৩৯

الزمر

সূরা আয্‌ যুমার

Az-Zumar

মক্কী ৭৬ আয়াত ৮ রুকু পারা ২৩–২৪

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৭৬ আয়াত এবং ৮ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ﴿۲﴾

২
মহা পরাক্রমশালী, পরম প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্‌র নিকট হইতে এই কিতাব নাযেল হইয়াছে।

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ فَاعۡبُدِ اللّٰہَ مُخۡلِصًا لَّہُ الدِّیۡنَ ؕ﴿۳﴾

৩
নিশ্চয় আমরা সত্যসহ এই কিতাব তোমার প্রতি নাযেল করিয়াছি, অতএব তুমি আল্লাহ্‌র ইবাদত কর—আনুগত্যকে তাঁহারই জন্য বিশুদ্ধ করিয়া।

اَلَا لِلّٰہِ الدِّیۡنُ الۡخَالِصُ ؕ وَالَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ۘ مَا نَعۡبُدُہُمۡ اِلَّا لِیُقَرِّبُوۡنَاۤ اِلَی اللّٰہِ زُلۡفٰی ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَحۡکُمُ بَیۡنَہُمۡ فِیۡ مَا ہُمۡ فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ۬ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِیۡ مَنۡ ہُوَ کٰذِبٌ کَفَّارٌ ﴿۴﴾

৪
শুন! বিশুদ্ধ আনুগত্য কেবল আল্লাহ্‌রই জন্য। এবং যাহারা আল্লাহ্ ব্যতিরেকে অন্যকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, (এবং বলে যে) ‘আমরা তাহাদের কেবল এই জন্য ইবাদত করি যেন তাহারা আমাদিগকে মর্যাদায় আল্লাহ্‌র নিকটবর্তী করিয়া দেয়’২৫৬২ নিশ্চয় আল্লাহ্ তাহাদের মধ্যে সেই বিষয়ে মীমাংসা করিবেন যাহার সম্বন্ধে তাহারা মতভেদ করিতেছে। নিশ্চয় আল্লাহ্ মিথ্যাবাদী অকৃতজ্ঞকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
২৫৬২। মানুষ মিথ্যা-পূজায় লিপ্ত হয়, কল্পিত মূর্তির উপাসনা করে, এমন কি পূতপুণ্য ওলীউল্লাহ্‌দের পূজাতেও লাগিয়া যায়। মানুষ ধনের পূজা করে, ক্ষমতার উপাসনা করে, কামনা-বাসনার সাধনা করে। মানুষ উত্তরাধিকার সূত্রে উপাস্যকে মানিয়া লয় ও নির্বিচারে উহাতে বিশ্বাস স্থাপন করে। পূর্বপুরুষগত রীতিনীতি ও চাল-চলনকে নির্ভুল ধর্ম-কর্ম বলিয়া মনে করে এবং এই সব করার মাধ্যমেই তাহারা ঈপ্সিত সৃষ্টিকর্তাকে পাইবে বলিয়া বিশ্বাস করিয়া লয়।

لَوۡ اَرَادَ اللّٰہُ اَنۡ یَّتَّخِذَ وَلَدًا لَّاصۡطَفٰی مِمَّا یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ۙ سُبۡحٰنَہٗ ؕ ہُوَ اللّٰہُ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ ﴿۵﴾

৫
যদি আল্লাহ্‌ সন্তান গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিতেন, তাহা হইলে তিনি স্বীয় সৃষ্টি হইতে যাহাকে ইচ্ছা মনোনীত করিয়া লইতেন। তিনি পবিত্র ও মহান! তিনি আল্লাহ্ এক, প্রবল প্রতাপশালী।

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ۚ یُکَوِّرُ الَّیۡلَ عَلَی النَّہَارِ وَیُکَوِّرُ النَّہَارَ عَلَی الَّیۡلِ وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ کُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اَلَا ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفَّارُ ﴿۶﴾

৬
তিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি দিবসকে রাত্রি দ্বারা আবৃত করেন এবং রাত্রিকে দিবস দ্বারা আবৃত করেন; তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে সেবায় নিয়োজিত করিয়াছেন, ইহাদের প্রত্যেকেই এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত (স্ব স্ব পথে) ধাবমান রহিয়াছে। শুন! তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতীব ক্ষমাশীল।

خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَاَنۡزَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡاَنۡعَامِ ثَمٰنِیَۃَ اَزۡوَاجٍ ؕ یَخۡلُقُکُمۡ فِیۡ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ خَلۡقًا مِّنۡۢ بَعۡدِ خَلۡقٍ فِیۡ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ لَہُ الۡمُلۡکُ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ فَاَنّٰی تُصۡرَفُوۡنَ ﴿۷﴾

৭
তিনি তোমাদিগকে একই আত্মা হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন, অতঃপর উহা হইতে উহার জোড়া সৃষ্টি করিয়াছেন, এবং তিনি তোমাদের জন্য গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুসমূহের মধ্য হইতে আট জোড়া২৫৬৩ নাযেল করিয়াছেন।২৫৬৪ তিনি তোমাদিগকে তোমাদের মাতৃগর্ভে এক সৃজনের পর অন্য সৃজনে (পরিবর্তন করিয়া) ত্রিবিধ অন্ধকারের২৫৬৫ ভিতর দিয়া সৃষ্টি করিয়াছেন। এই তো আল্লাহ্‌, তোমাদের প্রতিপালক— আধিপত্য তাঁহারই। তিনি ব্যতীত কোন মা’বূদ নাই। অতএব তোমরা কোন দিকে প্রত্যাবর্তিত হইতেছ?
২৫৬৩। “আট জোড়া গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু” বলিতে বিশেষভাবে বুঝাইতেছে ছাগলের জোড়া, মেষের জোড়া, উটের এবং ষাঁড়ের জোড়া। যাহা ৬ঃ১৪৪-১৪৬ আয়াতে উল্লেখিত হইয়াছে। সম্ভবতঃ ইহারা নিত্য ব্যবহৃত গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু বলিয়াই, ইহাদের উল্লেখ করা হইয়াছে।
২৫৬৪। ‘আল্লাহ্‌র কথা’ উপলক্ষ্যে যখন ‘আনযালা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তখন ইহার অর্থ দাঁড়ায় ‘আওহা’ বা তিনি ‘ওহী করিলেন’। কিন্তু যখন ‘আনযালা’ শব্দটি নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যটির সম্বন্ধে ব্যবহৃত হয় তখন ইহার অর্থ হয় ‘আতা’ তিনি দান করিলেন। এখানে এই ‘আনযালা’ শব্দটি শেষোক্ত অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। ৭ঃ২৭ এবং ৫৭ঃ২৬ আয়াতগুলিতে শেষোক্ত অর্থেই ব্যবহৃত হইয়াছে।
২৫৬৫। গর্ভধারণের প্রথমাবস্থায় মানব-সন্তান যে তিনটি আকৃতি-পূর্ব অবস্থা প্রাপ্ত হয়, সেই তিনটি অবস্থা তমসাচ্ছন্ন অবস্থা বলিয়া এখানে উল্লেখিত হইয়াছে। অবস্থাগুলিঃ (১) শুক্র-বীর্য, (২) জমাট রক্তাবস্থা, (৩) মাংস-পিণ্ড অবস্থা; অথবা ৮৬ঃ৭-৮,৩ঃ৭ এবং ১৬ঃ৭৯-তে বর্ণিত তিনটি আকৃতি; গর্ভকালীন তিনটি শঙ্কটময় অবস্থা যথাঃ (১) দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসের মধ্যবর্তী সময়; (২) তৃতীয় হইতে পঞ্চম মাস পর্যন্ত সময়; (৩) অষ্টম মাস এই তিনটি পর্যায়েই গর্ভপাতের আশংকা বিদ্যমান থাকে।

اِنۡ تَکۡفُرُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنۡکُمۡ ۟ وَلَا یَرۡضٰی لِعِبَادِہِ الۡکُفۡرَ ۚ وَاِنۡ تَشۡکُرُوۡا یَرۡضَہُ لَکُمۡ ؕ وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ مَّرۡجِعُکُمۡ فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ﴿۸﴾

৮
যদি তোমরা অকৃতজ্ঞতা কর তাহা হইলে আল্লাহ্ তোমাদের আদৌ মুখাপেক্ষী নহেন। এবং তিনি তাঁহার বান্দাদের জন্য অকৃতজ্ঞতাকে পসন্দ করেন না। যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা২৫৬৬ কর তাহা হইলে তিনি ইহা তোমাদের জন্য পসন্দ করেন। এবং কোন বোঝাবহনকারী অন্যের বোঝা বহন করিবে না। অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন ঘটিবে, তখন তিনি তোমাদিগকে তোমরা যাহা করিতে তৎসম্বন্ধে অবহিত করিবেন। নিশ্চয় তিনি তোমাদের বক্ষঃস্থলে নিহিত সব বিষয় সম্বন্ধে সম্যক অবগত।
২৫৬৬। ‘শুক্‌র’ শব্দের অর্থ হইল, ‘আল্লাহ্‌র দেওয়া আশীষসমূহের (ধন, মান, অর্থ, বিদ্যা ও শারীরিক-মানসিক গুণাবলী ইত্যাদি সবকিছু আল্লাহ্‌র দান ও আশীষের) সঠিক ব্যবহার, যেভাবে ব্যবহার করিতে আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করিয়াছেন (১৪ঃ৮)। ‘কুফরী’ মানে আল্লাহ্‌র উপরোক্ত দানসমূহের অপপ্রয়োগ, অপব্যবহার, অকৃতজ্ঞতা ও অস্বীকার।

وَاِذَا مَسَّ الۡاِنۡسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّہٗ مُنِیۡبًا اِلَیۡہِ ثُمَّ اِذَا خَوَّلَہٗ نِعۡمَۃً مِّنۡہُ نَسِیَ مَا کَانَ یَدۡعُوۡۤا اِلَیۡہِ مِنۡ قَبۡلُ وَجَعَلَ لِلّٰہِ اَنۡدَادًا لِّیُضِلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ؕ قُلۡ تَمَتَّعۡ بِکُفۡرِکَ قَلِیۡلًا ٭ۖ اِنَّکَ مِنۡ اَصۡحٰبِ النَّارِ ﴿۹﴾

৯
এবং যখনই মানুষকে কোন কষ্ট স্পর্শ করে তখন সে নিজ প্রতিপালককে তাঁহার প্রতি নিবিষ্টচিত্ত হইয়া ডাকিতে থাকে। এবং যখন তিনি নিজ সন্নিধান হইতে তাহাকে কোন নেয়ামত দান করেন তখন সে পূর্বে যাহার জন্য তাঁহাকে ডাকিতেছিল উহা ভুলিয়া যায়, এবং সে আল্লাহ্‌র সমকক্ষ স্থির করে যেন সে (লোকদিগকে) তাঁহার পথ হইতে বিভ্রান্ত করিতে পারে। তুমি বল, ‘(হে মানব!) তুমি তোমার অস্বীকৃতি দ্বারা কিছু কাল ফায়দা ভোগ করিয়া লও, নিশ্চয় তুমি অগ্নিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।’

اَمَّنۡ ہُوَ قَانِتٌ اٰنَآءَ الَّیۡلِ سَاجِدًا وَّقَآئِمًا یَّحۡذَرُ الۡاٰخِرَۃَ وَیَرۡجُوۡا رَحۡمَۃَ رَبِّہٖ ؕ قُلۡ ہَلۡ یَسۡتَوِی الَّذِیۡنَ یَعۡلَمُوۡنَ وَالَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ اِنَّمَا یَتَذَکَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ﴿٪۱۰﴾

১০
তবে যে ব্যক্তি রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে সেজদা করিয়া এবং দণ্ডায়মান হইয়া পরম আনুগত্য প্রকাশ করে, এবং পরকালকে ভয় করে এবং নিজ প্রতিপালকের রহমতের আশা রাখে, সে কি (তাহার ন্যায় হইতে পারে যে অবাধ্যতা করে)? তুমি বল, ‘যাহারা জানে এবং যাহারা জানে না তাহারা কি সমান হইতে পারে?’ বস্তুতঃ ধীসম্পন্ন লোকগণই কেবল শিক্ষা লাভ করে।
সূরা আয্‌ যুমার - রুকু ১