الزمر
Az-Zumar
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৭৬ আয়াত এবং ৮ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময় এবং প্রসংগ
বিষয়বস্তু এবং ভাষাগত দিক দিয়া পূর্ববর্তী পাঁচটি সূরার সহিত এই সূরার মিল রহিয়াছে। হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর নবুওয়াতের প্রথম পর্যায়ে এই সূরা অবতীর্ণ হইয়াছিল। রড়ওয়েল ও মুইর প্রমুখ লেখকেরা ইহাকে মক্কী সূরা বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন। অধিকাংশ জ্ঞানীদেরই এই অভিমত যে, মহানবী (সাঃ)-এর রেসালতের প্রাথমিক পর্যায়ে মক্কায় এই সূরা অবতীর্ণ হইয়াছিল। সূরা সাবা হইতে এই সূরা পর্যন্ত যে ছয়টি সূরা আছে, তাহাতে ঐশী-বাণী, কুরআনের অবতরণ বিষয় এবং আল্লাহ্তা’লার একত্বই অধিক গুরুত্ব পাইয়াছে। বিজ্ঞান অতি স্পষ্টভাবে সাক্ষ্য দিতেছে যে, এই জগতে যে বিরাট সমন্বয়, শৃঙ্খলা, আনুপাতিকতা ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে খাপ-খাওনোর নীতি সর্বদা পরিলক্ষিত হয়, তাহাতে স্পষ্টভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, এই মহাবিশ্বের একজন পরিকল্পনাকারী, পরিচালনাকারী, নিয়ন্ত্রণকারী, সর্বময় সৃষ্টিকর্তা আছেন। আল্লাহ্র প্রেরিত পুরুষগণ সামান্য মাত্র ধন-জন নিয়া, বিরাট শক্তিশালী ও ধনেজনে বলীয়ান শত্রুদের বিরুদ্ধে যে বিজয় লাভ করেন, ইহাও আল্লাহ্তা’লার অস্তিত্ব ও একত্বকে সাব্যস্ত করে।
বিষয়-বস্তু
সূরাটি আরম্ভ হইয়াছে কুরআন অবতীর্ণের বিষয় নিয়া। তারপর বলা হইয়াছে, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও নবী-রসূলগণের আগমনের একটিই মাত্র উদ্দেশ্য, আর তাহা এই যে, পৃথিবীতে ধর্মরূপে আল্লাহ্র একত্বকে প্রতিষ্ঠিত করা। এই মহতী উদ্দেশ্য অর্জনের পথে সর্বাপেক্ষা বড় বাধা এই যে, মানুষ তাহার আপন কল্পনা-সৃষ্ট মিথ্যা উপাস্যের আরাধনায় মগ্ন থাকে। মূর্তি-উপাসনার (পৌত্তলিকতার) সর্বাপেক্ষা হীনতম দৃষ্টান্ত যাহা সহজে ধরা পড়ে না অথচ সর্বাপেক্ষা বেশী প্রচলিত হইয়া মানুষের আধ্যাত্মিক বিকাশের পথে পর্বত প্রমাণ বাধা হইয়া দাঁড়াইয়াছে তাহা এই যে, মানুষ ঈসা (আঃ)-কে খোদার পুত্র বানাইয়া ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে। এই বিশ্বাস মানব-সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক জীবনের সর্বাধিক ক্ষতি ঘটাইয়াছে। এই সূরা বিশ্ব-জগতের এই বিস্ময়কর পরিকল্পনা ও পূর্ণতম সুশৃঙ্খলাকে যুক্তি-স্বরূপ দাঁড় করাইয়া বলিতেছে যে, এত সব সৃষ্টির পিছনে যে একজন মহা পরিকল্পনাবিদ রহিয়াছেন, তাহা বিশ্বাস করিতেই হইবে। অতিরিক্ত যুক্তি হিসাবে বলা হইয়াছে যে, মানুষের আকৃতি ধারণ করার পূর্বে মায়ের পেটেই সে তিনটি পরিবর্তিত অবস্থার ভিতর দিয়া গমন করে এবং অনেক আবর্তন-বিবর্তনের পর মানুষের আকৃতি প্রাপ্ত হয়। সংক্ষেপে ঐশী-বাণীর প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করার পর, সূরাটি এই ব্যাপারে দুইটি অকাট্য যুক্তি প্রদান করিয়াছেঃ (১) আল্লাহ্ সম্বন্ধে যাহারা মিথ্যা ছড়ায় এবং সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, তাহারা কখনও কৃতকার্য হইতে পারে না, অকৃতকার্যতা ও অপমানই তাহাদের অদৃষ্ট, (২) আল্লাহ্র নবীগণ ও তাঁহাদের অনুসারীরা সর্বদাই বিজয়ী হন এবং তাঁহাদের উদ্দেশ্য উত্তরোত্তর সফলতা লাভ করে। এই দুইটি চিহ্ন দ্বারা, ঐশী-বাণী প্রাপ্তির দাবীকারকের সত্যতা চূড়ান্তভাবে যাচাই করা যায়। এইভাবে যুক্তির মাপকাঠিতে যাচাই করিলে দেখা যাইবে, মহানবী (সাঃ)-এর নবুওয়াতের দাবী এবং কুরআন করীম আল্লাহ্র বাণী হওয়ার দাবী সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। অতঃপর এই সূরা পাপীদিগকে এক আশার বাণী শুনায়। তাহাদিগকে বলা হয় যে, আল্লাহ্তা’লা বড়ই করুণাময় এবং ক্ষমাকারী। তাঁহার দয়া ও করুণা সব কিছুকেই ঘিরিয়া রহিয়াছে। পাপীর মনের পরিবর্তন দ্বারা সে ক্ষমা লাভ করিতে পারে। মানুষের স্বীয় কর্ম দ্বারাই মানুষ পাপমুক্ত হয়। কাহারও ক্রুশে আত্মবলিদান অপরের পাপ মুক্তি ও পরিত্রাণ দান করিতে পারে না। কিন্তু পাপীকে অনেক সুযোগ দান করা হয় যাহাতে সে অনুশোচনা করিয়া নিজের মধ্যে পরিবর্তন সাধন করতঃ মুক্তির পথে অগ্রসর হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি এই সুযোগ গ্রহণ না করিয়া, স্বেচ্ছায় কুপথে ও কুকর্মেই লিপ্ত থাকিয়া যায়, তাহাকে শাস্তি পাইতেই হইবে। সূরার শেষ দিকের কয়েকটি আয়াতে মানুষকে পুনরুত্থান দিবসের কথা স্বরণ করানো হইয়াছে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ﴿۲﴾
اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ فَاعۡبُدِ اللّٰہَ مُخۡلِصًا لَّہُ الدِّیۡنَ ؕ﴿۳﴾
اَلَا لِلّٰہِ الدِّیۡنُ الۡخَالِصُ ؕ وَالَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ۘ مَا نَعۡبُدُہُمۡ اِلَّا لِیُقَرِّبُوۡنَاۤ اِلَی اللّٰہِ زُلۡفٰی ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَحۡکُمُ بَیۡنَہُمۡ فِیۡ مَا ہُمۡ فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ۬ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِیۡ مَنۡ ہُوَ کٰذِبٌ کَفَّارٌ ﴿۴﴾
لَوۡ اَرَادَ اللّٰہُ اَنۡ یَّتَّخِذَ وَلَدًا لَّاصۡطَفٰی مِمَّا یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ۙ سُبۡحٰنَہٗ ؕ ہُوَ اللّٰہُ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ ﴿۵﴾
خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ۚ یُکَوِّرُ الَّیۡلَ عَلَی النَّہَارِ وَیُکَوِّرُ النَّہَارَ عَلَی الَّیۡلِ وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ کُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اَلَا ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفَّارُ ﴿۶﴾
خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَاَنۡزَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡاَنۡعَامِ ثَمٰنِیَۃَ اَزۡوَاجٍ ؕ یَخۡلُقُکُمۡ فِیۡ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ خَلۡقًا مِّنۡۢ بَعۡدِ خَلۡقٍ فِیۡ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ لَہُ الۡمُلۡکُ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ فَاَنّٰی تُصۡرَفُوۡنَ ﴿۷﴾
اِنۡ تَکۡفُرُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنۡکُمۡ ۟ وَلَا یَرۡضٰی لِعِبَادِہِ الۡکُفۡرَ ۚ وَاِنۡ تَشۡکُرُوۡا یَرۡضَہُ لَکُمۡ ؕ وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ مَّرۡجِعُکُمۡ فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ﴿۸﴾
وَاِذَا مَسَّ الۡاِنۡسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّہٗ مُنِیۡبًا اِلَیۡہِ ثُمَّ اِذَا خَوَّلَہٗ نِعۡمَۃً مِّنۡہُ نَسِیَ مَا کَانَ یَدۡعُوۡۤا اِلَیۡہِ مِنۡ قَبۡلُ وَجَعَلَ لِلّٰہِ اَنۡدَادًا لِّیُضِلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ؕ قُلۡ تَمَتَّعۡ بِکُفۡرِکَ قَلِیۡلًا ٭ۖ اِنَّکَ مِنۡ اَصۡحٰبِ النَّارِ ﴿۹﴾
اَمَّنۡ ہُوَ قَانِتٌ اٰنَآءَ الَّیۡلِ سَاجِدًا وَّقَآئِمًا یَّحۡذَرُ الۡاٰخِرَۃَ وَیَرۡجُوۡا رَحۡمَۃَ رَبِّہٖ ؕ قُلۡ ہَلۡ یَسۡتَوِی الَّذِیۡنَ یَعۡلَمُوۡنَ وَالَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ اِنَّمَا یَتَذَکَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ﴿٪۱۰﴾