৪২

الشورى

সূরা আশ্‌ শূরা

Ash-Shura

মক্কী ৫৪ আয়াত ৫ রুকু পারা ২৫

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫৪ আয়াত এবং ৫ রুকু আছে।

وَمَاۤ اَصَابَکُمۡ مِّنۡ مُّصِیۡبَۃٍ فَبِمَا کَسَبَتۡ اَیۡدِیۡکُمۡ وَیَعۡفُوۡا عَنۡ کَثِیۡرٍ ﴿ؕ۳۱﴾

৩১
এবং তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ নিপতিত হয় উহা তোমাদের কৃত-কর্মেরই কারণে। এবং তোমাদের বহু অপরাধ তিনি ক্ষমা করেন।

وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۚۖ وَمَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا نَصِیۡرٍ ﴿۳۲﴾

৩২
এবং তোমরা পৃথিবীতে (আল্লাহ্‌কে তাঁহার উদ্দেশ্য সাধনে) কখনও ব্যর্থ করিতে পারিবে না;২৬৫৭ এবং আল্লাহ্ ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নাই এবং কোন সাহায্যকারীও নাই।
২৬৫৭। অবিশ্বাসীদিগকে বলা হইতেছে যে, আল্লাহ্‌তা’লা ইহাই নির্ধারিত করিয়াছেন যে, ইসলাম বিজয় লাভ করিবে। আল্লাহ্‌তা’লার এই হুকুমকে কেহই বানচাল করিতে পারিবে না। অবিশ্বাসীরা যত বাধা-বিঘ্নই সৃষ্টি করুক না কেন, তাহারা ইসলামের জয়যাত্রা ও অগ্রগতিকে কোন মতেই ঠেকাইয়া রাখিতে পারিবে না।

وَمِنۡ اٰیٰتِہِ الۡجَوَارِ فِی الۡبَحۡرِ کَالۡاَعۡلَامِ ﴿ؕ۳۳﴾

৩৩
এবং সমুদ্রে পর্বতসদৃশ দ্রুতগামী জাহাজগুলিও তাঁহার নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত।২৬৫৮
২৬৫৮। এই আয়াত এবং অন্যান্য বহু আয়াতে, কুরআন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমুদ্রগামী পাহাড়-সদৃশ জাহাজের ভূমিকার উল্লেখ করিয়াছে। অথচ ঐ সুদূর অতীতে বর্তমান কালের লক্ষ লক্ষটনবাহী জাহাজের কথা মানুষের পক্ষে চিন্তা করা প্রায় অসম্ভব ছিল। আরবের এক মরু-পুত্রের কাছে ১৪শত বৎসর পূর্বে এই সত্য কুরআনের মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় কুরআন যে ঐশী-বাণী, তাহা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

اِنۡ یَّشَاۡ یُسۡکِنِ الرِّیۡحَ فَیَظۡلَلۡنَ رَوَاکِدَ عَلٰی ظَہۡرِہٖ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوۡرٍ ﴿ۙ۳۴﴾

৩৪
তিনি ইচ্ছা করিলে বায়ুর চলাচলকে স্তব্ধ করিয়া দিতে পারেন, ফলে সেইগুলি সমুদ্রের পৃষ্ঠদেশে নিশ্চল হইয়া দাঁড়াইয়া থাকিবে; নিশ্চয় ইহার মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য বহু নিদর্শন আছে,

اَوۡ یُوۡبِقۡہُنَّ بِمَا کَسَبُوۡا وَیَعۡفُ عَنۡ کَثِیۡرٍ ﴿۫۳۵﴾

৩৫
অথবা সেইগুলিকে (আরোহীসহ) তাহাদের কৃত-কর্মের কারণে বিধ্বস্ত করিয়া দিতে পারেন; কিন্তু তিনি বহু অপরাধ ক্ষমা করিয়াছেন।

وَّیَعۡلَمَ الَّذِیۡنَ یُجَادِلُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا ؕ مَا لَہُمۡ مِّنۡ مَّحِیۡصٍ ﴿۳۶﴾

৩৬
এবং যাহারা আমাদের নিদর্শনসমূহ সম্বন্ধে তর্ক-বির্তক করে তিনি তাহাদিগকে জানেন, তাহাদের জন্য পলায়নের কোন স্থান নাই।

فَمَاۤ اُوۡتِیۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَمَتَاعُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ وَمَا عِنۡدَ اللّٰہِ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَلٰی رَبِّہِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ ﴿ۚ۳۷﴾

৩৭
এবং তোমাদিগকে যাহা কিছু দান করা হইয়াছে উহা পার্থিব জীবনের ভোগ-সামগ্রী মাত্র, এবং আল্লাহ্‌র নিকট যাহা কিছু আছে উহা উৎকৃষ্ট ও সর্বাধিক স্থায়ী— তাহাদের জন্য যাহারা ঈমান আনে এবং নিজেদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে,

وَالَّذِیۡنَ یَجۡتَنِبُوۡنَ کَبٰٓئِرَ الۡاِثۡمِ وَالۡفَوَاحِشَ وَاِذَا مَا غَضِبُوۡا ہُمۡ یَغۡفِرُوۡنَ ﴿ۚ۳۸﴾

৩৮
এবং যাহারা বড় বড় পাপ এবং অশ্লীল কার্যকে বর্জন করে এবং যখন রাগান্বিত২৬৫৯ হয় তখন ক্ষমা করিয়া দেয়,
২৬৫৯। এই আয়াতের শব্দগুলি সকল প্রকার পাপ ও নৈতিক অবক্ষয়ের জন্যই ব্যবহৃত হইয়াছে। তথাপি ‘ক্রোধ’কে একটু আলাদাভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে, এইজন্য যে, সীমা অতিক্রম করিলে এই ক্রোধ হইতে বড় বড় পাপ পর্যন্ত ঘটিতে পারে।

وَالَّذِیۡنَ اسۡتَجَابُوۡا لِرَبِّہِمۡ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ ۪ وَاَمۡرُہُمۡ شُوۡرٰی بَیۡنَہُمۡ ۪ وَمِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ ﴿ۚ۳۹﴾

৩৯
এবং যাহারা নিজেদের প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দেয় এবং নামায কায়েম করে, এবং তাহাদের কাজ তাহাদের পরস্পরের পরামর্শের২৬৬০ মাধ্যমে সুসম্পন্ন হয়, এবং আমরা তাহাদিগকে যাহা রিয্‌ক দান করিয়াছি উহা হইতে খরচ করে।
২৬৬০। মুসলমানের জাতীয় জীবনের সকল কাজ-কর্ম পরস্পর পরামর্শ দ্বারা সম্পন্ন করার মৌলিক নীতিটি এই আয়াতে বর্ণিত হইয়াছে। এই একটি মাত্র সরল শব্দ ‘শূরা’ হইল প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের মূল ভিত্তি, যাহাকে নিয়া আজ পশ্চিমা দেশগুলি এত গৌরব বোধ করে। ইসলামী খলীফা বা রাষ্ট্র-প্রধানকে জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ নিতে হয়। যখন কোন জাতীয় পর্যায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রয়োজন হয়, তখনই পরামর্শ-সভার মাধ্যমে তাহা গ্রহণ করা কর্তব্য বলিয়া এই আয়াতে উল্লেখ করা হইয়াছে। (টীকা ৬২১,৬২২ দেখুন)।

وَالَّذِیۡنَ اِذَاۤ اَصَابَہُمُ الۡبَغۡیُ ہُمۡ یَنۡتَصِرُوۡنَ ﴿۴۰﴾

৪০
এবং তাহাদের উপর যখন কোন যুলুম হয় তখন তাহারা অবশ্যই প্রতিশোধ গ্রহণ করে।