন্য তাহাদের সকল প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইয়া থাকে।

وَیَوۡمَ نَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ نَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡۤا اَیۡنَ شُرَکَآؤُکُمُ الَّذِیۡنَ کُنۡتُمۡ تَزۡعُمُوۡنَ ﴿۲۳﴾

২৩
এবং (চিন্তা কর সেই দিনের) যে দিন আমরা তাহাদের সকলকে একত্রিত করিব; অতঃপর যাহারা (আল্লাহ্‌র সহিত) শরীক করিয়াছে, আমরা তাহাদিগকে বলিব, ‘তোমাদের ঐ সকল শরীক কোথায়, যাহাদের সম্বন্ধে তোমরা (শরীক বলিয়া) বিশ্বাস করিতে?৮৩৬
৮৩৬। তোমরা নিশ্চয়তার সহিত বলিয়াছিলে, দাবী করিয়াছিলে অথবা ঘোষণা করিয়াছিলে।

ثُمَّ لَمۡ تَکُنۡ فِتۡنَتُہُمۡ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡا وَاللّٰہِ رَبِّنَا مَا کُنَّا مُشۡرِکِیۡنَ ﴿۲۴﴾

২৪
তখন এই কথা বলা ছাড়া তাহাদের আর কোন অজুহাত থাকিবে না যে, ‘আমাদের প্রভু, আল্লাহ্‌র কসম আমরা মোশরেক ছিলাম না।’৮৩৭
৮৩৭। পৌত্তলিকগণের এই অস্বীকৃতি প্রকৃতই তাহাদের অসহায়ত্বের মধ্যে অপরাধ স্বীকারের এক কাতরোক্তি এবং ইহা আল্লাহ্‌তা’লার অনুকম্পা আকর্ষণের এক ধরনের আবেদন বিশেষ।

اُنۡظُرۡ کَیۡفَ کَذَبُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ﴿۲۵﴾

২৫
দেখ! কিভাবে তাহারা তাহাদের নিজেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলিবে। এবং তাহারা যাহা কিছু মিথ্যা রচনা করিত, তাহাদিগ হইতে ঐসব উধাও হইয়া যাইবে।

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّسۡتَمِعُ اِلَیۡکَ ۚ وَجَعَلۡنَا عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ اَکِنَّۃً اَنۡ یَّفۡقَہُوۡہُ وَفِیۡۤ اٰذَانِہِمۡ وَقۡرًا ؕ وَاِنۡ یَّرَوۡا کُلَّ اٰیَۃٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡا بِہَا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡکَ یُجَادِلُوۡنَکَ یَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿۲۶﴾

২৬
এবং তাহাদের মধ্যে এমন কতক আছে যাহারা তোমার দিকে কান পাতিয়া রাখে; কিন্তু আমরা তাহাদের হৃদয়ের উপর পর্দা ফেলিয়া দিয়াছি যেন তাহারা উহা বুঝিতে না পারে এবং তাহাদের কর্ণে বধিরতা (সৃষ্টি করিয়াছি)। অবস্থা এই যে, তাহারা যদি সকল প্রকার নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে তবুও তাহারা উহার উপর ঈমান আনিবে না; এমন কি যখন তাহারা তোমার সঙ্গে বিতর্ক করিতে করিতে তোমার নিকট উপস্থিত হয়, তখন যাহারা অস্বীকার করিয়াছে তাহারা বলে, ‘ইহা প্রাচীন লোকদের কিচ্ছা-কাহিনী ব্যতীত আর কিছুই নহে।’

وَہُمۡ یَنۡہَوۡنَ عَنۡہُ وَیَنۡـَٔوۡنَ عَنۡہُ ۚ وَاِنۡ یُّہۡلِکُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡفُسَہُمۡ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ ﴿۲۷﴾

২৭
তাহারা ইহা হইতে (অন্যদেরকেও) রোধ করে এবং নিজেরাও ইহা হইতে দূরে থাকে।৮৩৮ বস্তুতঃ তাহারা নিজদিগকে ছাড়া অন্য কাহাকেও ধ্বংস করে না, কিন্তু তাহারা ইহা বুঝে না।
৮৩৮। এই আয়াত কুরআনে আযীমের প্রভাবশালী শক্তির এক জোরালো ব্যখ্যা।

وَلَوۡ تَرٰۤی اِذۡ وُقِفُوۡا عَلَی النَّارِ فَقَالُوۡا یٰلَیۡتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُکَذِّبَ بِاٰیٰتِ رَبِّنَا وَنَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۲۸﴾

২৮
এবং তুমি যদি দেখিতে পাইতে, যখন তাহাদিগকে আগুনের সম্মুখে দণ্ডায়মান করা হইবে, তখন তাহারা বলিবে, ‘হায়! যদি আমাদিগকে ফেরৎ পাঠানো হইত, তাহা হইলে আমরা আমাদের প্রভুর নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলিয়া অস্বীকার করিতাম না, এবং আমরা মো’মেনদের অন্তর্ভুক্ত হইতাম।’

بَلۡ بَدَا لَہُمۡ مَّا کَانُوۡا یُخۡفُوۡنَ مِنۡ قَبۡلُ ؕ وَلَوۡ رُدُّوۡا لَعَادُوۡا لِمَا نُہُوۡا عَنۡہُ وَاِنَّہُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ ﴿۲۹﴾

২৯
বরং তাহারা যাহা পূর্বে গোপন করিতেছিল উহা (এখন) তাহাদের নিকট সুস্পষ্ট হইয়াছে।৮৩৯ এবং যদি তাহাদিগকে ফেরৎ পাঠাইয়া দেওয়া হইত, তবুও তাহারা পুনরায় নিশ্চয় সেই বিষয়ের দিকে ফিরিয়া যাইত যাহা হইতে তাহাদিগকে নিষেধ করা হইয়াছিল। এবং নিশ্চয় তাহারাই মিথ্যাবাদী।
৮৩৯। “উহা (এখন) তাহাদের নিকট সুস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে” আয়াতের এই কথাগুলি ইহাই ব্যক্ত করে যে, আল্লাহ্‌তা’লার নবীগণের শত্রুদের অন্তরেও ঐশী-প্রেরিতগণের সত্যতা সম্বন্ধে এক প্রকার সচেতনতা বিদ্যমান থাকে; কিন্তু তাহাদের গোঁড়ামী এবং একগুঁয়েমি দ্বারা তাহারা এই মনোভাব চাপিয়া রাখে। শেষ বিচার দিবসে তাহাদের মনের অন্তর্নিহিত অবস্থা, যাহা তাহারা ইহজীবনে লুক্কায়িত রাখার চেষ্টা করিয়াছিল, স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হইবে, এবং আল্লাহ্‌তা’লার নবীর সত্যতা সম্বন্ধে তাহাদের হৃদয়ে যে সুপ্ত চেতনা ছিল উহা তখন স্পষ্ট প্রদর্শিত হইবে।

وَقَالُوۡۤا اِنۡ ہِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنۡیَا وَمَا نَحۡنُ بِمَبۡعُوۡثِیۡنَ ﴿۳۰﴾

৩০
এবং তাহারা বলে, ‘আমাদের পার্থিব জীবন ছাড়া আর কোন কিছু নাই, এবং আমরা পুনরুত্থিতও হইব না।’