الدخان
Ad-Dukhan
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৬০ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গ
হযরত ইবনে আব্বাস ও ইবনে যুবাইরসহ সকল কর্তৃপক্ষ মহলই এই কথার উপর একমত যে, এই সূরা মক্কী যুগের মধ্যভাগে অবতীর্ণ হইয়াছিল। নলডিকি এহ সূরাকে নবুওয়াতের ষষ্ঠ বা সপ্তম বর্ষে স্থান দিয়াছেন। পূর্ববতী সূরার শেষ দিকে, এই কথাটির সকরুণ উল্লেখ ছিল যে, প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও মহানবী (সাঃ) তাঁহার জাতির মনে সত্যের প্রতি অনুরাগ জাগাইতে না পারায়, তিনি একেবারে মুহ্যমান হইয়া পড়িয়াছিলেন। তাঁহার এই মর্মযাতনার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া, আল্লাহ্তা’লার তরফ হইতে তাহাকে বলা হইল যে, তিনি যেন তাহাদের দোষ-ত্রুটি না ধরেন, বরং তাহাদের জন্য আল্লাহ্র অনুগ্রহ যাচঞা করেন। তাঁহার প্রার্থনার ফলে তাহার জাতির উপর আল্লাহ্র অনুগ্রহ নামিয়া আসিবে এরং পরিণামে তাহারা শত্রুতা ছাড়িয়া তাঁহার কথায় কর্ণপাত করিবে।
এই সূরার প্রারম্ভে ঘোষণা করা হইতেছে যে, এই কুরআন জীবনের নিগূঢ় তত্ত্ব, তথ্য ও সত্যকে সাবলীলভাবে মানুষের কাছে তুলিয়া ধরে, এবং ইহা আধ্যাত্মিক অমানিশার অন্ধকার হইতে মানুষকে পুণ্যের আলোকের দিকে ফিরাইয়া আনার জন্য অবতীর্ণ হইয়াছে। ‘হা মীম্’ গোষ্ঠিভূক্ত সূরাগুলির মধ্যে ইহা হইল পঞ্চম সূরা। পূর্ব সূরার মতই এই সূরা কুরআনের অবতরণ বিষয় নিয়া আরম্ভ হইয়াছে, তবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে ও ভিন্ন প্রসঙ্গে। এই কথা বলিয়া ইহা আরম্ভ হইয়াছে যে, পৃথিবী যখন অন্ধকারে একেবারে নিমজ্জিত হইয়া যায় এবং মানুষ নৈতিক অধঃপতনের অতল গহ্বরে পতিত হয়, তখন সৃষ্টিকর্তা একজন প্রেরিত পুরুষের অভ্যুদয় ঘটান এবং তাঁহাকে এমন এক নব-সঞ্জীবনী বাণী প্রদান করেন যাহার সাহায্যে মানব জাতিকে পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিত করা হইয়া থাকে। এইরূপ অধঃপতনের যুগে আল্লাহ্র নবীরা ধারাবাহিকভাবে আসিয়াছেন। কিন্তু যেহেতু বর্তমান যুগের নৈতিক অধঃপতন চূড়ান্তরূপ পরিগ্রহ করিয়াছে এবং আধ্যাত্মিক অন্ধকার পূর্বেকার সকল সীমা ছাড়াইয়া গিয়াছে, সেইহেতু আল্লাহ্তা’লা এই যুগে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নবীকে সর্বোত্তম ও সর্বশেষ গ্রন্থ কুরআনসহ পাঠাইয়াছেন। মহানবী (সাঃ)-এর আগমন এমন কোন নতুন ঘটনা নহে। অতীতেও যুগে যুগে প্রয়োজন মত নবী আসিয়াছেন, তাহাদের মধ্যে হযরত মূসা (আঃ) প্রধান ছিলেন। অতঃপর মূসা (আঃ)-এর মোকাবেলায় ফেরাউন ও তাহার জাতির শোচনীয় ধ্বংসের ঘটনা অতি করুণ ভাষায় এই সূরাতে বর্ণিত হইয়াছে। কি অপমান ও অসম্মানের সহিত তাহারা ধ্বংস প্রাপ্ত হইল! অপর পক্ষে, আল্লাহ্তা’লা বনী ইসরাঈল জাতির উপর আপন অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ বর্ষণ করিলেন। এইভাবেই আল্লাহ্তা’লা জাতির জীবনে পরিবর্তন আনয়ন করিয়া থাকেন। এই সূরাতে অতঃপর বলা হইয়াছে যে, মানব-জীবনের জন্য এক মহান লক্ষ্য নির্ধারিত করা আছে। মানুষ যাহাতে সেই লক্ষ্য অর্জন করিতে পারে, সেইজন্যই তাহাদের মধ্যে নবী প্রেরণ করা হইয়া থাকে। সমাপ্তি পর্বে এই সূরাতে বলা হইয়াছে যে, ইসলামের নীতি ও আদর্শ অত্যন্ত পরিষ্কার যুক্তি-পূর্ণ এবং হৃদয়গ্রাহী ভাষায় বর্ণনা করা হইয়াছে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَکَۃٍ اِنَّا کُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ ﴿۴﴾
فِیۡہَا یُفۡرَقُ کُلُّ اَمۡرٍ حَکِیۡمٍ ۙ﴿۵﴾
اَمۡرًا مِّنۡ عِنۡدِنَا ؕ اِنَّا کُنَّا مُرۡسِلِیۡنَ ۚ﴿۶﴾
رَحۡمَۃً مِّنۡ رَّبِّکَ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ۙ﴿۷﴾
رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۘ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّوۡقِنِیۡنَ ﴿۸﴾
لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ؕ رَبُّکُمۡ وَرَبُّ اٰبَآئِکُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿۹﴾
بَلۡ ہُمۡ فِیۡ شَکٍّ یَّلۡعَبُوۡنَ ﴿۱۰﴾