৪১

حم السجدة

হা মীম্‌ আস্ সাজ্‌দা

Ha Mim As-Sajdah

মক্কী ৫৫ আয়াত ৬ রুকু পারা ২৪–২৫

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫৫ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

وَجَعَلَ فِیۡہَا رَوَاسِیَ مِنۡ فَوۡقِہَا وَبٰرَکَ فِیۡہَا وَقَدَّرَ فِیۡہَاۤ اَقۡوَاتَہَا فِیۡۤ اَرۡبَعَۃِ اَیَّامٍ ؕ سَوَآءً لِّلسَّآئِلِیۡنَ ﴿۱۱﴾

১১
এবং তিনি পৃথিবীতে উহার উপরিভাগে পর্বতশ্রেণী সংস্থাপন করিয়াছেন এবং উহাতে বহু বরকত রাখিয়াছেন এবং উহাতে চারদিনে২৬২৩ পরিমিত পরিমাণে উহার খাদ্য সামগ্রীর আয়োজন করিয়াছেন- যাহা সকল অন্বেষণকারীদের জন্য সমান।২৬২৪
২৬২৩। উপরের আয়াতে যে দুইটি দিন বা দুইটি অবস্থার কথা বলা হইয়াছে, যাহার মধ্য দিয়া পৃথিবী একটি ঘনীভূত আকৃতি ধারণ করিল, সেই দুইটি দিন এই আয়াতে উল্লেখকৃত ‘চারদিনের’ অন্তর্গত দুই দিনে পৃথিবী আকৃতি ধারণের পর, অতিরিক্ত “দুই দিনে” আরও দুইটি বিবর্তনকে বুঝাইতেছে, যথা পৃথিবীর বুকে পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা স্থাপন এবং শাক্‌-শব্‌জি, গাছ-পালা ও জীবজন্তু সৃষ্টি। আয়াত ১৩ দেখুন। ‘উহাতে চারদিনে পরিমিত পরিমাণে উহার খাদ্য সামগ্রীর আয়োজন করিয়াছেন’ কথাটি দ্বারা ইহাই বুঝাইতেছে যে, পৃথিবী, ইহাতে বসবাসকারী সকলের জন্য খাদ্য উৎপাদন করিতে সকল সময়েই সক্ষম হইবে।
২৬২৪। ‘সকলের জন্য সমভাবে’ কথাটি দ্বারা এই বুঝায় যে, আল্লাহ্‌তা’লা পৃথিবীতে সকল জীবের জন্যই খাদ্যের ব্যবস্থা রাখিয়াছেন; যাহারা প্রকৃতির বিধানের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্যান্বেষণ করিবে, তাহারা অভুক্ত থাকিবে না। মানুষের ক্ষুধা ও অন্যান্য শারীরিক প্রয়োজনাদি মিটাইবার সকল উপাদানই পৃথিবীতে উৎপাদিত দ্রব্যাদির মধ্যে রহিয়াছে। অতএব এই কথা বলা কখনও ঠিক হইবে না যে, পৃথিবী ক্রমবর্ধমান জন-সংখ্যার মুখে আহার যোগাইতে সক্ষম হইবে না। ‘পৃথিবী ২৮০০ কোটি মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি-পণ্য উৎপাদন করার ক্ষমতা রাখে। ইহা বর্তমান বিশ্বের মানব সংখ্যার দশগুণ ‘(বর্তমানে প্রায় সাতগুণ)’ (প্রফেসর কোলিন ক্লার্ক, পরিচালক, এগ্রিকালচারাল ইকনমিকস্ রিসার্চ ইন্‌ষ্টিটিউট, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি)। অতি সম্প্রতি, জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ইহার প্রতিবেদনে বলিয়াছে, “পৃথিবীর খাদ্য উৎপাদনের বৃদ্ধি জন-সংখ্যা বৃদ্ধির দ্বিগুণ হইয়া থাকে।” (দেখুন খাদ্য ও কৃষির অবস্থা, ১৯৫৯)।

ثُمَّ اسۡتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ وَہِیَ دُخَانٌ فَقَالَ لَہَا وَلِلۡاَرۡضِ ائۡتِیَا طَوۡعًا اَوۡ کَرۡہًا ؕ قَالَتَاۤ اَتَیۡنَا طَآئِعِیۡنَ ﴿۱۲﴾

১২
অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করিলেন, তখন উহা ছিল (এক প্রকার) ধূম্র, অনন্তর তিনি উহাকে এবং পৃথিবীকে বলিলেন, ‘তোমরা স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় (আনুগত্যের জন্য)২৬২৫ আইস।’ তাহারা উভয়ে বলিল, ‘আমরা স্বেচ্ছায় আসিয়াছি।’২৬২৬
২৬২৫। ‘কুরহান’ বা ‘কারহান’ উভয়ই কারিহা ধাতু হইতে উৎপন্ন। ‘কারিহা’ অর্থ সে অপসন্দ করিয়াছিল। ‘কুরহান’ বলিতে বুঝায়, তুমি যাহা পসন্দ কর না, আর ‘কারহান’ বলিতে বুঝায় অন্যের দ্বারা বাধ্য হইয়া তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তুমি যাহা কর। ‘ফা‘আলাহু কারহান্‌’ অর্থ সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইহা করিল (লেইন)।
২৬২৬। এই আয়াত হইতে বুঝা যায় যে, এই বিশ্ব-জগতে যাহা কিছু আছে তাহা একটা নিয়মের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং সেই নিয়ম অনুযায়ী কাজ কর্ম করে; নিজের ইচ্ছায় কিছু করার মত শক্তি উহাদের নাই। মানুষই একমাত্র জীব, যাহার ইচ্ছা-শক্তির স্বাধীনতা রহিয়াছে এবং ইচ্ছা করিলে প্রকৃতির নিয়মাবলীকে এক সীমা পর্যন্ত সে অমান্যও করিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সে তাহার এই ইচ্ছা-অনিচ্ছার স্বাধীনতাকে নিজের ক্ষতিসাধনেই ব্যবহার করিয়া থাকে। ৩৩ঃ৭৩ আয়াতের অর্থ ও তাৎপর্যও ইহাই।

فَقَضٰہُنَّ سَبۡعَ سَمٰوَاتٍ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ وَاَوۡحٰی فِیۡ کُلِّ سَمَآءٍ اَمۡرَہَا ؕ وَزَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ ٭ۖ وَحِفۡظًا ؕ ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ ﴿۱۳﴾

১৩
অতঃপর তিনি উহাদিগকে সাত আকাশে সম্পূর্ণ করিলেন দুই দিনে;২৬২৭ এবং প্রত্যেক আকাশকে উহার কার্য সম্বন্ধে ওহী করিলেন। এবং আমরা নিম্নতম আকাশকে প্রদীপপুঞ্জ দ্বারা সুশোভিত করিলাম, এবং হিফাযতের কারণ করিলাম। ইহা হইল পরম পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞানী আল্লাহ্‌র নির্ধারিত বিধান।
২৬২৭। ১০ ও ১১ আয়াতে বলা হইয়াছে যে, দুই দিনে পৃথিবী সৃষ্ট হইয়াছে এবং ইহার উপরে পর্বত, নদী প্রভৃতি এবং শস্যাদিসহ প্রাণী জগৎ স্থাপিত হইয়াছে আরো দুই দিনে। এই আয়াতে বলা হইতেছে যে, পৃথিবী সৃষ্টিতে যেমন দুই দিন লাগিয়াছে, সৌরজগতও ইহার গ্রহ-উপগ্রহসহ দুই দিনে সৃষ্টি করা হইয়াছে। এইরূপে এই বিশ্ব-জগৎ ছয় দিনে সৃষ্টি করা হইয়াছে। এই হিসাবটা ৭ঃ৫৫ এবং ৫০ঃ৩৯ আয়াতগুলির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। “ইয়াউম” শব্দটিকে “পর্যায়” অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে মনে করিলে ১০, ১১ ও ১৩ আয়াত তিনটি দ্বারা ইহাই বুঝায় যে, এই বিশ্ব-জগৎ ছয়টি পর্যায়ে সৃষ্টি করা হইয়াছে। বিশ্ব-জগৎ সৃষ্টি সম্পন্ন হইবার পর, পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টি হয় এবং এই মানবসৃষ্টিও ছয়টি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। (২৩ঃ১৩-১৫)।

فَاِنۡ اَعۡرَضُوۡا فَقُلۡ اَنۡذَرۡتُکُمۡ صٰعِقَۃً مِّثۡلَ صٰعِقَۃِ عَادٍ وَّثَمُوۡدَ ﴿ؕ۱۴﴾

১৪
অতঃপর যদি তাহারা বিমুখ হইয়া যায়, তাহা হইলে তুমি বল, ‘আমি তোমাদিগকে আদ এবং সামূদ জাতির ধ্বংসাত্মক আযাবের মত ধ্বংসাত্মক আযাব সম্বন্ধে সতর্ক করিয়া দিতেছি।’

اِذۡ جَآءَتۡہُمُ الرُّسُلُ مِنۡۢ بَیۡنِ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمِنۡ خَلۡفِہِمۡ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ ؕ قَالُوۡا لَوۡ شَآءَ رَبُّنَا لَاَنۡزَلَ مَلٰٓئِکَۃً فَاِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ کٰفِرُوۡنَ ﴿۱۵﴾

১৫
যখন তাহাদের নিকট রসূলগণ তাহাদের সম্মুখেও এবং তাহাদের পশ্চাতেও২৬২৭-ক আগমন করিয়াছিল এই বলিয়া যে, তোমরা আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কাহারও ইবাদত করিও না—তখন তাহারা বলিয়াছিল, ‘যদি আমাদের প্রতিপালক ইচ্ছা করিতেন তাহা হইলে নিশ্চয় তিনি (আমাদের উপর) ফিরিশ্‌তাগণকে নাযেল করিতেন। সুতরাং তোমরা যে শিক্ষাসহ প্রেরিত হইয়াছ তাহা আমরা অবশ্যই অস্বীকার করিতেছি।’
২৬২৭-ক। তাহাদের জাতীয় জীবনের স্থিতিকালের প্রারম্ভ হইতে শেষ পর্যন্ত তাহাদের মধ্যে নবীর আগমন অব্যাহত ছিল।

فَاَمَّا عَادٌ فَاسۡتَکۡبَرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَقَالُوۡا مَنۡ اَشَدُّ مِنَّا قُوَّۃً ؕ اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّ اللّٰہَ الَّذِیۡ خَلَقَہُمۡ ہُوَ اَشَدُّ مِنۡہُمۡ قُوَّۃً ؕ وَکَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَجۡحَدُوۡنَ ﴿۱۶﴾

১৬
এবং আদ জাতির বিবরণ এই যে, তাহারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করিত এবং বলিত, ‘শক্তিতে আমাদের অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী কে?’ তাহারা কি চিন্তা করিয়া দেখে নাই যে, নিশ্চয় সেই আল্লাহ্‌, যিনি তাহাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছেন, শক্তিতে তাহাদের অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী? এবং তাহারা হঠকারিতা করিয়া আমাদের নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করিত।

فَاَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ رِیۡحًا صَرۡصَرًا فِیۡۤ اَیَّامٍ نَّحِسَاتٍ لِّنُذِیۡقَہُمۡ عَذَابَ الۡخِزۡیِ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَخۡزٰی وَہُمۡ لَا یُنۡصَرُوۡنَ ﴿۱۷﴾

১৭
ফলে আমরা তাহাদের উপর অশুভ দিনসমূহে প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু পাঠাইয়াছিলাম যাহাতে আমরা তাহাদিগকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনাজনক আযাব ভোগ করাই। এবং পরকালের আযাব অবশ্যই ইহা অপেক্ষা অধিকতর লাঞ্ছনাজনক হইবে এবং তাহাদিগকে কোন প্রকার সাহায্য করা হইবে না।

وَاَمَّا ثَمُوۡدُ فَہَدَیۡنٰہُمۡ فَاسۡتَحَبُّوا الۡعَمٰی عَلَی الۡہُدٰی فَاَخَذَتۡہُمۡ صٰعِقَۃُ الۡعَذَابِ الۡہُوۡنِ بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ﴿ۚ۱۸﴾

১৮
আর সামূদ জাতির বিবরণ এই যে, আমরা তাহাদিগকে হেদায়াতের পথে পরিচালিত করিয়াছিলাম। কিন্তু তাহারা হেদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকে পসন্দ করিয়াছিল; তখন তাহাদের কৃত-কর্মের ফলে এক লাঞ্ছনাজনক আযাবের প্রকট বজ্রধ্বনি আসিয়া তাহাদিগকে ধৃত করিল।

وَنَجَّیۡنَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَکَانُوۡا یَتَّقُوۡنَ ﴿٪۱۹﴾

১৯
আর যাহারা ঈমান আনিয়াছিল এবং তাক্‌ওয়া অবলম্বন করিয়া চলিত, আমরা তাহাদিগকে উদ্ধার করিয়াছিলাম।
হা মীম্‌ আস্ সাজ্‌দা - রুকু ২

وَیَوۡمَ یُحۡشَرُ اَعۡدَآءُ اللّٰہِ اِلَی النَّارِ فَہُمۡ یُوۡزَعُوۡنَ ﴿۲۰﴾

২০
এবং যেদিন আল্লাহ্‌র শত্রুদিগকে আগুনের অভিমুখে সমবেত করা হইবে, অতঃপর তাহাদিগকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা হইবে;