الجاثية
Al-Jathiyah
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৩৮ আয়াত এবং ৪ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গ
‘হা মীম্’ গ্রুপের অন্যান্য সূরার মত এই সূরাটিও মক্কায় অবতীর্ণ হইয়াছিল। কিন্তু ইহার নাযেলের সঠিক সময় (তারিখ বা বৎসর) নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। অবশ্য নলডিকি এই সূরা ৪১তম সূরার পরে পরেই অবতীর্ণ হইয়াছে বলিয়া মনে করেন। সূরাটি এই কথা বলিয়া আরম্ভ হইয়াছে যে, পৃথিবী মৃতবৎ শুষ্ক হইয়া গেলে যেমন বৃষ্টি আসিয়া ইহাতে জীবন সঞ্চার করে, তেমনি মানুষ যখন নৈতিক অধঃপতনের কারণে সৃজনশীলতার গুণাবলী হারাইয়া ফেলে, তখন তাহাদের মধ্যে আল্লাহ্র তরফ হইতে নবীর আবির্ভাব হয়। মানুষ যেহেতু পাপের অন্ধকারে নিমজ্জিত হইয়া পড়িয়াছে, অতএব আল্লাহ্তা’লা তাহাদের উদ্ধারের জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ )-কে পাঠাইয়াছেন।
বিষয়াবলী
পূর্ববর্তী পাঁচটি সূরার মতই এই সূরাটিও কুরআনের অবতরণের এবং আল্লাহ্তা’লার একত্বের মৌল বিষয় নিয়া আরম্ভ হইয়াছে। যুক্তিস্বরূপ বলা হইয়াছে যে, মানুষের সৃষ্টি, উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতের সৃষ্টি, মৃত পৃথিবীতে প্রাণ-সঞ্চারণের জন্য মেঘমালা হইতে বৃষ্টিপাত, বিশ্ব- জগতের বিস্ময়কর সৃজন-শৈলী এবং পরিপূর্ণতম পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা এবং এই সব কিছুর পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ, একজন নির্ভুল, সর্বময় ক্ষমতাধিকারীর অস্তিত্বের সাক্ষ্য প্রদান করে। এই যুক্তি প্রদানের সাথে সাথে, অবিশ্বাসীগণকে এই কথাটি বিবেচনা করিবার জন্য বলা হইয়াছে যে, সেই সর্বজ্ঞানী সত্তা যিনি ক্ষণস্থায়ী মানব-জীবনের জন্য এত সুযোগ সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনি কি তাহার অবিনশ্বর পারলৌকিক (আধ্যাত্মিক) জীবনের জন্য তদনুরূপ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেন নাই? নিশ্চয়ই তিনি মানুষের আধ্যাত্মিক জীবন-লাভের জন্যও সকল উপায়-উপকরণের ব্যবস্থা করিয়াছেন। তিনি তাঁহার প্রেরিত পুরুষগণের কাছে অবতীর্ণ ঐশী-বাণী দ্বারা মানবজাতিকে জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের পথে পরিচালিত করিয়া থাকেন। অতঃপর এই কথা বলা হইয়াছে যে, মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পুনরুজ্জীবনের জন্য আল্লাহ্তা’লা যে ঐশী-ব্যবস্থা কায়েম করিয়াছেন, তাহাতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি তিনি সহ্য করেন না। তাই, যাহারা নিজের বাণীকে ঐশী-বাণী বলিয়া দাবী করিয়া বসে, এইরূপ মিথ্যা দাবীকারকদিগকে তিনি ধ্বংস করিয়া দেন। দুই দিন আগেই হউক আর দুই দিন পরেই হউক, সত্য ধর্ম ক্রমাগত উন্নতির দিকেই যাইতেছে। ইহাই তাঁহার সত্যতার উজ্জ্বল প্রমাণ। অতঃপর, নবী করীম (সাঃ) -এর দাবীর স্বপক্ষে আরও একটি যুক্তি দেওয়া হইয়াছে যে, প্রকৃতির শক্তিনিচয় , তাঁহার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের পথে কাজ করিয়া যাইতেছে। অতএব ইসলাম বিজয়ী হইবেই। অতঃপর মূসা (আঃ)-এর শরীয়াত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখিয়া বলা হইয়াছে, মুসায়ী শরীয়াত মানব জাতিকে আধ্যাত্মিক জীবন-পথে পরিচালিত করিতে আর সক্ষম নহে বলিয়াই কুরআনের বিধান অবতীর্ণ হইয়াছে। তওরাতে ভবিষ্যদ্বাণী রহিয়াছে যে, বনী ইসরাঈলের ভ্রাতৃজাতি হইতে একজন নবীর উদ্ভব হইবে (দ্বিতীয় বিবরণ-১৮ঃ ১৮) । মহানবী (সাঃ)-এর আগমনে এই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হইল। অবিশ্বাসীগণকে বুঝাইবার উদ্দেশ্যে এই সূরাতে আবার বলা হইয়াছে, মানুষের বিরাট ও মহান গন্তব্য নির্দ্ধারণ করিয়াই তাহাকে সৃষ্টি করা হইয়াছে। অতএব পরকালে এক পূর্ণতর ও সুন্দরতর অনন্ত জীবন তাহার জন্য অপেক্ষায় রহিয়াছে। এখানেই মানব সৃষ্টির সার্থকতা। অতঃপর কিয়ামত দিবসের একটি সংক্ষিপ্ত গুরুত্ববহ বিবরণ দিয়া সূরাটি সমাপ্ত হইয়াছে। কিন্তু ঐ দিবস আসার পূর্বে ইহকালেই অবিশ্বাসীগণকে এই কথার জওয়াবদিহি করিতে হইবে, কেন তাহারা আল্লাহ্তা’লার নবীগণকে অমান্য ও অগ্রাহ্য করিয়াছিল। তাহাদিগকে সাবধান ও সতর্ক করিয়া দেওয়া হইল যে, যদি তাহারা অনুতাপ না করে এবং নিজদিগকে সংশোধিত না করে তাহা হইলে ব্যর্থতা ও নৈরাশ্য তাহাদের জীবনকে একেবারে ঘিরিয়া ফেলিবে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ﴿۳﴾
اِنَّ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ لَاٰیٰتٍ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ﴿۴﴾
وَفِیۡ خَلۡقِکُمۡ وَمَا یَبُثُّ مِنۡ دَآبَّۃٍ اٰیٰتٌ لِّقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ ۙ﴿۵﴾
وَاخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ وَمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ مِنَ السَّمَآءِ مِنۡ رِّزۡقٍ فَاَحۡیَا بِہِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا وَتَصۡرِیۡفِ الرِّیٰحِ اٰیٰتٌ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ﴿۶﴾
تِلۡکَ اٰیٰتُ اللّٰہِ نَتۡلُوۡہَا عَلَیۡکَ بِالۡحَقِّ ۚ فَبِاَیِّ حَدِیۡثٍۭ بَعۡدَ اللّٰہِ وَاٰیٰتِہٖ یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۷﴾
یَّسۡمَعُ اٰیٰتِ اللّٰہِ تُتۡلٰی عَلَیۡہِ ثُمَّ یُصِرُّ مُسۡتَکۡبِرًا کَاَنۡ لَّمۡ یَسۡمَعۡہَا ۚ فَبَشِّرۡہُ بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ ﴿۹﴾
وَاِذَا عَلِمَ مِنۡ اٰیٰتِنَا شَیۡئَا ۣاتَّخَذَہَا ہُزُوًا ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ؕ﴿۱۰﴾