৪১

حم السجدة

হা মীম্‌ আস্ সাজ্‌দা

Ha Mim As-Sajdah

মক্কী ৫৫ আয়াত ৬ রুকু পারা ২৪–২৫

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫৫ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

حَتّٰۤی اِذَا مَا جَآءُوۡہَا شَہِدَ عَلَیۡہِمۡ سَمۡعُہُمۡ وَاَبۡصَارُہُمۡ وَجُلُوۡدُہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۲۱﴾

২১
এমন কি যখন তাহারা উহার নিকটে পৌঁছিবে, তখন তাহারা যে সকল কার্যকলাপ করিত উহার জন্য তাহাদের কর্ণ, তাহাদের চক্ষু এবং তাহাদের চর্ম তাহাদেরই বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে।২৬২৮
২৬২৮। অপরাধীদের চক্ষু ও কর্ণ তিনভাবে তাহাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দান করিবেঃ (১) তাহাদের কুকর্মের ফলাফল দৈহিক অবয়বের রূপ নিবে; (২) তাহাদের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ অসৎকর্মের ফলে পঙ্গুত্ব লাভ করিবে, এ পঙ্গুত্বই তাহাদের অপরাধের সাক্ষ্য বহন করিবে; (৩) তাহাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চলাফেরা ও কার্যাবলী রেকর্ড হিসাবে সংরক্ষিত থাকিবে এবং কিয়ামতের দিন প্রদর্শিত হইবে।

وَقَالُوۡا لِجُلُوۡدِہِمۡ لِمَ شَہِدۡتُّمۡ عَلَیۡنَا ؕ قَالُوۡۤا اَنۡطَقَنَا اللّٰہُ الَّذِیۡۤ اَنۡطَقَ کُلَّ شَیۡءٍ وَّہُوَ خَلَقَکُمۡ اَوَّلَ مَرَّۃٍ وَّاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ﴿۲۲﴾

২২
এবং তাহারা নিজেদের চর্মকে২৬২৯ বলিবে, ‘তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?’ উহারা বলিবে, ‘সেই আল্লাহ্‌ আমাদিগকে বাক্‌শক্তি দিয়াছেন যিনি প্রত্যেক বস্তুকে বাক্‌শক্তি দিয়াছেন। এবং তিনিই তোমাদিগকে প্রথমবার সৃষ্টি করিয়াছেন, এবং তাঁহারই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।
২৬২৯। চামড়া মানুষের কর্মক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা বড় ভূমিকা পালন করিয়া থাকে। কেবল স্পর্শানুভূতিই নয়, অন্যান্য অনুভূতিও ইহার অন্তর্গত। চক্ষু ও কর্ণের পাপ দর্শন ও শ্রবণের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু চামড়ার পাপ শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বেষ্টন করে, কেননা দেহের বাহ্যিক অঙ্গগুলির সবই চর্ম দ্বারা আবৃত।

وَمَا کُنۡتُمۡ تَسۡتَتِرُوۡنَ اَنۡ یَّشۡہَدَ عَلَیۡکُمۡ سَمۡعُکُمۡ وَلَاۤ اَبۡصَارُکُمۡ وَلَا جُلُوۡدُکُمۡ وَلٰکِنۡ ظَنَنۡتُمۡ اَنَّ اللّٰہَ لَا یَعۡلَمُ کَثِیۡرًا مِّمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۲۳﴾

২৩
এবং তোমরা (তোমাদের পাপসমূহকে) এই কারণে গোপন করিতে না যে, (পরকালে) তোমাদের কর্ণ, তোমাদের চক্ষু এবং তোমাদের চর্ম তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে, বরং তোমরা ধারণা করিতে যে, আল্লাহ্‌ তোমাদের অনেক কার্যকলাপ সম্বন্ধে অবগত নহেন যাহা তোমরা করিতেছ।

وَذٰلِکُمۡ ظَنُّکُمُ الَّذِیۡ ظَنَنۡتُمۡ بِرَبِّکُمۡ اَرۡدٰٮکُمۡ فَاَصۡبَحۡتُمۡ مِّنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ﴿۲۴﴾

২৪
এবং তোমাদের এই কুধারনাই, যাহা তোমরা তোমাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে পোষণ করিয়া আসিয়াছ,২৬৩০ তোমাদিগকে ধ্বংস করিয়াছে, ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের অন্তর্গত হইয়া গিয়াছ।’
২৬৩০। প্রকৃত পক্ষে, আল্লাহ্‌তা’লার প্রতি জীবন্ত বিশ্বাসের অভাবই সকল পাপ কার্যের মূল কারণ।

فَاِنۡ یَّصۡبِرُوۡا فَالنَّارُ مَثۡوًی لَّہُمۡ ۚ وَاِنۡ یَّسۡتَعۡتِبُوۡا فَمَا ہُمۡ مِّنَ الۡمُعۡتَبِیۡنَ ﴿۲۵﴾

২৫
এখন তাহারা ধৈর্য ধারণ করিলেও আগুনই হইবে তাহাদের আবাসস্থল, এবং তাহারা (আল্লাহ্‌র সমীপে) নৈকট্য কামনা করিলেও তাহারা নৈকট্য-প্রাপ্তদিগের অন্তর্ভুক্ত হইবে না।২৬৩১
২৬৩১। অবিশ্বাসীদের অপরাধসমূহ এতই বীভৎস ও জঘন্য যে, তাহারা ক্ষমার অযোগ্য। তাই তাহারা আল্লাহ্‌তা’লার অনুগ্রহ লাভ করিতে পারিবে না। এমনকি ক্ষমা ও করুণা ভিক্ষা করিবার জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে উপস্থিত হওয়া তো দূরের কথা, তাহারা আল্লাহ্‌র ‘আরশের’ আশেপাশেও আসিতে পারিবে না।

وَقَیَّضۡنَا لَہُمۡ قُرَنَآءَ فَزَیَّنُوۡا لَہُمۡ مَّا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ وَحَقَّ عَلَیۡہِمُ الۡقَوۡلُ فِیۡۤ اُمَمٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ ۚ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا خٰسِرِیۡنَ ﴿٪۲۶﴾

২৬
এবং আমরা তাহাদের জন্য এমন সহচরবৃন্দ নিয়োজিত করিয়া দিয়াছি, যাহারা তাহাদের সম্মুখবর্তী এবং তাহাদের পশ্চাদ্বর্তী সকল কার্যকলাপকে তাহাদের দৃষ্টিতে মনোহর করিয়া দেখাইয়াছে,২৬৩২ ফলে তাহাদের উপরও সেই প্রত্যাদেশ জারী হইয়া গেল যাহা জিন্ন্‌ এবং ইনসানের অপরাপর জাতিসমূহের উপর জারী হইয়াছিল, যাহারা ইহাদের পূর্বে গত হইয়া গিয়াছে। নিশ্চয় তাহারা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছিল।
হা মীম্‌ আস্ সাজ্‌দা - রুকু ৩
২৬৩২। অবিশ্বাসীদের দুষ্ট বন্ধুরা তাহাদের দুষ্কর্মের প্রশংসা করিত, যাহাতে ঐ দুষ্কর্মগুলি অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর ও প্রশংসনীয় বলিয়া মনে হয়। এই সঙ্গী-সাথী বন্ধুগণকেও ঐ শাস্তির অংশীদার করা হইবে যাহা প্রশংসা-প্রতারিত অবিশ্বাসীদের উপর আপতিত হইবে। ‘তাহাদের সম্মুখবর্তী এবং তাহাদের পশ্চাদ্বর্তী সকল কার্যকলাপ’ কথাগুলি দ্বারা ইহা বুঝাইতে পারে যে, যে কুকর্মগুলি তাহারা তাহাদের দুষ্ট সাথীদের সঙ্গ-দোষে করিয়াছিল এবং যে কর্মগুলি তাহারা স্বীয় পূর্ব পুরুষদের অন্ধ অনুকরণে করিয়াছিল।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَا تَسۡمَعُوۡا لِہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ وَالۡغَوۡا فِیۡہِ لَعَلَّکُمۡ تَغۡلِبُوۡنَ ﴿۲۷﴾

২৭
এবং যাহারা অস্বীকার করিয়াছে তাহার বলে, ‘তোমরা এই কুরআন শুনিও না, এবং ইহার মধ্যে (পাঠ কালে) শোরগোল সৃষ্টি কর,২৬৩৩ যাহাতে তোমরা জয় লাভ করিতে পার।’
২৬৩৩। অন্ধকারের উপাসকেরা সর্বদাই সত্যের বাণীকে গলা টিপিয়া মারিতে চায়। এই উদ্দেশ্যে তাহারা হৈ চৈ ও গণ্ডগোল বাধাইয়া দেয় এবং সর্বপ্রকারের মিথ্যা, প্রবঞ্চনা ও ধাপ্পাবাজী দ্বারা মানুষের মনকে বিভ্রান্ত করিতে অপচেষ্টা চালাইয়া থাকে।

فَلَنُذِیۡقَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا عَذَابًا شَدِیۡدًا ۙ وَّلَنَجۡزِیَنَّہُمۡ اَسۡوَاَ الَّذِیۡ کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۲۸﴾

২৮
সুতরাং যাহারা অস্বীকার করিয়াছে আমরা ইহার জন্য তাহাদিগকে অবশ্যই কঠোর আযাবের স্বাদ গ্রহণ করাইব এবং তাহাদিগকে তাহাদের জঘন্য কার্যকলাপের প্রতিফল দিব। -

ذٰلِکَ جَزَآءُ اَعۡدَآءِ اللّٰہِ النَّارُ ۚ لَہُمۡ فِیۡہَا دَارُ الۡخُلۡدِ ؕ جَزَآءًۢ بِمَا کَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَجۡحَدُوۡنَ ﴿۲۹﴾

২৯
আল্লাহ্‌র শত্রুদের প্রতিফল ইহাই– আগুন। তথায় তাহাদের জন্য দীর্ঘকাল বসবাসের আবাস (অবধারিত) রহিয়াছে, ইহা হইবে প্রতিফল স্বরূপ, কারণ তাহারা আমাদের নিদর্শনাবলীকে হঠকারিতার সহিত অস্বীকার করিত,

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا رَبَّنَاۤ اَرِنَا الَّذَیۡنِ اَضَلّٰنَا مِنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ نَجۡعَلۡہُمَا تَحۡتَ اَقۡدَامِنَا لِیَکُوۡنَا مِنَ الۡاَسۡفَلِیۡنَ ﴿۳۰﴾

৩০
এবং যাহারা অস্বীকার করিয়াছে তাহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! জিন্ন্‌ ও ইনসান২৬৩৪ হইতে আমাদিগকে ঐ সকল লোক দেখাইয়া দাও যাহারা আমাদিগকে পথভ্রষ্ট করিয়াছে, যাহাতে আমরা তাহাদের উভয়কে আমাদের পদতলে মর্দন করি, যাহাতে তাহারা নিকৃষ্টতম লোকদের অন্তর্গত হইয়া যায়।’
২৬৩৪। দুই শ্রেণীভুক্ত মানুষ; এক শ্রেণী হইল জিন্ন্‌ এবং অপর শ্রেণী হইল সাধারণ মানুষ।