৪৫

الجاثية

সূরা আল্‌ জাসিয়া

Al-Jathiyah

মক্কী ৩৮ আয়াত ৪ রুকু পারা ২৫

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৩৮ আয়াত এবং ৪ রুকু আছে।

ہٰذَا بَصَآئِرُ لِلنَّاسِ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ لِّقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ ﴿۲۱﴾

২১
ইহা (কুরআন) মানবজাতির জন্য জ্যোতির্ময় দলীল-প্রমাণ এবং দৃঢ়-বিশ্বাস স্থাপনকারী জাতির জন্য হেদায়াত এবং রহমত।

اَمۡ حَسِبَ الَّذِیۡنَ اجۡتَرَحُوا السَّیِّاٰتِ اَنۡ نَّجۡعَلَہُمۡ کَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ سَوَآءً مَّحۡیَاہُمۡ وَمَمَاتُہُمۡ ؕ سَآءَ مَا یَحۡکُمُوۡنَ ﴿٪۲۲﴾

২২
যাহারা মন্দ কর্ম করে তাহারা কি মনে করে যে, আমরা তাহাদিগকে উহাদের সমতুল্য করিয়া দিব যাহারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে যাহার ফলে তাহাদের জীবন এবং তাহাদের মরণ সমান হইয়া যাইবে? তাহারা কত মন্দ বিচার করিতেছে!
সূরা আল্‌ জাসিয়া - রুকু ২

وَخَلَقَ اللّٰہُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ وَلِتُجۡزٰی کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ﴿۲۳﴾

২৩
এবং আল্লাহ্ আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে সনাতন নিয়মানুযায়ী সৃষ্টি করিয়াছেন যেন প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেই অনুযায়ী প্রতিফল দেওয়া হয় যাহা সে অর্জন করে, বস্তুতঃ তাহাদের উপর কোন অবিচার করা হইবে না।

اَفَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـہَہٗ ہَوٰٮہُ وَاَضَلَّہُ اللّٰہُ عَلٰی عِلۡمٍ وَّخَتَمَ عَلٰی سَمۡعِہٖ وَقَلۡبِہٖ وَجَعَلَ عَلٰی بَصَرِہٖ غِشٰوَۃً ؕ فَمَنۡ یَّہۡدِیۡہِ مِنۡۢ بَعۡدِ اللّٰہِ ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ﴿۲۴﴾

২৪
তুমি কি সেই ব্যক্তির (অবস্থার) প্রতি লক্ষ্য করিয়াছ যে নিজের হীন প্রবৃত্তিকে মা’বূদ বানাইয়া লইয়াছে, অথচ আল্লাহ্ তাহাকে (তাঁহার) জ্ঞানানুযায়ী পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করিয়াছেন এবং তাহার কর্ণের ও হৃদয়ের উপর মোহরাংকিত করিয়া দিয়াছেন এবং তাহার চক্ষুর উপর পর্দা ফেলিয়া দিয়াছেন। সুতরাং আল্লাহ্‌র (এইরূপ ফয়সালার) পর কে তাহাকে হেদায়াত দিবে? তোমরা কি তথাপি উপদেশ গ্রহণ করিবে না?

وَقَالُوۡا مَا ہِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنۡیَا نَمُوۡتُ وَنَحۡیَا وَمَا یُہۡلِکُنَاۤ اِلَّا الدَّہۡرُ ۚ وَمَا لَہُمۡ بِذٰلِکَ مِنۡ عِلۡمٍ ۚ اِنۡ ہُمۡ اِلَّا یَظُنُّوۡنَ ﴿۲۵﴾

২৫
এবং তাহারা বলে, ‘আমাদের এই পার্থিব জীবন ব্যতিরেকে আর কিছুই নাই, (এমনইভাবে) আমরা মরি এবং বাঁচি, এবং একমাত্র কালই (এর প্রভাবই)২৭১৩ আমাদিগকে ধ্বংস করে।’ বস্তুতঃ এ বিষয়ে তাহাদের কোন জ্ঞান নাই, তাহারা কেবল আনুমানিক কথা বলিতেছে।
২৭১৩। ‘দহ্‌র’ অর্থঃ (ক) বিশ্ব-জগতের প্রারম্ভ হইতে ধ্বংস প্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত সময় বা এই সময়ের অংশ বিশেষ; (খ) অদৃষ্ট; (গ) যুগ; (ঘ) দুর্যোগপূর্ণ সময়, মহাবিপদ কাল; (ঙ) রীতি-নীতি ইত্যাদি (লেইন)। এই আয়াত বলিতেছে, অবিশ্বাসীদিগকে যখন বলা হয় যে, মৃত্যুর পরের জীবনে তাহাদিগকে সৃষ্টি-কর্তার কাছে তাহাদের ইহলৌকিক কার্যকলাপের জন্য জবাবদিহি করিতে হইবে, তখন তাহারা বিশ্বাসই করিতে চায় না যে ‘পরকাল’ বলিয়া একটা কিছু আছে। এর বিপরীতে তাহারা মনে করে যে, যাহারা মরে, অন্যেরা আসিয়া তাহাদের স্থান পূরণ করে এবং এই ধারা চলিতে চলিতে এমন এক সময় আসিবে যখন সকল প্রকারের বস্তুই গলিয়া বিনষ্ট ও নিঃশেষ হইয়া যাইবে। তাহাদের মতে ইহাই জীবনের সারকথা, ইহ-জগতই সব কিছু, ইহার পরে আর কোন জীবন নাই।

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ مَّا کَانَ حُجَّتَہُمۡ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوا ائۡتُوۡا بِاٰبَآئِنَاۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۲۶﴾

২৬
এবং যখন তাহাদের সম্মুখে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন তাহাদের শুধু এই কথা ছাড়া আর কোন যুক্তি প্রমাণ২৭১৪ থাকে না যে, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহা হইলে আমাদের পিতৃপুরুষদিগকেও উপস্থিত কর।’
২৭১৪। ‘হজ্জত’ মানে যুক্তি; ওজর; আপত্তি (লেইন)

قُلِ اللّٰہُ یُحۡیِیۡکُمۡ ثُمَّ یُمِیۡتُکُمۡ ثُمَّ یَجۡمَعُکُمۡ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ﴿٪۲۷﴾

২৭
তুমি বল, ‘আল্লাহ্‌ই তোমাদিগকে জীবন দান করেন, অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান, অতঃপর তিনি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তোমাদিগকে সমবেত করিতে থাকিবেন, যাহার মধ্যে কোন সন্দেহ নাই; কিন্তু অধিকাংশ লোক ইহা জানে না।’
সূরা আল্‌ জাসিয়া - রুকু ৩

وَلِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَیَوۡمَ تَقُوۡمُ السَّاعَۃُ یَوۡمَئِذٍ یَّخۡسَرُ الۡمُبۡطِلُوۡنَ ﴿۲۸﴾

২৮
এবং আকাশসমূহ ও পৃথিবীর আধিপত্য আল্লাহ্‌র জন্য, এবং যেদিন সেই কিয়ামত সংঘটিত হইবে সেদিন মিথ্যাবাদীগণ অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হইবে।

وَتَرٰی کُلَّ اُمَّۃٍ جَاثِیَۃً ۟ کُلُّ اُمَّۃٍ تُدۡعٰۤی اِلٰی کِتٰبِہَا ؕ اَلۡیَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۲۹﴾

২৯
এবং তুমি প্রত্যেকটি জাতিকে নতজানু অবস্থায় দেখিতে পাইবে। প্রত্যেকটি জাতিকে তাহার নিজ নিজ কিতাবের২৭১৪-ক দিকে আহ্বান করা হইবে (এবং বলা হইবে) ‘আজ তোমাদিগকে উহার প্রতিফল দেওয়া হইবে যাহা তোমরা করিতে।
২৭১৪-ক। ‘প্রত্যেকটি জাতিকে তাহার নিজ নিজ কিতাবের দিকে আহ্বান করা হইবে’ এই বাক্য দ্বারা পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত ‘সময়’ দ্বারা জাতির ইহকালের ভাগ্য নির্ধারণের সময়কে বুঝাইতেছে বলিয়া মনে হয়। কেননা, প্রত্যেক জাতিকে তাহাদের ইহকালের কাজের জন্য ইহকালেও বিচার করা হয় এবং পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত করা হয়।

ہٰذَا کِتٰبُنَا یَنۡطِقُ عَلَیۡکُمۡ بِالۡحَقِّ ؕ اِنَّا کُنَّا نَسۡتَنۡسِخُ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۳۰﴾

৩০
এই আমাদের কিতাব,২৭১৫ ইহা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্য সত্য কথা বলিতেছে, তোমরা যাহা কিছু করিতে আমরা নিশ্চয় উহা লিপিবদ্ধ করিয়া লইতাম।’
২৭১৫। পূর্ববর্তী আয়াতে যেখানে বলা হইয়াছে ‘তাহাদের কিতাব’ সেখানে, এই আয়াতে আসিয়া উহাকে ‘আমাদের কিতাব’ বলা হইয়াছে। জাতিসমূহ বা ব্যক্তির কার্যাবলীর রেকর্ড আল্লাহ্‌তা’লাই সংরক্ষণ করেন এবং সেই অনুযায়ী তাহাদিগকে বিচার করেন এবং প্রতিদান বা প্রতিফল দান করেন।