৪৪

الدخان

সূরা আদ্‌ দুখান

Ad-Dukhan

মক্কী ৬০ আয়াত ৩ রুকু পারা ২৫

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৬০ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

حٰمٓ ﴿ۚۛ۲﴾

২
হা মীম্‌।২৬৯১-ক
২৬৯১-ক। ২৫৯২ ও ২৬৪৩ টীকাদ্বয় দ্রষ্টব্য।

وَالۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ۙ﴿ۛ۳﴾

৩
সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী কিতাবের শপথ।

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَکَۃٍ اِنَّا کُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ ﴿۴﴾

৪
নিশ্চয় আমরা ইহাকে এক বরকতপূর্ণ রাত্রিতে নাযেল২৬৯২ করিয়াছি। নিশ্চয় আমরা (সদা) সতর্ক করিয়া আসিতেছি।
২৬৯২। ‘বরকতপূর্ণ রাত্রিতে’— কুরআনের অন্যত্র ঐ রাত্রিকে ‘উৎকৃষ্ট রজনী’ বলা হইয়াছে (৯৭ঃ২-৪)। সহীহ্ হাদীস অনুযায়ী এই সৌভাগ্য ও উৎকৃষ্ট রজনী রমযান মাসের শেষ দশ রাত্রির কোন একটি বেজোড় রাত্রি, যে রমযান মাসে কুরআনের অবতরণ শুরু হইয়াছিল (২ঃ১৮৬)। সঠিক রাত্রি রমযানের ২৪ তম রাত্রি (মসনদ ও জরীর)। ‘বরকত পূর্ণ রাত্রি’ বা ‘সৌভাগ্য রজনী’ কুরআনের একটি রূপক বৈশিষ্ট্য, যাহা দ্বারা একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগকে বুঝাইয়া থাকে যাহা পৃথিবীকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অধঃপতনের অতল তলে ডুবাইয়া ফেলে এবং পরিশেষে সংস্কারক মহাপুরুষের অভ্যূদয়ের মাধ্যমে পাপী-তাপী মানব পুনরুদ্ধার ও পুনর্জীবন লাভ করে। যে রাত্রি বিশ্ব-মানবকে ইহার সর্বোত্তম শিক্ষক, সর্বশেষ শিক্ষা ও পূর্ণতম ঐশী বিধান উপহার দিল, উহাকে বরকতপূর্ণ ও সৌভাগ্য-রাত্রি ছাড়া আর কি বলা যাইতে পারে? কুরআনের উদ্বোধনী-অবতরণ হইতে সমাপ্তি-অবতরণ পর্যন্ত সমস্ত সময়টাকে এই রাত্রি বেষ্টন করিয়া আছে, সমস্ত সময়টিকেই সৌভাগ্য-রজনী বলা যাইতে পারে।

فِیۡہَا یُفۡرَقُ کُلُّ اَمۡرٍ حَکِیۡمٍ ۙ﴿۵﴾

৫
এই রাত্রিতে প্রত্যেক হিকমতপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করা হয়,২৬৯৩
২৬৯৩। এই বরকতপূর্ণ সৌভাগ্য-রজনী, যাহা মহা সংস্কারকের আগমন কালকে বুঝাইয়া থাকে, এক নতুন যুগের সূচনা করে। নতুন ব্যবস্থাপনা ও নতুন শৃঙ্খলা আরোপের মাধ্যমে মানুষের ভবিষ্যৎকে নিশ্চিত ও নির্ধারিত করে। যে যুগে কুরআন অবতীর্ণ হইল, তাহাতো মানবজাতির জন্য নিশ্চয়ই মহা সৌভাগ্য-রজনী, কেননা ইহার মাধ্যমে ভবিষ্যতের, চিরকালের মানবের জন্য সৌভাগ্য সূচিত ও নির্ধারিত হইয়া গেল।

اَمۡرًا مِّنۡ عِنۡدِنَا ؕ اِنَّا کُنَّا مُرۡسِلِیۡنَ ۚ﴿۶﴾

৬
আমাদেরই আদেশক্রমে। নিশ্চয় আমরা সদা রসূল পাঠাইয়া থাকি,

رَحۡمَۃً مِّنۡ رَّبِّکَ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ۙ﴿۷﴾

৭
তোমার প্রতিপালকের সন্নিধান হইতে রহমতস্বরূপ। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী,

رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۘ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّوۡقِنِیۡنَ ﴿۸﴾

৮
যিনি আকাশসমূহ এবং পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যে যাহা কিছু আছে সব কিছুর প্রতিপালক; যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস করিয়া থাক।

لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ؕ رَبُّکُمۡ وَرَبُّ اٰبَآئِکُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿۹﴾

৯
তিনি ব্যতীত কোন মা’বূদ নাই। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন; তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক।

بَلۡ ہُمۡ فِیۡ شَکٍّ یَّلۡعَبُوۡنَ ﴿۱۰﴾

১০
তথাপি তাহারা সন্দেহে নিপতিত হইয়া ক্রীড়া-কৌতুক করিতেছে।