৪২

الشورى

সূরা আশ্‌ শূরা

Ash-Shura

মক্কী ৫৪ আয়াত ৫ রুকু পারা ২৫

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫৪ আয়াত এবং ৫ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

حٰمٓ ۚ﴿۲﴾

২
হা মীম্‌।২৬৪৩
২৬৪৩। ‘হা মীম্‌’ হাফিযুল কিতাব (গ্রন্থের রক্ষক) এবং মুনায্‌যিলুল কিতাব (গ্রন্থ নাযেলকারী) অর্থ বুঝাইতে পারে। কারণ এই দুইটি সংক্ষিপ্ত অক্ষর হা মীম্‌ দ্বারা যে সূরাগুলি আরম্ভ হইয়াছে, সেই সূরাগুলি বিশেষভাবে কুরআন নাযেল হওয়ার ও ইহার সঠিক সংরক্ষণ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়াছে।

عٓسٓقٓ ﴿۳﴾

৩
আইন সীন কাফ।২৬৪৩-ক
২৬৪৩-ক। ‘আইন’ দ্বারা আল্ আলিইয়্যু (উচ্চতম), আল্‌ আলীমু (সর্বজ্ঞানী), আল্ আযীমু (সুমহান), আল্‌ আযীযু (মহাপরাক্রমশালী) বুঝায়। ‘সীন’ দ্বারা ‘আস্‌ সামী’ (সর্বশ্রোতা) এবং ‘কাফ’ দ্বারা ‘আল্‌ কাদীর’ (সর্বশক্তিমান), আল কাহ্‌হার (চরম শাস্তিদাতা) বুঝায়।

کَذٰلِکَ یُوۡحِیۡۤ اِلَیۡکَ وَاِلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۙ اللّٰہُ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۴﴾

৪
মহাপরাক্রমশালী, পরম প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্ এইভাবে তোমার প্রতি ওহী নাযেল করিতেছেন যেভাবে তিনি তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি (ওহী নাযেল) করিয়াছিলেন।

لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَہُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ ﴿۵﴾

৫
যাহা কিছু আকাশসমূহে আছে এবং যাহা কিছু পৃথিবীতে আছে, সব কিছু তাঁহারই; এবং তিনি অতীব উচ্চ-মর্যাদাশালী, অতীব মহান।

تَکَادُ السَّمٰوٰتُ یَتَفَطَّرۡنَ مِنۡ فَوۡقِہِنَّ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ وَیَسۡتَغۡفِرُوۡنَ لِمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ﴿۶﴾

৬
আকাশসমূহ উহাদের উপর হইতে বিদীর্ণ হইয়া পড়ার উপক্রম হইয়াছে, এমতাবস্থায় যে ফিরিশ্‌তাগণ তাহাদের প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতেছে। এবং পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহাদের২৬৪৩-খ জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছে। শুন! নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।
২৬৪৩-খ। মানুষের পাপ ব্যাপক, কিন্তু আল্লাহ্‌তা’লার রহমত এত ব্যাপক যে, এই রহমত তাঁহার অন্যান্য গুণাবলীকে বেষ্টন করিয়া রাখে। মানুষের জন্য ফিরিশ্‌তাগণের দোয়ার সহিত আল্লাহ্‌তা’লার কৃপা সম্পৃক্ত হইয়া মানুষকে ঐশী শাস্তির কবল হইতে রক্ষা করে। তাহাকে সময় দেওয়া হয় যাহাতে সে নিজেকে সংশোধন করিবার সুযোগ পায়।

وَالَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ اللّٰہُ حَفِیۡظٌ عَلَیۡہِمۡ ۫ۖ وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِوَکِیۡلٍ ﴿۷﴾

৭
এবং যাহারা তাঁহাকে ব্যতিরেকে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করিয়াছে; আল্লাহ্ তাহাদের উপর (তাহাদের কার্যকলাপের) সংরক্ষণকারী,২৬৪৪ এবং তুমি তাহাদের উপর অভিভাবক নহ।
২৬৪৪। আল্লাহ্‌তা’লার একত্বের প্রতি অবমাননাকর বিশ্বাসসমূহকে তিনি লক্ষ্য করেন এবং ইহার হিসাবও রাখেন। কিন্তু এইসব ভ্রান্ত বিশ্বাসকে যাহারা কোন মতেই পরিত্যাগ না করে বা অনুতপ্ত না হয়, সেই ক্ষেত্রেই আল্লাহ্‌তা’লা তাহাদিগকে শাস্তি দিবেন!

وَکَذٰلِکَ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ قُرۡاٰنًا عَرَبِیًّا لِّتُنۡذِرَ اُمَّ الۡقُرٰی وَمَنۡ حَوۡلَہَا وَتُنۡذِرَ یَوۡمَ الۡجَمۡعِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ ؕ فَرِیۡقٌ فِی الۡجَنَّۃِ وَفَرِیۡقٌ فِی السَّعِیۡرِ ﴿۸﴾

৮
এবং এইভাবে আমরা তোমার প্রতি আরবী ভাষায় কুরআন ওহী করিয়াছি যেন তুমি জনপদ-জননী২৬৪৫ (মক্কা) এবং ইহার চতুর্দিকের লোকদিগকে সতর্ক কর এবং সমবেত হওয়ার সেই দিন সম্বন্ধেও সতর্ক করিয়া দাও, যাহার (আগমন) সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই; সেদিন এক দল (যাইবে) জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে।
২৬৪৫। ‘উম্মুল কুরা’ (জনপদ-জননী) মক্কাকে বুঝাইয়া থাকিবে। কারণ, যে সময় কুরআন নাযিল হইতেছিল, তখন মক্কা সারা আরবের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নগরীরূপে পরিগণিত ছিল। শুধু তাহাই নহে, সারা বিশ্বের জন্য চিরতরে এই নগরী আধ্যাত্মিক জীবনের কেন্দ্রীয় লীলা-ভূমি হইতে চলিয়াছে; বিশ্বমানবকে এই মাতৃনগরী মক্কা আপনার আধ্যাত্মিক স্তন্য পান করাইতে চলিয়াছে। ভৌগলিকভাবেও বিশ্ব-জগতের কেন্দ্রভূমিতে মক্কা অবস্থিত। কুরআনকেও ‘উম্মুল কিতাব’ (গ্রন্থ-জননী) বলা হইয়াছে। যে আরবী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হইয়াছে সেই আরবী ভাষাকেও “উম্মুল আল্‌ সিনাহ” (ভাষাসমূহের জননী) বলা হইয়াছে।

وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَجَعَلَہُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّلٰکِنۡ یُّدۡخِلُ مَنۡ یَّشَآءُ فِیۡ رَحۡمَتِہٖ ؕ وَالظّٰلِمُوۡنَ مَا لَہُمۡ مِّنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا نَصِیۡرٍ ﴿۹﴾

৯
এবং যদি আল্লাহ্‌ চাহিতেন তাহা হইলে তিনি অবশ্যই তাহাদের সকলকে এক উম্মতভুক্ত করিয়া দিতেন, কিন্তু তিনি যাহাকে চাহেন তাহাকে নিজ রহমতে প্রবিষ্ট করেন। বস্তুতঃ যালেমরা এমন যে তাহাদের কোন অভিভাবকও নাই এবং কোন সাহায্যকারীও নাই।

اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ۚ فَاللّٰہُ ہُوَ الۡوَلِیُّ وَہُوَ یُحۡیِ الۡمَوۡتٰی ۫ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿٪۱۰﴾

১০
তাহারা কি তাঁহাকে ছাড়িয়া অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করিয়াছে? অতএব (জানিয়া রাখ) আল্লাহ্ তিনিই প্রকৃত অভিভাবক। তিনিই মৃতকে জীবিত করেন, এবং তিনিই সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
সূরা আশ্‌ শূরা - রুকু ১